সপ্তদশ অনুচ্ছেদ - দুই ঈদের বিধান
যাদের উপর জুমুআর সালাত ওয়াজিব, তাদের সকলের উপর ঈদের সালাত ওয়াজিব।
আল-জামেউস সাগীর কিতাবে বলা হয়েছে, একই দিনে দু’টি ঈদ একত্র হয়েছে। প্রথমটি হল সুন্নত আর দ্বিতীয়টি হল ফরয। তবে দু’টির কোন একটিকেও তরক করা যাবে না।
গ্রন্থকার বলেন, এতে স্পষ্টভাবে সুন্নত বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে প্রথমটি ওয়াজিব হওয়ার সুস্পষ্ট উক্তি। আর তা ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াত।
প্রথমোক্ত বর্ণনার দলীল এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) নিয়মিত ভাবে তা পালন করেছেন।
দ্বিতীয় বর্ণনার দলীল রাসূলূল্লাহ্ (সা.) এর উক্তি, যা এক গ্রাম্য সাহাবীর এ প্রশ্নে আমার উপর এ ছাড়াও কোন সালাত ওয়াজিব আছে কি এর উত্তরে বলেন, না নেই, তবে যদি নফল আ্দায় কর (তবে তোমার ইচ্ছা)। প্রথমোক্ত বর্ণনাটি অধিক বিশুদ্ধ। আর তাকে সুন্নত বলার কারণ এই যে, তা সুন্নাহ্ বা হাদীছ দ্বারা ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়েছে।
আর মুস্তাহাব হল ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগায় যাওয়ার পূর্বে কিছু (মিষ্টি) খাবার গ্রহণ করা, গোসল করা, মিসওয়াক করা এবং খুশবু ব্যবহার করা। কেননা বর্ণিত আছে যে, নবী (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগায় যাওয়ার পূর্বে আহার করতেন এবং দুই ঈদেই গোসল করতেন।
কেননা এ হল সমাবেশের দিন। সুতরাং তাতে গোসল করা্ ও খুশবু ব্যবহার করা সুন্নত হবে। যেমন জুমুআর জন্য।
আর নিজের সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করবে। কেননা, নবী (সা.) এর একটি পুস্তিনের বা পশমের জুব্বা ছিল, যা তিনি ঈদে পরিধান করতেন।
আর সাদকাতুল ফিতর আাদায় করবে। যাতে দরিদ্র ব্যক্তি সচ্ছলতা লাভ করতে পারে এবং তার অন্তর সালাতের জন্য একাগ্র হতে পারে।
অতঃপর ঈদগাহ অভিমুখে গমন করবে। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে ঈদগায় যাওয়ার পথে উচ্চৈস্বরে তাকবীর বলবে না। আর সাহবাইনের মতে তাকবীর বলবে। তারা ঈদুল আযহার উপর কিয়াস করেন।
ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল এই যে, সানা ও যিকির এর ব্যাপারে আসল হল গোপনীয়তা। কিন্তু ঈদুল আযহার ক্ষেত্রে শরীআত প্রকাশ্য যিকিরের আদেশ দিয়েছে। কেননা, তা তাকবীর দিবস। কিন্তু ঈদুল ফিতর সেরূপ নয়।
ঈদের সালাতের পূর্বে ঈদগায় নফল পড়বে না। কেননা সালাতের প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও নবী (সা.) তা করেননি। এরপর কেউ কেউ বলেন, এই মাকরূহ হওয়া ঈদগাহের জন্য নির্দিষ্ট।
আবার কেউ কেউ বলেন, সাধারণভাবে ঈদগাহ্ ও সব স্থানের জন্য ব্যাপক। কেননা নবী (সা.) তা করেননি। যখন সূর্য উপরে উঠে আসার মাধ্যমে সালাত আদায় করা জা্ইয হয়ে যায়, তখন থেকে যাওয়াল পর্যন্ত ঈদের সালাতের সময় থাকে। যখন সূর্য ঢলে পড়ে তখন ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। কেননা নবী (সা.) সূর্য এক বা দুই বর্শা পরিমাণ উপরে উঠতে ঈদের সালাত আদায় করতেন। আর (একবার) যখন সাহাবায়ে কিরাম যাওয়ালের পর চাদ দেখার সাক্ষ্য দিলেন, তখন তিনি পরবর্তী দিন ঈদগায় যাওয়ার আদেশ করলেন।
ইমাম লোকদের নিয়ে দুই রাকাআত সালাত আদায় করবেন। প্রথম রাকাআতে এক তাকবীর বলবেন তাহরীমার জন্য। তারপর তিনবার তাকবীর বলবেন। এরপর ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়বেন এবং তাকবীর বলে রুকুতে যাবেন। এরপর দ্বিতীয় রাকাআতে কিরাত দিয়ে শুরু করবেন। তারপরে তিনবার তাকবীর বলবেন এবং চতুর্থ তাকবীর বলে রুকুতে যাবেন।
এ হল ইব্ন মাস’ঊদ (রা.) এর মত এবং তা আমাদের মাযহাব। ইব্ন ‘আব্বাস (রা.) বলেন, প্রথম রাকাআতে তাহরীমা তাকবীর বলে তার পর পাচটি তাকবীর বলবেন এবং দ্বিতীয় রাকাআতেও পাচবার তাকবীর বলার পর কিরাত পড়বে। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, (দ্বিতীয় রাকাআতে) চারবার তাকবীর বলবেন। বর্তমানে ইব্ন ‘আব্বাস (রা.) এর বংশধর খলীফাদের শাসনের যুগ হওয়ার কারণে সাধারণ লোকের আমল তার মতের উপর প্রতিষ্ঠিত। তবে মাযহাব হল প্রথমোক্ত মত। কেননা, (অতিরিক্ত) তাকবীর এবং হাত উঠানো সালাতের নির্ধারিত প্রকৃতির বিপরীত। সুতরাং নিম্নতর সংখ্যাই গ্রহণ করা শ্রেয়।
আর (ঈদের) তাকবীরসমূহ হল দীনের প্রতীক। এ জন্য তা উচ্চৈস্বরে আদায় করা হয়। সুতরাং এর প্রকৃত চাহিদা হলো মিলিতভাবে পাঠ করা। প্রথম রাকাআতে এই তাকবীরগুলোকে তাকবীরে তাহরীমার সাথে যুক্ত করা ওয়াজিব। যেহেতু এ তাকবীর ফরয এবং প্র্রথমে হওয়ার প্রেক্ষিতে এটার শক্তি বেশী। আর দ্বিতীয় রাকাআতে রুকুর তাকবীর ছাড়া অন্য কোন তাকবীর নেই। সুতরাং (ঈদের তাকবীরগুলো) তার সাথে যুক্ত করাই ওয়াজিব।
ইমাম শাফিঈ (র.) ইব্ন ‘আব্বাস (রা.) এর মতামত গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি বর্ণিত সব ক’টি তাকবীরকে অতিরিক্ত হিসাব গ্রহণ করেছেন। ফলে (তাকবীরে তাহরীমা ও রুকুর দুই তাকবীরসহ) মোট তাকবীর তার মতে পনেরটি কিংবা ষোলটি হবে।
ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, দুই ঈদের তাকবীরগুলোতে উভয় হাত উপরে উঠাবে।
এটা দ্বারা ইমাম কুদূরী (র.) রুকুর তাকবীর ছাড়া অন্যান্য তাকবীর বুঝিয়েছেন। কেননা রাসূলূল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- সাতটি স্থান ছাড়া অন্য কোথাও হাত তোলা হবে না। তন্মেধ্যো ঈদের তাকবীরসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত যে, হাত তোলা হবে না।আমাদের বর্ণিত এ হাদীছ এর বিপরীতে দলীল।
সালাতের পর (ইমাম) দু’টি খুতবা দিবেন। এ সম্পর্কে বহু হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।
তাতে লোকদের সাদকাতুল ফিত্র এর আহকাম শিক্ষা দিবস। কেননা এ খুতবা এ উদ্দেশ্যেই প্রবর্তিত হয়েছে।
যে ব্যক্তির ইমামের সাথে সালাতুল ঈদ ফউত হয়ে গেছে, সে তা কাযা পড়বে না। কেননা এই প্রকৃতির সালাত এমন কিছূ শর্তসাপেক্ষেই ইবাদত রূপে স্বীকৃত হয়েছে, যা মুনফারিদ দ্বারা সম্পন্ন হতে পারে না।
যদি চাদ মেঘাবৃত হয়ে যায় আর লোকেরা শাওয়ালের পর শাসক (বা তার নিযুক্ত ব্যক্তির) নিকট চাদ দেখার সাক্ষ্য দেয়, তাহলে ইমাম আগামী দিন ঈদের সালাত আদায় করবেন। কেননা এ বিলম্ব ওযরের কারণে। এ অনুযায়ী হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।
যদি কোন ওযরবশত আগামী দিনও সালাত আদায় সম্ভব না হয়, তাহলে এর পরে আর তা পড়বে না। কেননা জুমুআর ন্যায় এ ক্ষে্ত্রেও মূলনীতি হল কাযা না করা। তবে আমরা বর্ণিত হাদীছের কারণে তা বর্জন করেছি। আর হাদীছে ওযরবশত দ্বিতীয় দিন পর্যন্তই বিলম্বিত করার কথা বর্ণিত হয়েছে। ঈদুল আযহার দিনও গোসল করা এবং খুশবু ব্যবহার করা মুসতাহাব। এর দলীল আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর সালাত থেকে ফারেগ না হওয়া পর্যন্ত আহার বিলম্বিত করবে। কেননা হাদী্ছে আছে যে, নবী (সা.) কুরবানীর দিন (ঈদগাহ থেকে) ফিরে আসার আগে কিছু খেতেন না। এরপর আপন কুরবানীর গোশত থেকে খেতেন।
আর তাকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যাবে। কেননা নবী করিম (সা.) পথে তাকবীর বলতেন।
আর ঈদুল ফিতরের মত দুই রাকাআত সালাত আদায় করবে। (সাহাবায়ে কিরাম থেকে) এরূপই বর্ণিত হয়েছে।
অতঃপর ইমাম দু’টি খুতবা দিবেন। কেননা নবী করীম (সা.) এরূপ করেছেন।
তাতে লোকদের কুরবানী (আহকাম) এবং তাকবীরে তাশরীক শিক্ষা দিবেন। কেননা এ হল সেই সময়ের আহকাম, আর তা শিক্ষা দানের জন্যই খুতবার বিধান প্রবর্তিত হয়েছে।
যদি কোন ওযরবশতঃ ঈদুল আযহার দিন সালাত আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে পরের দিন এবং (সেদিন সম্ভব না হলে) তার পরের দিন সালাত আদায় করবে। এরপরে তা আদায় করবে না। কেননা, এ সালাত কুরবানীর সময়ের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং কুরবানীর দিনগুলোর সাথে সীমিত থাকবে। তবে বিনা ওযরে বিলম্ব করলে বর্ণিত আমলের বিরুদ্ধাচরণের কারণে গুনাহ্গার হবে।
আর আরাফা পালন নামে মানুষ যা পালন করে থাকে, তার কোন (শরীআতী) ভিত্তি নেই।
‘আরাফা পালন’ অর্থ আরাফা মাঠে অবস্থানকারীদের সাথে সাদৃশ্যের উদ্দেশ্যে আরাফা দিবসে (যিলহজ্জরে নয় তারিখে) কোন স্থানের মানুষের সমবেত হওয়া। কেননা একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করাই ইবাদত রূপে স্বীকৃত হয়েছে। সুতরাং ঐ স্থান ছাড়া অন্যত্র তা ইবাদত (বলে গণ্য) হবে না। যেমন হজ্জের অন্যান্য আমল।
আরবী অংশ:
[بَابُ صَلَاةِ الْعِيدَيْنِ]
(بَابُ الْعِيدَيْنِ) قَالَ (وَتَجِبُ صَلَاةُ الْعِيدِ عَلَى كُلِّ مَنْ تَجِبُ عَلَيْهِ صَلَاةُ الْجُمُعَةِ) وَفِي الْجَامِعِ الصَّغِيرِ: عِيدَانِ اجْتَمَعَا فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ، فَالْأَوَّلُ سُنَّةٌ، وَالثَّانِي فَرِيضَةٌ، وَلَا يُتْرَكُ وَاحِدٌ مِنْهُمَا. قَالَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ -: وَهَذَا تَنْصِيصٌ عَلَى السُّنَّةِ، وَالْأَوَّلُ عَلَى الْوُجُوبِ وَهُوَ رِوَايَةٌ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ. وَجْهُ الْأَوَّلِ مُوَاظَبَةُ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - عَلَيْهَا، وَوَجْهُ الثَّانِي قَوْلُهُ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فِي حَدِيثِ الْأَعْرَابِيِّ عَقِيبَ سُؤَالِهِ " قَالَ: «هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُنَّ؟ فَقَالَ: لَا إلَّا إنْ تَطَوَّعَ» وَالْأَوَّلُ أَصَحُّ، وَتَسْمِيَتُهُ سُنَّةً لِوُجُوبِهِ بِالسُّنَّةِ.
(وَيُسْتَحَبُّ فِي يَوْمِ الْفِطْرِ أَنْ يَطْعَمَ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ إلَى الْمُصَلَّى وَيَغْتَسِلَ وَيَسْتَاكَ وَيَتَطَيَّبَ) لِمَا رُوِيَ «أَنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - كَانَ يَطْعَمُ فِي يَوْمِ الْفِطْرِ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ إلَى الْمُصَلَّى، وَكَانَ يَغْتَسِلُ فِي الْعِيدَيْنِ» وَلِأَنَّهُ يَوْمُ اجْتِمَاعٍ فَيُسَنُّ فِيهِ الْغُسْلُ وَالطِّيبُ كَمَا فِي الْجُمُعَةِ (وَيَلْبَسُ أَحْسَنَ ثِيَابِهِ) ؛ لِأَنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - كَانَتْ لَهُ جُبَّةُ فَنْكٍ أَوْ صُوفٍ يَلْبَسُهَا فِي الْأَعْيَادِ (وَيُؤَدِّي صَدَقَةَ الْفِطْرِ) إغْنَاءً لِلْفَقِيرِ لِيَتَفَرَّغَ قَلْبُهُ لِلصَّلَاةِ (وَيَتَوَجَّهُ إلَى الْمُصَلَّى، وَلَا يُكَبِّرُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - فِي طَرِيقِ الْمُصَلَّى، وَعِنْدَهُمَا يُكَبِّرُ) اعْتِبَارًا بِالْأَضْحَى. وَلَهُ أَنَّ الْأَصْلَ فِي الثَّنَاءِ الْإِخْفَاءُ، وَالشَّرْعُ وَرَدَ بِهِ فِي الْأَضْحَى؛ لِأَنَّهُ يَوْمُ تَكْبِيرٍ، وَلَا كَذَلِكَ يَوْمَ الْفِطْرِ (وَلَا يَتَنَفَّلُ فِي الْمُصَلَّى قَبْلَ الْعِيدِ) ؛ لِأَنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ مَعَ حِرْصِهِ عَلَى الصَّلَاةِ، ثُمَّ قِيلَ الْكَرَاهَةُ فِي الْمُصَلَّى خَاصَّةً، وَقِيلَ فِيهِ وَفِي غَيْرِهِ عَامَّةً؛ لِأَنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - لَمْ يَفْعَلْهُ.
(وَإِذَا حَلَّتْ الصَّلَاةُ بِارْتِفَاعِ الشَّمْسِ دَخَلَ وَقْتُهَا إلَى الزَّوَالِ، فَإِذَا زَالَتْ الشَّمْسُ خَرَجَ وَقْتُهَا) «؛ لِأَنَّهُ - عَلَيْهِ السَّلَامُ - كَانَ يُصَلِّي الْعِيدَ وَالشَّمْسُ عَلَى قَيْدِ رُمْحٍ أَوْ رُمْحَيْنِ، وَلَمَّا شَهِدُوا بِالْهِلَالِ بَعْدَ الزَّوَالِ أَمَرَ بِالْخُرُوجِ إلَى الْمُصَلَّى مِنْ الْغَدِ» .
(وَيُصَلِّي الْإِمَامُ بِالنَّاسِ رَكْعَتَيْنِ، يُكَبِّرُ فِي الْأُولَى لِلِافْتِتَاحِ وَثَلَاثًا بَعْدَهَا، ثُمَّ يَقْرَأُ الْفَاتِحَةَ وَسُورَةً، وَيُكَبِّرُ تَكْبِيرَةً يَرْكَعُ بِهَا. ثُمَّ يَبْتَدِئُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ بِالْقِرَاءَةِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ ثَلَاثًا بَعْدَهَا، وَيُكَبِّرُ رَابِعَةً يَرْكَعُ بِهَا) وَهَذَا قَوْلُ ابْنِ مَسْعُودٍ، وَهُوَ قَوْلُنَا.
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: يُكَبِّرُ فِي الْأُولَى لِلِافْتِتَاحِ وَخَمْسًا بَعْدَهَا وَفِي الثَّانِيَةِ يُكَبِّرُ خَمْسًا ثُمَّ يَقْرَأُ. وَفِي رِوَايَةٍ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا، وَظَهَرَ عَمَلُ الْعَامَّةِ الْيَوْمَ بِقَوْلِ ابْنِ عَبَّاسٍ لِأَمْرِ بَنِيهِ الْخُلَفَاءِ. فَأَمَّا الْمَذْهَبُ فَالْقَوْلُ الْأَوَّلُ؛ لِأَنَّ التَّكْبِيرَ وَرَفْعَ الْأَيْدِي خِلَافُ الْمَعْهُودِ فَكَانَ الْأَخْذُ بِالْأَقَلِّ أَوْلَى ثُمَّ بِالتَّكْبِيرَاتِ مِنْ أَعْلَامِ الدِّينِ حَتَّى يَجْهَرَ بِهِ فَكَانَ الْأَصْلُ فِيهِ الْجَمْعُ وَفِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى يَجِبُ إلْحَاقُهَا بِتَكْبِيرَةِ الِافْتِتَاحِ لِقُوَّتِهَا مِنْ حَيْثُ الْفَرِيضَةِ وَالسَّبْقِ، وَفِي الثَّانِيَةِ لَمْ يُوجَدْ إلَّا تَكْبِيرَةُ الرُّكُوعِ فَوَجَبَ الضَّمُّ إلَيْهَا، وَالشَّافِعِيُّ أَخَذَ بِقَوْلِ ابْنِ عَبَّاسٍ، إلَّا أَنَّهُ حَمَلَ الْمَرْوِيَّ كُلَّهُ عَلَى الزَّوَائِدِ فَصَارَتْ التَّكْبِيرَاتُ عِنْدَهُ خَمْسَ عَشْرَةَ أَوْ سِتَّ عَشْرَةَ.
قَالَ (وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي تَكْبِيرَاتِ الْعِيدَيْنِ) يُرِيدُ بِهِ مَا سِوَى تَكْبِيرَتَيْ الرُّكُوعِ لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «لَا تُرْفَعُ الْأَيْدِي إلَّا فِي سَبْعِ مَوَاطِنَ» وَذَكَرَ مِنْ جُمْلَتِهَا تَكْبِيرَاتِ الْأَعْيَادِ. وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ أَنَّهُ لَا يَرْفَعُ، وَالْحُجَّةُ عَلَيْهِ مَا رَوَيْنَا.
قَالَ (ثُمَّ يَخْطُبُ بَعْدَ الصَّلَاةِ خُطْبَتَيْنِ) بِذَلِكَ وَرَدَ النَّقْلُ الْمُسْتَفِيضُ (يُعَلِّمُ النَّاسَ فِيهَا صَدَقَةَ الْفِطْرِ وَأَحْكَامَهَا) ؛ لِأَنَّهَا شُرِعَتْ لِأَجْلِهِ.
(وَمَنْ فَاتَتْهُ صَلَاةُ الْعِيدِ مَعَ الْإِمَامِ لَمْ يَقْضِهَا) ؛ لِأَنَّ الصَّلَاةَ بِهَذِهِ الصِّفَةِ لَمْ تُعْرَفْ قُرْبَةً إلَّا بِشَرَائِطَ لَا تَتِمُّ بِالْمُنْفَرِدِ.
(فَإِنْ غُمَّ الْهِلَالُ وَشَهِدُوا عِنْدَ الْإِمَامِ بِرُؤْيَةِ الْهِلَالِ بَعْدَ الزَّوَالِ صَلَّى الْعِيدَ مِنْ الْغَدِ) ؛ لِأَنَّ هَذَا تَأْخِيرٌ بِعُذْرٍ وَقَدْ وَرَدَ فِيهِ الْحَدِيثُ (فَإِنْ حَدَثَ عُذْرٌ يَمْنَعُ مِنْ الصَّلَاةِ فِي الْيَوْمِ الثَّانِي لَمْ يُصَلِّهَا بَعْدَهُ) ؛ لِأَنَّ الْأَصْلَ فِيهَا أَنْ لَا تُقْضَى كَالْجُمُعَةِ إلَّا أَنَّا تَرَكْنَاهُ بِالْحَدِيثِ، وَقَدْ وَرَدَ بِالتَّأْخِيرِ إلَى الْيَوْمِ الثَّانِي عِنْدَ الْعُذْرِ.
(وَيُسْتَحَبُّ فِي يَوْمِ الْأَضْحَى أَنْ يَغْتَسِلَ وَيَتَطَيَّبَ) لِمَا ذَكَرْنَاهُ (وَيُؤَخِّرَ الْأَكْلَ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ الصَّلَاةِ) لِمَا رُوِيَ «أَنَّهُ - عَلَيْهِ السَّلَامُ - كَانَ لَا يَطْعَمُ فِي يَوْمِ النَّحْرِ حَتَّى يَرْجِعَ فَيَأْكُلَ مِنْ أُضْحِيَّتِهِ وَيَتَوَجَّهَ إلَى الْمُصَلَّى» (وَهُوَ يُكَبِّرُ) ؛ لِأَنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - كَانَ يُكَبِّرُ فِي الطَّرِيقِ (وَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ كَالْفِطْرِ) كَذَلِكَ نُقِلَ (وَيَخْطُبُ بَعْدَهَا خُطْبَتَيْنِ) ؛ لِأَنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - كَذَلِكَ فَعَلَ (وَيُعَلِّمُ النَّاسَ فِيهَا الْأُضْحِيَّةَ وَتَكْبِيرَ التَّشْرِيقِ) ؛ لِأَنَّهُ مَشْرُوعُ الْوَقْتِ، وَالْخُطْبَةُ مَا شُرِعَتْ إلَّا لِتَعْلِيمِهِ.
(فَإِنْ كَانَ عُذْرٌ يَمْنَعُ مِنْ الصَّلَاةِ فِي يَوْمِ الْأَضْحَى صَلَّاهَا مِنْ الْغَدِ وَبَعْدَ الْغَدِ وَلَا يُصَلِّيهَا بَعْدَ ذَلِكَ) ؛ لِأَنَّ الصَّلَاةَ مُؤَقَّتَةٌ بِوَقْتِ الْأُضْحِيَّةِ فَتَتَقَيَّدُ بِأَيَّامِهَا لَكِنَّهُ مُسِيءٌ فِي التَّأْخِيرِ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ لِمُخَالَفَةِ الْمَنْقُولِ.
(وَالتَّعْرِيفُ الَّذِي يَصْنَعُهُ النَّاسُ لَيْسَ بِشَيْءٍ) وَهُوَ أَنْ يَجْتَمِعَ النَّاسُ يَوْمَ عَرَفَةَ فِي بَعْضِ الْمَوَاضِعِ تَشْبِيهًا بِالْوَاقِفِينَ بِعَرَفَةَ؛ لِأَنَّ الْوُقُوفَ عُرْفُ عِبَادَةٍ مُخْتَصَّةٍ بِمَكَانٍ مَخْصُوصٍ فَلَا يَكُونُ عِبَادَةُ دُونِهِ كَسَائِرِ الْمَنَاسِكِ.

No comments:
Post a Comment