Tuesday, June 12, 2018

আল-হিদায়া - সাদাকাতুল ফিতর

সপ্তম অনচ্ছেদ - সাদাকাতুল ফিতর 

ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, সাদাকাতুল ফিত্‌র ওয়াজিব সে স্বাধীন মুসলমানের উপর, যে নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হয় এবং তা তার বাসস্থান, বস্ত্র, ব্যবহারিক সামগ্রী, ঘোড়া, অস্ত্র ও দাসদাসীদের থেকে অতিরিক্ত হয়। 

ওয়াজিব হওয়ার দলীল এই যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) তার খুতবায় বলেছেন- প্রত্যেক স্বাধীন ও ছোট বা বড় দাস ব্যক্তির পক্ষ হতে অর্ধ সা’আ গম কিংবা এক সা’আ যব আদায় করো।

ছা’আলাবা ইব্‌ন দু’আয়র আল-আদাবী এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন। আর এ ধরণের হাদীছ দ্বারা ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়। অকাট্য না হওয়ার কারণে (ফরয সাব্যস্ত হয় না)।

স্বাধীনতার শর্ত আরোপ করা হয়েছে মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার জন্য। আর ইসলামের শর্ত আরোপ করা হয়েছে যেন কাজটি ইবাদত হিসাবে পরিগণিত হয়। সচ্ছলতার শর্ত আরোপ করা হয়েছে, কেননা রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) বলেছেন- মালদার ছাড়া সাদাকা আরোপিত হয় না।

এ হাদীছ ইমাম শাফিঈ (র.) এর বিপক্ষে দলীল। তার বক্তব্য হল, যে ব্যক্তি নিজের ও পরিবারের এক দিনের আহার সামগ্রীর অতিরিক্ত মালের অধিকারী হবে তার উপর সাদাকায়ে ফিত্‌র ওয়াজিব হবে। 

সচ্ছলতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে নিসাব দ্বারা। কেননা শরীআতে নিসাব দ্বারাই মালদারী সাব্যস্ত হয়, যা উপরোক্ত জিনিসগুলো থেকে অতিরিক্ত থাকে। কেননা সেগুলো মৌলিক প্রয়োজনে দায়বদ্ধ। আর মৌলিক প্রয়োজনে দায়বদ্ধ জিনিসকে অস্তিত্বহীন ধরে নেয়া হয়। 

এ হিসাবের বর্ধনশীলতার শর্ত নেই। আর এই নিসাবের সংগে সাদাকা গ্রহণের অযোগ্যতা এবং কুরবানী ও সাদকাতুল ফিত্‌র ওয়াজিব হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। 

ইমাম কুদূরী(র.) বলেন, ছাদাকাতুল ফিত্‌র সে আদায় করবে নিজের পক্ষ থেকে। কেননা ইব্‌ন উমর (রা.) বর্ণিত হাদীছে রয়েছেঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) স্ত্রী ও পুরূষের উপর সাদাকাতুল ফিত্‌র ফরয করেছেন। 

আর আদায় করবে নিজে অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকে। কেননা, সাদাকাতুল ফিত্‌র ওয়াজিব হওয়ার (কারণ) হলো সে সব ব্যক্তি, যার সে ভরণ-পোষণ ও প্রতিপালন করে। কেননা সাদাকা ব্যক্তির সংগে সম্পর্কিত করা হয় এবং বলা হয় অর্থাত্ ব্যক্তির যাকাত। আর সম্বন্ধই হল সবব বা কারণ হওয়ার আলামত। তবে ঈদুল ফিত্‌র এর দিকে সম্বন্ধ করে সাদাকাতুল ফিত্‌র বলা হয় এই হিসাব যে, তা হলো সাদাকাতুল ফিতরের সময়। 

যেহেতু ব্যক্তিই হলো সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার কারণ, সেহেতু দিন একটি হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তি বিভিন্ন হওয়ার কারণে সাদাকাতুল ফিত্‌র বিভিন্ন হয়ে থাকে। 

তবে সাদাকা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে মূল হলো তার নিজ সত্তা। কেননা, নিজের সত্তার সে প্রতিপালন ও ভরণ-পোষণ করে থাকে। সুতরাং তার সংগে তারা যুক্ত হবে যারা তার পর্যায়ভূক্ত। যেমন তার অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানগণ। কেননা সে-ই তাদের প্রতিপালন ও ভরণ-পোষণ করে থাকে। 

আর আদায় করবে আপন গোলামদের পক্ষ থেকে। কেননা (এদের ক্ষেত্রেও) ভরণ-পোষণ ও প্রতিপালন বিদ্যমান রয়েছে। 

অবশ্য গোলামের পক্ষ থেকে ফিতরা তখনই ওয়াজিব হবে, যখন তারা খিদমতের জন্য হয়, এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের পক্ষ থেকে, যখন তাদের নিজস্ব সম্পদ না থাকে। আর যদি তাদের মাল থাকে, তবে ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফ(র.) এর মতে তাদের মাল থেকেই ফেতরা আদায় করবে। 

ইমাম মুহাম্মদ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। কেননা, শরীআত এটাকে আর্থিক দায়-দায়িত্বের পর্যায়ভূক্ত করেছেন। সুতরাং তা ভরন-পোষণের সদৃশ হলো। 

আর তার স্ত্রীর পক্ষ থেকে আদায় করতে হবে না। কেননা অভিভাবক্ত ও আর্থিক দায়িত্ব অসম্পূর্ণ। কারণ বিবাহ সম্পর্কিত হকসমূহ ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে সে তার অভিভাবকত্বের অধিকারী নয়। এবং নির্ধারিত বিষয় ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে সে তার আর্থিক দায় বহন করে না। যেমন, ঔষধপত্রের ব্যয়। 

তদ্রুপ তার প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকে আদায় করতে হবে না, যদিও তারা তার পরিবারভুক্ত। কেননা তাদের ক্ষেত্রে ‘অভিভাবকত্ব’ নেই। 

তবে তাদের পক্ষ থেকে কিংবা তার স্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের সম্মতি ছাড়া যদি সে আদায় করে দেয়, তাহলে তাদের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। এটা সূক্ষ কিয়াসের দাবী। কেননা, তাদের সম্মতি থাকাটাই স্বাভাবিক। 

তদ্রুপ আপন মুকাতাবের পক্ষ থেকেও আদায় করতে হবে না। কেননা, অভিভাবকত্ব বিদ্যমান নেই। 

মুকাতাব নিজেও তার পক্ষ হতে আদায় করবে না। কেননা, সে দরিদ্র। 

মুদাব্বার ও উম্মু ওয়ালামাদের উপর মনিবের অভিভাবকত্ব বিদ্যমান রয়েছে। তাই সে তাদের পক্ষ হতে ফিতরা আদায় করবে। 

আর তার ব্যবসায়ের গোলামদের পক্ষ থেকেও আদায় করতে হবে না। 

ইমাম শাফিঈ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। তার মতে সাদাকাতুল ফিত্‌র ওয়াজিব হয়ে গোলামের উপর আর যাকাত ওয়াজিব হয় মনিবের উপর। সুতরাং একটি আর একটির প্রতিবন্ধক হবে না। 

আমাদের মতে যাকাতের মত গোলামের কারণে সাদাকাতুল ফিত্‌রও মনিবের উপর ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়। যাতে তার উপর দু’টি ওয়াজিব আরোপিত হয়ে যায়। (যা শরীআত বিধি বহির্ভূত)। 

একটি গোলাম দ’জন মনিবের মাঝে শরীক হলে কারো উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে না। কেননা তাদের প্রত্যেকের অভিভাবকত্ব ও ভরন-পোষণ অসম্পূর্ণ। 

তদ্রুপ দু’জনের মাঝে বহু গোলাম শরীকানায় থাকলে (কারো উপরই ফিত্‌রা ওয়াজিব হবে না)। 

এ হল ইমাম আবূ হানীফা (র.)-এর মত। 

আর সাহেবাইন বলেন, প্রত্যেকের হিস্‌সায় যে ক’টি পূর্ণ মাথা আসবে, প্রত্যেকের উপর সেগুলোর ফিতরা ওয়াজিব হবে, ভগ্নাংশটির উপর নয়। 

এই মতানৈক্যের ভিত্তি এই যে, ইমাম আবূ হানীফা (র.) গোলামদের ভাগের প্রতি লক্ষ্য করেন না, আর সাহেবাইন তা ভাগের প্রতি লক্ষ্য করেন। 

কোন কোন মতে এটা (কারো উপর ওয়াজিব না হওয়া) সর্বসম্মত মাযহাব। কেননা, তাকসীনের পূর্বে হিস্‌সা একত্র হয় না। সুতরাং দু’জনের কারোরই কোন গোলামের উপর মালিকানা পূর্ণ হলো না। 

মুসলমান তার কাফির গোলামের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করবে। এর দলীল হল আমাদের পূর্ব বর্ণিত হিস্‌সা একত্র হয় না। সুতরাং দু’জনের কারোরই কোন গোলামের উপর মালিকানা পূর্ণ হলো না। 

মুসলমান তার কাফির গোলামের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করবে। এর দলীল হল আমাদরে পূর্ব বর্ণিত মুতলক ও নিঃশর্ত হাদীছ। 

তাছাড়া হযরত ইব্‌ন ‘আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদীছে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- প্রত্যেক স্বাধীন ও দাসের পক্ষ থেকে আদায় কর, সে দাস ইয়াহূদী থাক কিংবা নাসরানী কিংবা মাজুসী হোক। 

তাছাড়া যুক্তিগত প্রমাণ এই যে, সাদাকাতুল ফিতরের সবব সাব্যস্ত হয়ে গেছে আর মনিব ফিতরা আরোপের যোগ্য। 

এক্ষেত্রে ইমাম শাফিঈ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। কেননা তার মতে ফিতরা ওয়াজিব হয় গোলামের উপর। আর সে ফিতরা ওয়াজিব হওয়া যোগ্য নয়। যদি বিষয়টি বিপরীত হয় তবে সর্ব সম্মতিক্রমেই ফিতরা ওয়াজিব হবে না। 

গ্রন্থকার বলেন, যদি কেউ একটি গোলাম বিক্রি করে আর তা উভয়ের মধ্যে একজনের ইখতিয়ার থাকে, তবে গোলাম অবশেষে যার হবে, ফিতরা তার উপরই ওয়াজিব হবে। 

অর্থাত্ যদি ইখতিয়ার বাকি থাকা অবস্থায় ঈদুল ফিতরের দিন অতিবাহিত হয়। 

যুফার (র.) বলেন, যার অনুকূলে ইখতিয়ার থাকবে, তার উপরই ফিতরা ওয়াজিব। কেননা, তারই অধিকারভূক্ত রয়েছে। 

ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, মালিকানা যার জন্য সাব্যস্ত (অর্থাত্ ক্রেতা) তার উপরই ফিতরা ওয়াজিব। কেননা, এটা মালিকানা সম্পর্কিত বিষয়। যেমন ভরন-পোষণের ব্যাপার। আমাদের যুক্তি এই যে, (এমতাবস্থায়) মালিকানা স্থাগিত থাকে। কেননা যদি (ক্রেতা) ফিরিয়ে দেয় তবে তা বিক্রেতার মালিকানায় ফিরে আসবে। পক্ষান্তরে বিক্রয় যদি বহাল রাখে, তবে চুক্তির সময় হতেই মালিকানা সাব্যস্ত হবে। সুতরাং মালিকানার উপর যে জিনিসের ভিত্তি-সেটাও স্থগিত থাকবে। ভরণ-পোষণের বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা তার তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে আরোপিত, যা স্থগিত রাখা সম্ভব নয়। 

ব্যবসায়ের যাকাত সম্পর্কেও অনুরূপ মতভেদ রয়েছে। 

পরিচ্ছেদ: সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ ও সময় 

ফিতরার পরিমাণ হলো অর্ধ সা’আ গম, বা আটা, ছাতু বা কিশমিশ অথবা এক সা’আ খেজুর বা যব। সাহেবাইনের মতে কিশমিশ যবের পর্যায়ভূক্ত। 

ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকেও এ মত বর্ণিত আছে। প্রথম মতটি কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী। 

ইমাম শাফিঈ (র.)-এর মতে উল্লেখিত সব ক’টি জিনিসের ক্ষেত্রেই এক সা’আ ওয়াজিব হবে। কেননা আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) তার বর্ণনায় বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর যামানায় আমরা এই পরিমাণ আদায় করতাম। 

আমাদের দলীল হলো সা’লাবা (রা.) বর্ণিত হাদীছ যা ইতোপূর্বে আমরা বর্ণনা করেছি। আর এটা একদল সাহাবা ও মাযহাব, যাদের মাঝে খুলাফায়ে রাশেদীন(রা.) ও রয়েছেন। 

ইমাম শাফিঈ (র.) যে হাদীছ বর্ণনা করেছেন, তা নফল রূপে অতিরিক্ত দানের সংগে সম্পৃক্ত। 

কিশমিশ সম্পর্কে সাহেবাইনের বক্তব্য এই যে, কিশমিশ ও খেজুর উদ্দেশ্যের দিক থেকে নিকটবর্তী। 

ইমাম আবূ হানীফা (র.) –এর দলীল এই যে, কিশমিশ ও গম গুণগত দিকে থেকে নিকটবর্তী। কেননা উভয়টি সর্বাংশে ভক্ষণ করা হয়। অথচ খেজুরের বীচি এবং যবের খোসা ফেলে দিতে হয়। এখান থেকেই গম ও খেজুরের মাঝে সুস্পষ্ট হয়ে যায়। 

মতনে উল্লেখিত আটা ও ছাতুর দ্বারা (ইমাম মুহাম্মদ (র.)-এর উদ্দেশ্য হলো গমের আটা ও ছাতু। যবের ছাতু যবেরই শ্রেণীভূক্ত হবে। তবে সতর্কতার খাতিরে উভয়ের মধ্যে পরিমাণ ও মূল্য বিবেচনা করা উত্তম। যদিও কোন কোন বর্ণনায় ‘আটা’ কথাটা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সাধারণ অবস্থায় উপর নির্ভর করে কিতাবে বিষয়টি বর্ণনা করা হয়নি। 

রুটির ক্ষেত্রে মূল্য বিবেচ্য হবে। এ-ই বিশুদ্ধ মত। 

ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে অর্ধ সা’আ গম পাল্লার ওযনে বিবেচনা করা হবে। আর ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর বর্ণনা মতে পাত্রের ধর্তব্য হবে। 

গমের চেয়ে আটা দ্বারা পরিশোধ করাই উত্তম। আর দিরহাম দ্বারা আদায় করা আটার চেয়ে উত্তম। এ হল ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত মত। ফকীহ্‌ আবূ জাফর এ মতই গ্রহণ করেছেন। কেননা, এ দ্বারা প্রয়োজনে অধিক ও ত্বরায় সম্পন্ন হয়। 

ইমাম আবূ বকর আল আ’মাশ থেকে অবশ্য গমকে অগ্রাধিকার প্রদানের কথা বর্ণিত হয়েছে। কেননা, এটা মতভেদ থেকে অধিক দূরবর্তী। কারণ আটা ও মূল্য দ্বারা ফিতরা আদায় হওয়ার ব্যাপারে ইমাম শাফিঈ (র.) এর ভিন্নমত রয়েছে। 

ইমাম আবূ হানীফা (র.) ও মুহাম্মদ (র.) এর মতে এক সা’আ এর পরিমাণ হচ্ছে আট ইরাকী ‘রতল’। আর ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে পাচ রতল ও এক রতলের এক-তৃতীয়াংশ। 

এটা ইমাম শাফিঈ (র.) এরও মত। কেননা, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) বলেছেন, আমাদের সা’আ হলো সকল সা’আ এর মধ্যে ক্ষুদ্রতম। 

আমাদের দলীল হলো বর্ণিত হাদীছ যে, নবী (সা.) ‘মুদ্দ’ পাত্র দ্বারা উযূ করতেন যার পরিমাণ ছিলো দুই রতল এবং গোসল করতেন এক সা’আ দ্বারা, যার পরিমাণ ছিলো আট ‘রতল’। উমরা (রা.) এর সা’আও অনুরূপ ছিলো। 

আর হাশেমী সা’আ-এর তুলনায় এটা ছোট আর তারা সাধারণত। হাশিমী সা’আ-ই ব্যবহার করতেন।

কুদূরী (র.) এর ভাষ্য, ঈদুল ফিতরের দিন ফজর উদয় হওয়ার সাথে ফিতরা ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কিত। 

আর ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, রমযানের শেষ দিন সূর্যাস্তের সংগে সম্পর্কিত। সুতরাং যে ঈদের রাতে ইসলাম গ্রহণ করে কিংবা জন্মগ্রহণ করে, আমাদের মতে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে। কিন্তু তার মতে ওয়াজিব হবে না। আর ঈদের রাত্রে তার যে গোলাম কিংবা সন্তান মারা যাবে, তাদের ক্ষেত্রে মতামত হল বিপরীত। 

তার যুক্তি এই যে, এটার সম্পর্ক হলো ‘ফিতর’ তথা রোযা ভংগের সংগে। আর এ-ই হলো তার সময়। 

আমাদের দলীল এই যে, ফিতরের সাথে সাদাকার সম্পর্ক হল বিশেষত্ব প্রকাশের জন্য আর ফিতর (বা রোযা রাখা না রাখা) এর সম্পর্ক হলো দিনের সাথে, রাত্রের সাথে নয়। 

ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগায় রওয়ানা হওয়ার পূর্বে ফিত্‌রা আদায় করা মুসতাহাব। কেননা নবী করীম (সা.) রওয়ানা হওয়ার পূর্বেই তা আদায় করতেন। 

তাছাড়া যুক্তিগত দলীল এই যে, সচ্ছল করে দেয়ার আদেশ প্রদানের উদ্দেশ্য হলো, যেন গরীব লোকটি ব্যস্ততায় লিপ্ত না হয়ে পড়ে। 

এটা আগেভাগে আদায় করার মাধ্যমেই সম্ভব। 

যদি ফিতরা ঈদুল ফিতরের আগেই আদায় করে দেয়, তবে জাইয হবে। কেননা সবব (রামাযান) আগমনের পরেই সে তা আদায় করেছে। সুতরাং আগে-ভাগে যাকাত আদায় করার অনুরূপ হবে। 

আর সময়ের পরিমাণে কোন তারতম্য নেই। এ-ই বিশুদ্ধ মত। 

যদি ঈদুল ফিতরের দিন আদায় না করে বিলম্বিত করে, তবে ওয়াজিব রহিত হবে না। বরং তা আদায় করতেই হবে। 

এটা ইবাদত হওয়ার কারণ যুক্তিসংগত। সুতরাং এ সাদাকার ক্ষেত্রে আদায় করার সময় সীমাবদ্ধ হবে না। কুরবানীর বিষয়টি এর বিপরীত। 

আল্লাহ্‌ই অধিক জানেন।

আরবী অংশ:

(بَابُ صَدَقَةِ الْفِطْرِ) قَالَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: (صَدَقَةُ الْفِطْرِ وَاجِبَةٌ عَلَى الْحُرِّ الْمُسْلِمِ إذَا كَانَ مَالِكًا لِمِقْدَارِ النِّصَابِ فَاضِلًا عَنْ مَسْكَنِهِ وَثِيَابِهِ وَأَثَاثِهِ وَفَرَسِهِ وَسِلَاحِهِ وَعَبِيدِهِ) أَمَّا وُجُوبُهَا فَلِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - فِي خُطْبَتِهِ " «أَدُّوا عَنْ كُلِّ حُرٍّ وَعَبْدٍ صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ» رَوَاهُ ثَعْلَبَةُ بْنُ صُعَيْرٍ الْعَدَوِيُّ أَوْ صُعَيْرٍ الْعُذْرِيُّ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ -، وَبِمِثْلِهِ يَثْبُتُ الْوُجُوبُ لِعَدَمِ الْقَطْعِ
وَشَرْطُ الْحُرِّيَّةِ لِيَتَحَقَّقَ التَّمْلِيكُ وَالْإِسْلَامُ لِيَقَعَ قُرْبَةً، وَالْيَسَارُ لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «لَا صَدَقَةَ إلَّا عَنْ ظَهْرِ غِنًى» وَهُوَ حُجَّةٌ عَلَى الشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ - فِي قَوْلِهِ: تَجِبُ عَلَى مَنْ يَمْلِكُ زِيَادَةً عَنْ قُوتِ يَوْمِهِ لِنَفْسِهِ وَعِيَالِهِ، وَقَدْرُ الْيَسَارِ بِالنِّصَابِ لِتَقْدِيرِ الْغِنَى فِي الشَّرْعِ بِهِ فَاضِلًا عَمَّا ذُكِرَ مِنْ الْأَشْيَاءِ
لِأَنَّهَا مُسْتَحَقَّةٌ بِالْحَاجَةِ الْأَصْلِيَّةِ، وَالْمُسْتَحَقُّ بِالْحَاجَةِ الْأَصْلِيَّةِ كَالْمَعْدُومِ وَلَا يُشْتَرَطُ فِيهِ النُّمُوُّ، وَيَتَعَلَّقُ بِهَذَا النِّصَابِ حِرْمَانُ الصَّدَقَةِ وَوُجُوبُ الْأُضْحِيَّةِ وَالْفِطْرَةِ.
قَالَ (يُخْرِجُ ذَلِكَ عَنْ نَفْسِهِ) لِحَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ «فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - زَكَاةَ الْفِطْرِ عَلَى الذَّكَرِ وَالْأُنْثَى» الْحَدِيثَ (وَ) يُخْرِجُ عَنْ (أَوْلَادِهِ الصِّغَارِ) لِأَنَّ السَّبَبَ رَأْسٌ يُمَوِّنُهُ وَيَلِي عَلَيْهِ لِأَنَّهَا تُضَافُ إلَيْهِ يُقَالُ زَكَاةُ الرَّأْسِ، وَهِيَ أَمَارَةُ السَّبَبِيَّةِ، وَالْإِضَافَةُ إلَى الْفِطْرِ بِاعْتِبَارِ أَنَّهُ وَقْتُهُ، وَلِهَذَا تَتَعَدَّدُ بِتَعَدُّدِ الرَّأْسِ مَعَ اتِّحَادِ الْيَوْمِ، وَالْأَصْلُ فِي الْوُجُوبِ رَأْسُهُ وَهُوَ يُمَوِّنُهُ وَيَلِي عَلَيْهِ فَيَلْحَقُ بِهِ مَا هُوَ فِي مَعْنَاهُ كَأَوْلَادِهِ الصِّغَارِ لِأَنَّهُ يُمَوِّنُهُمْ وَيَلِي عَلَيْهِمْ (وَمَمَالِيكِهِ) لِقِيَامِ الْوِلَايَةِ وَالْمُؤْنَةِ، وَهَذَا إذَا كَانُوا لِلْخِدْمَةِ وَلَا مَالَ لِلصِّغَارِ، فَإِنْ كَانَ لَهُمْ مَالٌ يُؤَدِّي مِنْ مَالِهِمْ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ تَعَالَى خِلَافًا لِمُحَمَّدٍ - رَحِمَهُ اللَّهُ - لِأَنَّ الشَّرْعَ أَجْرَاهُ مَجْرَى الْمُؤْنَةِ فَأَشْبَهَ النَّفَقَةَ.
(وَلَا يُؤَدِّي عَنْ زَوْجَتِهِ) لِقُصُورِ الْوِلَايَةِ وَالْمُؤْنَةِ فَإِنَّهُ لَا يَلِيهَا فِي غَيْرِ حُقُوقِ النِّكَاحِ وَلَا يُمَوِّنُهَا فِي غَيْرِ الرَّوَاتِبِ كَالْمُدَاوَاةِ. (وَلَا عَنْ أَوْلَادِ الْكِبَارِ وَإِنْ كَانُوا فِي عِيَالِهِ) لِانْعِدَامِ الْوِلَايَةِ وَلَوْ أَدَّى عَنْهُمْ أَوْ عَنْ زَوْجَتِهِ بِغَيْرِ أَمْرِهِمْ أَجْزَأَهُ اسْتِحْسَانًا لِثُبُوتِ الْإِذْنِ عَادَةً.
(وَلَا) يُخْرِجُ (عَنْ مُكَاتَبِهِ) لِعَدَمِ الْوِلَايَةِ وَلَا الْمُكَاتَبِ عَنْ نَفْسِهِ لِفَقْرِهِ. وَفِي الْمُدَبَّرِ وَأُمِّ الْوَلَدِ وِلَايَةُ الْمَوْلَى ثَابِتَةٌ فَيُخْرِجُ عَنْهُمَا.
(وَلَا) يُخْرِجُ (عَنْ مَمَالِيكِهِ لِلتِّجَارَةِ) خِلَافًا لِلشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ - فَإِنَّ عِنْدَهُ وُجُوبَهَا عَلَى الْعَبْدِ وَوُجُوبَ الزَّكَاةِ عَلَى الْمَوْلَى فَلَا تَنَافِي، وَعِنْدَنَا وُجُوبُهَا عَلَى الْمَوْلَى بِسَبَبِهِ كَالزَّكَاةِ فَيُؤَدِّي إلَى الثَّنْيِ
(وَالْعَبْدُ بَيْنَ شَرِيكَيْنِ لَا فِطْرَةَ عَلَى وَاحِدٍ مِنْهُمَا) لِقُصُورِ الْوِلَايَةِ وَالْمُؤْنَةِ فِي حَقِّ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا (وَكَذَا الْعَبِيدُ بَيْنَ اثْنَيْنِ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -) وَقَالَا عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مَا يَخُصُّهُ مِنْ الرُّءُوسِ دُونَ الْأَشْقَاصِ بِنَاءً عَلَى أَنَّهُ لَا يَرَى قِسْمَةَ الرَّقِيقِ وَهُمَا يَرَيَانِهِمَا، وَقِيلَ: هُوَ بِالْإِجْمَاعِ لِأَنَّهُ لَا يَجْتَمِعُ النَّصِيبُ قَبْلَ الْقِسْمَةِ فَلَمْ تَتِمَّ الرَّقَبَةُ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا (وَيُؤَدِّي الْمُسْلِمُ الْفِطْرَةَ عَنْ عَبْدِهِ الْكَافِرِ) لِإِطْلَاقِ مَا رَوَيْنَا وَلِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - فِي حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - «أَدُّوا عَنْ كُلِّ حُرٍّ وَعَبْدٍ يَهُودِيٍّ أَوْ نَصْرَانِيٍّ أَوْ مَجُوسِيٍّ» الْحَدِيثَ وَلِأَنَّ السَّبَبَ قَدْ تَحَقَّقَ وَالْمَوْلَى مِنْ أَهْلِهِ، وَفِيهِ خِلَافُ الشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ - لِأَنَّ الْوُجُوبَ عِنْدَهُ عَلَى الْعَبْدِ، وَهُوَ لَيْسَ مِنْ أَهْلِهِ، وَلَوْ كَانَ عَلَى الْعَكْسِ فَلَا وُجُوبَ بِالِاتِّفَاقِ.
(وَمَنْ بَاعَ عَبْدًا وَأَحَدُهُمَا بِالْخِيَارِ فَفِطْرَتُهُ عَلَى مَنْ يَصِيرُ لَهُ) مَعْنَاهُ إذَا مَرَّ يَوْمُ الْفِطْرِ وَالْخِيَارُ بَاقٍ، وَقَالَ زُفَرُ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: عَلَى مَنْ لَهُ الْخِيَارُ لِأَنَّ الْوِلَايَةَ لَهُ. وَقَالَ الشَّافِعِيُّ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: عَلَى مَنْ لَهُ الْمِلْكُ لِأَنَّهُ مِنْ وَظَائِفِهِ كَالنَّفَقَةِ، وَلَنَا أَنَّ الْمِلْكَ مَوْقُوفٌ لِأَنَّهُ لَوْ رُدَّ إلَى قَدِيمِ مِلْكِ الْبَائِعِ وَلَوْ أُجِيزَ يَثْبُتُ الْمِلْكُ لِلْمُشْتَرِي مِنْ وَقْتِ الْعَقْدِ فَيَتَوَقَّفُ مَا يَبْتَنِي عَلَيْهِ بِخِلَافِ النَّفَقَةِ لِأَنَّهَا لِلْحَاجَةِ النَّاجِزَةِ فَلَا تَقْبَلُ التَّوَقُّفَ، وَزَكَاةُ التِّجَارَةِ عَلَى هَذَا الْخِلَافِ.
(فَصْلٌ فِي مِقْدَارِ الْوَاجِبِ وَوَقْتِهِ) :
(الْفِطْرَةُ نِصْفُ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ أَوْ دَقِيقٍ أَوْ سَوِيقٍ أَوْ زَبِيبٍ أَوْ صَاعٍ مِنْ تَمْرٍ أَوْ شَعِيرٍ) وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ وَمُحَمَّدٌ رَحِمَهُمَا اللَّهُ، الزَّبِيبُ بِمَنْزِلَةِ الشَّعِيرِ، وَهُوَ رِوَايَةٌ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى -، وَالْأَوَّلُ رِوَايَةُ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ، وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: مِنْ جَمِيعِ ذَلِكَ صَاعٌ لِحَدِيثِ «أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - قَالَ: كُنَّا نُخْرِجُ ذَلِكَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -» . وَلَنَا مَا رَوَيْنَا وَهُوَ مَذْهَبُ جَمَاعَةٍ مِنْ الصَّحَابَةِ فِيهِمْ الْخُلَفَاءُ الرَّاشِدُونَ - رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ -، وَمَا رَوَاهُ مَحْمُولٌ عَلَى الزِّيَادَةِ تَطَوُّعًا.
وَلَهُمَا فِي الزَّبِيبِ أَنَّهُ وَالتَّمْرُ يَتَقَارَبَانِ فِي الْمَقْصُودِ، وَلَهُ أَنَّهُ وَالْبُرُّ يَتَقَارَبَانِ فِي الْمَعْنَى لِأَنَّهُ يُؤْكَلُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا كُلُّهُ، بِخِلَافِ الشَّعِيرِ وَالتَّمْرِ لِأَنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا يُؤْكَلُ وَيُلْقَى مِنْ التَّمْرِ النَّوَاةُ وَمِنْ الشَّعِيرِ النُّخَالَةُ، وَبِهَذَا ظَهَرَ التَّفَاوُتُ بَيْنَ الْبُرِّ وَالتَّمْرِ، وَمُرَادُهُ مِنْ الدَّقِيقِ وَالسَّوِيقِ مَا يُتَّخَذُ مِنْ الْبُرِّ، أَمَّا دَقِيقُ الشَّعِيرِ فَكَالشَّعِيرِ، الْأَوْلَى أَنْ يُرَاعَى فِيهِمَا الْقَدْرُ وَالْقِيمَةُ احْتِيَاطًا، وَإِنْ نَصَّ عَلَى الدَّقِيقِ فِي بَعْضِ الْأَخْبَارِ، وَلَمْ يُبَيِّنْ ذَلِكَ فِي الْكِتَابِ اعْتِبَارًا لِلْغَالِبِ.
وَالْخُبْزُ تُعْتَبَرُ فِيهِ الْقِيمَةُ هُوَ الصَّحِيحُ، ثُمَّ يُعْتَبَرُ نِصْفُ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ وَزْنًا فِيمَا يُرْوَى عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - وَعَنْ مُحَمَّدٍ - رَحِمَهُ اللَّهُ - أَنَّهُ يُعْتَبَرُ كَيْلًا وَالدَّقِيقُ أَوْلَى مِنْ الْبُرِّ، وَالدَّرَاهِمُ أَوْلَى مِنْ الدَّقِيقِ فِيمَا يُرْوَى عَنْ أَبِي يُوسُفَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -، وَهُوَ اخْتِيَارُ الْفَقِيهِ أَبِي جَعْفَرٍ - رَحِمَهُ اللَّهُ - لِأَنَّهُ أَدْفَعُ لِلْحَاجَةِ وَأَعْجَلُ بِهِ، وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ الْأَعْمَشِ تَفْضِيلُ الْحِنْطَةِ لِأَنَّهُ أَبْعَدُ مِنْ الْخِلَافِ إذْ فِي الدَّقِيقِ وَالْقِيمَةِ خِلَافُ الشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ - قَالَ (وَالصَّاعُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ ثَمَانِيَةُ أَرْطَالٍ بِالْعِرَاقِيِّ) وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: خَمْسَةُ أَرْطَالٍ وَثُلُثُ رِطْلٍ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ - لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «صَاعُنَا أَصْغَرُ الصِّيعَانِ» .
وَلَنَا مَا رُوِيَ «أَنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - كَانَ يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ رِطْلَيْنِ وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ ثَمَانِيَةِ أَرْطَالٍ» وَهَكَذَا كَانَ صَاعُ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - وَهُوَ أَصْغَرُ مِنْ الْهَاشِمِيِّ، وَكَانُوا يَسْتَعْمِلُونَ الْهَاشِمِيَّ.
وَقَالَ (وَوُجُوبُ الْفِطْرَةِ يَتَعَلَّقُ بِطُلُوعِ الْفَجْرِ مِنْ يَوْمِ الْفِطْرِ) وَقَالَ الشَّافِعِيُّ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى -: بِغُرُوبِ الشَّمْسِ فِي الْيَوْمِ الْأَخِيرِ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى إنَّ مَنْ أَسْلَمَ أَوْ وُلِدَ لَيْلَةَ الْفِطْرِ تَجِبُ فِطْرَتُهُ عِنْدَنَا، وَعِنْدَهُ لَا تَجِبُ، وَعَلَى عَكْسِهِ مَنْ مَاتَ فِيهَا مِنْ مَمَالِيكِهِ أَوْ وَلَدِهِ.
لَهُ أَنَّهُ يَخْتَصُّ بِالْفِطْرِ وَهَذَا وَقْتُهُ. وَلَنَا أَنَّ الْإِضَافَةَ لِلِاخْتِصَاصِ، وَالِاخْتِصَاصُ الْفِطْرُ بِالْيَوْمِ دُونَ اللَّيْلِ (وَالْمُسْتَحَبُّ أَنْ يُخْرِجَ النَّاسُ الْفُطْرَةَ يَوْمَ الْفِطْرِ قَبْلَ الْخُرُوجِ إلَى الْمُصَلَّى) «لِأَنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - كَانَ يُخْرِجُ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ لِلْمُصَلَّى» ، وَلِأَنَّ الْأَمْرَ بِالْإِغْنَاءِ كَيْ لَا يَتَشَاغَلَ الْفَقِيرُ بِالْمَسْأَلَةِ عَنْ الصَّلَاةِ، وَذَلِكَ بِالتَّقْدِيمِ (فَإِنْ قَدَّمُوهَا عَلَى يَوْمِ الْفِطْرِ جَازَ) لِأَنَّهُ أَدَّى بَعْدَ تَقَرُّرِ السَّبَبِ فَأَشْبَهَ التَّعْجِيلَ فِي الزَّكَاةِ، وَلَا تَفْصِيلَ بَيْنَ مُدَّةٍ وَمُدَّةٍ هُوَ الصَّحِيحُ وَقِيلَ يَجُوزُ تَعْجِيلُهَا فِي النِّصْفِ الْأَخِيرِ مِنْ رَمَضَانَ وَقِيلَ فِي الْعُشْرِ الْأَخِيرِ (وَإِنْ أَخَّرُوهَا عَنْ يَوْمِ الْفِطْرِ لَمْ تَسْقُطْ وَكَانَ عَلَيْهِمْ إخْرَاجُهَا) لِأَنَّ وَجْهَ الْقُرْبَةِ فِيهَا مَعْقُولٌ فَلَا يَتَقَدَّرُ وَقْتُ الْأَدَاءِ فِيهَا بِخِلَافِ الْأُضْحِيَّةِ، وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

No comments:

Post a Comment