পরিচ্ছেদ: গরুর যাকাত
গরুর ক্ষেত্রে ত্রিশের নীচে কোন যাকাত নেই। সুতরাং গরুর সংখ্যা যখন মুক্ত মাঠে বিচরণকারী গরু ত্রিশ হবে এবং সেগুলোর উপর এক বছর অতিক্রান্ত হবে, তখন তাতে একটি তাবী বা তাবী’আ অর্থাত্ দ্বিতীয় বছরে পদার্পনকারী নর বা মাদী বাছুর ওয়াজিব হবে। এবং চল্লিশটিতে একটি ‘মুসিন’ বা ‘মুসিন্না’ অর্থাত্ তৃতীয় বছরে পদার্পনকারী নয় নর বা মাদী বাছুর ওয়াজিব হবে। রাসূলুল্লাহ্ (সা.) মু’আয (রা.) কে এরূপই আদেশ করেছিলেন।
যখন গরুর সংখ্যা চল্লিশের অধিক হবে তখন ষাট পর্যন্ত অতিরিক্ত সংখ্যাগুলোতে সেই পরিমাণ ওয়াজিব হবে।
এটি আবূ হানীফা (রা.) এর মত। সুতরাং অতিরিক্ত একটিতে একটি মুসিন্না এর চল্লিশ ভাগের একভাগ এবং দু’টিতে চল্লিশ ভাগের দুইভাগ এবং তিনটিতে একটি মুসিন্না এর চল্লিশ ভাগের তিন ভাগ ওয়াজিব হবে। এটা হল (মবসূতের কিতাবের) বর্ণনা।
কেননা (মধ্যবর্তী সংখ্যার ক্ষেত্রে) যাকাত মা’ফ হওয়া কিয়াসের বিপরীতে নাস (শরীআতের বাণী) দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। আর এক্ষেত্রে কোন ‘নাস’ নেই। আর হাসান ইব্ন যিয়াদ (র.) ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকে বর্ণনা করেন যে, পঞ্চাশে পৌছা পর্যন্ত অতিরিক্ত সংখ্যায় কিছুই ওয়াজিব হবে না। অতঃপর তাতে একটি ‘মুসিন্না’ এবং এক মুসিন্না’ এর চতুর্থাংশ কিংবা এক ‘তাবী’ এর তৃতীয়াংশ ওয়াজিব হবে।
কেননা এই (গরুর যাকাতের) নিসাবের ভিত্তি হল এই যে, প্রতি দু’টি দশকের মাঝে ‘ছাড়’ রয়েছে। এবং প্রতিটি দশকে ওয়াজিব আরোপিত। ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে ষাট উপনীত হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত সংখ্যায় কোন কিছু ওয়াজিব নেই। এটাও ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকে বর্ণিত একটি রিওয়ায়াত।
কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) মু’আয (রা.) কে বলেছেন- গরুর ‘মধ্যবর্তী’ সংখ্যাগুলো থেকে কিছু গ্রহণ করো না। আলিমগণ ‘মধ্যবর্তী’ সংখ্যার ব্যাখ্যা করেছেন চল্লিশ ও ষাটের মধ্যবর্তী দ্বারা।
আমাদের বক্তব্য এই যে, এমনও বলা হয়েছে যে, অতিরিক্ত সংখ্যা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো গরুর বাছুর সমূহ।
অতঃপর ষাটটি গরুর ক্ষেত্রে দুইটি তাবী কিংবা তাবী’আ এবং সত্তরের ক্ষেত্রে একপি মুসিন্না ও একটি তাবী, এবং আশিটির ক্ষেত্রে দুটি মুসিন্না এবং নব্বইটির ক্ষেত্রে তিনটি তাবী এবং একশটির ক্ষেত্রে দু’টি তাবী ও একটি মুসিন্না ওয়াজিব হবে।
অনুরূপভাবে প্রতি দশে বিধান তাবী থেকে মুসিন্না তে এবং মুসিন্না থেকে তাবী এ রূপান্তরিত হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- প্রতি ত্রিশটি গরুতে একটি তাবী কিংবা তাবী’আ এবং প্রতি চল্লিশটি গরুতে একটি মুসিন কিংবা ওয়াজিব হবে।
মহিষ ও গরু (যাকাতের হুকুমের ক্ষেত্রে) সমান। কেননা শব্দটি উভয়কে অন্তর্ভূক্ত করে। কারণ তা এরই শ্রেণী বিশেষ। তবে আমাদের দেশে সংখ্যাল্পতার কারণে মানুষের চিন্তা শব্দ দ্বারা সেদিকে ধাবিত হয় না। এ কারণেই কেউ যদি কসম করে যে, গরুর গোশত খাবে না তবে মহিষের গোশত খেলে কসম ভংগ হবে না। আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞাত।
পাদটীকা:
আরবী অংশ:
فَصْلٌ فِي) (الْبَقَرِ) (لَيْسَ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثِينَ مِنْ الْبَقَرِ السَّائِمَةِ صَدَقَةٌ، فَإِذَا كَانَتْ ثَلَاثِينَ سَائِمَةً وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ فَفِيهَا تَبِيعٌ أَوْ تَبِيعَةٌ) وَهِيَ الَّتِي طَعَنَتْ فِي الثَّانِيَةِ (وَفِي أَرْبَعِينَ مُسِنٌّ أَوْ مُسِنَّةٌ) وَهِيَ الَّتِي طَعَنَتْ فِي الثَّالِثَةِ، بِهَذَا أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - مُعَاذًا - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - (فَإِذَا زَادَتْ عَلَى أَرْبَعِينَ وَجَبَ فِي الزِّيَادَةِ بِقَدْرِ ذَلِكَ إلَى سِتِّينَ) عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ؛ فَفِي الْوَاحِدَةِ الزَّائِدَةِ رُبْعُ عُشْرِ مُسِنَّةٍ، وَفِي الِاثْنَيْنِ نِصْفُ عُشْرِ مُسِنَّةٍ، وَفِي الثَّلَاثَةِ ثَلَاثَةُ أَرْبَاعِ عُشْرِ مُسِنَّةٍ.
وَهَذِهِ رِوَايَةُ الْأَصْلِ لِأَنَّ الْعَفْوَ ثَبَتَ نَصًّا بِخِلَافِ الْقِيَاسِ وَلَا نَصَّ هُنَا. وَرَوَى الْحَسَنُ عَنْهُ أَنَّهُ لَا يَجِبُ فِي الزِّيَادَةِ شَيْءٌ حَتَّى تَبْلُغَ خَمْسِينَ، ثُمَّ فِيهَا مُسِنَّةٌ وَرُبْعُ مُسِنَّةٍ أَوْ ثُلُثُ تَبِيعٍ، لِأَنَّ مَبْنَى هَذَا النِّصَابِ عَلَى أَنْ يَكُونَ بَيْنَ كُلِّ عَقْدَيْنِ وَقْصٌ، وَفِي كُلِّ عَقْدٍ وَاجِبٌ. وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ وَمُحَمَّدٌ: لَا شَيْءَ فِي الزِّيَادَةِ حَتَّى تَبْلُغَ سِتِّينَ، وَهُوَ رِوَايَةٌ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - لِمُعَاذٍ «لَا تَأْخُذْ مِنْ أَوْقَاصِ الْبَقَرِ شَيْئًا» وَفَسَّرُوهُ بِمَا بَيْنَ أَرْبَعِينَ إلَى سِتِّينَ. قُلْنَا: قَدْ قِيلَ إنَّ الْمُرَادَ مِنْهَا الصِّغَارُ (ثُمَّ فِي السِّتِّينَ تَبِيعَانِ أَوْ تَبِيعَتَانِ، وَفِي سَبْعِينَ مُسِنَّةٌ وَتَبِيعٌ، وَفِي ثَمَانِينَ مُسِنَّتَانِ، وَفِي تِسْعِينَ ثَلَاثَةُ أَتْبِعَةٍ، وَفِي الْمِائَةِ تَبِيعَانِ وَمُسِنَّةٌ. وَعَلَى هَذَا يَتَغَيَّرُ الْفَرْضُ فِي كُلِّ عَشْرٍ مِنْ تَبِيعٍ إلَى مُسِنَّةٍ وَمِنْ مُسِنَّةٍ إلَى تَبِيعٍ) لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «فِي كُلِّ ثَلَاثِينَ مِنْ الْبَقَرِ تَبِيعٌ أَوْ تَبِيعَةٌ، وَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ مُسِنٌّ أَوْ مُسِنَّةٌ» (وَالْجَوَامِيسُ وَالْبَقَرُ سَوَاءٌ) لِأَنَّ اسْمَ الْبَقَرِ يَتَنَاوَلُهُمَا إذْ هُوَ نَوْعٌ مِنْهُ، إلَّا أَنَّ أَوْهَامَ النَّاسِ لَا تَسْبِقُ إلَيْهِ فِي دِيَارِنَا لِقِلَّتِهِ، فَلِذَلِكَ لَا يَحْنَثُ بِهِ فِي يَمِينِهِ لَا يَأْكُلُ لَحْمَ بَقَرٍ، وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.
No comments:
Post a Comment