Saturday, September 1, 2012

আল-হিদায়া - ১ম অধ্যায়: তাহারাত - পর্ব ৩ - গোসল

১ম অধ্যায়: তাহারাত [চলমান]

পূর্ববর্তী অংশ

পরিচ্ছেদঃ গোসল

গোসলের ফরয হল কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং সমস্ত শরীর ধোয়া

ইমাম শাফিঈ (র.) এর মতে গোসলের মধ্যে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া সুন্নত।কেননা নবী করিম (সা) বলেছেন: < عَشْرٌ مِنْ الْفِطْرَةِ > দশটি বিষয় ফিতরাত (অর্থাৎ সুন্নাত)-এর অন্তর্ভূক্ত। এর মধ্যে তিনি কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন: এ কারণেই উযূতে এ দু’টিকে সুন্নত গণ্য করা হয়।

আমাদের দলীল হলো আল্লাহ তা’আলার ইরশাদ: وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا যদি তোমরা জুনুবী[১৫] হও তাহলে পূর্ণ রুপে তাহারাত হাসিল কর

এখানে পূর্ণরূপে তাহারাত হাসিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।যার মর্ম হল সমস্ত শরীর পবিত্র করা।[১৬] তবে যেখানে পানি পৌছানো দুষ্কর, সেগুলো (ধোয়ার আওতা থেকে) বহির্ভূত।

উযূর অবস্থা ভিন্ন। কেননা, উযূর মধ্যে وجه চেহারা ধোয়া ওয়াজিব। আর আভিধানিক অর্থে وجه চেহারার দ্বারা এতটুকু অংশ বুঝায়, যা মুখোমখিতে প্রকাশ পায়। আর মুখ ও নাকের অভ্যন্তরের মধ্যে মুখামুখির অবস্থা অনুপস্থিত।

(ইমাম শাফিঈ (র.) কর্তৃক বর্ণিত হাদীছটির উদ্দেশ্য হচ্ছে উযূ ভংগের অবস্থা এর প্রমাণ হল নবী (সা.) এর বাণী।

< إنَّهُمَا فَرْضَانِ فِي الْجَنَابَةِ سُنَّتَانِ فِي الْوُضُوءِ > কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া উভয়টি জানাবাতের গোসলে ফরয এবং উযূতে সুন্নত

গোসলের সুন্নত এই যে, গোসলকারী প্রথমে দুই হাত এবং লজ্জাস্থান ধুবে। আর শরীরে নাজাসাত লেগে থাকলে তা পরিষ্কার করবে, অতঃপর সালাতের উযূর অনূরূপ উযূ করবে, তবে পদদ্বয় ধুবে না। এরপর মাথায় ও সারা শরীরে তিনবার পানি প্রবাহিত করবে। এরপর গোসলের স্থান থেকে সরে গিয়ে দু’পা ধুয়ে নেবে।

মায়মূনা (রা.) রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এর গোসলের অনূরূপ বিবরণই দিয়েছেন। পা ধোয়া সর্বশেষে করার কারণ এই যে, পা দুটো ব্যবহৃত পানি জমা থাকার জায়গায় থাকে। তাই আগে ধোয়াতে কোন লাভ নেই। এমনকি তক্তার উপরে (বা উচু স্থানে) দাড়িয়ে গোসল করলে তখন পা ধোয়া বিলম্বিত করবে না।

প্রথমে হাকীকী নাজাসাত (নাপাক পদার্থ) দূর করে নেয়ার কারণ এই যে, পানি লেগে তা যেন আরো ছড়িয়ে না পড়ে।

স্ত্রী লোকের জন্য গোসলের সময় বেণী খুলে নেওয়া জরুরী নয়, যদি চুলের গোড়ায় পানি পৌছে যায়। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) উম্মু সালামা (রা.) কে বলেছেন: < أَمَا يَكْفِيك إذَا بَلَغَ الْمَاءُ أُصُولَ شَعْرِك > চুলের গোড়ায় পানি পৌছলেই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে

বেণী ভিজানোও স্ত্রীলোকের জন্য জরুরী নয়, এ-ই বিশুদ্ধ মত। কেননা তা কষ্ট সাধ্য দাড়ির ব্যাপার অবশ্য ভিন্ন। কেননা দাড়ির ভিতরে পানি পৌছানো কষ্টদায়ক নয়।

ইমাম কুদূরী বলেন, গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহ হল:

(১) জাগ্রত বা নিদ্রিত অবস্থায় নারী বা পুরুষের সবেগ ও সকাম বীর্যস্খলন

ইমাম শাফিঈ (র.) এর মতে, যে কোন অবস্থায় বীর্যস্খলনেই গোসল ওয়াজিব হয়।কেননা রাসূল করীম (সা.) বলেছেন: < الْمَاءُ مِنْ الْمَاءِ > পানির কারণে পানি আবশ্যক[মুসলিম, আবু দাউদ] আমাদের দলীল এই যে, পবিত্রতা অর্জনের নির্দেশ ‘জুনুবীর’ সাথে সম্পর্কিত। جنابة শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘সকাম অবস্থায় বীর্যস্খলন’। (উদাহরণতঃ) اجنب الرجل ‘লোকটি জুনুবী হয়েছে’ তখনই বলা হয়, যখন লোকটি স্ত্রীর সাথে কাম-ইচ্ছা চরিতার্থ করে।

উক্ত হাদীছ সকাম বীর্যস্খলনের অর্থেই ব্যবহৃত। তবে ইমাম আবূ হানীফা ও মুহাম্মদ (র.) এর মতে মূল স্থান থেকে বীর্যেরস্খলনের কামোত্তেজনা থাকাই যথেষ্ট।

ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে বীর্যের প্রকাশ বা নির্গমন কামোত্তেজনাসহ হওয়া শর্ত। তিনি নির্গমন অবস্থাকে মূল স্থান থেকে স্খলন অবস্থার উপর কিয়াস করেন। কেননা গোসলের সম্পর্ক উভয়ের সাথে।

উক্ত দুই ইমামের যুক্তি এই যে, যখন গোসল ওয়াজিব হওয়ার এক কারণ বিদ্যমান তখন সতর্কতার চাহিদা হল গোসল ওয়াজিব সাব্যস্ত করা।[১৭]

(২) বীর্যস্খলন ব্যতিরেকে দুই অংগের ‘মিলন’। কেননা নবী করীম (সা) বলেছেন:
 
إذَا الْتَقَى الْخِتَانَانِ وَتَوَارَتْ الْحَشَفَةُ وَجَبَ الْغُسْلُ ، أَنْزَلَ أَوْ لَمْ يُنْزِلْ

উভয় খাতনা স্থান[১৮] যখন মিলিত হয়; বীর্যস্খলন ঘটুক কিংবা না ঘটুক[رواه ابن وهب في مسنده]

আর এ জন্য যে, দুই অংগের মিলন হল বীর্যস্খলনের কারণ। আর পুরুষাঙ্গ রয়েছে তার দৃষ্টির অগোচরে। পরিমাণ অল্প হলে স্খলন তার অজ্ঞাতও খাকতে পারে। কাজেই কারণকে স্খলনের স্থলবর্তী ধরে নেওয়া হয়েছে। গুহ্যদ্বারে প্রবেশ করানোরও এই হুকুম। কেননা স্খলনের কারণ এখানেও পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যমান। আর যার সাথে একাজ করা হয়, সতর্কতা-স্বরূপ তার উপরও গোসল ওয়াজিব।

পশু সংগম ও যৌনাঙ্গ ছাড়া মৈথুন এর বিষয়টি ভিন্ন। কেননা সেখানে স্খলনের কারণ দুর্বল।

(৩) ঋতুস্রাব (এর সমাপ্তি) কেননা—আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন: حَتَّى يَطَّهَّرْنَ  

(ط এর উপর تشديد এর কিরাআত অনুযায়ী) যতক্ষণ না তারা উত্তমরূপ পবিত্রতা অর্জন করবে

(৪) তদ্রুপ সর্বসম্মত মতে নিফাস ও (প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব):

আর রাসূলুল্লাহ্ (সা.) গোসল সুন্নত করেছেন, জুমুআ, দুই ঈদ, আরাফায় অবস্থান ও ইহরামের জন্য গোসল।

মূল গ্রন্থকার (ইমাম কুদূরী) স্পষ্ট সুন্নত বলেছেন। কারো কারো মতে এই চার সময়ের গোসল মুসতাহাব। মূল (মাবসূত) গ্রন্থে ইমাম মুহাম্মদ (র.) জুমুআর গোসলকে উত্তম বলেছেন। আর ইমাম মালিক বলেছেন ওয়াজিব। কেননা রাসূল করীম (সা.) বলেছেন: < مَنْ أَتَى الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ > জুমুআয় যে শরীক হয়, সে যেন গোসল করে নেয়[ইবন মাজাহ, তিরমিযি]

আমাদের দলীল এই যে, নবী করীম (সা.) বলেছেন: < مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ ، وَمَنْ اغْتَسَلَ فَهُوَ أَفْضَلُ >

জুমুআর দিন যে উযূ করে, তা তার জন্য যথেষ্ট ও ভাল। আর যে গোসল করে তা উত্তম[আবু দাউদ, তিরমিযি] (সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্য) ইমাম মালেক বর্ণিত হাদীছের নির্দেশকে মুসতাহাব অর্থে নেওয়া হবে; কিংবা রহিত বলে গণ্য।

আর ইমাম আবূ ইউসূফের মতে এই গোসল হল সালাতুল ‘জুমআর জন্য এবং এ-ই বিশুদ্ধ মত। কেননা সময়ের তুলনায় তার ফযীলত অধিক। তাছাড়া সালাতের সাথেই তাহারাতের বিশেষ সম্পর্ক। এ বিষয়ে ইমাম হাসান এর ভিন্নমত রয়েছে।

দুই ঈদ ও জুমুআর মতই। কেননা, উভয় ঈদেই বড় সমাবেশ হয়। সুতরাং দুর্গন্ধজনিত কষ্ট দূর করার জন্য তাতে গোসল মুসতাহাব।

আরাফা ও ইহরামের গোসল সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ্ হজ্জের বিষয় প্রসংগে আলোচনা করবো।

কুদূরী (র.) বলেন, ‘মযী’, ও ‘অদী’ বের হলে তাতে গোসল আবশ্যক নয়, তবে উযূ আবশ্যক। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- < كُلُّ فَحْلٍ يُمْذِي وَفِيهِ الْوُضُوءُ > সকল পুরুষেরই মযী নির্গত হয়। আর তাতে উযূ আবশ্যক। ودي হল পেশাবের পর নির্গত অপেক্ষাকৃত গাঢ় তরল পদার্থ। তাই তা পেশাবের হুকুমের মধ্যেই গণ্য হবে। مني হচ্ছে সাদা আঠাল পদার্থ, যার স্খলন পুরুষাংগকে নিস্তেজ করে দেয়। হল সাদাটে তরল পদার্থ, যা স্ত্রীর সঙ্গে আদর-আহলাদের সময় নির্গত হয়। এ ব্যাখ্যা ‘আইশা (রা.) থেকে বর্ণিত।


পাদটীকা:

[১৫]

[১৬]

[১৭]

[১৮]

আরবী অংশ:


( فَصْلٌ فِي الْغُسْلِ ) ( وَفَرْضُ الْغُسْلِ الْمَضْمَضَةُ وَالِاسْتِنْشَاقُ وَغَسْلُ سَائِرِ الْبَدَنِ ) وَعِنْدَ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ هُمَا سُنَّتَانِ فِيهِ لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { عَشْرٌ مِنْ الْفِطْرَةِ } أَيْ مِنْ السُّنَّةِ وَذَكَرَ مِنْهَا الْمَضْمَضَةَ وَالِاسْتِنْشَاقَ وَلِهَذَا كَانَا سُنَّتَيْنِ فِي الْوُضُوءِ وَلَنَا قَوْله تَعَالَى { وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا } وَهُوَ أَمْرٌ بِتَطْهِيرِ جَمِيعِ الْبَدَنِ ، إلَّا أَنَّ مَا يَتَعَذَّرُ إيصَالُ الْمَاءِ إلَيْهِ خَارِجٌ عَنْ النَّصِّ بِخِلَافِ الْوُضُوءِ لِأَنَّ الْوَاجِبَ فِيهِ غَسْلُ الْوَجْهِ وَالْمُوَاجِهَةُ فِيهِمَا مُنْعَدِمَةٌ ، وَالْمُرَادُ بِمَا رُوِيَ حَالَةَ الْحَدَثِ بِدَلِيلِ قَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { إنَّهُمَا فَرْضَانِ فِي الْجَنَابَةِ سُنَّتَانِ فِي الْوُضُوءِ } "
قَالَ ( وَسُنَّتُهُ أَنْ يَبْدَأَ الْمُغْتَسِلُ فَيَغْسِلَ يَدَيْهِ وَفَرْجَهُ وَيُزِيلَ نَجَاسَةً إنْ كَانَتْ عَلَى بَدَنِهِ ، ثُمَّ يَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ إلَّا رِجْلَيْهِ ، ثُمَّ يُفِيضُ الْمَاءَ عَلَى رَأْسِهِ وَسَائِرِ جَسَدِهِ ثَلَاثًا ، ثُمَّ يَنْتَحِي عَنْ ذَلِكَ الْمَكَانِ فَيَغْسِلَ رِجْلَيْهِ ) هَكَذَا حَكَتْ مَيْمُونَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا اغْتِسَالَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَإِنَّمَا يُؤَخِّرُ غَسْلَ رِجْلَيْهِ لِأَنَّهُمَا فِي مُسْتَنْقَعِ الْمَاءِ الْمُسْتَعْمَلِ فَلَا يُفِيدُ الْغَسْلُ حَتَّى لَوْ كَانَ عَلَى لَوْحٍ لَا يُؤَخِّرُ ، وَإِنَّمَا يَبْدَأُ بِإِزَالَةِ النَّجَاسَةِ الْحَقِيقِيَّةِ كَيْ لَا تَزْدَادَ بِإِصَابَةِ الْمَاءِ ( وَلَيْسَ عَلَى الْمَرْأَةِ أَنْ تَنْقُضَ ضَفَائِرَهَا فِي الْغُسْلِ إذَا بَلَغَ الْمَاءُ أُصُولَ الشَّعْرِ ) لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ لِأُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا { أَمَا يَكْفِيك إذَا بَلَغَ الْمَاءُ أُصُولَ شَعْرِك } " وَلَيْسَ عَلَيْهَا بَلُّ ذَوَائِبِهَا هُوَ الصَّحِيحُ ، بِخِلَافِ اللِّحْيَةِ لِأَنَّهُ لَا حَرَجَ فِي إيصَالِ الْمَاءِ إلَى أَثْنَائِهَا
قَالَ ( وَالْمَعَانِي الْمُوجِبَةُ لِلْغُسْلِ إنْزَالُ الْمَنِيِّ عَلَى وَجْهِ الدَّفْقِ وَالشَّهْوَةِ مِنْ الرَّجُلِ وَالْمَرْأَةِ حَالَةَ النَّوْمِ وَالْيَقِظَةِ ) وَعِنْدَ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ خُرُوجُ الْمَنِيِّ كَيْفَمَا كَانَ يُوجِبُ الْغُسْلَ لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { الْمَاءُ مِنْ الْمَاءِ } " أَيْ الْغُسْلُ مِنْ الْمَنِيِّ ، وَلَنَا أَنَّ الْأَمْرَ بِالتَّطْهِيرِ يَتَنَاوَلُ الْجُنُبَ ، وَالْجَنَابَةُ فِي اللُّغَةِ خُرُوجُ الْمَنِيِّ عَلَى وَجْهِ الشَّهْوَةِ ، يُقَالُ أَجْنَبَ الرَّجُلُ إذَا قَضَى شَهْوَتَهُ مِنْ الْمَرْأَةِ ، وَالْحَدِيثُ مَحْمُولٌ عَلَى خُرُوجِ الْمَنِيِّ عَنْ شَهْوَةٍ ، ثُمَّ الْمُعْتَبَرُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ انْفِصَالُهُ عَنْ مَكَانِهِ عَلَى وَجْهِ الشَّهْوَةِ وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُ اللَّهُ ظُهُورُهُ أَيْضًا اعْتِبَارًا لِلْخُرُوجِ بِالْمُزَايَلَةِ إذْ الْغُسْلُ يَتَعَلَّقُ بِهِمَا وَلَهُمَا أَنَّهُ مَتَى وَجَبَ مِنْ وَجْهٍ فَالِاحْتِيَاطُ فِي الْإِيجَابِ
( وَالْتِقَاءُ الْخِتَانَيْنِ مِنْ غَيْرِ إنْزَالٍ ) لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { إذَا الْتَقَى الْخِتَانَانِ وَتَوَارَتْ الْحَشَفَةُ وَجَبَ الْغُسْلُ ، أَنْزَلَ أَوْ لَمْ يُنْزِلْ } " وَلِأَنَّهُ سَبَبُ الْإِنْزَالِ وَنَفْسُهُ يَتَغَيَّبُ عَنْ بَصَرِهِ وَقَدْ يَخْفَى عَلَيْهِ لِقِلَّتِهِ فَيُقَامُ مَقَامَهُ ، وَكَذَا الْإِيلَاجُ فِي الدُّبُرِ لِكَمَالِ السَّبَبِيَّةِ ، وَيَجِبُ عَلَى الْمَفْعُولِ بِهِ احْتِيَاطًا ، بِخِلَافِ الْبَهِيمَةِ وَمَا دُونَ الْفَرْجِ لِأَنَّ السَّبَبِيَّةَ نَاقِصَةٌ
قَالَ ( وَالْحَيْضُ ) لِقَوْلِهِ تَعَالَى { حَتَّى يَطَّهَّرْنَ } بِالتَّشْدِيدِ ( وَ ) كَذَا ( النِّفَاسُ ) لِلْإِجْمَاعِ
قَالَ { وَسَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْغُسْلَ لِلْجُمُعَةِ وَالْعِيدَيْنِ وَعَرَفَةَ وَالْإِحْرَامِ } نَصَّ عَلَى السُّنِّيَّةِ ، وَقِيلَ هَذِهِ الْأَرْبَعَةُ مُسْتَحَبَّةٌ ، وَسَمَّى مُحَمَّدٌ الْغُسْلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ حَسَنًا فِي الْأَصْلِ .
وَقَالَ مَالِكٌ رَحِمَهُ اللَّهُ : هُوَ وَاجِبٌ لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { مَنْ أَتَى الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ } " .
وَلَنَا قَوْلُهُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ ، وَمَنْ اغْتَسَلَ فَهُوَ أَفْضَلُ } " وَبِهَذَا يُحْمَلُ مَا رَوَاهُ عَلَى الِاسْتِحْبَابِ أَوْ عَلَى النَّسْخِ ، ثُمَّ هَذَا الْغُسْلُ لِلصَّلَاةِ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُ اللَّهُ هُوَ الصَّحِيحُ لِزِيَادَةِ فَضِيلَتِهَا عَلَى الْوَقْتِ وَاخْتِصَاصِ الطَّهَارَةِ بِهَا ، وَفِيهِ خِلَافُ الْحَسَنِ ، وَالْعِيدَانِ بِمَنْزِلَةِ الْجُمُعَةِ لِأَنَّ فِيهِمَا الِاجْتِمَاعُ فَيُسْتَحَبُّ الِاغْتِسَالُ دَفْعًا لِلتَّأَذِّي بِالرَّائِحَةِ .
وَأَمَّا فِي عَرَفَةَ وَالْإِحْرَامِ فَسَنُبَيِّنُهُ فِي الْمَنَاسِكِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى
قَالَ ( وَلَيْسَ فِي الْمَذْيِ وَالْوَدْيِ غُسْلٌ وَفِيهِمَا الْوُضُوءُ ) لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { كُلُّ فَحْلٍ يُمْذِي وَفِيهِ الْوُضُوءُ } " وَالْوَدْيُ : الْغَلِيظُ مِنْ الْبَوْلِ يَتَعَقَّبُ الرَّقِيقَ مِنْهُ خُرُوجًا فَيَكُونُ مُعْتَبَرًا بِهِ ، وَالْمَنِيُّ : خَاثِرٌ أَبْيَضُ يَنْكَسِرُ مِنْهُ الذَّكَرُ ، وَالْمَذْيُ : رَقِيقٌ يَضْرِبُ إلَى الْبَيَاضِ يَخْرُجُ عِنْدَ مُلَاعَبَةِ الرَّجُلِ أَهْلَهُ .
وَالتَّفْسِيرُ مَأْثُورٌ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا



পরবর্তী অংশ

সূচীপত্র

No comments:

Post a Comment