Saturday, September 1, 2012

আল-হিদায়া: সূচনা


গ্রন্থ:         আল-হিদায়া

লেখক:     শায়খুল ইসলাম বুরহান উদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবন আবূ বকর আল-ফারগানী
               আল-মারগীনানী(র)


দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু)

وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

যারা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে তাদের জন্য তিনিই যথেষ্ট হন

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি ইলমের নিদর্শন ও দৃষ্টান্তসমূহ ‘সমুন্নত’ করেছেন এবং যিনি শরীয়তের বিধান ও নির্দেশনাবলী সুপ্রকাশিত করেছেন, আর সত্যের পথ প্রদর্শনকারী রুপে বহু নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন, (তাদের সকলের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত বর্ষিত হোক) আর যিনি আলিমগণকে তাদের স্থলবর্তী করেছেন যারা তাদের সুন্নতের পথের আহবান করেন। যে সকল বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোন বাণী বর্ণিত হয়নি সে সকল ক্ষেত্রে ইজতিহাদের নীতি অনুসরণ করেন এবং সে বিষয়ে আল্লাহর নিকট পথ-নির্দেশনা প্রার্থনা করেন। আর আল্লাহই সঠিক পথ প্রদর্শনের অধিকারী।

আর তিনিই প্রাথমিক যুগের মুজতাহিদগণকে বিশেষভাবে তাওফীক দান করেছেন, ফলে তারা সুস্পষ্ট ও সূক্ষ সকল প্রকার মাসআলা সন্নিবেশ করেছেন। তবে যেহেতু ঘটনাবলী পরস্পরায় ঘটমান এবং ‘আলোচ্য বিষয় অব্যাহত সমস্যাবলী বেষ্টন করতে অক্ষম উপরন্তু উত্সস্থল থেকে বিচ্ছিন্ন মাসআলাসমূহ আহরণ করা এবং সদৃশ মাসআলাসমূহের উপর কিয়াস করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অতি কামিল লোকদের কীর্তি-রূপে স্বীকৃত। আর মাসায়েলের উত্সসমূহ সম্পর্কে অবগতির মূলে তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা সম্ভর হয়, উল্লেখ্য যে, ‘বিদায়াতুল মুবতাদী’ নামক কিতাবের ভূমিকা অংশে আমার পক্ষ থেকে এ প্রতিশ্রুতি যে, আল্লাহ্ তা’আলা যদি তাওফীক দান করেন তাহলে ‘ফিকায়াতুল মুনতাহী’ নাম-কারণপূর্বক উক্ত কিতাবের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করবো। অতএব আমি শরাহ্ লেখতে আরম্ভ করলাম, যদিও কৃতপ্রতিশ্রুতি বাধ্য-বাধকতা ছিল না। অবশেষে যখন রচনা কার্য থেকে অবসর হওয়ার কাছাকাছি উপনীত হলাম তখন তাতে কিছু ‘বিশদতা’ অনুভব করলাম এবং আশংকা করলাম যে, একারণে গ্রন্থখানি পরিত্যাক্ত হতে পারে। তাই আল-হিদায়া নামকরণপূর্বক আর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করলাম, আল্লাহ্ তা’আলা তাওফীক দিলে এর প্রতি অধ্যায়ে অতিরিক্ত বিষয় পরিহার করে আমি সুনির্বাচিত বর্ণনা এবং অকাট্য দলীলসমূহ সমাবিষ্ট করবো। এ জাতীয় বিষয়ে অতিবিশদ আলোচনা উপেক্ষা করে চলবো। তবে এমন সকল মূলনীতি তাতে সন্নিবেশিত হবে যার উপর ভিত্তি করে বহু আনুষঙ্গিক বিষয় আহরিত হবে। আল্লাহ্ তা’আলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে তা সম্পন্ন করার তাওফীক দান করেন এবং তার সমাপ্তির পর যেন সৌভাগ্যের সাথে আমার জীবনের অবসান ঘটান।

অতএব অধিক জ্ঞান অর্জনের উচ্চস্পৃহা যাদের হবে তারা সাগ্রহে সুদীর্ঘ ও বৃহত্তর ব্যাখ্যা গ্রন্থখানি অধ্যয়ন করবে। আর যাদের সময়ের তাড়াহুড়া থাকবে তারা সংক্ষিপ্ত ও ক্ষুদ্র পরিধির ব্যাখ্যা গ্রন্থের উপরই নির্ভর করবে।

এরপর আমার কতিপয় ভ্রাতা অনুরোধ করলেন, যেন আমি তাদের জন্য উক্ত দ্বিতীয় গ্রন্থটি লিপিবদ্ধ করি। সুতরাং আমি আল্লাহ্ তা’আলার সাহায্য কামনা করে আবার তা আরম্ভ করলাম, তাঁর দরবারে সকাতর প্রার্থনা সহকারে, যেন আমার প্রয়াস সহজ করে দেন। তিনিই সকল কঠিনকে সহজ করেন। তিনি তো যা ইচ্ছা করেন, তাঁর উপর ক্ষমতাবান এবং দু’আ কবুলের যোগ্য কেউ নেই। আল্লাহ্‌ই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কর্ম-বিধায়ক।

আরবী অংশ:


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَعْلَى مَعَالِمَ الْعِلْمِ وَأَعْلَامَهُ ، وَأَظْهَرَ شَعَائِرَ الشَّرْعِ وَأَحْكَامَهُ ، وَبَعَثَ رُسُلًا وَأَنْبِيَاءَ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ .
إلَى سُبُلِ الْحَقِّ هَادِينَ ، وَأَخْلَفَهُمْ عُلَمَاءَ إلَى سُنَنِ سُنَنِهِمْ دَاعِينَ ، يَسْلُكُونَ فِيمَا لَمْ يُؤْثَرْ عَنْهُمْ مَسْلَكَ الِاجْتِهَادِ ، مُسْتَرْشِدِينَ مِنْهُ فِي ذَلِكَ وَهُوَ وَلِيُّ الْإِرْشَادِ ، وَخَصَّ أَوَائِلَ الْمُسْتَنْبِطِينَ بِالتَّوْفِيقِ حَتَّى وَضَعُوا مَسَائِلَ مِنْ كُلِّ جَلِيٍّ وَدَقِيقٍ غَيْرَ أَنَّ الْحَوَادِثَ مُتَعَاقِبَةُ الْوُقُوعِ ، وَالنَّوَازِلُ يَضِيقُ عَنْهَا نِطَاقُ الْمَوْضُوعِ ، وَاقْتِنَاصُ الشَّوَارِدِ بِالِاقْتِبَاسِ مِنْ الْمَوَارِدِ ، وَالِاعْتِبَارُ بِالْأَمْثَالِ مِنْ صَنْعَةِ الرِّجَالِ ، وَبِالْوُقُوفِ عَلَى الْمَآخِذِ يُعَضُّ عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ .
وَقَدْ جَرَى عَلَى الْوَعْدِ فِي مَبْدَإِ بِدَايَةِ الْمُبْتَدِي أَنْ أَشْرَحَهَا بِتَوْفِيقِ اللَّهِ تَعَالَى شَرْحًا أَرْسُمُهُ بِكِفَايَةِ الْمُنْتَهِي ، فَشَرَعْت فِيهِ وَالْوَعْدُ يَسُوغُ بَعْضَ الْمَسَاغِ ، وَحِينَ أَكَادُ أَتَّكِئُ عَنْهُ اتِّكَاءَ الْفَرَاغِ ، تَبَيَّنْتُ فِيهِ نُبَذًا مِنْ الْإِطْنَابِ وَخَشِيتُ أَنْ يُهْجَرَ لِأَجْلِهِ الْكِتَابُ ، فَصَرَفْتُ الْعِنَانَ وَالْعِنَايَةَ إلَى شَرْحٍ آخَرَ مَوْسُومٍ بِالْهِدَايَةِ ، أَجْمَعُ فِيهِ بِتَوْفِيقِ اللَّهِ تَعَالَى بَيْنَ عُيُونِ الرِّوَايَةِ وَمُتُونِ الدِّرَايَةِ ، تَارِكًا لِلزَّوَائِدِ فِي كُلِّ بَابٍ ، مُعْرِضًا عَنْ هَذَا النَّوْعِ مِنْ الْإِسْهَابِ ، مَعَ مَا أَنَّهُ يَشْتَمِلُ عَلَى أُصُولٍ يَنْسَحِبُ عَلَيْهَا فُصُولٌ ، وَأَسْأَلُ اللَّهَ تَعَالَى أَنْ يُوَفِّقَنِي لِإِتْمَامِهَا ، وَيَخْتِمَ لِي بِالسَّعَادَةِ بَعْدَ اخْتِتَامِهَا ، حَتَّى إنَّ مَنْ سَمَتْ هِمَّتُهُ إلَى مَزِيدِ الْوُقُوفِ يَرْغَبُ فِي الْأَطْوَلِ وَالْأَكْبَرِ ، وَمَنْ أَعْجَلَهُ الْوَقْتُ عَنْهُ يَقْتَصِرْ عَلَى الْأَقْصَرِ وَالْأَصْغَرِ .
وَلِلنَّاسِ فِيمَا يَعْشَقُونَ مَذَاهِبُ وَالْفَنُّ خَيْرٌ كُلُّهُ .
ثُمَّ سَأَلَنِي بَعْضُ إخْوَانِي أَنْ أُمْلِيَ عَلَيْهِمْ الْمَجْمُوعَ
الثَّانِي ، فَافْتَتَحْتُهُ مُسْتَعِينًا بِاَللَّهِ تَعَالَى فِي تَحْرِيرِ مَا أُقَاوِلُهُ مُتَضَرِّعًا إلَيْهِ فِي التَّيْسِيرِ لِمَا أُحَاوِلُهُ ، إنَّهُ الْمُيَسِّرُ لِكُلِّ عَسِيرٍ وَهُوَ عَلَى مَا يَشَاءُ قَدِيرٌ وَبِالْإِجَابَةِ جَدِيرٌ ، وَحَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

No comments:

Post a Comment