Saturday, September 1, 2012

আল-হিদায়া - ১ম অধ্যায়: তাহারাত - পর্ব ২ - উযূ ভংগের কারণসমূহ

১ম অধ্যায়: তাহারাত [চলমান]

পূর্ববর্তী অংশ

পরিচ্ছেদ: উযূ ভংগের কারণসমূহ

উযূ ভংগের কারণগুলো যথাক্রমে:

(১) পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে যে কোন কিছু বের হওয়া। কেননা আল্লাহ্ বলেছেন:
 
أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنْ الْغَائِطِ
 
অথবা তোমাদের কেউ শৌচ স্থান থেকে আসে
(৪:৪৩)। রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-জিজ্ঞাসা করা হলো, حَدَث (উযূ ভংগের কারণ) কী? তিনি বললেন, < مَا يَخْرُجُ مِنْ السَّبِيلَيْنِ > পেশাব ও পায়খানা দু’দ্বারে যা রের হয়

আলোচ্য হাদীছের ما (যা কিছু) শব্দটি ব্যাপকতা জ্ঞাপক। সুতরাং প্রকৃতিগত ও অপ্রকৃতিগত সবকিছুই এর অন্তর্ভূক্ত।

(২) দেহের কোন অংশ থেকে বা পুঁজ বের হয়ে যদি পাক করার বিধান প্রযোজ্য হয় এমন স্থান অতিক্রম করে।

(৩) মুখ ভর্তি বমি। ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, পেশাব পায়খানার রাস্তা ছাড়া (দেহের অন্য কোন স্থান থেকে) কিছু বের হলে উযূ ভংগ হবে না। কেননা বর্ণিত আছে যে, নবী করিম (সা.) বমি করে উযূ করেননি।

তাছাড়া যে স্থানে নাজাসাত স্পর্শ করেনি, তা ধৌত করা যুক্তি-ঊর্ধ্ব করণীয় বিধান।[৫]

সুতরাং শরীআতের নির্দেশিত স্থানে তা সীমিত থাকবে। আর তা হল প্রকৃতিগত পথ। আমাদের প্রমাণ হলো, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন: < الْوُضُوءُ مِنْ كُلِّ دَمٍ سَائِلٍ > সকল প্রবাহিত রক্তের জন্যই উযূ আবশ্যক[দারু কুতনী] তিনি আরো বলেছেন:
 
مَنْ قَاءَ أَوْ رَعَفَ فِي صَلَاتِهِ فَلْيَنْصَرِفْ وَلْيَتَوَضَّأْ وَلِيَبْنِ عَلَى صَلَاتِهِ مَا لَمْ يَتَكَلَّمْ
 
সালাত অবস্থায় কারো বমি হলে কিংবা নাকে রক্ত ঝরলে সে যেন ফিরে গিয়ে উযূ করে এবং পূর্ববর্তী সালাতের উপর ‘বিনা’[৬] করে যতক্ষণ না কথা বলবে[ইবন মাজাহ]

আর যুক্তি হলো নাজাসাত নির্গত হওয়া তাহারাত ও পবিত্রতা ভংগের কারণ মূল আয়াতের এতটুকু তো যুক্তিসংগত। অবশ্য নির্দিষ্ট চার অংগ ধোয়ার নির্দেশ যুক্তির ঊর্ধ্বে। কিন্তু প্রথম বিষয়টি স্থানান্তরিত হলে দ্বিতীয় বিষয়টিও স্থানান্তরিত হওয়া অনিবার্য হবে। তবে নির্গত হওয়া তখনই সাব্যস্ত হবে, যখন তা তাহারাতের হুকুমভূক্ত কোন অংশ গড়িয়ে পৌঁছবে। আর বমির ক্ষেত্রে যখন তা মুখ ভরে হবে। কেননা, ‘আবরণত্বক’ উঠে গেলে রক্ত বা পুঁজ স্বস্থানে প্রকাশ পায় মাত্র; নির্গত হয় না।

পক্ষান্তরে পেশাব-পায়খানার পথ দু’টি ব্যতিক্রম (অর্থাৎ সেখানে নাজাসাত দেখা গেলে উযূ ভংগ হয়েছে বলে ধরা হবে) কেননা, তা নাজাসাতের প্রকৃত স্থান নয়। সুতরাং সেখানে নাজাসাতের প্রকাশ থেকেই তার ‘স্থানচ্যুতি’  ও নির্গত হওয়া প্রমাণিত হবে।

মুখ ভরা বমির অর্থ হলো, অনায়াসে যা আটকানো সম্ভব নয়। কেননা, দৃশ্যতঃ তা নির্গত হতে বাধ্য। সুতরাং নির্গত হয়েছে বলেই গণ্য হবে।

ইমাম যুফার (র.) বলেন, অল্প ও বিস্তর বমি সমপর্যায়ের। তদ্রূপ (রক্তের ক্ষেত্রেও তিনি) প্রবাহিত হওয়ার শর্ত আরোপ করেন না। পেশাব-পায়খানার স্বাভাবিক নির্গত হওয়ার স্থানের উপর কিয়াস করে।

তাছাড়া নবী করীম(সা.)-নিম্নোক্ত বাণী: < الْقَلْسُ حَدَثٌ > বমি উযূ ভংগের কারণ[৭] হচ্ছে শর্তমুক্ত।

আমাদের প্রমাণ হল নবী করীম (সা.)-এর হাদীছ: < لَيْسَ فِي الْقَطْرَةِ وَالْقَطْرَتَيْنِ مِنْ الدَّمِ وُضُوءٌ إلَّا أَنْ يَكُونَ سَائِلًا > প্রবাহিত না হলে এক দু’ফোঁটা রক্ত বের হলে উযূ আবশ্যক নয়[৮]

এবং হযরত আলী (রা.) উযূ ভংগের সবক’টি কারণ গণনা প্রসংগে বলেছেন, أَوْ دَسْعَةً تَمْلَأُ الْفَمَ (মুখ ভরা বমি) এখানে যখন হাদীছগুলো পরস্পর বিরোধী তখন (সমন্বয়ের জন্য) ইমাম শাফিঈ (র.) বর্ণিত হাদীছকে অল্প বমির উপর এবং ইমাম যুফার বর্ণিত হাদীছকে বেশী বমির উপর ধরা হবে। পক্ষান্তরে পেশাব-পায়খানার রাস্তা এবং অন্যান্য স্থান থেকে নাজাসাতে নির্গত হওয়ার পার্থক্য ইতোপূর্বে আমরা বলে এসেছি।

যদি বিভিন্ন দফায় এত পরিমাণ বমি করে যে, একত্র করা হলে তা মুখ ভর্তি পরিমাণ হবে, তখন ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে স্থানের অভিন্নতা বিবেচ্য[৯] হবে। এবং ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে বমনোদ্রেককারী হেতু অর্থাত্ উদগারের অভিন্নতা বিবেচ্য।[১০]

ইমাম আবূ ইউসূফ থেকে বর্ণিত যে, যে নির্গত পদার্থ উযূ ভংগের কারণ নয়, তা নাপাকও গণ্য নয়; এবং এটাই বিশুদ্ধ মত। যেহেতু তার দ্বারা তাহারাত ভংগ হয় না, তাই শরীআতের বিধানে নাপাক না হওয়া প্রমাণিত হয়।

এ হুকুম তখন প্রযোজ্য যখন পিত্ত বমি বা খাদ্যদ্রব্য বা সাধারণ পানি বমন করা হয়। আর শ্লেষ্মাবহন হলে ইমাম আবু হানীফা ও মুহাম্মদ (র)-এর মতে তা কোনো অবস্থাই উযূ ভংগকারী নয়। আর ইমাম আবু ইউসুফ (র) বলেন, এটিও মুখ ভর্তি হলে উযূ ভংগের কারণ হবে।

এ মতপার্থক্য হচ্ছে উদর থেকে উঠে আসা শ্লেষ্মার ব্যাপারে। মাথা থেকে নেমে আসা শ্লেষ্মার ক্ষেত্রে কিন্তু সর্বসম্মত মতেই তা উযূ ভংগের কারণ নয়। কেননা, মাথা নাজাসাতের স্থান নয়। ইমাম আবূ ইউসূফের যুক্তি এই যে, (উদরস্থ) শ্লেষ্মা নাজাসাতের সংস্পর্শহেতু নাজাসাত রূপে গণ্য।

আর অন্য ‍দুই ইমামের যুক্তি এই যে, এই শ্লেষ্মা যেহেতেু পিচ্ছিল। কাজেই তাতে নাজাসাত প্রবেশ করে না। যাওবা এর সাথে লেগে থাকে তা অতি অল্প। আর বমির ক্ষেত্রে ‘অল্প’ও উযূ ভংগকারী নয়।

আর যদি কেউ রক্তবমি করে এবং তা জমাট হয়, তবে এতে মুখ ভরতি বিবেচনা করা হবে। কেননা মূলতঃ তা পিত্ত-নিঃসৃত গাঢ় কাল পদার্থ। আর যদি তরল হয়, তবে ইমাম মুহম্মদ (র.) এর মতে, অন্যান্য প্রকার বমির নিরিখে এক্ষেত্রেও অনুরূপ মুখ ভর্তি হওয়া বিবেচ্য।

অন্য দুই ইমামের মতে, যদি স্বতঃস্ফূর্ত বেগে প্রবাহিত হয় তাহলে অল্প হলেও উযূ ভেংগে যাবে। কেননা পাকস্থলী রক্তের স্থান নয়। সুতরাং তা উদরস্থ কোন ক্ষত থেকে নির্গত হয়েছে বলে গণ্য হবে।

(আর রক্ত) মাথার ভিতর থেকে গড়িয়ে নাকের নরম অংশ পর্যন্ত উপনীত হলে সর্বসম্মত মতে উযূ ভেংগে যাবে। কেননা তা তাহারাতের হুকুমভূক্ত অংশে চলে এসেছে। সুতরাং নির্গত হওয়া সাব্যস্ত।

(৪) ঘুমানো-কাত হয়ে কিংবা হেলান দিয়ে কিংবা এমন কিছুতে ঠেস দিয়ে য়ে, তা সরিয়ে দিলে সে পড়ে যাবে। কেননা, পার্শ্ব শয়ন শরীরের গ্রন্থিগুলোর শিথিলতার কারণ। ফলে এ অবস্থা স্বভাবতই কিছু (বায়ু) নির্গত হওয়া থেকে মুক্ত নয়। আর স্বভাবতঃ যা বিদ্যমান তা ইয়াকিনী বিষয় বলে গণ্য।

আর তা হেলান অবস্থায় ঘুম আসলে ভূমির সাথে নিতম্বের সংলগ্নতা না থাকার কারণে জাগ্রতাবস্থার নিয়ন্ত্রণ বিলুপ্ত হয়। আর কিছুতে উক্ত প্রকার ঠেস দিয়ে ঘুমালে অংগ শৈথিল্য চরমে পৌছে যায়। ঠেকনাটি তার পড়ে যাওয়া থেকে বাচিয়ে রাখে পক্ষান্তরে (সালাতে বা সালাতের বাইরে) দাড়ানো, বসা, রুকু ও সাজদা অবস্থার ঘুম তেমন নয়। এটাই বিশুদ্ধ মত। কেননা, আংশিক নিয়ন্ত্রণ তখনো বহাল থাকে, তা না হলে তো পড়েই যেতো। সুতরাং পুরোপুরি অঙ্গ শিথিল হয় না। এ বিষয়ে মূল ভিত্তি হলো নবী (সা.) এর বাণী:

لَا وُضُوءَ عَلَى مَنْ نَامَ قَائِمًا أَوْ قَاعِدًا أَوْ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا ، إنَّمَا الْوُضُوءُ عَلَى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا ، فَإِنَّهُ إذَا نَامَ مُضْطَجِعًا اسْتَرْخَتْ مَفَاصِلُهُ
 
দাড়িয়ে, বসে,রুকুতে বা সাজদায় যে ঘুমায়, তার উপর উযূ আবশ্যক নয়। উযূ আবশ্যক হলো তার উপর, যে প্বার্শে ভর দিয়ে ঘুমায়, কেননা পার্শ্বের উপর ঘুমালে তার গ্রন্থি শিথিল হয়ে পড়ে।[১১]

(৫) এমন সংজ্ঞাহীনতা, যাতে বোধ-লোপ পায় এবং (৬) অপ্রকৃতিস্থতা। কেননা, এগুলো অংগ শৈথিল্যের ক্ষেত্রে পার্শ্ব শয়নের চাইতেও বেশী ক্রিয়াশীল। সংজ্ঞাহীনতা সর্বাবস্থায় উযূ ভংগের কারণ। ঘুমের ক্ষেত্রও কিয়াস ও যুক্তির দাবী এটাই ছিল। কিন্তু ঘুমের ক্ষেত্রে উক্ত পার্থক্য আমরা হাদীছ থেকে পেয়েছি। সংজ্ঞাহীনতা কে আবার নিদ্রার উপর কিয়াস করার সুযোগ নেই। কেননা তা নিদ্রার চাইতে বেশী প্রবল।

(৭) রুকু-সাজদাবিশিষ্ট সালাতে অট্টহাসি। অবশ্য কিয়াস ও যুক্তির দাবী হল উযূ ভংগ না হওয়া। ইমাম শাফিঈ (র.) এর মতও তাই। কেননা তা নির্গত নাজাসাত নয়। এ কারণে সালাতুল জানাযায়, তিলাওয়াতের সাজদায় এবং সালাতের বাইরে তা উযূ ভংগের কারণ নয়।

আমাদের দলীল হলো রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এর বাণী, শুনো, < أَلَا مَنْ ضَحِكَ مِنْكُمْ قَهْقَهَةً فَلْيُعِدْ الْوُضُوءَ وَالصَّلَاةَ جَمِيعًا > তোমাদের কেউ অট্টহাসি করলে উযূ ও সালাত উভয়ই পুনরায় আদায় করবে[১২] বলা বাহুল্য যে, এ ধরনের (মশহুর হাদীছ) দ্বারা কিয়াস করা হয়ে থাকে। তবে হাদীছটি যেহেতু পূর্ণ আকারের সালাত সম্পর্কিত, সেহেতু তার হুকুম তাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

قهقهة  বা ‘অট্টহাসি’ হলো যা নিজে এবং পার্শ্ববর্তী শুনতে পায়। আরضَحك  বা ‘হাসি’ হলো যা নিজে শুনতে পায়, কিন্তু অন্যরা শুনতে পায় না। আর কেউ কেউ বলেছেন যে, হাসি দ্বারা উযূ নষ্ট হয় না, কিন্তু সালাত ফাসিদ হয়ে যায়।

(৮) পিছনের রাস্তা দিয়ে কোন কীট বের হলে তা উযূ ভংগকারী হবে। তবে ক্ষতস্থান থেকে কীট বের হলে বা মাংসখণ্ড খসে পড়লে উযূ ভংগ হবে না

মূল পাঠে ‘দাব্বা’ দ্বারা উদ্দেশ্য ‘কীট’ কেননা (মূলতঃ কীট নাজাসাত নয় বরং) তার দেহ লেগে থাকা পদার্থ হলো নাজিস বা নাপাক এবং তা অতি অল্প। আর অল্প নাজাসাত পেশাব-পায়খানার রাস্তায় নির্গত হওয়া উযূ ভংগের কারণ। কিন্তু অন্য স্থান থেকে অল্প বের হওয়া উযূ ভংগের কারণ নয়। তাই (অন্য স্থান থেকে অল্প বের হওয়া) ঢেকুরের সঙ্গে তুলনীয় এবং (পেশাব-পায়খানার রাস্তা থেকে অল্প বের হওয়া) নিঃশব্দ বাতকর্মের সাথে তুলনীয়।[১৩] পক্ষান্তরে নারী অথবা পুরুষের পেশাবের রাস্তা দিয়ে নির্গত বায়ু উযূ ভংগকারী নয়। কেননা তা নাজাসাতের স্থান থেকে সৃষ্ট নয়। তবে ‘উভয় পথ সংযূক্ত এমন কোন নারীর বায়ু নির্গত হলে তার জন্য উযূ করে নেয়া মুসতাহাব।কেননা, সেটা পিছনের রাস্তা দিয়ে বের হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান।

কোন ফোড়া-ফোস্কার চামড়া তুলে ফেলার কারণে তা থেকে পানি-পুজ ইত্যাদি গড়িয়ে যদি ক্ষতস্থানের মুখ অতিক্রম করে তাহলে উযূ ভংগ হবে, আর পানি যদি অতিক্রম না করে তবে উযূ ভংগ হবে না

ইমাম যুফার (রা.) এর মতে উভয় অবস্থায় উযূ ভংগ হবে। ইমাম শাফিঈ (র.) এর মতে উভয় অবস্থাতেই উযূ ভংগ হবে না। মূলতঃ এটা পেশাব-পায়খানার রাস্তা ছাড়া ভিন্ন পথে নাজাসাত নির্গত হওয়ার মাসআলার সাথে সম্পৃক্ত। এই সমস্ত পানি পুজ ইত্যাদি অবশ্যই নাজিস। কেননা এগুলো মূলতঃ রক্ত, পর্যায়ক্রমে পক্ক হয়ে নির্গত ক্লেদ এবং আরো বেশী পক্ক হওয়ার পর পুজ, এরপর এই পার্থক্য তখনই হবে যখন আবরণ-ত্বক সরিয়ে ফেলার কারণে তা আপনা আপনি বের হয়। পক্ষান্তরে চিপ দেওয়ার কারণে বের হলে উযূ ভংগ হবে না। কেননা (হাদীছে الخارج বা নির্গত শব্দ রয়েছে, অথচ) এটা خارج বা নির্গত নয়, বরং مخرج বা নিঃসরণ করা হয়েছে।[১৪] আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

পাদটীকা:

[৫]

[৬]

[৭]

[৮]

[৯]

[১০]

[১১]

[১২]

[১৩]

[১৪]


আরবী অংশ:


( فَصْلٌ فِي نَوَاقِضِ الْوُضُوءِ ) : ( الْمَعَانِي النَّاقِضَةُ لِلْوُضُوءِ كُلُّ مَا يَخْرُجُ مِنْ السَّبِيلَيْنِ ) لِقَوْلِهِ تَعَالَى { أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنْ الْغَائِطِ } { وَقِيلَ لِرَسُولِ اللَّهَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا الْحَدَثُ ؟ قَالَ : مَا يَخْرُجُ مِنْ السَّبِيلَيْنِ } وَكَلِمَةُ مَا عَامَّةٌ فَتَتَنَاوَلُ الْمُعْتَادَ وَغَيْرَهُ ( وَالدَّمُ وَالْقَيْحُ إذَا خَرَجَا مِنْ الْبَدَنِ فَتَجَاوَزَا إلَى مَوْضِعٍ يَلْحَقُهُ حُكْمُ التَّطْهِيرِ ، وَالْقَيْءُ مِلْءَ الْفَمِ ) وَقَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ : الْخَارِجُ مِنْ غَيْرِ السَّبِيلَيْنِ لَا يَنْقُضُ الْوُضُوءَ لِمَا رُوِيَ { أَنَّهُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ قَاءَ فَلَمْ يَتَوَضَّأْ } وَلِأَنَّ غَسْلَ غَيْرِ مَوْضِعِ الْإِصَابَةِ أَمْرٌ تَعَبُّدِيٌّ فَيُقْتَصَرُ عَلَى مَوْرِدِ الشَّرْعِ وَهُوَ الْمَخْرَجُ الْمُعْتَادُ ، وَلَنَا قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ { الْوُضُوءُ مِنْ كُلِّ دَمٍ سَائِلٍ } وَقَوْلُهُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { مَنْ قَاءَ أَوْ رَعَفَ فِي صَلَاتِهِ فَلْيَنْصَرِفْ وَلْيَتَوَضَّأْ وَلِيَبْنِ عَلَى صَلَاتِهِ مَا لَمْ يَتَكَلَّمْ } وَلِأَنَّ خُرُوجَ النَّجَاسَةِ مُؤَثِّرٌ فِي زَوَالِ الطَّهَارَةِ ، وَهَذَا الْقَدْرُ فِي الْأَصْلِ مَعْقُولٌ ، وَالِاقْتِصَارُ عَلَى الْأَعْضَاءِ الْأَرْبَعَةِ غَيْرُ مَعْقُولٍ لَكِنَّهُ يَتَعَدَّى ضَرُورَةَ تَعَدِّي الْأَوَّلِ ، غَيْرَ أَنَّ الْخُرُوجَ إنَّمَا يَتَحَقَّقُ بِالسَّيَلَانِ إلَى مَوْضِعٍ يَلْحَقُهُ حُكْمُ التَّطْهِيرِ ، وَبِمِلْءِ الْفَمِ فِي الْقَيْءِ لِأَنَّ بِزَوَالِ الْقِشْرَةِ تَظْهَرُ النَّجَاسَةُ فِي مَحَلِّهَا فَتَكُونُ بَادِيَةً لَا خَارِجَةً ، بِخِلَافِ السَّبِيلَيْنِ لِأَنَّ ذَلِكَ الْوَضْعَ لَيْسَ بِمَوْضِعِ النَّجَاسَةِ فَيُسْتَدَلُّ بِالظُّهُورِ عَلَى الِانْتِقَالِ وَالْخُرُوجِ ، وَمِلْءُ الْفَمِ أَنْ يَكُونَ بِحَالٍ لَا يُمْكِنُ ضَبْطُهُ إلَّا بِتَكَلُّفٍ لِأَنَّهُ يَخْرُجُ ظَاهِرًا فَاعْتُبِرَ خَارِجًا .
وَقَالَ زُفَرُ رَحِمَهُ اللَّهُ : قَلِيلُ الْقَيْءِ وَكَثِيرُهُ سَوَاءٌ ، وَكَذَا لَا يُشْتَرَطُ السَّيَلَانُ عِنْدَهُ اعْتِبَارًا بِالْمَخْرَجِ الْمُعْتَادِ ،
وَلِإِطْلَاقِ قَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { الْقَلْسُ حَدَثٌ } .
وَلَنَا قَوْلُهُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { لَيْسَ فِي الْقَطْرَةِ وَالْقَطْرَتَيْنِ مِنْ الدَّمِ وُضُوءٌ إلَّا أَنْ يَكُونَ سَائِلًا } وَقَوْلُ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حِينَ عَدَّ الْأَحْدَاثَ جُمْلَةً : أَوْ دَسْعَةً تَمْلَأُ الْفَمَ .
وَإِذَا تَعَارَضَتْ الْأَخْبَارُ يُحْمَلُ مَا رَوَاهُ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ عَلَى الْقَلِيلِ ، وَمَا رَوَاهُ زُفَرُ رَحِمَهُ اللَّهُ عَلَى الْكَثِيرِ ، وَالْفَرْقُ بَيْنَ الْمَسْلَكَيْنِ قَدْ بَيَّنَّاهُ .
وَلَوْ قَاءَ مُتَفَرِّقًا بِحَيْثُ لَوْ جُمِعَ يَمْلَأُ الْفَمَ ، فَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُ اللَّهُ يُعْتَبَرُ اتِّحَادُ الْمَجْلِسِ ، وَعِنْدَ مُحَمَّدٍ رَحِمَهُ اللَّهُ يُعْتَبَرُ اتِّحَادُ السَّبَبِ وَهُوَ الْغَثَيَانُ ، ثُمَّ مَا لَا يَكُونُ حَدَثًا لَا يَكُونُ نَجَسًا ، يُرْوَى ذَلِكَ عَنْ أَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُ اللَّهُ ، وَهُوَ الصَّحِيحُ لِأَنَّهُ لَيْسَ بِنَجَسٍ حُكْمًا حَيْثُ لَمْ تَنْتَقِضْ بِهِ الطَّهَارَةُ ( وَهَذَا إذَا قَاءَ مُرَّةً أَوْ طَعَامًا أَوْ مَاءً ، فَإِنْ قَاءَ بَلْغَمًا فَغَيْرُ نَاقِضٍ ) عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ .
وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ رَحِمَهُ اللَّهُ نَاقِضٌ إذَا كَانَ مِلْءَ الْفَمِ ، وَالْخِلَافُ فِي الْمُرْتَقِي مِنْ الْجَوْفِ .
أَمَّا النَّازِلُ مِنْ الرَّأْسِ فَغَيْرُ نَاقِضٍ بِالِاتِّفَاقِ ؛ لِأَنَّ الرَّأْسَ لَيْسَ بِمَوْضِعِ النَّجَاسَةِ .
لِأَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُ اللَّهُ أَنَّهُ نَجِسٌ بِالْمُجَاوَرَةِ ، وَلَهُمَا أَنَّهُ لَزِجٌ لَا تَتَخَلَّلُهُ النَّجَاسَةُ وَمَا يَتَّصِلُ بِهِ قَلِيلٌ وَالْقَلِيلُ فِي الْقَيْءِ غَيْرُ نَاقِضٍ ( وَلَوْ قَاءَ دَمًا وَهُوَ عَلَقٌ يُعْتَبَرُ فِيهِ مِلْءُ الْفَمِ لِأَنَّهُ سَوْدَاءُ مُحْتَرِقَةٌ ) وَإِنْ كَانَ مَائِعًا فَكَذَلِكَ عِنْدَ مُحَمَّدٍ رَحِمَهُ اللَّهُ اعْتِبَارًا بِسَائِرِ أَنْوَاعِهِ ، وَعِنْدَهُمَا إنْ سَالَ بِقُوَّةِ نَفْسِهِ يَنْتَقِضُ الْوُضُوءُ وَإِنْ كَانَ قَلِيلًا لِأَنَّ الْمَعِدَةَ لَيْسَتْ بِمَحَلِّ الدَّمِ فَيَكُونُ مِنْ قُرْحَةٍ فِي الْجَوْفِ
( وَلَوْ ) ( نَزَلَ ) مِنْ الرَّأْسِ ( إلَى مَا لَانَ مِنْ الْأَنْفِ ) ( نَقَضَ بِالِاتِّفَاقِ ) لِوُصُولِهِ إلَى مَوْضِعٍ يَلْحَقُهُ حُكْمُ التَّطْهِيرِ فَيَتَحَقَّقُ الْخُرُوجُ ( وَالنَّوْمُ مُضْطَجِعًا أَوْ مُتَّكِئًا أَوْ مُسْتَنِدًا إلَى شَيْءٍ لَوْ أُزِيلَ عَنْهُ لَسَقَطَ ) لِأَنَّ الِاضْطِجَاعَ سَبَبٌ لِاسْتِرْخَاءِ الْمَفَاصِلِ فَلَا يَعْرَى عَنْ خُرُوجِ شَيْءٍ عَادَةً ، وَالثَّابِتُ عَادَةً كَالْمُتَيَقَّنِ بِهِ ، وَالِاتِّكَاءُ يُزِيلُ مَسْكَةَ الْيَقَظَةِ لِزَوَالِ الْمَقْعَدِ عَنْ الْأَرْضِ ، وَيَبْلُغُ الِاسْتِرْخَاءُ غَايَتَهُ بِهَذَا النَّوْعِ مِنْ الِاسْتِنَادِ ، غَيْرَ أَنَّ السَّنَدَ يَمْنَعُهُ مِنْ السُّقُوطِ ، بِخِلَافِ النَّوْمِ حَالَةَ الْقِيَامِ وَالْقُعُودِ وَالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ فِي الصَّلَاةِ وَغَيْرِهَا هُوَ الصَّحِيحُ ، لِأَنَّ بَعْضَ الِاسْتِمْسَاكِ بَاقٍ ، إذْ لَوْ زَالَ لَسَقَطَ فَلَمْ يَتِمَّ الِاسْتِرْخَاءُ ، وَالْأَصْلُ فِيهِ قَوْلُهُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { لَا وُضُوءَ عَلَى مَنْ نَامَ قَائِمًا أَوْ قَاعِدًا أَوْ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا ، إنَّمَا الْوُضُوءُ عَلَى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا ، فَإِنَّهُ إذَا نَامَ مُضْطَجِعًا اسْتَرْخَتْ مَفَاصِلُهُ }
( وَالْغَلَبَةُ عَلَى الْعَقْلِ بِالْإِغْمَاءِ وَالْجُنُونُ ) لِأَنَّهُ فَوْقَ النَّوْمِ مُضْطَجِعًا فِي الِاسْتِرْخَاءِ ، وَالْإِغْمَاءِ حَدَثٌ فِي الْأَحْوَالِ كُلِّهَا ، وَهُوَ الْقِيَاسُ فِي النَّوْمِ إلَّا أَنَّا عَرَفْنَاهُ بِالْأَثَرِ ، وَالْإِغْمَاءُ فَوْقَهُ فَلَا يُقَاسَ عَلَيْهِ
( وَالْقَهْقَهَةُ فِي كُلِّ صَلَاةٍ ذَاتِ رُكُوعٍ وَسُجُودٍ ) وَالْقِيَاسُ أَنَّهَا لَا تَنْقُضُ .
وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ لِأَنَّهُ لَيْسَ بِخَارِجٍ نَجَسٍ ، وَلِهَذَا لَمْ يَكُنْ حَدَثًا فِي صَلَاةِ الْجِنَازَةِ وَسَجْدَةِ التِّلَاوَةِ وَخَارِجِ الصَّلَاةِ .
وَلَنَا قَوْلُهُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { أَلَا مَنْ ضَحِكَ مِنْكُمْ قَهْقَهَةً فَلْيُعِدْ الْوُضُوءَ وَالصَّلَاةَ جَمِيعًا } وَبِمِثْلِهِ يُتْرَكُ الْقِيَاسُ .
وَالْأَثَرُ وَرَدَ فِي صَلَاةِ مُطْلَقَةٍ فَيُقْتَصَرُ عَلَيْهَا .
وَالْقَهْقَهَةُ مَا يَكُونُ مَسْمُوعًا لَهُ وَلِجِيرَانِهِ ، وَالضَّحِكُ مَا يَكُونُ مَسْمُوعًا لَهُ دُونَ جِيرَانِهِ وَهُوَ عَلَى مَا قِيلَ يُفْسِدُ الصَّلَاةَ دُونَ الْوُضُوءِ
( وَالدَّابَّةُ تَخْرُجُ مِنْ الدُّبُرِ نَاقِضَةٌ ، فَإِنْ خَرَجَتْ مِنْ رَأْسِ الْجُرْحِ أَوْ سَقَطَ اللَّحْمُ لَا تَنْقُضُ ) وَالْمُرَادُ بِالدَّابَّةِ الدُّودَةُ وَهَذَا لِأَنَّ النَّجَسَ مَا عَلَيْهَا وَذَلِكَ قَلِيلٌ وَهُوَ حَدَثٌ فِي السَّبِيلَيْنِ دُونَ غَيْرِهِمَا ، فَأَشْبَهَ الْجُشَاءَ وَالْفُسَاءَ ، بِخِلَافِ الرِّيحِ الْخَارِجَةِ مِنْ قُبُلِ الْمَرْأَةِ وَذَكَرِ الرَّجُلِ لِأَنَّهَا لَا تَنْبَعِثُ عَنْ مَحَلِّ النَّجَاسَةِ حَتَّى لَوْ كَانَتْ مُفْضَاةً يُسْتَحَبُّ لَهَا الْوُضُوءُ لِاحْتِمَالِ خُرُوجِهَا مِنْ الدُّبُرِ
 فَإِنْ قُشِرَتْ نَفْطَةٌ فَسَالَ مِنْهَا مَاءٌ أَوْ صَدِيدٌ أَوْ غَيْرُهُ إنْ سَالَ عَنْ رَأْسِ الْجُرْحِ نَقَضَ ، وَإِنْ لَمْ يَسِلْ لَا يَنْقُضُ ) وَقَالَ زُفَرُ رَحِمَهُ اللَّهُ يَنْقُضُ فِي الْوَجْهَيْنِ .
وَقَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ لَا يَنْقُضُ فِي الْوَجْهَيْنِ ، وَهِيَ مَسْأَلَةُ الْخَارِجِ مِنْ غَيْرِ السَّبِيلَيْنِ ، وَهَذِهِ الْجُمْلَةُ نَجِسَةٌ لِأَنَّ الدَّمَ يَنْضَجُ فَيَصِيرُ قَيْحًا ثُمَّ يَزْدَادُ نُضْجًا فَيَصِيرُ صَدِيدًا ثُمَّ يَصِيرُ مَاءً ، هَذَا إذَا قَشَرَهَا فَخَرَجَ بِنَفْسِهِ ، أَمَّا إذَا عَصَرَهَا فَخَرَجَ بِعَصْرِهِ لَا يَنْقُضُ لِأَنَّهُ مُخْرَجٌ وَلَيْسَ بِخَارِجٍ ، وَاَللَّهُ أَعْلَمُ


No comments:

Post a Comment