Saturday, September 1, 2012

আল-হিদায়া - ১ম অধ্যায়: তাহারাত - পর্ব ১

১ম অধ্যায়: তাহারাত[১]

আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إذَا قُمْتُمْ إلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ

হে ঈমানদারগণ, যখন তোমরা সালাতে দাঁড়াতে মনস্থ কর তখন নিজেদের মুখমণ্ডল ধৌত কর [সূরা মায়েদাহ: ৬]......আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

আলোচ্য আয়াত থেকে প্রমাণ হলো যে, উযুতে তিনটি অংগ ধোয়া এবং মাথা মাসহ করা ফরয[২]

غسل ধোয়া, (পানি) প্রবাহিত করা। আর مَسح (ভিজা হাত) লাগান। আর মুখমণ্ডলের সীমা। (কপালের উপরের) চুলের গোড়া থেকে চিবুকের নীচ পর্যন্ত এবং উভয় কানের লতি পর্যন্ত। কেননা, وجه (মুখমণ্ডল) শব্দটি مواجهة (মুখোমুখি হওয়া) থেকে উদ্ভূত্। আর এ পুরা অংশের দ্বারাই সামনা সামনি হওয়া সংগঠিত হয়।

কনুইদ্বয় ও গোড়ালিদ্বয় ধৌত করার বিধানের অন্তর্ভূক্ত। আমাদের তিন ইমামের মতে। যুফার (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, সীমানা তার পূর্ববর্তী অংশের (مغيا) অন্তর্ভূক্ত হয় না, যেমন সাওম সম্পর্কিত বিধানে রাত্রি অন্তর্ভূক্ত নয়। আমাদের যুক্তি এই যে, এ সীমানার উদ্দেশ্য হচ্ছে তার পরবর্তী অংশকে বহির্ভূত করা। কারণ, যদি সীমানার উল্লেখ না থাকত তবে ধোয়ার হুকুম পুরো হাতকে শামিল করতো। পক্ষান্তরে সাওমের ক্ষেত্রে সীমানা উল্লেখের উদ্দেশ্য হল সে পর্যন্ত হুকুমের বিস্তার ঘটানো। কেননা (صيام) শব্দটি সামান্য সময়ের বিরতির উপর ব্যবহার হয়।

বিশুদ্ধ মতে كعب পায়ের গোড়ায় বের হয়ে থাকা হাড়। এ থেকে উদ্ভিন্ন স্তন তরুণীকে كاعب বলা হয়।

গ্রণ্থকার বলেন, মাথা মাসহ-এর ক্ষেত্রে ناصية অর্থাৎ মাথার এক চতুর্থাংশ পরিমাণ স্পর্শ করা ফরয। কেননা মুগীরা ইবন শুবা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) একবার বস্তির আবর্জনা ফেলার স্থানে এসে পেশাব করে উযূ করলেন। তখন তিনি মাথার সম্মুখভাগ এবং মোজা মাসহ করলেন।

যেহেতু আল-কুরআনের বক্তব্য এখানে পরিমাণের দিক থেকে অস্পষ্ট, সেহেতু আলোচ্য হাদীছটি তার ব্যাখ্যা রুপে যুক্ত করা হয়। এ হাদীছটি ইমাম শাফিঈ (র.) কর্তৃক তিন চুলের দ্বারা নির্ধারণের বিপক্ষে প্রমাণ। তদ্রুপ ইমাম মালিক (র.) কর্তৃক পূর্ণাঙ্গ মাসহ শর্ত করার বিপক্ষে প্রমাণ।

কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে যে, আমাদের ইমামদের মধ্যে কেউ কেউ ফরয মাসহর হাতের তিন আংগুল পরিমাণ করেছেন। কেননা তা প্রকৃতপক্ষে যে অঙ্গ দ্বারা মাসহ করা হয়, তার সিংহভাগ।

গ্রন্থকার বলেন, উযুর সুন্নত[৩] হলো:

(১) পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে উভয় হাত ধোয়া, যখন উযূকারী তার নিদ্রা থেকে উঠে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

إذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ فَلَا يَغْمِسَنَّ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ

তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে, তখন সে যেন তার হাত তিনবার না ধোয়া পর্যন্ত পাত্রে না ডুবায়। কেননা, সে জানে না, নিদ্রিত অবস্থায় তার হাত কোথায় ছিলো (অর্থাৎ কোন অংগ স্পর্শ করেছিল)। তাছাড়া হাত হলো তাহারাত সম্পাদনের উপকরণ। সুতরাং তার পবিত্রকরণের মাধ্যমে শুরু করাই সুন্নত। এ হাত ধৌত করার পরিমাণ কবজি পর্যন্ত। কেননা, তাহারাত সম্পাদনের জন্য অতটুকুই যথেষ্ট।

(২) উযূর শুরুতে বিসমিল্লাহ্ বলা। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন: < لَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يُسَمِّ الله > যে বিসমিল্লাহ্ বলেনি তার উযূ হয়নি। এখানে উদ্দেশ্য হলো, উযূর ফযীলত হাসিল হবে না। বিশুদ্ধ মত হল, উযূতে বিসমিল্লাহ্ বলা মুস্তাহাব। যদিও (মূল পাঠে)তাকে সুন্নত বলেছেন। এবং ইস্তিনজার আগে ও পরে বিসমিল্লাহ্ বলরে; এ-ই সঠিক মত।

(৩) মিসওয়াক করা। কেননা নবী (সা) সব সময় তা করতেন। মিসওয়াক না থাকলে আংগুল ব্যবহার করবে। কেননা নবী (সা.) এরুপ করেছেন।
 
(৪) কুলি করা ও (৫) নাকে পানি দেয়া: কেননা নবী (সা.) সবসময় উভয়টি করেছেন। এ দু’টির পদ্ধতি এই যে, তিনবার কুলি করবে এবং প্রতিবার নতুন পানি নিবে। একইভাবে নাকে পানি নিবে। নবী (সা.)-এর উযূতে এরূপ বর্ণনায় এসেছে।

(৬) উভয় কান মাসহ করা। মাথা মাসহ এর (অবশিষ্ট) পানি দ্বারা তা সম্পাদন করা সুন্নত। ইমাম শাফিঈ ভিন্নমত[৪] পোষণ করেন। আমাদের দলীল হলো নবী (সা) বলেছেন: < الْأُذُنَانِ مِنْ الرَّأْسِ > কর্ণদ্বয় মাথারই অংশ বিশেষ। এর উদ্দেশ্য হল শরীআতের হুকুম বর্ণনা করা, সৃষ্টিগত অবস্থা বর্ণনা করা নয়।

(৭) দাড়ি খেলাল করা। কেননা হযরত জিবরীল নবী (সা.)-কে তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এটি আবূ ইউসূফের মতে সুন্নত। পক্ষান্তরে ইমাম আবূ হানীফা ও মুহাম্মদ (র.)-এর মতে তা (সুন্নত নয়) বৈধ মাত্র। কেননা, সুন্নত হল এমন কাজ, যা দ্বারা ফরযকে তার স্থানে পূর্ণতা দান করা হয়। অথচ দাড়ির ভিতরের অংশ (মুখমণ্ডল ধৌত করা) ফরযের স্থান নয়।

(৮) আংগুল খেলাল করা। কেননা নবী (সা) বলেছেন, তোমরা তোমাদের আংগুলসমূহ খেলাল কর, যাতে জাহান্নামের আগুন তাতে প্রবেশ না করে। আর এ ভাষ্য যে, এ দ্বারা ফরযকে তার স্থানে পূর্ণতা দান করা হচ্ছে।

(৯) তিনবার পর্যন্ত পুনঃ ধৌত করা- কেননা নবী (সা.) একেকবার করে ধৌত করেছেন এবং বলেছেন, এটা এমন উযূ, যা না হলে আল্লাহ্ সালাত কবুলই করবেন না। আবার দু’ দুবার করে ধৌত করেছেন এবং বললেন, এটি ঐ ব্যক্তির উযূ, যাকে আল্লাহ্ দ্বিগুন বিনিময় দান করবেন। এরপর তিন তিন বার ধৌত করে বললেন, এটা আমার উযূ এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের উযূ। যে এর বেশী বা কম করবে, সে সীমালংঘন করল ও অন্যায় করল

অবশ্য এই কঠোর হুশিঁয়ারি হচ্ছে তিনবার করে ধোয়াকে সুন্নত বলে বিশ্বাস না করার জন্য।

উযূকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো:

(১) পবিত্রতা অর্জনের নিয়্যত করা। আমাদের মতে উযূতে নিয়্যত হলো সুন্নত। আর ইমাম শাফিঈ (র.)-এর মতে তা ফরয। কেননা, উযূ একটি ইবাদত, সুতরাং তায়াম্মুমের মতো উযূও নিয়্যত ছাড়া শুদ্ধ হবে না। আমাদের দলীল এই যে, নিয়্যত ছাড়া উযূ ইবাদতরূপে গণ্য হবে না ঠিকই, তবে সালাতের প্রবেশ-মাধ্যমরূপে অবশ্যই বিবেচিত হবে। কেননা, পবিত্রতার উপকরণ (পানি) ব্যবহারে পবিত্রতা অর্জিত হবে। তায়াম্মুমের বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা, সালাত আদায়ের নিয়্যত ছাড়া অন্য অবস্থায় মাটি মূলত পবিত্রতা সৃষ্টিকারী নয়। তাছাড়া تيمم শব্দটি ইচ্ছা ও নিয়্যতের অর্থবহ।

(২) সম্পূর্ণ মাথা মাসহ্ করা। এটাই হচ্ছে সুন্নত। আর ইমাম শাফিঈ বলেন, সুন্নত হচ্ছে প্রত্যেকবার নতুন পানি নিয়ে তিনবার মাসহ করা। মাসহকে তিনি ধোয়ার অংগগুলোর উপর কিয়াস করেন। আমাদের দলীল এই যে, আনাস (রা.) মুখ, হাত, পা তিন তিনবার করে ধুয়ে উযূ করলেন আর মাথা একবার মাসহ করলেন। তারপর তিনি বললেন, এ হলো রাসূলুল্লাহ্ (সা.)- এর উযূ। আর তিনবার মাসহ্ করার যে হাদীছ বর্ণিত আছে, তা মূলত একবারের পানির ব্যবহারের উপর ধরা হয় এবং ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকে বর্ণিত মত অনুযায়ী তাও শরীআত সম্মত।

তাছাড়া ফরয হলো মাসহ্ করা। অথচ বারংবার মাসহ্ করলে তা ধোয়াতেই পরিণত হয়ে যাবে। সুতরাং তা সুন্নত হতে পারে না। অতএব মাথা মাসহ্ মূলতঃ মোজার উপর মাসহ্ করার সদৃশ। অংগ ধৌত করার বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা বারংবার তা দ্বারা ধোয়ার হুকুমের ক্ষতি হচ্ছে না।

(৩) তরতীবের সাথে উযূ করা, অর্থাত্ আল্লাহ্ যেভাবে বর্ণনা শুরু করেছেন, সে ধারায় শুরু করা এবং

(৪) ডান দিক থেকে শুরু করা। আমাদের মতে উযূতে তরতীব রক্ষা করা সুন্নত। আর ইমাম শাফিঈ (র.)-এর মতে তা করা ফরয। তাঁর দলীল এই যে, উযূর আয়াত < فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ > এ ف অব্যয়টি রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বোঝায়। আমাদের বক্তব্য এই যে, আয়াতে (উল্লেখিত প্রতিটি অংগের মাঝে) واو অব্যয়টি রয়েছে। আর ভাষাবিদদের সর্বসম্মত মতে এ অব্যয়টি নিছক একত্রীকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। সুতরাং আয়াতের চাহিদা হচ্ছে সবক’টি অংগের ধৌত কার্য পরবর্তী সম্পন্ন করা। আর ডান দিক থেকে শুরু করা উত্তম। কেননা নবী (সা) বলেছেন, আল্লাহ্ সব বিষয়ে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করেন। এমনকি জুতা পরিধান করা চুল আঁচড়ানোর ক্ষেত্রেও।

পাদটীকা:

[১]

[২]

[৩]

[৪]

আরবী অংশ:
 

كِتَابُ الطِّهَارَاتِ : قَالَ اللَّهُ تَعَالَى { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إذَا قُمْتُمْ إلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ } الْآيَةَ .
( فَفَرْضُ الطَّهَارَةِ : غَسْلُ الْأَعْضَاءِ الثَّلَاثَةِ ، وَمَسْحُ الرَّأْسِ ) بِهَذَا النَّصِّ ، وَالْغَسْلُ هُوَ الْإِسَالَةُ وَالْمَسْحُ هُوَ الْإِصَابَةُ .
وَحَدُّ الْوَجْهِ مِنْ قِصَاصِ الشَّعْرِ إلَى أَسْفَلِ الذَّقَنِ وَإِلَى شَحْمَتَيْ الْأُذُنِ ؛ لِأَنَّ الْمُوَاجَهَةَ تَقَعُ بِهَذِهِ الْجُمْلَةِ وَهُوَ مُشْتَقٌّ مِنْهَا ( وَالْمِرْفَقَانِ وَالْكَعْبَانِ يَدْخُلَانِ فِي الْغَسْلِ ) عِنْدَنَا خِلَافًا لِزُفَرَ رَحِمَهُ اللَّهُ ، هُوَ يَقُولُ : الْغَايَةُ لَا تَدْخُلُ تَحْتَ الْمُغَيَّا كَاللَّيْلِ فِي بَابِ الصَّوْمِ .
وَلَنَا أَنَّ هَذِهِ الْغَايَةَ لِإِسْقَاطِ مَا وَرَاءَهَا إذْ لَوْلَاهَا لَاسْتَوْعَبَتْ الْوَظِيفَةُ الْكُلَّ ، وَفِي بَابِ الصَّوْمِ لِمَدِّ الْحُكْمِ إلَيْهَا إذْ الِاسْمُ يُطْلَقُ عَلَى الْإِمْسَاكِ سَاعَةً ، وَالْكَعْبُ هُوَ الْعَظْمُ النَّاتِئُ هُوَ الصَّحِيحُ وَمِنْهُ الْكَاعِبُ .
قَالَ ( وَالْمَفْرُوضُ فِي مَسْحِ الرَّأْسِ مِقْدَارُ النَّاصِيَةِ وَهُوَ رُبْعُ الرَّأْسِ ) لِمَا رَوَى الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ { أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ وَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى نَاصِيَتِهِ وَخُفَّيْهِ } وَالْكِتَابُ مُجْمَلٌ فَالْتَحَقَ بَيَانًا بِهِ ، وَهُوَ حُجَّةٌ عَلَى الشَّافِعِيِّ فِي التَّقْدِيرِ بِثَلَاثِ شَعَرَاتٍ ، وَعَلَى مَالِكٍ فِي اشْتِرَاطِ الِاسْتِيعَابِ .
وَفِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ : قَدَّرَهُ بَعْضُ أَصْحَابِنَا بِثَلَاثِ أَصَابِعَ مِنْ أَصَابِعِ الْيَدِ لِأَنَّهَا أَكْثَرُ مَا هُوَ الْأَصْلُ فِي آلَةِ الْمَسْحِ
قَالَ ( وَسُنَنُ الطَّهَارَةِ غَسْلُ الْيَدَيْنِ قَبْلَ إدْخَالِهِمَا الْإِنَاءَ إذَا اسْتَيْقَظَ الْمُتَوَضِّئُ مِنْ نَوْمِهِ ) لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { إذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ فَلَا يَغْمِسَنَّ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ } وَلِأَنَّ الْيَدَ آلَةُ التَّطْهِيرِ فَتُسَنُّ الْبُدَاءَةُ بِتَنْظِيفِهَا ، وَهَذَا الْغَسْلُ إلَى الرُّسْغِ لِوُقُوعِ الْكِفَايَةِ بِهِ فِي التَّنْظِيفِ
قَالَ ( وَتَسْمِيَةُ اللَّهِ تَعَالَى فِي ابْتِدَاءِ الْوُضُوءِ ) لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { لَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يُسَمِّ اللَّهَ } وَالْمُرَادُ بِهِ نَفْيُ الْفَضِيلَةِ ، وَالْأَصَحُّ أَنَّهَا مُسْتَحَبَّةٌ وَإِنْ سَمَّاهَا فِي الْكِتَابِ سُنَّةً ، وَيُسَمِّي قَبْلَ الِاسْتِنْجَاءِ وَبَعْدَهُ هُوَ الصَّحِيحُ
قَالَ ( وَالسِّوَاكُ ) لِأَنَّهُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ كَانَ يُوَاظِبُ عَلَيْهِ وَعِنْدَ فَقْدِهِ يُعَالِجُ بِالْأُصْبُعِ لِأَنَّهُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ فَعَلَ كَذَلِكَ ، وَالْأَصَحُّ أَنَّهُ مُسْتَحَبُّ
قَالَ ( وَالْمَضْمَضَةُ وَالِاسْتِنْشَاقُ ) لِأَنَّهُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ فَعَلَهُمَا عَلَى الْمُوَاظَبَةِ .
وَكَيْفِيَّتُهُ أَنْ يُمَضْمِضَ ثَلَاثًا يَأْخُذُ لِكُلِّ مَرَّةٍ مَاءً جَدِيدًا ثُمَّ يَسْتَنْشِقَ كَذَلِكَ هُوَ الْمَحْكِيُّ مِنْ وُضُوءٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ( وَمَسْحُ الْأُذُنَيْنِ ) وَهُوَ سُنَّةٌ بِمَاءِ الرَّأْسِ عِنْدَنَا خِلَافًا لِلشَّافِعِيِّ لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { الْأُذُنَانِ مِنْ الرَّأْسِ } وَالْمُرَادُ بَيَانُ الْحُكْمِ دُونَ الْخِلْقَةِ .
قَالَ ( وَتَخْلِيلُ اللِّحْيَةِ ) لِأَنَّ النَّبِيَّ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ أَمَرَهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِذَلِكَ ، وَقِيلَ هُوَ سُنَّةٌ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُ اللَّهُ جَائِزٌ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ ، لِأَنَّ السُّنَّةَ إكْمَالُ الْفَرْضِ فِي مَحَلِّهِ وَالدَّاخِلُ لَيْسَ بِمَحَلِّ الْفَرْضِ
قَالَ ( وَتَخْلِيلُ الْأَصَابِعِ ) لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { خَلِّلُوا أَصَابِعَكُمْ كَيْ لَا تَتَخَلَّلُهَا نَارُ جَهَنَّمَ } وَلِأَنَّهُ إكْمَالُ الْفَرْضِ فِي مَحَلِّهِ
قَالَ ( وَتَكْرَارُ الْغَسْلِ إلَى الثَّلَاثِ ) { لِأَنَّ النَّبِيَّ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً وَقَالَ : هَذَا وُضُوءٌ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ تَعَالَى الصَّلَاةَ إلَّا بِهِ ، وَتَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَقَالَ : هَذَا وُضُوءُ مَنْ يُضَاعِفُ اللَّهُ لَهُ الْأَجْرَ مَرَّتَيْنِ ، وَتَوَضَّأَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَقَالَ : هَذَا وُضُوئِي وَوُضُوءُ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِي ، فَمَنْ زَادَ عَلَى هَذَا أَوْ نَقَصَ فَقَدْ تَعَدَّى وَظَلَمَ } .
وَالْوَعِيدُ لِعَدَمِ رُؤْيَتِهِ سُنَّةٌ
قَالَ ( وَيُسْتَحَبُّ لِلْمُتَوَضِّئِ أَنْ يَنْوِيَ الطَّهَارَةَ ) فَالنِّيَّةُ فِي الْوُضُوءِ سُنَّةٌ عِنْدَنَا وَعِنْدَ الشَّافِعِيِّ فَرْضٌ ؛ لِأَنَّهُ عِبَادَةٌ فَلَا تَصِحُّ بِدُونِ النِّيَّةِ كَالتَّيَمُّمِ .
وَلَنَا أَنَّهُ لَا يَقَعُ قُرْبَةً إلَّا بِالنِّيَّةِ ، وَلَكِنَّهُ يَقَعُ مِفْتَاحًا لِلصَّلَاةِ لِوُقُوعِهِ طَهَارَةً بِاسْتِعْمَالِ الْمُطَهِّرِ ، بِخِلَافِ التَّيَمُّمِ لِأَنَّ التُّرَابَ غَيْرُ مُطَهِّرٍ إلَّا فِي حَالِ إرَادَةِ الصَّلَاةِ ، أَوْ هُوَ يُنْبِئُ عَنْ الْقَصْدِ ( وَيَسْتَوْعِبُ رَأْسَهُ بِالْمَسْحِ ) وَهُوَ سُنَّةٌ .
قَالَ الشَّافِعِيُّ : السُّنَّةُ التَّثْلِيثُ بِمِيَاهٍ مُخْتَلِفَةٍ اعْتِبَارًا بِالْمَغْسُولِ .
وَلَنَا أَنَّ أَنَسًا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تَوَضَّأَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَاحِدَةً وَقَالَ : هَذَا وُضُوءُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .
وَاَلَّذِي يُرْوَى مِنْ التَّثْلِيثِ مَحْمُولٌ عَلَيْهِ بِمَاءٍ وَاحِدٍ ، وَهُوَ مَشْرُوعٌ عَلَى مَا رَوَى الْحَسَنُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ ، وَلِأَنَّ الْمَفْرُوضَ هُوَ الْمَسْحُ وَبِالتَّكْرَارِ يَصِيرُ غُسْلًا ، وَلَا يَكُونُ مَسْنُونًا فَصَارَ كَمَسْحِ الْخُفِّ ، بِخِلَافِ الْغُسْلِ لِأَنَّهُ لَا يَضُرُّهُ التَّكْرَارُ
قَالَ ( وَيُرَتِّبُ الْوُضُوءَ فَيَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللَّهُ تَعَالَى بِذَكَرِهِ وَبِالْمَيَامِنِ ) فَالتَّرْتِيبُ فِي الْوُضُوءِ سُنَّةٌ عِنْدَنَا .
وَقَالَ الشَّافِعِيُّ : فَرْضٌ لِقَوْلِهِ تَعَالَى { فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ } الْآيَةَ ، وَالْفَاءُ لِلتَّعْقِيبِ .
وَلَنَا أَنَّ الْمَذْكُورَ فِيهَا حَرْفُ الْوَاوِ وَهِيَ لِمُطْلَقِ الْجَمْعِ بِإِجْمَاعِ أَهْلِ اللُّغَةِ فَتَقْتَضِي إعْقَابَ غَسْلِ جُمْلَةِ الْأَعْضَاءِ وَالْبُدَاءَةُ بِالْمَيَامِنِ فَضِيلَةٌ لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ {إنَّ اللَّه تَعَالَى يُحِبُّ التَّيَامُنَ فِي كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى التَّنَعُّلِ وَالتَّرَجُّلِ}

No comments:

Post a Comment