ভোরের দ্বিতীয় আলো যখন উদিত হয়, আর দ্বিতীয় আলো হলো যা দিগন্তে বিস্তৃত হয়, আর তার শেষ সময় হলো যতক্ষণ না সূর্য উদিত হয়। কেননা হযরত জিবরীল (আ.) ইমামতি সম্পর্কিত হাদীছে বণির্ত আছে যে, তিনি প্রথম দিন ফজরের নামাযে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এর ইমাম হয়ে সালাত আদায় করেন যখন আলো উদ্ভাসিত হয়। আর দ্বিতীয় দিন (সালাত আদায় করেন) যখন খুব ফরসা হয়ে গলো, এমন কি সূর্য উদিত হওয়ার উপক্রম হল। হাদীছের শেষে রয়েছে-এরপর হযরত জিবরীল (আ.) বললেন- এ দুই সময়ের মধ্যবর্তী সময়টি হলো আপনার ও আপনার উম্মতের জন্য সময়।
(মিথ্যা সকাল) ধর্তব্য নয়। ফজরুল কাযিব হচ্ছে লম্বা-লম্বিতে উদ্ভাসিত আলো, যার পর অন্ধকার থেকে যায়। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন-
বিলালের আযান যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে। তদ্রুপ লম্বালম্বি আলো (যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে)। দিগন্তে উদ্ভাসিত অর্থাত্ বিস্তৃত আলোই হলো ফজরের সময়।
যুহরের প্রথম সময় হলো যখন সূর্য হেলে পড়ে। কেননা জিবরীল (আ.) প্রথম দিন সূর্য হেলে পড়ার সময় ইমামতি করেছেন।
আবূ হানীফা (র.) এর মতে যুহরের শেষ সময় হলো যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া মধ্যাহ্ন ছায়ার বাদ দিয়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। আর দ্বিতীয় ইমামদ্বয় বলেন, যখন প্রতিটি জিনিসের ছায়া তার সমান হয়। ইহাও ইমাম আবূ হানীফা (র.) হতে বর্ণিত, আরেকটি মত।
মধ্যাহ্ন ছায়া হলো ঠিক মধ্যাহ্নকালে কোন বস্তুর যে ছায়া হয়, তাই। দ্বিতীয় ইমামদ্বয়ের দলীল এই যে, জিব্রীল (আ.) প্রথম দিন এ সময়ে আসরের ইমামতি করেছেন।
ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল হলো, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন-
যুহরকে তোমরা শীতল করে পড়ো। কেননা গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের তীব্রতা থেকেই আসছে।
আর আরব দেশে (প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমান হওয়ায়) এ সময়টাতেই গরম প্রচণ্ডতম হয়। সুতরাং হাদীছ যখন পরস্পর বিরোধপূর্ণ হলো তখন সন্দেহবশতঃ সময় শেষ হবে না।
আসরের প্রথম সময় হলো যখন উভয় মত অনুসারে যুহরের সময় পার হয়ে যায়। আর তার শেষ সময় হলো যতক্ষণ না সূর্য ডুবে যায়। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি সূর্য অস্তের আগে আসরের এক রাকাআত পেয়ে গেল, সে আসরের সালাত পেয়ে গেলো।
মাগরিবের প্রথম সময় হলো সূর্য যখন ডুবে যায় এবং তার শেষ সময় হলো যতক্ষণ না অদৃশ্য হয়।
ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, তিন রাকাআত পড়ার পরিমাণ সময় হলো মাগরিবের সময়। কেননা জিবরীল (আ.) দু’দিন একই সময়ে মাগরিবের ইমামতি করেছেন।
আমাদের দলীল হলো রাসূলু্ল্লাহ্ (সা.) বলেছেন-
মাগরিবের প্রথম সময় হলো যখন সূর্য ডুবে এবং তার শেষ সময় হলো যখন অদৃশ্য হয়।
ইমাম শাফিঈ (র.) কে হাদীছ প্রমাণ স্বরূপ পেশ করেছেন, তাতে বিলম্ব না করার কারণ হল মাকরূহ থেকে বেঁচে থাকা। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর অর্থ দিগন্তের ফরসা আলো, যার লালিমা পরে দেখা দেয়। পক্ষান্তরে ইমাম ইউসূফ ও মুহাম্মদ (র.) এর মতে লালিমাটিই হলো এরূপ। এরই অনুরূপ একটি বর্ণনা ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকেও পাওয়া যায়। আর এ-ই হল ইমাম শাফিঈ (র.) এরও (পূর্ববর্তী) অভিমত। কেননা, রাসুলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- শায়ক হলো দিগন্ত লালিমা।
ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল হলো রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এর নিম্নোক্ত বাণী- মাগরিবের শেষ সময় হলো, যখন দিগন্ত কালো হয়ে যায়। ইমাম শাফিঈ (র.) এর বর্ণিত হাদীছটি ইবন উমর (রা.) এর উপর মওকুফ ইমাম মালিক মু’আত্তা গ্রন্থে তা উল্লেখ করেছেন, আর এ সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
‘ঈশার প্রথম সময় হলো যখন অদৃশ্য হয়ে যায় এবং তার শেষ সময় হলো যতক্ষণ না ফজর (সুবহি সাদিক) উদিত হয়। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- ‘ঈশার শেষ সময় হলো যতক্ষণ না ফজর উদিত হয়। রাত্রের তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত দ্বারা ঈশার শেষ সময় নির্ধারণের ব্যাপারে এ হাদীছ ইমাম শাফিঈ (র.) এর বিপক্ষে দলীল।
বিতরের প্রথম সময় হলো ‘ঈশার পরে এবং তার শেষ সময় হলো যতক্ষণ না ফজর উদিত হয়। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বিতর সম্পর্কে বলেছেন- ‘ঈশা ও ফজরের মধ্যবর্তী সময়ে তোমরা তা আদায় কর।
হিদায়া গ্রন্থকার বলেন, এটা সাহেবাইনের মত। আর ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে ‘ঈশার সময়ই হচ্ছে বিতরের সময়। তবে তারতীব ওয়াজিব হওয়ার কারণে স্মরণ থাকা অবস্থায় বিতরকে ‘ঈশার আগে আদায় করা যাবে না।
পরিচ্ছেদ: সালাতের মুসতাহাব ওয়াক্ত
ফজর ফরসা হওয়ার পরে আদায় করা মুসতাহাব। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- তোমরা ফজর ফরসা হয়ে যাওয়ার পর আদায় কর। কেননা, এতেই রয়েছে অধিক সাওয়াব।
ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, প্রত্যেক সালাত অবিলম্বে আদায় করা মুসতাহাব। আামাদের বর্ণিত এ হাদীছ আগামীতে বর্ণিতব্য হাদীছ তাঁর বিপক্ষে দলীল।
গ্রীষ্মকালে যুহরের সালাত সূর্যের তাপ কমে আসলে এবং শীতকালে আউয়াল ওয়াকতে আদায় করা মুসতাহাব। প্রমাণ ইতোপূর্বে আমাদের বর্ণিত হাদীছ। আনাস (রা.) বর্ণিত হাদীছ যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) শীতকালে যুহর অবিলম্বে আদায় করতেন এবং গ্রীষ্মকালে সূর্যের তাপ কমে আসলে আদায় করতেন।
শীত-গ্রীষ্ম উভয় মৌসুমে সূর্য বির্বণ না হওয়া পর্যন্ত আসর বিলম্ব করা মুসতাহাব। কেননা, যেহেতু আসরের পরে নফল সালাত মাকরূহ; সুতরাং বিলম্বে আদায় অধিক নফল আদায়ের অবকাশ পাওয়া যায়। আর ধর্তব্য হলো সূর্যের গোলক বিবর্ণ হওয়া। অর্থাত্ এমন অবস্থা হওয়া, যাতে চোখ না ধাঁধাঁয়। এই বিশুদ্ধ মত। আর এ পর্যন্ত বিলম্ব করা মাকরূহ্।
মাগরিবের সালাত জলদি আদায় করা মুস্তাহাব। কেননা ইয়াহূদীদের সাথে সাদৃশ্য হয় বিধায় তা বিলম্ব করা মাকরূহ।
রাসুলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- আমার উম্মত যতদিন মাগরিব অবিলম্বে এবং ‘ঈশা বিলম্বে আদায় করবে, ততদিন তারা কল্যাণের পথে থাকবে।
‘ঈশাকে রাত্রের তৃতীয়াংশের পূর্ব পর্যন্ত বিলম্বিত করা মুস্তাহাব। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যদি আমার উম্মতের উপর কষ্ট হবে না মনে না করতাম তাহলে অবশ্যই আমি ‘ঈশার সালাত রাত্রের তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্বিত করতাম।
তাছাড়া তা, ‘ঈশার পরে হাদীছে নিষিদ্ধ আলাপ-আলোচনা করা থেকে বিরত থাকার উপায়। কারো কারো মতে গ্রীষ্মকালে তাড়াতাড়ি করতে হবে, যাতে জামাআতে মুসল্লীর সংখ্যা কমে না যায়। মধ্যরাত পর্যন্ত বিলম্ব করা বৈধ; কেননা, মাকরূহ হওয়ার দলীল অর্থাত্ জামাআত ছোট হওয়া এবং মুস্তাহাব হওয়ার দলীল অর্থাত্ আলাপচারিতা থেকে বিরত থাকা পরস্পর বিরোধী। সুতরাং মধ্যরাত পর্যন্ত বৈধতা প্রমাণিত হবে এবং দ্বিতীয় অর্ধেক পর্যন্ত মাকরুহ হওয়া প্রমাণিত হবে। কেননা তাতে জামা’আত ছোট হয়। পক্ষান্তরে আলাপচারিতা এর আগেই বন্ধ হয়ে যায়।
তাহাজ্জুদের সালাত আদায়ে অভ্যস্ত ব্যক্তির বিতরের ক্ষেত্রে রাত্রের শেষ ভাগ পর্যন্ত বিলম্ব করা মুস্তাহাব। আর যে জাগ্রত হ্ওয়ার ব্যাপারে অনিশ্চিত, সে ঘুমের আগেই বিতর আদায় করবে। কেননা রাসূলূল্লা্হ্ (সা.) বলেছেন-
যে ব্যক্তি আশংকা করে যে, শেষ রাত্রে জাগ্রত হতে পারবে না, সে যেন (আগে-ভাগেই) বিতর আদায় করে। আর যে শেষরাত্রে জাগ্রত হওয়ার আশা করে, সে যেন শেষ রাত্রেই বিতর আদায় করে।
মেঘলা দিন হলে ফজর, যুহর ও মাগরিব বিলম্বে আদায় করা এবং আসর ও ‘ঈশা জলদি আদায় করা মুস্তাহাব। কেননা মেঘ-বৃষ্টির কারণে ‘ঈশা বিলম্ব করায় জামাআত ছোট হবে। আর আসর বিলম্ব করলে মাকরুহ ওয়াক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর ফজরে সে সম্ভাবনা নেই। কেননা সে সময় দীর্ঘ।
ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকে সতর্কতার জন্য সকল সালাতে বিলম্বের নির্দেশ বর্ণিত আছে। কেননা সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরে (কাযা হলেও) সালাত আদায় জাইয আছে। কিন্তু সময়ের আগে জাইয নেই।
পরিচ্ছেদ: সালাতের মাকরূহ ওয়াক্ত
সূর্যোদয়ের সময়, মধ্যাহ্নে সূর্যের মধ্যাকাশে অবস্থানকালে এবং সূর্যাস্তের সময় সালাত জাইয নেই। কেননা, ‘উকবা ইবন ‘আমির (রা.) বলেছেন-
তিনটি ওয়াকত রাসূলুল্লাহ্ (সা.) আমাদেরকে সালাত আদায় করতে এবং আমাদের মৃতদের দাফন করতে নিষেধ করেছেনঃ সূর্যোদয় কালে, সূর্য উপরে উঠে যাওয়া পর্যন্ত; মধ্যাহ্ন কালে সূর্য হেলে পড়া পর্যন্ত; আর যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন থেকে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত।
তার বক্তব্য এর উদ্দেশ্য হলো জানাযার সালাত্। কেননা (ইজমা দ্বারা প্রমাণিত যে, উক্ত সময়) দাফন করা মাকরূহ নয়। আলোচ্য হাদীছ তার অর্থ-ব্যপকতার কারণে ইমাম শাফিঈ (র.) এর বিপক্ষে প্রমাণ। ফরযসমূহ এবং মক্কাকে বিশিষ্ট করার উদ্দেশ্য এবং ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর বিপক্ষে প্রমাণ জুমুআর দিন মধ্যাহ্ন কালে নফল সালাত জাইয করার উদ্দেশ্য।
ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, জানাযার সালাত জাইয হবে না।
আমাদের বর্ণিত হাদীছের দলীল মুতাবিক।
সাজদায়ে তিলাওয়াতও জাইয হবে না। কেননা, তা সালাতেরই অংশ বিশেষ।
তবে সূর্যাস্তের সময় সে দিনের আসর আদায় করা যাবে। সালাত ওয়াজিব হওয়ার বা হেতু হচ্ছে সময়ের সেই অংশ, যা বিদ্যমান আছে। (অর্থাত্ সালাত শুরুর পূর্ব মুহূর্ত)। কেননা, হেতুর সম্পর্ক যদি সমগ্র সময়ের সাথে হয়, তাহলে সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরে সালাত আদায় করা ওয়াজিব হয়। আর সময়ের বিগত অংশের সাথে যদি সম্পর্কিত হয়, তাহলে শেষ সময়ে সালাত আদায়কারী হয় সালাত কাযাকারী। বিষয়টি যখন এমনই হলো, তবে তো সে যেমন তার উপর ওয়াজিব হয়েছে, তেমনই আাদায় করেছে। আর অন্যান্য সালাত এর ব্যতিক্রম। কেননা সেগুলো পূর্ণাংগ সময়ে ওয়াজিব হয়েছে, সুতরাং অপূর্ণাংগ সময়ে তা আদায় হতে পারে না।
হিদায়া গ্রন্থকার বলেন, জানাযার সালাত ও তিলাওয়াতের সাজদা সম্পর্কে উল্লেখিত নাজাইযের অর্থ হলো মাকরূহ হওয়া। সুতরাং ঐ সময়ে কেউ যদি জানাযার সালাত আদায় করে কিংবা তখন সাজদার আয়াত তিলা্ওয়াত করে উক্ত তিলাওয়াতের সাজদা করে তাহলে জাইয হবে। কেননা, যেমন নাকিস সময়ে তা ওয়াজিব হয়েছে, তেমনি নাকিস সময়ে তা আদায় করা হয়েছে। কেননা জানাযা উপস্থিত হওয়া ও তিলাওয়াত করার মাধ্যমেই তা ওয়াজিব হয়।
ফজরের পরে সূর্যোদয় পর্যন্ত নফল পড়া, এবং আসরের পরে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত নফল আদায় করা মাকরূহ। কেননা বর্ণিত আছে যে, নবী (সা.) তা নিষেধ করেছেন। তবে এই দুই সময়ে কাযা সালাত ও তিলাওয়াতের সাজদা আদায় করতে পারে এবং জানাযার সালাত আদায় করতে পারে। কেননা, এই মাকরূহ হওয়া ছিলো ফরযের মর্যাদার ভিত্তিতে, যেন সম্পূর্ণ সময়টা সালাতে মশগুল-তুল্য হয়ে যায়। (এই মাকরূহত্ব) সময়ের নিজস্ব কোন প্রকৃতির কারণে নয়। সুতরাং ফরযসমূহের ক্ষেত্রে এবং যে সকল ইবাদত স্বকীয়ভাবে ওয়াজিব হয়েছে, যেমন, তিলাওয়াতের সিজদা, সেগুলোর ক্ষেত্রে সময়ের মাকরূহ হওয়ার হুকুম প্রকাশ পাবে না। আর সালাত (ও মানতকৃত নামায) এর ক্ষেত্রে তা প্রকাশ পাবে। কেননা উক্ত ইবাদতে আবশ্যকতা তার নিজের পক্ষ থেকে সৃষ্ট কারণের সাথে সম্পৃক্ত। তাওয়াফের রাকাআতদ্বয়ের ক্ষেত্রে মাকরূহ প্রকাশ পাবে। এবং ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রেও মাকরূহ হওয়া প্রকাশ পাবে, যে নফল সালাত শুরু করে তা ভংগ হয়েছে। কেননা উক্ত সালাতের ওয়াজিব হওয়া তার নিজ কারণে নয়, অন্য কারণে। আর তা হলো তাওয়াফ খতম করা এবং শুরু করা সালাতকে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা।
ফজরের উদয়ের পর ফজরের দু’রাকাআতের অধিক নফল আদায় মাকরূহ। কেননা সালাতের প্রতি আগ্রহ সত্ত্বেও উক্ত দুই রাকাআতের অতিরিক্ত কিছু নবী করীম (সা.) আদায় করেন নি।
সূর্যাস্তের পর ফরযের পূর্বে কোন নফল আদায় করবে না। কেননা তাতে মাগরিবকে বিলম্ব করা হয়। তদ্রূপ জুমুআর দিন ইমাম যখন খুতবার জন্য (হুজরা থেকে) বের হবেন, তখন থেকে খুতবা শেষ হওয়া পর্যন্ত নফল আদায় করবে না। কেননা তাতে খুতবা শোনা থেকে অন্য-মনস্কতা হয়।
আরবী অংশ:
كتاب الصلاة
باب المواقيت
" أول وقت الفجر إذا طلع الفجر الثاني وهو البياض المعترض في الأفق وآخر وقتها ما لم تطلع الشمس " لحديث إمامة جبريل عليه السلام فإنه أم رسول الله عليه الصلاة والسلام فيها في اليوم الأول حين طلع الفجر وفي اليوم الثاني حين أسفر جدا وكادت الشمس أن تطلع ثم قال في آخر الحديث " ما بين هذين الوقتين وقت لك ولأمتك " ولا معتبر بالفجر الكاذب وهو البياض الذي يبدو طولا ثم يعقبه الظلام لقوله عليه الصلاة والسلام " لا يغرنكم أذان بلال ولا الفجر المستطيل، وإنما الفجر المستطير في الأفق " أي المنتشر فيه " وأول وقت الظهر إذا زالت الشمس " لإمامة جبريل عليه السلام في اليوم الأول حين زالت الشمس " وآخر وقتها عند أبي حنيفة رحمه الله إذا صار ظل كل شيء مثليه سوى فيء الزوال وقالا إذا صار الظل مثله " وهو رواية عن أبي حنيفة رحمه الله وفيء الزوال هو الفيء الذي يكون للأشياء وقت الزوال لهما إمامة جبريل عليه السلام في اليوم الأول في هذا الوقت ولأبي حنيفة رحمه الله قوله عليه الصلاة والسلام " أبردوا بالظهر فإن شدة الحر من فيح جهنم " وأشد الحر في ديارهم في هذا الوقت وإذا تعارضت الآثار لا ينقضي الوقت بالشك " وأول وقت العصر إذ خرج وقت الظهر على القولين وآخر وقتها مالم تغرب الشمس " لقوله عليه الصلاة والسلام " من أدرك ركعة من العصر قبل أن تغرب الشمس فقد أدركها " " وأول وقت المغرب إذا غربت الشمس وآخر وقتها مالم يغب الشفق " وقال الشافعي رحمه الله مقدار ما يصلى فيه ثلاث ركعات لأن جبريل عليه السلام أم في اليومين في وقت واحد.
ولنا قوله عليه الصلاة والسلام " أول وقت المغرب حين تغرب الشمس وآخر وقتها حين يغيب الشفق " وما رواه كان للتحرز عن الكراهة " ثم الشفق هو البياض الذي في الأفق بعد الحمرة عند أبي حنيفة رحمه الله تعالى وعندهما هو الحمرة " وهو رواية عن أبي حنيفة وهو قول الشافعي لقوله عليه الصلاة والسلام " الشفق الحمرة " ولأبي حنيفة رحمه الله تعالى قوله عليه الصلاة والسلام " وآخر وقت المغرب إذا اسود الأفق " وما رواه موقوف على ابن عمر رضي الله عنهما ذكره مالك رحمه الله في الموطأ وفيه اختلاف الصحابة " وأول وقت العشاء إذا غاب الشفق وآخر وقتها مالم يطلع الفجر الثاني " لقوله عليه الصلاة والسلام " وآخر وقت العشاء حين يطلع الفجر " وهو حجة على الشافعي رحمه الله تعالى في تقديره بذهاب ثلث الليل " وأول وقت الوتر بعد العشاء وآخره مالم يطلع الفجر " لقوله عليه الصلاة والسلام في الوتر " فصلوها ما بين العشاء إلى طلوع الفجر " قال رضي الله عنه: هذا عندهما وعند أبي حنيفة رحمه الله تعالى وقته وقت العشاء إلا أنه لا يقدم عليه عند التذكر للترتيب فصل
" ويستحب الإسفار بالفجر " لقوله عليه الصلاة والسلام " أسفروا بالفجر فإنه أعظم للأجر " وقال الشافعي رحمه الله يستحب التعجيل في كل صلاة والحجة عليه ما رويناه وما نرويه.
قال: " والإبراد بالظهر في الصيف وتقديمه في الشتاء "لما روينا ولرواية أنس رضي الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كان في الشتاء بكر بالظهر وإذا كان في الصيف أبرد بها " وتأخير العصر مالم تتغير الشمس في الصيف والشتاء " لما فيه من تكثير النوافل لكراهتها بعده والمعتبر تغير القرص وهو أن يصير بحال لا تحار فيه الأعين هو الصحيح والتأخير إليه مكروه " و " يستحب " تعجيل المغرب " لأن تأخيرها مكروه لما فيه من التشبه باليهود وقال عليه الصلاة والسلام " لا تزال أمتي بخير ما عجلوا المغرب وأخروا العشاء " قال " وتأخير العشاء إلى ما قبل ثلث الليل " لقوله عليه الصلاة والسلام " لولا أن اشق على أمتي لأخرت العشاء إلى ثلث الليل " ولأن فيه قطع السمر المنهي عنه بعده وقيل في الصيف تعجل كيلا تتقلل الجماعة والتأخير إلى نصف الليل مباح لأن دليل الكراهة وهو تقليل الجماعة عارضه دليل الندب وهو قطع السمر بواحدة فتثبت الإباحة وإلى النصف الأخير مكروه لما فيه من تقليل الجماعة وقد انقطع السمر قبله " ويستحب في الوتر لمن يألف صلاة الليل أن يؤخره إلى آخر الليل فإن لم يثق بالانتباه أوتر قبل النوم " لقوله عليه الصلاة والسلام " من خاف أن لا يقوم آخر الليل فليوتر أوله، ومن طمع أن يقوم آخر الليل فليوتر آخره " " فإذا كان يوم غيم فالمستحب في الفجر والظهر والمغرب تأخيرها وفي العصر والعشاء تعجيلهما " لأن في تأخير العشاء تقليل الجماعة على اعتبار المطر، وفي تأخير العصر توهم الوقوع في الوقت المكروه ولا توهم في الفجر لأن تلك المدة مديدة وعن أبي حنيفة رحمه الله تعالى التأخير في الكل للاحتياط ألا ترى أنه يجوز الأداء بعد الوقت لا قبله فصل في الأوقات التي تكره فيها الصلاة
" لا تجوز الصلاة عند طلوع الشمس ولا عند قيامها في الظهيرة ولا عند غروبها " لحديث عقبة بن عامر رضي الله عنه قال ثلاثة أوقات نهانا رسول الله عليه الصلاة والسلام أن نصلي فيها وأن نقبر فيها موتانا عند طلوع الشمس حتى ترتفع وعند زوالها حتى تزول وحين تضيف للغروب حتى تغرب والمراد بقوله وأن نقبر صلاة الجنازة لأن الدفن غير مكروه والحديث بإطلاقه حجة على الشافعي رحمه الله تعالى في تخصيص الفرائض وبمكة في حق النوافل وحجة على أبي يوسف رحمه الله تعالى في إباحة النفل يوم الجمعة وقت الزوال. قال: " ولا صلاة جنازة " لما روينا " ولا سجدة تلاوة " لأنها في معنى الصلاة إلا عصر يومه عند الغروب لأن السبب هو الجزء القائم من الوقت لأنه لو تعلق بالكل لوجب الأداء بعده ولو تعلق بالجزء الماضي فالمؤدى في آخر الوقت قاض وإذا كان كذلك فقد أداها كما وجبت بخلاف غيرها من الصلوات لأنها وجبت كاملة فلا تتأدى بالنقص.
قال رضي الله عنه: والمراد بالنفي المذكور في صلاة الجنازة وسجدة التلاوة الكراهة حتى لو صلاها فيه أو تلا فيه آية السجدة فسجدها جاز لأنها أديت ناقصة كما وجبت إذ الوجوب بحضور الجنازة والتلاوة.
" ويكره أن يتنفل بعد الفجر حتى تطلع الشمس وبعد العصر حتى تغرب " لما روي أنه عليه الصلاة والسلام نهى عن ذلك " ولا بأس بأن يصلي في هذين الوقتين الفوائت ويسجد للتلاوة ويصلي على الجنازة " لأن الكراهة كانت لحق الفرض ليصير الوقت كالمشغول به لا لمعنى في الوقت فلم تظهر في حق الفرائض وفيما وجب لعينه كسجدة التلاوة وظهرت في حق المنذور لأنه تعلق وجوبه بسبب من جهته وفي حق ركعتي الطواف وفي الذي شرع فيه ثم أفسده لأن الوجوب لغيره وهو ختم الطواف وصيانة المؤدي عن البطلان " ويكره أن يتنفل بعد طلوع الفجر بأكثر من ركعتي الفجر " لأنه عليه الصلاة والسلام لم يزد عليهما مع حرصه على الصلاة " ولا يتنفل بعد الغروب قبل الفرض " لما فيه من تأخير المغرب " ولا إذا خرج الإمام للخطبة يوم الجمعة إلى أن يفرغ من خطبته " لما فيه من الاشتغال عن استماع الخطبة
No comments:
Post a Comment