(যে সকল বস্তু দ্বারা রোযা বিনষ্ট হয় এবং কাযাসহ কাফফারা ওয়াজিব হয়) সে সকল বস্তুর সংখ্যা বাইশটি। যখন রোজাদার ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও স্বতস্ফুর্তভাবে বাধ্যবাধকতা ব্যতীত ঐ সকল বিষয়ের কোনো একটি সংঘঠিত করে তখন তার উপর কাযা ও কাফফারা ওয়াজিব হয়। সে বাইশটি জিনিস এই-দুই রাস্তার যে কোনো এক রাস্তায় সঙ্গম করা, এর দ্বারা সঙ্গমকারী ও যার সাথে সঙ্গম করা হয়েছে উভয়ের উপর (কাযা ও কাফফারা আবশ্যক), আহার করা। পান করা-চাই সেটি এমন বস্তু হোক যা দ্বারা ক্ষুদা নিবারণ হয় অথবা তা চিকিৎসার কাজে আসে; এবং মুখে প্রবেশ করেছে এরূপ বৃষ্টির ফোটা গিলে ফেলা; কাঁচা গোস্ত ভক্ষন করা, কিন্তু পোকা পড়া গোশত ভক্ষন করলে কাফফারা ওয়াজিব হবে না। ফকীহ আবুল লাইস কর্তৃক গৃহীত মতে চর্বি খাওয়া (কাযা ও কাফফারার কারণ হয়); শুকনো গোস্ত খাওয়া সর্বসম্মতভাবে (কাযা কাফফারার কারণ); গমের দানা খাওয়া, গমের দানা চর্বন করা। কিন্ত একটি চানা চিবানোর ফলে তা যদি মুখের সাথে একাকার হয়ে যায় (তাহলে কাযা-কাফফারা ওয়াজিব হবে না); একটি গমের দানা গিলে ফেলা; গ্রহণযোগ্য মতে, একটি শরষে দানা অথবা এ জাতীয় কিছু মুখের বার হতে গলাধকরণ করা এবং আরমনী মাটি খাওয়া এবং আরমানী মাটি ব্যতিত যদি অন্য কোনো মাটি খাওয়ার অভ্যাস থাকে তবে তা খাওয়া, যেমন 'তিফল' নামীয় মাটি খাওয়া, গ্রহণযোগ্য মতে সামান্য পরিমান লবন (খাওয়া), নিজ স্ত্রীর থুথু অথবা আপন বন্ধুর থুথু গিলে ফেলা-এ দুজন ব্যতিত অন্য কারো নয়; গীবত করা রক্ষমোক্ষণ, অথবা যৌনাকাঙ্খার সাথে স্পর্শ করার, যৌনাকাঙ্খাসহ চুমু খাওয়ার, শুক্রপাত ব্যতিত সঙ্গম করার, অথবা গোঁপে তৈল দেওয়ার পর রোযা ভঙ্গ হওয়ার ধারনার বশবর্তী হয়ে ইচ্ছাকৃত আহার করা (কাফফারা ওয়াজিব হবার কারণ হয়)। অবশ্য কোনো ফকীহ তাকে ফাতওয়া দিলে অথবা সে কোনো হাদীস শুনল কিন্তু সে নিজ মাযহাব অনুযায়ী হাদীসটির ব্যখ্যা জানে না (তবে তার উপর কাফফারা ওয়াজিব হবে না); কিন্তু সে যদি হাদীসটির ব্যখ্যা হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম হয় তবে তার উপর কাফফারা ওয়াজিব হবে। এমন স্ত্রীলোকের উপরও কাফফারা ওয়াজিব যে জোরপূর্বক অভিগমনে বাধাকৃত ব্যক্তির সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়১৯৩।
১৯৩. ধরা যাক, 'কমল'কে ব্যভিচার করার জন্য বাধ্য করছিল। তখন 'দামিনি' কোনো জবরদস্তি ছাড়াই নিজে নিজে তাতে রাজি হয়েছে। এ অবস্থায় দামিনির উপর কাযা ও কাফফারা উভয় ওয়াজিব হবে, কমলের উপর নয়।
No comments:
Post a Comment