Sunday, October 29, 2023

আল-হিদায়া - মুসাফিরের সালাত

(আল-হিদায়া, শাইখুল ইসলাম বুরহান উদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবন আবু বকর আল-ফারগানী আল-মারগীনানী (রহ) কর্তৃক রচিত হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব)

(আল-হিদায়া - সালাত অধ্যায়,  অনুচ্ছেদ, ইফাবা ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫ সালাতুল জুমুআ)

যে সফর দ্বারা শরীআতের আহকাম পরিবর্তিত হয়, তা হল তিন দিন তিন রাত্রি পরিমাণ দূরত্বে যাওয়ার ইচ্ছা করা উটের গতি বা হেটে চলার গতি হিসাবে। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- মুকীম পূর্ণ একদিন একরাত্র মাস্‌হ করবে, আর মুসাফির করবে তিন দিন তিন রাত্র।

মাস্‌হ্‌র অবকাশ মুসাফির সম্প্রদায়কে সামগ্রিকভাবে শামিল করেছে। আর তার অনিবার্য প্রয়োজন হবে (সফরের) সময়সীমা সম্প্রসারণ। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) তা নির্ধারণ করেছেন  দুই দিন এবং তৃতীয় দিনের অধিকাংশ সময় পরিমাণ দ্বারা। আর ইমাম শাফিঈ (র.) নির্ধারণ করেছেন একদিন একরাত্র পরিমাণ দ্বারা। আর উভয়ের বিপরীতে প্রমাণ হিসাবে আলোচ্য হাদীছই যথেষ্ট।

আর উল্লেখিত পথচলা দ্বারা মধ্যমগতির পথ চলা উদ্দেশ্য।

ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি মনজীল দ্বারা দূরত্ব নির্ধারণ করেছেন। আর এ  মত হল প্রথমোক্ত দূরত্ব পরিমাণের নিকটবর্তী। ফরসখ মাইল দ্বারা দূরত্ব নির্ধারণ গ্রহণযোগ্য নয়। এ-ই বিশুদ্ধ মত।

আর নৌপথের চলার গতিকে পরিমাণ হিসাবে গ্রহণ করা হবে না। অর্থাত্ স্থল পথের জন্য নৌপথের যাত্রাকে পরিমাপ হিসাবে গণ্য করা হবে না। আর সমুদ্রে তার উপযোগী যাত্রা পরিমাপ বিবেচ্য, যেমন পার্বত্য পথের হুকুম।

ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, চার রাকাআত বিশিষ্ট সালাতে মুসাফিরের জন্য ফরয হল দুই রাকাআত। এর অধিক আদায় করবে না।

ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, মুসাফিরের (মূল) ফরয চার রাকাআত। তবে কসর করা্ হল রুখছত, সাওমের উপর কিয়াস করে।

আমাদের দলীল এই যে, দ্বিতীয়ার্থ দুই রাকাআত কাযা করতে হয় না এবং তা তরক করার কারণে গুণাহ্ হয় না। আর এ হল নফল হওয়ার আলামত। পক্ষান্তরে সাওমের বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা তা কাযা করতে হয়।

আর যদি চার রাকাআত পড়ে নেয় এবং দ্বিতীয় রাকাআতে তাশাহ্‌হুদ পরিমাণ বৈঠক করে, তাহলে প্রথম দুই রাকাআত ফরয হিসাবে আদায় হয়ে যাবে এবং শেষ  দুই রাকাআত নফল হবে।

ফজরের সালাতের উপর কিয়াস করে। অবশ্য সালাম বিলম্ব করার কারণে গুণাহ্‌গার হবে।

আর যদি দ্বিতীয় রাকাআতে তাশাহ্‌হুদ পরিমাণ বৈঠক না করে তাহলে সালাত বাতিল হয়ে যাবে। কেননা, ফরযের রুকনসমূহ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই নফল তার সাথে মিলে গেছে।

মুসাফির যখন বস্তির আবাদী ত্যাগ করবে তখন থেকেই দু’রাকাআত আদায় করবে। কেননা, বস্তিতে প্রবেশের সাথে মুকীম হওয়া সম্পৃক্ত। সুতরাং সফরের সম্পর্ক হবে বস্তি থেকে বের হওয়ার সাথে। এ সম্পর্কে আলী (রা.) থেকে নিম্নোক্ত বানী বর্ণিত আছে। যদি আমরা বস্তির গৃহসমূহ অতিক্রম করি তখনই অবশ্য সালাত কসর করব।

সফরের হুকুম অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না কোন শহরে বা বস্তিতে পনের দিন বা তার বেশী থাকার নিয়্যত করে। যদি এর কম সময় থাকার নিয়্যত করে তাহলে কসর করবে। কারণ সফরের একটি মিয়াদ নির্ধারণ করা জরুরী। কেননা সফরে স্বভাবতঃ বিরতি ঘটে থাকে। তাই আমরা সফরের মিয়াদ নির্ধারণ করেছি (দুই হায়যের মধ্যবর্তী) তুহরের মিয়াদ দ্বারা। কেননা উভয় মিয়াদই কিছু আহকাম আরোপ করে।

আর এটি ইব্‌ন ‘আব্বাস ও ইব্‌ন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর এ ধরণের ক্ষেত্রে সাহাবীর বাণী হাদীছের মত।

শহর বা বস্তির শর্ত এ দিকে ইংগিত করে যে, মাঠে প্রান্তরে ইকামতের নিয়্যত করা সহীহ্‌ নয়। এ-ই জাহির রিওয়ায়াত।

যদি এমন সুদৃঢ় ইচ্ছা নিয়ে কোন শহরে প্রবেশ করে যে, আগামীকাল অথবা পরশু এখান থেকে বের হয়ে যাবে এবং সে মুকীম হওয়ার নির্ধারিত মেয়াদের নিয়্যত করল না; এমন কি এভাবে সে কয়েক বছর অবস্থান করল, তাহলে সে কসর করতে থাকবে। কেননা, ইব্‌ন ‘উমর (রা.) আজারবাইজান শহরে ছয়মাস অবস্থান করেছেন এবং তিনি এ সময় কসর করতে থাকেন। আরও বহু সাহাবায়ে কিরাম থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।

সৈন্যবাহিনী যখন শত্রু এলাকায় প্রবেশ করে এবং ইকামতের নিয়্যত করে তখন তারা কসরই পড়বে। তদ্রুপ যদি শত্রু দেশের কোন শহর বা দুর্গ অবরোধ করে। কেননা শত্রুভূমিতে প্রবেশকারীর অবস্থা দোদুল্যমান; হয়ত পরাজিত হয়ে স্থান ত্যাগ করবে, নয়ত (শত্রুভূমিকে) পরাস্ত করে তথায় স্থায়ী হবে। সুতরাং তা ইকামাতের স্থান হতে পারে না।

অনুরূপভাবে (কসর আদায় করবে) যদি (মুসলিম) বাহিনী দারুল ইসলামের বিদ্রোহীদের শহর বহির্ভূত কোন এলাকায় অবরোধ করে কিংবা সমুদ্রে তাদের অবরোধ করে। কেননা তাদের অবস্থা তাদের নিয়্যতের দৃঢ়তা বাতিল করে।

যুফার (র.) এর মতে উভয় অবস্থায় (ইকামাতের নিয়্যত) গ্রহণযোগ্য হবে, যদি মুসলিম বাহিনীর শক্তিতে প্রাধান্য থাকে। কেননা, সে অবস্থায় বাহ্যতঃ তারা অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম।

ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে যদি তারা বস্তি এলাকায় থাকে তবে (নিয়্যত) গ্রহণযোগ্য হবে; কেননা বস্তি এলাকা ইকামত করার স্থান।

আর তাঁবুবাসীদের সম্পর্কে ইকামতের নিয়্যত কারো কারো মতে দুরস্ত নয়। তবে বিশুদ্ধ মত এই যে, তারা মুকীম বিবেচিত হবে। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে তাই বর্ণিত রয়েছে। কেননা ইকামত হলো (মানুষের জীবনের) আসল অবস্থা। সুতরাং এক চারণভূমিতে যাওয়ার কারণে তা বাতিল হবে না্।

আর যদি মুসাফির যদি ওয়াক্তিয়া সালাতের ক্ষেত্রে মুকীমের পিছনে ইক্‌তিদা করে তাহলে চার রাকাআত পুরা করবে। কেননা তখন অনুসরণের বাধ্যবাধকতায় তার ফরয চার রাকাআতে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। যেমন তার নিজের ইকামতের নিয়্যত দ্বারা পরিবর্তিত হয়ে যায়। কারণ, পরিবর্তনকারী বিষয় (অর্থাত্ ইকতিদা) ‘সবব’ এর সাথে (অর্থাত্ ওয়াক্‌তের সাথে) যুক্ত হয়েছে।

যদি মুকীম ইমামের সঙ্গে কাযা সালাতে শামিল হয়, তবে তা জাইয হবে না। কেননা, ফরয পরিবর্তিত হয় না ওয়াকতের পর সবব বিলুপ্ত হওয়ার কারণে; যেমন ইকামতের নিয়্যত দ্বারা পরিবর্তিথ হয় না। এমতাবস্থায় এটা বৈঠক ও কিরাতের ক্ষেত্রে নফল আদায়কারীর পিছনে ফরয আদায়কারীর ইকতিদার মত হয়ে যাবে, যা দুরস্ত নয়।

মুসাফির যদি দুই রাকাআতে মুকীমদের ইমামতি করে তবে সে (দুই রাকাআত শেষে) সালাম ফিরাবে আর মুকীমগণ তাদের সালাত পূর্ণ করে নিবে। কেননা, মুকতাদীরা দুই রাকাআতের ক্ষেত্রে (মুসাফির ইমামের) অনুসরণে বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেছে। সুতরাং অবশিষ্ট সালাতের ক্ষেত্রে তারা মাসবূকের মত একাকী হয়ে পড়বে। তবে বিশুদ্ধ মতে সে কিরাত পড়বে না। কেননা তারা তাহরীমার বেলায় মুকতাদী, অন্যান্য কাজের বেলায় নয়। আর ফরয (কিরাত) আদায় হয়ে গেছে। সুতরাং সতর্কতা হিসাবে কিরাত তরক করবে। মাসবূকের বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা, সে নফল কিরাত পেয়েছে। সুতরাং (কিরাতের) ফরয বিরতি আদায় হয়নি। সুতরাং (তার ক্ষেত্রে) কিরাত পড়াই উত্তম।

সালাম ফিরানোর পর (মুসাফির) ইমামের পক্ষে একথা বলে দেওয়া মুসতাহাব যে, তোমরা তোমাদের সালাত পূর্ণ করে নাও। আমরা মুসাফির কাফেলা। কেননা, মুসাফির অবস্থায় মক্কাবাসীদের ইমামতি করার সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এরূপ বলেছিলেন।

মুসাফির যখন আপন শহরে প্রবেশ করবে তখন সালাত পূর্ণ করবে। যদিও সেখানে সে ইকামতের নিয়্যত না করে। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ও সাহাবায়ে কিরাম সফর করতেন। অতঃপর ইকামাতের নতুন নিয়্যত ব্যতীত ওয়াতানের দিকে ফিরে এসে মুকীম হিসাবে অবস্থান করতেন।

যদিও কারও নিজস্ব আবাসভূমি থাকে অতঃপর সেখান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে অন্য স্থানকে আবাসভূমি রূপে গ্রহণ করে, তবে অতঃপর সফর করে প্রথম আবাসভূমিতে প্রবেশ করে, তবে সে কসর পড়বে। কেননা প্রথমটি তার আবাসভূমি থাকে না। একথা স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ্ (সা.) নিজেকে মক্কায় মুসাফির গণ্য করেছিলেন।

এর কারণ এই যে, নীতি হল, স্থায়ী আবাসভূমি অনুরূপ আবাসভূমি দ্বারা বাতিল হয়ে যায়, সফর দ্বারা হয় না। পক্ষান্তরে অস্থায়ী অবস্থান স্থল দ্বারা, সফর দ্বারা এবং স্থায়ী আবাসভূমি দ্বারা বাতিল হয়ে যায়।

মুসাফির যদি মক্কায় ও মীনায় পনের দিন থাকার নিয়্যত করে তবে সে কসর পড়বে। কেননা দুই স্থানে ইকামতের নিয়্যত যদি এ’ তেবার করা হয়, তাহলে বিভিন্ন জায়গার ইকামতের নিয়্যতকেও মিলিতভাবে গ্রহণ করতে হবে। আর তা নিষিদ্ধ। কেননা, সফর তো বিভিন্ন স্থানে অবস্থান থেকে মুক্ত নয়। তবে যদি উভয়ের মধ্যে একটিতে রাত্রিযাপন করার নিয়্যত করে থাক তবে সে সে স্থানে প্রবেশ করার  সাথে সাথে মুকীম হয়ে যাবে। কেননা, লোকের ইকামতের বিষয়টি তার রাত্রি যাপনের স্থানের সাথে সম্পৃক্ত। 

সফরে যার সালাত ফউত হয়ে যায়, সে মুকীম হওয়ার পরও দুই রাকাআতই কাযা করবে। তদ্রুপ যার ইকামাত অবস্থায় (চার রাকাআত ওয়ালা সালাত) কাযা হয়ে যায় সফরে তা চার রাকাআতই আদায় করবে। কেননা, আদায় অনুরূপ কাযা করতে হয়। অনুরূপ কাযার বেলায় ওয়াকতের শেষ সময় ধর্তব্য। কেননা, শেষ ওয়াকতই সব হিসেবে গণ্য, যখন ওয়াকতের সালাত আদায় না করা হয়।

অবৈধ উদ্দেশ্যে ও বৈধ উদ্দেশ্যে সফরকারী, সফরে রুখসত লাভের ক্ষেত্রে উভয়ই সমান।

ইমাম শাফেঈ (রহ.) বলেন, গুনাহের সফরে রুখসত লাখ হবে না। কেননা, তা কষ্ট লাঘবের জন্য কার্যকরী। সুতরাং, যা কঠোরতা দাবি করে, তার সাথে তা সম্পৃক্ত হবে না।

আমাদের দলীল শরীআতের বিধানের নিঃশর্ততা। তাছাড়া, মূলতঃ সফর কোনো অপরাধ নয়। অপরাধ এর পাশাপাশি বা পরে সংযুক্ত হয়। সুতরাং, রুখসত সম্পৃক্ত হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। আর আল্লাহই ভাল জানেন।


আরবী অংশ:


‌‌باب صلاة المسافر

"السفر الذي يتغير به الأحكام أن يقصد الإنسان مسيرة ثلاثة أيام ولياليها بسير الإبل ومشي الأقدام" لقوله عليه الصلاة والسلام " يمسح المقيم كمال يوم وليلة والمسافر ثلاثة أيام ولياليها " عمت الرخصة الجنس ومن ضرورته عموم التقدير وقدر أبو يوسف رحمه الله بيومين وأكثر اليوم الثالث والشافعي بيوم وليلة في قول وكفى بالسنة حجة عليهما " والسير المذكور هو الوسط " وعن أبي حنيفة رحمه الله التقدير بالمراحل وهو قريب من الأول ولا معتبر بالفراسخ هو الصحيح " ولا يعتبر السير في الماء " معناه لا يعتبر به السير في البر فأما المعتبر في البحر فما يليق بحاله كما في الجبل.

قال: " وفرض المسافر في الرباعية ركعتان لا يزيد عليهما " وقال الشافعي رحمه الله فرضه الأربع والقصر رخصة اعتبارا بالصوم ولنا أن الشفع الثاني لا يقضى ولا يأثم على تركه وهذا آية النافلة بخلاف الصوم لأنه يقضى " وإن صلى أربعا وقعد في الثانية قدر التشهد أجزأته الأوليان عن الفرض والأخريان له نافلة " اعتبارا بالفجر ويصير مسيئا لتأخير السلام " وإن لم يقعد في الثانية قدرها بطلت " لاختلاط النافلة بها قبل إكمال أركانها " وإذا فارق المسافر بيوت المصر صلى ركعتين " لأن الإقامة تتعلق بدخولها فيتعلق السفر بالخروج عنها وفيه الأثر عن علي رضي الله عنه لو جاوزنا هذا الخص لقصرنا " ولا يزال على حكم السفر حتى ينوي الإقامة في بلدة أو قرية خمسة عشر يوما أو أكثر وإن نوى أقل من ذلك قصر " لأنه لا بد من اعتبار مدة لأن السفر يجامعه اللبث فقدرناها بمدة الطهر لأنهما مدتان موجبتان وهو مأثور عن ابن عباس وابن عمر رضي الله عنهم والأثر في مثله كالخبر والتقييد بالبلدة والقرية يشير إلى أنه لا تصح نية الإقامة في المفازة وهو الظاهر " ولو دخل مصرا على عزم أن يخرج غدا أو بعد غد ولم ينو مدة الإقامة حتى بقي على ذلك سنين قصر " لأن ابن عمر رضي الله عنه أقام بأذربيجان ستة أشهر وكان يقصر وعن جماعة من الصحابة رضي الله عنهم مثل ذلك " وإذا دخل العسكر أرض الحرب فنووا الإقامة بها قصروا وكذا إذا حاصروا فيها مدينة أو حصنا " لأن الداخل بين أن يهزم فيقر وبين أن ينهزم فيفر فلم تكن دار إقامة " وكذا إذا حاصروا أهل البغي في دار الإسلام في غير مصر أو حاصروهم في البحر " لأن حالهم مبطل عزيمتهم وعند زفر رحمه الله يصح في الوجهين إذا كانت الشوكة لهم للتمكن من القرار ظاهرا وعند أبي يوسف رحمه الله يصح إذا كانوا في بيوت المدر لأنه موضع إقامة " ونية الإقامة من أهل الكلإ وهم أهل الأخبية قيل لا تصح والأصح أنهم مقيمون " يروى ذلك عن أبي يوسف رحمه الله لأن الإقامة أصل فلا تبطل بالانتقال من مرعى إلى مرعى " وإن اقتدى المسافر بالمقيم في الوقت أتم أربعا " لأنه يتغبر فرضه إلى أربع للتبعية كما يتغير بنية الإقامة لاتصال المغير بالسبب وهو الوقت " وإن دخل معه في فائتة لم تجزه " لأنه لا يتغير بعد الوقت لانقضاء السبب كما لا يتغير بنية الإقامة فيكون اقتداء المفترض بالمتننفل في حق القعدة أو القراءة " وإن صلى المسافر بالمقيمين ركعتين سلم وأتم المقيمون صلاتهم " لأن المقتدي التزم الموافقة في الركعتين فينفرد في الباقي كالمسبوق إلا أنه لا يقرأ في الأصح لأنه مقتد تحريمة لا فعلا والفرض صار مؤدى فيتركها احتياطا بخلاف المسبوق لأنه أدرك قراءة نافلة فلم يتأد الفرض فكان الإتيان أولى.

قال: " ويستحب للإمام إذا سلم أن يقول أتموا صلاتكم فإنا قوم سفر " لأنه عليه الصلاة والسلام قاله حين صلى بأهل مكة وهو مسافر " وإذا دخل المسافر في مصره أتم الصلاة وإن لم ينو المقام فيه " لأنه عليه الصلاة والسلام وأصحابه رضوان الله عليهم كانوا يسافرون ويعودون إلى أوطانهم مقيمين من غير عزم جديد " ومن كان له وطن فانتقل عنه واستوطن غيره ثم سافر فدخل وطنه الأول قصر " لأنه لم يبق وطنا له ألا ترى أنه عليه الصلاة والسلام بعد الهجرة عد نفسه بمكة من المسافرين وهذا لأن الأصل أن الوطن الأصلي يبطل بمثله دون السفر ووطن الإقامة يبطل بمثله وبالسفر وبالأصلي " وإذا نوى المسافر أن يقيم بمكة ومنى خمسة عشر يوما لم يتم الصلاة " لأن اعتبار النية في موضعين يقتضي اعتبارها في مواضع وهو ممتنع لأن السفر لا يعرى عنه إلا إذا نوى المسافر أن يقيم بالليل في أحدهما فيصير مقيما بدخوله فيه لأن إقامة المرء مضافة إلى مبيته " ومن فاتته صلاة في السفر قضاها في الحضر ركعتين ومن فاتته في الحضر قضاها في السفر أربعا " لأن القضاء بحسب الأداء والمعتبر في ذلك آخر الوقت لأنه المعتبر في السببية عند عدم الأداء في الوقت " والعاصي والمطيع في سفرهما في الرخصة سواء " وقال الشافعي رحمه الله سفر المعصية لا يفيد الرخصة لأنها تثبت تخفيفا فلا تتعلق بما يوجب التغليظ ولنا إطلاق النصوص ولأن نفس السفر ليس بمعصية وإنما المعصية ما يكون بعده أو يجاوره فصلح بتعلق الرخصة والله أعلم


No comments:

Post a Comment