Monday, April 13, 2020

আল-হিদায়া - সালাতুল জুমুআ

(আল-হিদায়া, শাইখুল ইসলাম বুরহান উদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবন আবু বকর আল-ফারগানী আল-মারগীনানী (রহ) কর্তৃক রচিত হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব)

(আল-হিদায়া - ২য় অধ্যায়, ১৬ অনুচ্ছেদ, ইফাবা পৃষ্ঠা ১৫৫ – সালাতুল জুমুআ)


জুমুআর সালাত শুদ্ধ হয় না কেবল জামে’ শহর কিংবা শহরের ঈদগাহ ব্যতিত। গ্রাামঞ্চলে জুমুআ জাইয নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, শহর ছাড়া অন্য কোথাও জুমুআ (তাকবীর) তাশরীক, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা নেই।

‘জামে শহর’ অর্ত এমন লোকালয়, যেখানে শাসক ও বিচারক রয়েছেন, যিনি শরীয়তের বিধি নিষেধ প্রয়োগ করতে এবং হদসমূহ কার্যকর করতে পারেন। এ হলো ইমাম আবু ইউসূফ থেকে বর্ণিত মত। তাঁর থেকে আরেকটি মত বর্ণিত আছে যে, যদি তারা তাদের সবচেয়ে বড় মসজিদে সমবেত হয় তাহলে সেখানে তাদের স্থান সংকুলান হয় না। প্রথমটি ইমাম কারখী (রহ) সমর্থিত মত। এবং এ-ই প্রকাশ্য মাযহাব। আর দ্বিতীয় মত হলো ইমাম সালজী (রহ) গ্রহীত।

তবে জুমুআর বৈধতা শুধু ঈদগাহের সাথে সম্পৃক্ত নয়। বরং শহরের সমগ্র উপকণ্ঠেই জাইয হবে। কেননা শহরবাসীদের প্রয়োজনের লক্ষ্যে তা শহরেরই স্থলবর্তী।

মীনাতে জুমুআ জাইয হবে যদি হিজাজের আমীর উপস্থিত থাকেন, কিংবা যদি মুসাফির অবস্থায় খলীফা উপস্থিত থাকেন। এ হলো ইমাম আবু হানীফা (রহ) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ) এর মত। ইমাম মুহাম্মদ (রহ) বলেন, মীনাতে জুমুআ দুরুস্ত নেই। কেননা এটি গ্রামে গণ্য। এজন্যই সেখানে ঈদের সালাত পড়া হয় না। ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আবু ইউসুফের দলীল এই যে, হজ্জের মৌসুমে মীনা শহরে পরিণত হয়ে যায়। ঈদের অনুষ্ঠান হয় না হাজীদের দায়িত্বভার লাঘবের জন্য।

আরাফাতে সকলের মতেই জুমুআ জাইয নয়। কেননা, তা খোলা প্রান্তর। পক্ষান্তরে মীনাতে ঘরবাড়ী রয়েছে।

খলীফা কিংবা হিজাযের আমীরের সাথে বিষয়টিকে শর্তযুক্ত করার কারণ হচ্ছে এই যে, ক্ষমতা তাদেরই রয়েছে। হজ্জ মৌসুমের আমীর তো শুধু হজ্জ সংশ্লিষ্ট বিষয়ই তদারকি করে থাকেন।

শাসক কিংবা শাসক নির্ধারিত লোক ছাড়া অন্য কারো জন্য জুমুআ জামা’আত কায়েম করা জাইয নয়। কেননা জুমুআ বিশাল সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আর সেখানে ইমাম হওয়া কিংবা অন্যকে ইমাম করা এছাড়া অন্যান্য কারণে কোন কোন সময় ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। সুতরাং জুমুআর সালাত সূষ্ঠভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য তা জরুরী।

জুমুআর আরেকটি শর্ত হল সময়। সুতরা্ং তা যুহরের সময় সহীহ্ হবে, তার পরে দুরস্ত নয়। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- যখন সূর্য হেলে পড়ে তখন তুমি লোকদের নিয়ে জুমু্আর সালাত আদায় কর।

যদি জুমুআর সালাতে থাকা অবস্থায় ওয়াক্ত চলে যায় তবে পুনরায় যুহর শুরু করবে।

জুমুআর উপর যুহরের বিনা করবে না। কেননা উভয়টি ভিন্ন সালাত।

জুমুআর সালাতের জন্য আরেকটি শর্ত হলো খুতবা। কেননা নবী (সা.) জীবনে কখনো খুতবা ছাড়া জুমুআর সালাত আদায় করেননি।

আর এই খুতবা হবে সূর্য হেলে যাওয়ার পরে সালাতের পূর্বে। হাদীছে এরূপই বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম দু’টি খুতবা দিবেন এবং উভয় খুতবার মাঝে একটি বৈঠকে ব্যবধান করবেন। এর উপরই আমল চলে এসেছে।

তাহারাত অবস্থায় দাড়িয়ে খূতবা দিবেন। কেননা দাড়িয়ে খুতবা একটি সর্বকালীন আমল। অতঃপর যেহেতু খুতবা হলো সালাতের শর্ত। এত তাহারাত মুসতাহাব, যেমন আযানের ধ্বনি।

যদি বসে কিংবা তাহারাত ছাড়া খুতবা পাঠ করে তবে তা জাইয হবে। কেননা খুতবার উদ্দেশ্য তার দ্বারা হাসিল হয়ে যায়।

তবে তা মাকরূহ হবে।

সর্বকালীন আমলের বিরুদ্ধাচারণ এবং সালাত ও খুতবার মাঝে ব্যবধান সৃষ্টির কারণে।

যদি শূধু আল্লাহ্‌র যিকিরের উপর শেষ করে দেয়, ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে তা জাইয  আর সাহেবাইনদের মতে এই পরিমাণ দীর্ঘ যিকির আবশ্যক, যাকে খুতবা বলা যায়। কেননা, খুতবা হল ওয়াজিব। শূধূ তাসবীহ এবং শুধু হামদ্‌কে খুতবা বলা হয় না।

ইমাম শাফিঈ (র.) প্রচলিত রীতির উপর ভিত্তি করে বলেন, দু’টি খুতবা পাঠ ছাড়া জাইয হবে না।

ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল আল্লাহ্ তা’আলার বাণী- তোমরা আল্লাহ্‌র যিকিরের দিকে ধাবিত হও। এতে কোন বিশ্লেষণ করা হয়নি। উছমান (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি শুধু আল্‌হামদুলিল্লাহ্ বলার পর তার কথা থেমে গেলে তখন তিনি (মিম্বর থেকে) নেমে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন।

জুমুআর আরেকটি শর্ত হল জামাআত, কেননা ‘জুমুআ’ শব্দটি ‘জামাআত’ শব্দ হতে গঠিত।

ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে জামা’আতে সর্ব নিম্ন সংখ্যা হল ইমাম ছাড়া তিনজন। সাহেবাইনের মতে ইমাম ছাড়া দুইজন হতে হবে।

গ্রন্থকার বলেন, বিশুদ্ধতম কথা এই যে, এটি ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর একার মত। তার দলীল এই যে, দুইয়ের মাঝে সমাবেশের অর্থ রয়েছে। আর জুমুআ শব্দ সমাবেশের প্রতিই ইংগিত করে।

তরফাইনের দলীল এই যে, প্রকৃতপক্ষে জামউন বা বহুবচন হল তিন। কেননা, এটিই নাম ও অর্থ উভয় দিক থেকেই জামউন, আর জামাআত আলাদা শর্ত। তদ্রুপ ইমামও শর্ত। সুতরাং ইমাম জামা’আতের মধ্যে গণ্য হবে না।

ইমাম রুকু ও সাজদা করার পূর্বেই যদি লোকেরা চলে যায়, শুধু নারী ও শিশুরা থেকে যায়, তবে ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে ইমাম পুনরায় যুহর শুরু করবেন। সাহেবাইন বলেন, ইমাম সালাত শূরু করার পর তারা যদি তাকে ছেড়ে চলে যায় তবু তারা চলে যায় তবে (সকলের মতে) তিনি জুমুআই অব্যাহত রাখবেন।

এতে ইমাম যুফার (র.) এর ভিন্নমত রয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু এটা শর্ত সেহেতু এর স্থায়িত্ব আবশ্যক। যেমন ওয়াক্তের বিষয়টি।

সাহেবাইনের দলীল এই যে, জামা’আত হল জুমুআ অনুষ্ঠিত হওয়ার শর্ত। সুতরাং তার স্থায়িত্ব শর্ত হবে না। যেমন খূতবার বিষয়টি।

ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল এই যে, জুমুআ অনুষ্ঠিত হওয়া সাব্যস্ত হবে সালাত শূরু হওয়ার মাধ্যমে। আর এক রাকাআত পূর্ণ হওয়া ছাড়া সালাতের শুরু পূর্ণতা লাভ করে না। কেননা, এক রাকাআতের কম পরিমাণ সালাত নয়। সুতরাং এক রাকাআত পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত জামা’আতের স্থায়িত্ব জরুরী। খুতবার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা তা সালাতের সাথে সামঞ্জস্যহীন। সুতরাং তার স্থায়িত্ব শর্ত হতে পারে না। নারী তেমনি ছেলেদের থেকে যাওয়া ধর্তব্য নয়। কেননা তাদের দ্বারা জুমুআ অনুষ্ঠিত হয় না। সুতরাং তাদের দ্বারা জামা’আতের পূর্ণতা সাধিত হবে না।

মুসাফির, নারী, রোগী, দাস ও অন্ধের উপর জুমুআ ওয়াজিব নয়। কেননা, জুমুআর উপস্থিতিতে মুসাফিরের অসুবিধা হবে। রোগী ও অন্ধ সম্পর্কেও একই কথা। তদ্রুপ দাস তার মনিবের খিদমতে এবং স্ত্রী তার স্বামীর খিদমতে ব্যস্ত থাকে। তাই ক্ষতি ও অসুবিধার জন্য তাদের ‘মাযূর’ গণ্য করা হয়েছে।

তবে যদি তারা উপস্থিত হয়ে লোকদের সাথে জুমুআর সালাত আদায় করে তাহলে ওয়াক্তিয়া ফরযের পরিবর্তে তা যথেষ্ট হবে। কেননা, তারা নিজেই তা বরদাশত করেছে। সুতরাং তারা ঐ মুসাফিরের মত হয়ে যাবে, যে সফরে সিয়াম পালন করল।

মুসাফির, দাস ও অসুস্থ ব্যক্তির পক্ষে জুমুআর ইমামতি করা জাইয আছে।

যুফার (র.) বলেন, তা জাইয নেই। কেননা তাদের উপর (জুমুআর) ফরযিয়াত নেই। সুতরাং তারা বালক ও স্ত্রী লোকের সদৃশ হলো।

আমাদের দলীল এই যে, এ হল তাদের জন্য অবকাশ (প্রদত্ত সুবিধা)। সুতরাং যখন তারা উপস্থিত হয়ে থাকে তখন ফরয হিসাবেই আদায় হবে। যেমন, (ইতোপূর্বে) আমরা বর্ণনা করে এসেছি।

পক্ষান্তরে বালকের তো যোগ্যতাই নেই। আর স্ত্রী লোক, পুরুষদের ইমাম হওয়ার যোগ্য নয়।

মুসাফির, দাস ও অসুস্থদের দ্বারা জুমুআ অনুষ্ঠিত হবে। কেননা তারা যখন জুমুআর ইমামতিরই যোগ্য, তখন তাদের মধ্যে মুকতাদি হওয়ার যোগ্যতা আরও অধিক রয়েছে।

জুমুআর দিন যে ব্যক্তি ইমামের জুমুআ আদায়ের আগে আপন গৃহে যুহরের সালাত আদায় করে ফেলল, অথচ তার কোন ওযর নেই, তার জন্য তা মাকরূহ হবে। তবে তার সালাত আদায় হয়ে যাবে।

যুফার (র.) বলেন, তার এই সালাত আদায়ই হবে না। কেননা, তার মতে জুমুআ মূল ফরয আর যুহর হল তার বিকল্প। আর মূলের উপর সামর্থ্য থাকা অবস্থায় বিকল্পের অভিমুখী হওয়ার অবকাশ নেই।

আমাদের দলীল এই যে, সকলের ক্ষেত্রেই মূল ফরয হল যুহর এই যাহিরে মাযহাবে অভিমত। তবে জুমুআ আদায়ের মাধ্যমে ঐ ফরয নিরসন করার জন্য সে আদিষ্ট।

এ মত এ কারণে যে, সে নিজেই যুহর আদায় করতে সক্ষম রয়েছে, জুমুআ আদায় করতে সক্ষম নয়। কেননা, তা এমন কতিপয় শর্তের উপর নির্ভরশীল, যা তার একার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়। আর নিজ সামর্থ্যের উপরই শরীআতের দায়িত্ব নির্ভরশীল।

এরপর যদি তার জুমুআর জামা’আতে হাযির হওয়ার ইচ্ছা হয় এবং জুমুআর জামা’আতে অভিমুখী হয় আর ইমাম জুমুআর সালাতরত থাকেন তবে ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে গমনের দ্বারাই তার যুহর বাতিল হয়ে যাবে।

আর সাহেবাইনের মতে ইমামের সাথে সালাতে দাখিল হওয়া পর্যন্ত যুহর বাতিল হবে না। কেননা সাঈ যুহরের চেয়ে নিম্নমানের। সুতরাং যুহর সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর সাঈ তা বাতিল করবে না। আর জুমুআ হল যুহরের চেয়ে উচু পর্যায়ের। সুতরাং তা যুহরকে বাতিল করে দেবে।

আর এটা জুমুআ থেকে ইমামের ফারেগ হওয়ার পর জুমুআ অভিমুখী হওয়ার মত হল।

ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল এই যে, জুমুআ অভিমুখে সাঈ করা জুমুআর বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং সতর্কতার খাতিরে যুহর বাতিল হওয়ার ক্ষেত্রে এটাকে জুমুআর স্থলবর্তী করা হবে। জুমুআ থেকে (ইমামের) ফারেগ হয়ে যাওয়ার পরবর্তী বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা, প্রকৃতপক্ষে সেটা জুমুআ অভিমুখে সাঈ নয়

জুমুআর দিন শহরে জামা’আতের সাথে যুহর আদায় করা মা’যূর লোকদের জন্য মাকরূহ। জেলখানায় কয়েদীরও এ হুকুম। কেননা, তাতে জুমুআর ব্যাপারে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা হয়। কারণ জুমুআ হল সমস্ত জামা’আতকে একত্রকারীআর মা’যূরদের সাথে কোন কোন সময় অন্যেরাও ইকতিদা করে ফেলে। গ্রামবাসীদের বিষয়টি ভিন্ন। কেননা তাদের উপর তো জুমুআ নেই।

তবে একদল লোক যদি যুহর জামা’আতে পড়েই ফেলে তাহলে তাদের জন্য তা যথেষ্ট হবে। কেননা, যুহর জাইয হওয়ার যাবতীয় শর্ত পাওয়া গেছে।

যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ইমামকে সালাতের মধ্যে পাবে সে ইমামের সাথে ঐ পরিমাণ সালাত পড়বে, যা সে পেয়েছে, অতঃপর তার উপর জুমুআ ‘বিনা’ করবে। কেননা, রাসূ্লুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- যে পরিমাণ সালাত তোমরা পেয়েছ, তা পড়ে নাও, আর যে পরিমাণ ফউত হয়েছে, তা কাযা করে নাও।

যদি ইমামকে তাশাহ্‌হুদের মাঝে কিংবা সাজদায়ে সাহ্‌ও এর মাঝে পায়। তবে শায়খাইনের মতে সে এর উপর জুমুআর বিনা করবে।

মুহাম্মদ (র.) বলেন, যদি ইমামের সাথে দ্বিতীয় রাকা’আতের অধিকাংশ পায়, তবে তার উপর জুমুআার বিনা করবে। পক্ষান্তরে যদি দ্বিতীয় রাকাআতের কম অংশ পায় তবে তার উপর যুহর এর বিনা করবে। কেননা, একদিক থেকে তা জুমু্‌আ আবার অন্যদিকে তার থেকে কতিপয় শর্ত ফউত হওয়ার কারণে তা যুহর। সুতরাং যুহর বিবেচনায় সে চার রাকাআত পড়বে। এবং জুমুআর বিবেচনায় দুই রাকাআতের মাথায় অবশ্যই বসবে। আবার নফল হওয়ার সম্ভাবনার কারণে শেষ দুই রাকাআতে কিরাতও পড়বে।

শায়খাইনের দলীল এই যে, এই অবস্থাতেও সে জুমুআর সালাত তো পেয়েছে। এ কারণেই জুমুআর নিয়্যত করা শর্ত। আর জুমুআর তো দুই রাকাআত। ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর পক্ষ থেকে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোন কারণ নেই। কেননা উভয় সালাত ভিন্ন। সুতরাং একটির তাহরীমার উপর অন্যটির বিনা্ করা যাবে না।

জুমুআর দিন ইমাম যখন (খুতবা দানের উদ্দেশ্যে) বের হন তখন লোকেরা খুতবা থেকে তার ফারেগ হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় ও কথা বলা বন্ধ রাখবে।

গ্রন্থকার বলেন, এটা ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মত। সাহেবাইন বলেন, ইমামের বাহির হওয়ার পর খুতবা শূরু করার পূর্ব পর্যন্ত এবং মিম্বর থেকে নামার পর তাকবীর বলার পূর্ব পর্যন্ত কথা বলাতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা, মাকরূহ হওয়ার কারণ হল মনোযোগের সাথে শ্রবণের ফরযে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়া। অথচ এ্ই সময়ে শ্রবণের কিছু নোই। সালাতের বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা সালাত তো দীর্ঘায়িত হয়।

ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল হল, রাসূলুল্লহ্ (সা.) বলেছেন- ইমাম যখন বের হন (খুতবার উদ্দেশ্যে) তখন সালাত নেই, কথাও নেই। এতে কোন পার্থক্য করা হয়নি। তাছাড়া কথাবার্তা স্বভাবতঃ কখনো দীর্ঘায়িত হয়। তাই তা সালাতের সদৃশ।

মুআযযিনগণ যখন প্রথম আযান দিবেন, তখন লোকদের কর্তব্য হল বেচা কেনা ছেড়ে দেওয়া এবং জুমুআ অভিমুখী হওয়া। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন- তোমরা আল্লাহ্‌র যিকির অভিমুখে ধাবিত হও এবং বেচা-কেনা ছেড়ে দাও।

ইমাম যখন মিম্বরে আরোহণ করেন, তখন তিনি বসবেন এবং মুআযযিনগণ মিম্বরের সামনে দাড়িয়ে আযান দিবেন। এর পর যুগ পরম্পরায় আমল চলে এসেছে।

রাসূলূল্লাহ্ (সা.) এর যামানায় এই আযানই শুধু প্রচলিত ছিল। একারণেই কেউ কেউ বলেন, সাঈ ওয়াজিব হওয়া এবং বেচা-কেনা হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে এই আযানই ধর্তব্য। তবে বিশুদ্ধতম মত এই যে, প্রথম আযান ধর্তব্য, যদি সূর্য ঢলে পড়ার পরে হয়। কেননা, তা দ্বারাই জুমুআর অবহিতি অর্জিত হয়।

পাদটীকা:

১. হিদায়া গ্রন্থকার এটাকে মারফূ হাদীছরূপে বর্ণনা করেছেন। পক্ষান্তরে ইবন আবী শায়বা এটাকে আলী (রা) এর উপর মাওকুফরূপে বর্ণনা করেছেন। এ-ই বিশুদ্ধ মত।

২. মুসাফির হওয়ার কথা বলা হয়েছে দুটি কারণে, প্রথমতঃ এ বিষয়ে ইংগিত করার জন্য যে, মুসাফির অবস্থায় তিনি যখন তা পারেন তবে মুকীম অবস্থায় তো অবশ্যই পারবেন। দ্বিতীয়তঃ এই ভুল ধারনা দূর করার জন্য যে, খলীফা মুসাফির অবস্থায় জুমুআ কায়েম করতে পারেন না। যেমন হজ্জ মৌসুমের আমীর মুসাফির অবস্থায় পারেন না। এতে এই ইংগিতও রয়েছে যে, খলীফা বা শাসক দেশের যে কোন শহরে যাবেন সেখানে তার উপর জুমুআ ওয়াজিব হবে।

৩. অর্থাৎ মীনায় ঈদের নামায না হওয়া শহরের গুণ না থাকার কারণে নয়। বরং সহজত্য আনয়নের জন্য। কেননা মানুষ হজ্জ অনুষ্ঠানের যাবতীয় আহকাম পালনে ব্যস্ত থাকবে। আর দশ তারিখে ঈদ অতি অবশ্যই আসবে সুতরাং ঈদের নামায তার উপর চাপিয়ে দিলে মানুষের ভীষন অসুবিধা হবে। পক্ষান্তরে জুমুআর নামায প্রত্যেক হজ্জ মৌসুমে হওয়া নিশ্চিত নয়। মাঝে মধ্যে হয়ে থাকে সুতরাং তাতে বিশেষ অসুবিধা নেই।

৪. অর্থাৎ যদি খুতবার উদ্দেশ্যে যিকির করে। যেমন আলহামদুলিল্লাহ বলল। কিংবা সুবহানাল্লাহ বলল। কিংবা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলল। কিন্তু হাঁচির জবাবে বা এমনিতে বললে শেষে খুতবা হবে না।

৫. অর্থাৎ দ্বিতীয় রাকাআতের রুকূ থেকে ইমামের মস্তক উত্তোলনের পরে সে ইমামের সাথে শরীক হল।

৬. ইমাম মুসলিম ছাড়া অন্যান্যরা বর্ণনা করেন যে, হযরত সাঈদ ইবন ইয়াযীদ (রা) বলেন, নবী (সা) এবং আবু বকর ও উমর (রা) এর যামানা পর্যন্ত প্রথম আযান ছিল যখন ইমাম মিম্বরে আরোহন করতেন। কিন্তু উছমান (রা) এর যামানায় যখন লোক সংখ্যা বেড়ে গেল তখন তৃতীয় আযানের ব্যবস্থা করা হল।

এটাকে তৃতীয় বলা কারণ এই যে, ইকামতও এক অর্থে আযান।

সাঈ ওয়াজিব হওয়া এবং বেচা-কেনা হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম আযান বিবেচ্য হওয়াই বিশুদ্ধতম মত। কেননা দ্বিতীয় আযান বিবেচিত হলে সুন্নত সালাত ও খুতবা ফউত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আরবী অংশ:


[بَابُ صَلَاةِ الْجُمُعَةِ]

(لَا تَصِحُّ الْجُمُعَةُ إلَّا فِي مِصْرٍ جَامِعٍ، أَوْ فِي مُصَلَّى الْمِصْرِ، وَلَا تَجُوزُ فِي الْقُرَى) لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «لَا جُمُعَةَ وَلَا تَشْرِيقَ وَلَا فِطْرَ وَلَا أَضْحَى إلَّا فِي مِصْرٍ جَامِعٍ» وَالْمِصْرُ الْجَامِعُ: كُلُّ مَوْضِعٍ لَهُ أَمِيرٌ وَقَاضٍ يُنَفِّذُ الْأَحْكَامَ.
وَيُقِيمُ الْحُدُودَ، وَهَذَا عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -، وَعَنْهُ أَنَّهُمْ إذَا اجْتَمَعُوا فِي أَكْبَرِ مَسَاجِدِهِمْ لَمْ يَسَعْهُمْ، وَالْأَوَّلُ اخْتِيَارُ الْكَرْخِيِّ وَهُوَ الظَّاهِرُ، وَالثَّانِي اخْتِيَارُ الثَّلْجِيِّ، وَالْحُكْمُ غَيْرُ مَقْصُورٍ عَلَى الْمُصَلِّي بَلْ تَجُوزُ فِي جَمِيعِ أَفْنِيَةِ الْمِصْرِ؛ لِأَنَّهَا بِمَنْزِلَتِهِ فِي حَوَائِجِ أَهْلِهِ.
(وَتَجُوزُ بِمِنًى إذَا كَانَ الْأَمِيرُ أَمِيرَ الْحِجَازِ، أَوْ كَانَ مُسَافِرًا عِنْدَهُمَا. وَقَدْ قَالَ مُحَمَّدٌ: لَا جُمُعَةَ بِمِنًى) ؛ لِأَنَّهَا مِنْ الْقُرَى
حَتَّى لَا يُعِيدَ بِهَا. وَلَهُمَا أَنَّهَا تَتَمَصَّرُ فِي أَيَّامِ الْمَوْسِمِ وَعَدَمُ التَّعْيِيدِ لِلتَّخْفِيفِ، وَلَا جُمُعَةَ بِعَرَفَاتٍ فِي قَوْلِهِمْ جَمِيعًا؛ لِأَنَّهَا قَضَاءٌ وَبِمِنًى أَبْنِيَةٌ. وَالتَّقْيِيدُ بِالْخَلِيفَةِ وَأَمِيرِ الْحِجَازِ؛ لِأَنَّ الْوِلَايَةَ لَهُمَا، أَمَّا أَمِيرُ الْمَوْسِمِ فَيَلِي أُمُورَ الْحَجِّ لَا غَيْرُ.
(وَلَا يَجُوزُ إقَامَتُهَا إلَّا لِلسُّلْطَانِ أَوْ لِمَنْ أَمَرَهُ السُّلْطَانُ) لِأَنَّهَا تُقَامُ بِجَمْعٍ عَظِيمٍ، وَقَدْ تَقَعُ الْمُنَازَعَةُ فِي التَّقَدُّمِ وَالتَّقْدِيمِ، وَقَدْ تَقَعُ فِي غَيْرِهِ فَلَا بُدَّ مِنْهُ تَتْمِيمًا لِأَمْرِهِ.
(وَمِنْ شَرَائِطِهَا الْوَقْتُ فَتَصِحُّ فِي وَقْتِ الظُّهْرِ وَلَا تَصِحُّ بَعْدَهُ) لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «إذَا مَالَتْ الشَّمْسُ فَصَلِّ بِالنَّاسِ الْجُمُعَةَ» (وَلَوْ خَرَجَ الْوَقْتُ وَهُوَ فِيهَا اسْتَقْبَلَ الظُّهْرَ وَلَا يَبْنِيه عَلَيْهَا) لِاخْتِلَافِهِمَا.
(وَمِنْهَا الْخُطْبَةُ) ؛ لِأَنَّ النَّبِيَّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - مَا صَلَّاهَا بِدُونِ الْخُطْبَةِ فِي عُمُرِهِ (وَهِيَ
قَبْلَ الصَّلَاةِ بَعْدَ الزَّوَالِ) بِهِ وَرَدَتْ السُّنَّةُ (وَيُخْطَبُ خُطْبَتَيْنِ يَفْصِلُ بَيْنَهُمَا بِقَعْدَةٍ) بِهِ جَرَى التَّوَارُثُ (وَيَخْطُبُ قَائِمًا عَلَى طَهَارَةٍ) ؛ لِأَنَّ الْقِيَامَ فِيهِمَا مُتَوَارَثٌ، ثُمَّ هِيَ شَرْطُ الصَّلَاةِ فَيُسْتَحَبُّ فِيهَا الطَّهَارَةُ كَالْأَذَانِ
(وَلَوْ خَطَبَ قَاعِدًا أَوْ عَلَى غَيْرِ طَهَارَةٍ جَازَ) لِحُصُولِ الْمَقْصُودِ إلَّا أَنَّهُ يُكْرَهُ لِمُخَالَفَتِهِ التَّوَارُثَ وَلِلْفَصْلِ بَيْنَهُمَا وَبَيْنَ الصَّلَاةِ (فَإِنْ اقْتَصَرَ عَلَى ذِكْرِ اللَّهِ جَازَ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -. وَقَالَا: لَا بُدَّ مِنْ ذِكْرٍ طَوِيلٍ يُسَمَّى خُطْبَةً) ؛ لِأَنَّ الْخُطْبَةَ هِيَ الْوَاجِبَةُ، وَالتَّسْبِيحَةُ أَوْ التَّحْمِيدَةُ لَا تُسَمَّى خُطْبَةً. وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لَا تَجُوزُ حَتَّى يَخْطُبَ خُطْبَتَيْنِ اعْتِبَارًا لِلْمُتَعَارَفِ.
وَلَهُ قَوْله تَعَالَى {فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ} [الجمعة: 9] مِنْ غَيْرِ فَصْلٍ. وَعَنْ عُثْمَانَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - أَنَّهُ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ فَارْتِجَ عَلَيْهِ فَنَزَلَ وَصَلَّى.
(وَمِنْ شَرَائِطِهَا الْجَمَاعَةُ) ؛ لِأَنَّ الْجُمُعَةَ مُشْتَقَّةٌ مِنْهَا (وَأَقَلُّهُمْ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ ثَلَاثَةٌ سِوَى الْإِمَامِ، وَقَالَا: اثْنَانِ سِوَاهُ) قَالَ: وَالْأَصَحُّ أَنَّ هَذَا قَوْلُ أَبِي يُوسُفَ وَحْدَهُ. لَهُ أَنَّ فِي الْمُثَنَّى مَعْنَى الِاجْتِمَاعِ هِيَ مُنْبِئَةٌ عَنْهُ. وَلَهُمَا أَنَّ الْجَمْعَ الصَّحِيحَ إنَّمَا هُوَ الثَّلَاثُ؛ لِأَنَّهُ جَمْعُ تَسْمِيَةٍ وَمَعْنًى، وَالْجَمَاعَةُ شَرْطٌ عَلَىحِدَةٍ، وَكَذَا الْإِمَامُ فَلَا يُعْتَبَرُ مِنْهُمْ.
(وَإِنْ نَفَرَ النَّاسُ قَبْلَ أَنْ يَرْكَعَ الْإِمَامُ وَيَسْجُدَ وَلَمْ يَبْقَ إلَّا النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ اسْتَقْبَلَ الظُّهْرَ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ، وَقَالَا: إذَا نَفَرُوا عَنْهُ بَعْدَمَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ صَلَّى الْجُمُعَةَ، فَإِنْ نَفَرُوا عَنْهُ بَعْدَمَا رَكَعَ رَكْعَةً وَسَجَدَ سَجْدَةً بَنَى عَلَى الْجُمُعَةِ) خِلَافًا لِزُفَرَ. وَهُوَ يَقُولُ: إنَّهَا شَرْطٌ فَلَا بُدَّ مِنْ دَوَامِهَا كَالْوَقْتِ. وَلَهُمَا أَنَّ الْجَمَاعَةَ شَرْطُ الِانْعِقَادِ فَلَا يُشْتَرَطُ دَوَامُهَا كَالْخُطْبَةِ. وَلِأَبِي حَنِيفَةَ أَنَّ الِانْعِقَادَ بِالشُّرُوعِ فِي الصَّلَاةِ، وَلَا يَتِمُّ ذَلِكَ إلَّا بِتَمَامِالرَّكْعَةِ؛ لِأَنَّ مَا دُونَهَا لَيْسَ بِصَلَاةٍ فَلَا بُدَّ مِنْ دَوَامِهَا إلَيْهَا بِخِلَافِ الْخُطْبَةِ فَإِنَّهَا تُنَافِي الصَّلَاةَ فَلَا يُشْتَرَطُ دَوَامُهَا، وَلَا مُعْتَبَرَ بِبَقَاءِ النِّسْوَانِ، وَكَذَا الصِّبْيَانِ؛ لِأَنَّهُ لَا تَنْعَقِدُ بِهِمْ الْجُمُعَةُ فَلَا تَتِمُّ بِهِمْ الْجَمَاعَةُ.
(وَلَا تَجِبُ الْجُمُعَةُ عَلَى مُسَافِرٍ وَلَا امْرَأَةٍ وَلَا مَرِيضٍ وَلَا عَبْدٍ وَلَا أَعْمَى) ؛ لِأَنَّ الْمُسَافِرَ يَخْرُجُ فِي الْحُضُورِ، وَكَذَا الْمَرِيضُ وَالْأَعْمَى، وَالْعَبْدُ مَشْغُولٌ بِخِدْمَةِ الْمَوْلَى، وَالْمَرْأَةُ بِخِدْمَةِ الزَّوْجِ فَعُذِرُوا
دَفْعًا
لِلْحَرَجِ وَالضَّرَرِ (فَإِنْ حَضَرُوا وَصَلَّوْا مَعَ النَّاسِ أَجْزَأَهُمْ عَنْ فَرْضِ الْوَقْتِ) ؛ لِأَنَّهُمْ تَحَمَّلُوهُ فَصَارُوا كَالْمُسَافِرِ إذَا صَامَ.
(وَيَجُوزُ لِلْمُسَافِرِ وَالْعَبْدِ وَالْمَرِيضِ أَنْ يَؤُمَّ فِي الْجُمُعَةِ) وَقَالَ زُفَرُ: لَا يُجْزِئُهُ؛ لِأَنَّهُ لَا فَرْضَ عَلَيْهِ فَأَشْبَهَ الصَّبِيَّ وَالْمَرْأَةَ. وَلَنَا أَنَّ هَذِهِ رُخْصَةٌ، فَإِذَا حَضَرُوا يَقَعُ فَرْضًا عَلَى مَا بَيَّنَّاهُ،أَمَّا الصَّبِيُّ فَمَسْلُوبُ الْأَهْلِيَّةِ، وَالْمَرْأَةُ لَا تَصْلُحُ لِإِمَامَةِ الرِّجَالِ، وَتَنْعَقِدُ بِهِمْ الْجُمُعَةُ؛ لِأَنَّهُمْ صَلَحُوا لِلْإِمَامَةِ فَيَصْلُحُونَ لِلِاقْتِدَاءِ بِطَرِيقِ الْأَوْلَى.
(وَمَنْ صَلَّى الظُّهْرَ فِي مَنْزِلِهِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَبْلَ صَلَاةِ الْإِمَامِ وَلَا عُذْرَ لَهُ كُرِهَ لَهُ ذَلِكَ وَجَازَتْ صَلَاتُهُ) وَقَالَ زُفَرُ: لَا يُجْزِئُهُ؛ لِأَنَّ عِنْدَهُ الْجُمُعَةَ هِيَ الْفَرِيضَةُ أَصَالَةً. وَالظُّهْرُ كَالْبَدَلِ عَنْهَا، وَلَا مَصِيرَ إلَى الْبَدَلِ مَعَ الْقُدْرَةِ عَلَى الْأَصْلِ. وَلَنَا أَنَّ أَصْلَ الْفَرْضِ هُوَ الظُّهْرُ فِي حَقِّ الْكَافَّةِ، هَذَا هُوَ الظَّاهِرُ إلَّا أَنَّهُ مَأْمُورٌ بِإِسْقَاطِهِبِأَدَاءِ الْجُمُعَةِ، وَهَذَا؛ لِأَنَّهُ مُتَمَكِّنٌ مِنْ أَدَاءِ الظُّهْرِ بِنَفْسِهِ دُونَ الْجُمُعَةِ لِتَوَقُّفِهَا عَلَى شَرَائِطَ لَا تَتِمُّ بِهِ وَحْدَهُ، وَعَلَى التَّمَكُّنِ يَدُورُ التَّكْلِيفُ.
(فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يَحْضُرَهَا فَتَوَجَّهَ إلَيْهَا وَالْإِمَامُ فِيهَا بَطَلَ ظُهْرُهُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ بِالسَّعْيِ، وَقَالَ: لَا يَبْطُلُ حَتَّى يَدْخُلَ مَعَ الْإِمَامِ) ؛ لِأَنَّ السَّعْيَ دُونَ الظُّهْرِ فَلَا يَنْقُصُهُ بَعْدَ تَمَامِهِ، وَالْجُمُعَةُ فَوْقَهَا فَيُنْقِصُهَا وَصَارَ كَمَا إذَا تَوَجَّهَ بَعْدَ فَرَاغِ الْإِمَامِ. وَلَهُ أَنَّ السَّعْيَ إلَى الْجُمُعَةِ مِنْ خَصَائِصِ الْجُمُعَةِ فَيَنْزِلُ مَنْزِلَتَهَا فِي حَقِّ ارْتِفَاعِ الظُّهْرِاحْتِيَاطًا بِخِلَافِ مَا بَعْدَ الْفَرَاغِ مِنْهَا؛ لِأَنَّهُ لَيْسَ بِسَعْيٍ إلَيْهَا.
(وَيُكْرَهُ أَنْ يُصَلِّيَ الْمَعْذُورُونَ الظُّهْرَ بِجَمَاعَةٍ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي الْمِصْرِ، وَكَذَا أَهْلُ السِّجْنِ) لِمَا فِيهِ مِنْ الْإِخْلَالِ بِالْجُمُعَةِ إذْ هِيَ جَامِعَةٌ لِلْجَمَاعَاتِ، وَالْمَعْذُورُ قَدْ يَقْتَدِي بِهِ غَيْرُهُ بِخِلَافِ أَهْلِ السَّوَادِ؛ لِأَنَّهُ لَا جُمُعَةَ عَلَيْهِمْ (وَلَوْ صَلَّى قَوْمٌ أَجْزَأَهُمْ) لِاسْتِجْمَاعِ شَرَائِطِهِ.
(وَمَنْ أَدْرَكَ الْإِمَامَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ صَلَّى مَعَهُ مَا أَدْرَكَهُ) وَبَنَى عَلَيْهِ الْجُمُعَةَ لِقَوْلِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «مَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا، وَمَا فَاتَكُمْفَاقْضُوا» (وَإِنْ كَانَ أَدْرَكَهُ فِي التَّشَهُّدِ أَوْ فِي سُجُودِ السَّهْوِ بَنَى عَلَيْهَا الْجُمُعَةَ عِنْدَهُمَا. وَقَالَ مُحَمَّدٌ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: إنْ أَدْرَكَ مَعَهُ أَكْثَرَ الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ بَنَى عَلَيْهَا الْجُمُعَةَ، وَإِنْ أَدْرَكَ أَقَلَّهَا بَنَى عَلَيْهَا الظُّهْرَ) ؛ لِأَنَّهُ جُمُعَةٌ مِنْ وَجْهٍ ظُهْرٌ مِنْ وَجْهٍ لِفَوَاتِ بَعْضِ الشَّرَائِطِ فِي حَقِّهِ، فَيُصَلِّي أَرْبَعًا اعْتِبَارًا لِلظُّهْرِ وَيَقْعُدُ لَا مَحَالَةَ عَلَى رَأْسِ الرَّكْعَتَيْنِ اعْتِبَارًا لِلْجُمُعَةِ،وَيَقْرَأُ فِي الْأُخْرَيَيْنِ لِاحْتِمَالِ النَّفْلِيَّةِ. وَلَهُمَا أَنَّهُ مُدْرِكٌ لِلْجُمُعَةِ فِي هَذِهِ الْحَالَةِ حَتَّى يَشْتَرِطَ نِيَّةَ الْجُمُعَةِ، وَهِيَ رَكْعَتَانِ، وَلَا وَجْهَ لِمَا ذُكِرَ؛ لِأَنَّهُمَا مُخْتَلِفَانِ فَلَا يَبْنِي أَحَدَهُمَا عَلَى تَحْرِيمَةِ الْآخَرِ.
(وَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ تَرَكَ النَّاسُ الصَّلَاةَ وَالْكَلَامَ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ خُطْبَتِهِ) قَالَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ -: وَهَذَا عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -، وَقَالَا: لَا بَأْسَ بِالْكَلَامِ إذَا خَرَجَ الْإِمَامُ قَبْلَ أَنْ يَخْطُبَ وَإِذَا نَزَلَ قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ؛ لِأَنَّ الْكَرَاهَةَ لِلْإِخْلَالِ بِفَرْضِ الِاسْتِمَاعِ وَلَا اسْتِمَاعَ هُنَا، بِخِلَافِ الصَّلَاةِ؛ لِأَنَّهَا قَدْ تَمْتَدُّ. وَلِأَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - قَوْلُهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «إذَا خَرَجَ الْإِمَامُ فَلَا صَلَاةَ وَلَا كَلَامَ» مِنْ غَيْرِ فَصْلٍ، وَلِأَنَّ الْكَلَامَ قَدْ يَمْتَدُّ طَبْعًا فَأَشْبَهَ الصَّلَاةَ. (وَإِذَا أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُونَ الْأَذَانَ الْأَوَّلَ تَرَكَ النَّاسُ الْبَيْعَ وَالشِّرَاءَ وَتَوَجَّهُوا إلَى الْجُمُعَةِ) لِقَوْلِهِ تَعَالَى {فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ} [الجمعة: 9] . (وَإِذَا صَعِدَ الْإِمَامُ الْمِنْبَرَ جَلَسَ وَأَذَّنَ الْمُؤَذِّنُونَ بَيْنَ يَدِي الْمِنْبَرِ) بِذَلِكَ جَرَى التَّوَارُثُ وَلَمْ يَكُنْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - إلَّا هَذَا الْأَذَانُ، وَلِهَذَا قِيلَ: هُوَ الْمُعْتَبَرُ فِي وُجُوبِ السَّعْيِ وَحُرْمَةِ الْبَيْعِ، وَالْأَصَحُّ أَنَّ الْمُعْتَبَرَ هُوَ الْأَوَّلُ إذَا كَانَ بَعْدَ الزَّوَالِ لِحُصُولِ الْإِعْلَامِ بِهِ، وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.



No comments:

Post a Comment