Sunday, April 12, 2020

নূরুল ঈযাহ - জুমুআর নামায

(নূরুল ঈযাহ, শাইখ আবুল বারাকাত হাছান ইবন আম্মার বিন আবুল ইখলাস মিসরী কর্তৃক রচিত হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব)

যে ব্যাক্তির মধ্যে (নিম্নোক্ত) সাতটি শর্ত একত্রে পাওয়া যায় তার উপর জুমুআর নামায পড়া ফরযে আইন১৫৮। শর্তগুলো হলো:

১) পূরুষ হওয়া
২) স্বাধীন হওয়া
৩) শহরে অথবা সঠিকতম মতে এমন কোনো স্থানে অবস্থান করা যা শহরের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত,
৪) সুস্থ থাকা,
৫) অত্যাচারীর কবল হতে নিরাপদ থাকা
৬) চোখ সুস্থ থাকা
৭) এবং পা সুস্থ হওয়া।
জুমুআর নামায সঠিক হওয়ার জন্য ছয়টি শর্ত
১) শহর বা শহরতলী১৫৯ হওয়া,
২) সুলতান অথবা তার প্রতিনিধি থাকা,
৩) যুহরের সময় হওয়া। সুতরাং তা যুহরের পূর্বে সঠিক হবে না এবং (জুমুআর নামায আদায় করতে) যুহরের সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে জুমুআ বাতিল হয়ে যাবে।
৪) জুমুআর নামাযের পূর্বে জুমুআর উদ্দেশ্যে জুমুআর সময়ে খুতবা পাঠ করা এবং যাদেরসহ জুমুআ অনুষ্ঠিত হবে তাদের কেউ খুতবা শোনার জন্য উপিস্থিত থাকা, যদি সে একজনও হয়
৫) সর্ব সাধারণের গমনাধিকার থাকা
৬) এবং জামাত। আর তারা হলো (জামাতের সদস্য) ইমাম ব্যতিত তিনজন পুরুষ। তারা কৃতদাস অথবা মুসাফির কিংবা রুগ্ন হলেও চলবে। তবে সাজদা করা পর্যন্ত ইমামের সাথে তাদের অবস্থান করা আবশ্যক। সুতরাং তারা যদি ইমামের সাথে সাজদা করার পর বেরিয়ে যায়, তবে ইমাম একাকীভাবে জুমুআর নামায হিসাবে তা পূর্ণ করবে। পক্ষান্তরে তারা যদি সাজদার পূর্বে চলে যায়, তবে জুমুআ বাতিল হয়ে যাবে। জুমুআর নামায একজন মহিলা অথবা শিশুর সাথে দুইজন পুরুষসহ সঠিক হয় না। কৃতদাস ও রুগ্ন ব্যক্তির জুমুআতে ইমামতি করা জায়িয। শহর এমন স্থানের নাম, যার জন্য মুফতি, আমীর ও এমন কোন কাযী১৬০ নিয়োজিত আছেন যিনি বিধান বাস্তবায়ন করেন ও দন্ড প্রতিষ্ঠা করেন এবং যাহির বর্ণনা মতে উক্ত এলাকার ঘরবাড়িগুলো মিনার ঘরবাড়ির সমসংখ্যক হতে হবে। আর কাযী বা আমীর যদি নিজেই মুফতি হন, তবে এ সংখ্যক অপ্রয়োজনীয় করে দেবে। হজ্জ মৌসুমে সে দেশের শাসনকর্তা অথবা হিজাজের শাসনকর্তার জন্য মিনাতে জুমুআর নামায পড়া জায়িয। খুতবাকে একবার সুবহানাল্লাহ অথবা একবার আলহামদুলিল্লাহ বলার উপর সংক্ষিপ্ত করা যায়। তবে তা করা মাকরূহ।

খুতবার সুন্নত আঠারটি:

১) পবিত্রতা
২) সতর ঢাকা
৩) খুতবা আরম্ভ করার পূর্বে মিম্বরের উপর বসা।
৪) ইমামের সম্মুখে ইকামতের মত আযান দেওয়া
৫) অতঃপর যে শহর শক্তি বলে বিজিত হয়েছে সে শহরে, ইমামের বাম হাতে তরবারী নিয়ে তার উপর ঠেস দিয়ে দাড়ানো
৬) ঐ সকল শহরে তরবারী ব্যতিত (দাড়ানো) যেগুলো সন্ধির মাধ্যমে বিজিত হয়েছে
৭) উপস্থিত মুসল্লিগণকে সম্মুখে রাখা
৮) আল্লাহর এমন প্রশংসা ও গুনগান দ্বারা খুতবা আরম্ভ করা, যা তার জন্য যথাযোগ্য
৯) শাহাদাতের কালিমাদ্বয় (খুতবাভুক্ত করা)
১০) রাসূল (সা) এর উপর দরূদ১৬১ শরীফ পড়া
১১) উপদেশ প্রদান ও পরকালের স্মরণ জাগ্রত করা
১২) কুরআনের কোন আয়াত পাঠ করা,
১৩) দুই খুতবা পাঠ করা
১৪) দুই খুতবার মাঝখানে বসা
১৫) দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে পুনরায় আল্লাহর প্রশংসা, গুনগান ও রাসূল (সা)-এর উপর দরূদ পাঠ করা
১৬) দ্বিতীয় খুতবায় মুসলিম নর-নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা সাথে দুআ করা
১৭) কওম (মুসল্লিগণের) খুতবা শ্রবণ করা১৬২
১৮) উভয় খুতবাকে ‘তিওয়ালে মুফাস্সাল’ এর কোন সূরার সমপরিমান সংক্ষিপ্ত করা। - খুতবা দীর্ঘ করা এবং খুতবার কোন সুন্নত ত্যাগ করা মাকরূহ। বিশুদ্ধতম মতে প্রথম আযানের সাথে সাথে জুমুআর উদ্দেশ্যে দ্রুত গমণ করা ও ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ করা ওয়াজিব। যখন ইমাম মিম্বরে আরোহন করে তখন না কোন নামায বৈধ আছে, না কথাবার্তা। নামায শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালামের উত্তর দেবে না এবং হাঁচির উত্তর দেবে না। খুতবার সময় উপস্থিত ব্যক্তির জন্য খাওয়া, পান করা, অনর্থক কাজ করা ও এদিক সেদিক তাকানো মাকরূহ১৬৩। মিম্বরে স্থির হওয়ার সময় খতীব মুসল্লিহণকে সালাম করবে না।

আযানের পর নামায না পড়া পর্যন্ত শহর হতে বের হওয়া মাকরূহ। যে ব্যক্তির উপর জুমুআ ওয়াজিব নয় সে যদি তা আদায় করে, তবে উক্ত নামায তার সে সময়ের ফরয (যুহর)-এর জন্য যথেষ্ঠ হয়ে যাবে। যে ব্যক্তির কোন ওযর নেই সে যদি জুমুআর পূর্বে যুহরের নামায পড়ে, তবে তা একটি হারাম১৬৪ কাজ বলে গণ্য হবে। অতঃপর সে যদি ইমাম জুমুআর নামাযে রত থাকা অবস্থায় জুমুআর পূর্বে যুহরের নামায পড়ে, তবে তা হারাম হবে। অতঃপর সে যদি জুমুআর দিকে ঐ সময় গমন করে, তবে সে জুমুআর নামায না পেলেও তার যোহর বাতিল হয়ে যাবে। মা’যূর ও বন্দীদের জুমুআর তিন যুহরের নামায জামাতের সাথে পড়া মাকরূহ। যে ব্যক্তি আত্তাহিয়্যাতু অথবা সাজদা সাহুর মধ্যে জুমুআর নাগাল পেল সে তা জুমুআ রূপেই পূর্ণ করবে। আল্লাহই সর্বোত্তম জ্ঞানী।


পাদটীকা: 

১৫৮. যে কাজ সম্পাদন করা প্রত্যেক বয়প্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য বাধ্যতামূলক এবং কাজটি কতিপয় লোকের সম্পন্ন করা দ্বারা সকলের পক্ষ হতে আদায় হয়ে যায় না, ফিকহের পরিভাষায় এরূপ কাজকে ফরয আইন বলে।
১৫৯. ফানা বা শহরতলী বলতে এমন স্থান বোঝানো হয়েছে যা শহরের নানাবিধ প্রয়োজন পূরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। যেমন, মৃতদের দাফন ও ফৌজি ট্রেনিং।
১৬০. যদি কোন স্থানে হাকিম অথবা ইসলামের কাযী উপস্থিত থাকে কিন্ত উদাসীনতার কারণে তারা ইসলামী আইন প্রয়োগ করে না সে ক্ষেত্রে আলিমগণের অভিমত হলো উক্ত স্থানে জুমুআর নামায জায়িয হবে। তাই বলা যায় যে, এখানে বিশেষভাবে কাযী বা হাকিম উদ্দেশ্য নয়; বরং তৎশ্রেণীর কেউ থাকলেও চলবে যারা মোকাদ্দমার ক্ষেত্রে ফয়সালা দিতে পারেন।
১৬১. উক্ত খুতবায় খুলাফায়ে রাশিদুন, হযরত ইবন আব্বাস (রা) ও হযরত হামযা (রা) এর জন্য দুআ করাও সুন্নত।
১৬২. কিন্তু মুসল্লীগণ যদি খুতবা নাও শুনতে পায় তবু খুতবা আদায় হয়ে যায়। (মারাকিউল ফালাহ)
১৬৩. অনুরূপ যেকোন বিষয় যা নামাযের ব্যঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
১৬৪.


আরবী অংশ:


باب الجمعة
1 -[حكمها]
صلاة الجمعة: فرض عين على من اجتمع فيه سبعة شرائط:
1 - الذكورة.
2 - والحرية.
3 - والإقامة بمصر أو فيها هو داخل في حد الإقامة بها في الأصح.
4 - والصحة.
5 - والأمن من ظالم.
6 - وسلامة العينين.
7 - وسلامة الرجلين.
2 -[شروط صحتها]
ويشترط لصحتها ستة أشياء:
1 - المصر أو فناؤه.
2 - والسلطان أو نائبه.
3 - ووقت الظهر فلا تصح قبله وتبطل بخروجه.
4 - والخطبة:
"1 - قبلها. 2 - بقصدها.
3 - في وقتها. 4 - وحضور أحد لسماعها.
5 - ممن تنعقد بهم الجمعة ولو واحدا في الصحيح".
5 - والإذن العام.
6 - والجماعة وهم ثلاثة رجال غير الإمام ولو كانوا:
1 - عبيدا. 2 - أو مسافرين. 3 - أو مرضى.
2 - والشرط: بقاؤهم مع الإمام حتى يسجد فإن نفروا بعد سجوده أتمها وحده جمعة وإن نفروا قبل سجوده بطلت.
3 - ولا تصح بامرأة أو صبي مع رجلين.
4 - وجاز للعبد والمريض: أن يؤم فيها.
3 -[تعريف المصر]
1 - والمصر:
1 - كل موضع. 2 - له مفت. 3 - وأمير.
4 - وقاض ينفذ الأحكام ويقيم الحدود.
5 - وبلغت أبنيته أبنية منى في ظاهر الرواية.
2 - وإذا كان القاضي أو الأمير مفتيا أغنى عن التعداد.
3 - وجازت الجمعة بمنى في الموسم للخليفة أو أمير الحجاز.
5 -[الخطبة]
وصح الاقتصار في الخطبة: على نحو تسبيحة أو تحميدة مع الكراهة.
5 -[سنن الخطبة]
وسنن الخطبة ثمانية عشر شيئا:
1 - الطهارة.
2 - وستر العورة.
3 - والجلوس على المنبر قبل الشروع في الخطبة.
4 - والأذان بين يديه كالإقامة.
5 - ثم قيامه.
6 - والسيف بيساره متكئا عليه في كل بلدة فتحت عنوة وبدونه في بلدة فتحت صلحا.
7 - واستقبال القوم بوجهه.
8 - وبداءته بحمد الله والثناء عليه بما هو أهله.
9 - والشهادتان والصلاة على النبي صلى الله عليه سلم.
10 - والعظة.
11 - والتذكير.
12 - وقراءة آية من القرآن.
13 - وخطبتان.
14 - والجلوس بين الخطبتين.
15 - وإعادة الحمد والثناء والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم في ابتداء الخطبة الثانية.
16 - والدعاء فيها للمؤمنين بالاستغفار لهم.
17 - وأن يسمع القوم الخطبة.
18 - وتخفيف الخطبتين بقدر سورة من طوال المفصل.
ويكره التطويل وترك شيء من السنن.
6 -[تتمة أحكام الجمعة]
1 - ويجب السعي للجمعة وترك البيع بالأذان الأول في الأصح.
2 - وإذا خرج الإمام:
1 - فلا صلاة. 2 - ولا كلام. 3 - ولا يرد سلاما.
4 - ولا يشمت عاطسا حتى يفرغ من صلاته.
3 - وكره لحاضر الخطبة:
1 - الأكل. 2 - والشرب. 3 - والعبث. 4 - والالتفات.
4 - ولا يسلم الخطيب على القوم إذا استوى على المنبر.
5 - وكره الخروج من المصر بعد النداء ما لم يصل.
6 - ومن لا جمعة عليه إن أداها جاز عن فرض الوقت.
7 - ومن لا عذر له لو صلى الظهر قبلها حرم. فإن سعى إليها والإمام فيها بطل ظهره وإن لم يدركها.
8 - وكره للمعذور والمسجون أداء الظهر بجماعة في المصر يومها.
9 - ومن أدركها في التشهد أو سجود السهو أتم جمعة.

No comments:

Post a Comment