Saturday, February 2, 2019

আল-হিদায়া: জানাজা - কাফন পরান


পরিচ্ছেদ: কাফন পরান

সুন্নত এই যে, পুরুষকে ইযার, কামীছ ও চাদর এই তিন কাপড়ে কাফন দিবে। কেননা বর্ণিত রয়েছে যে, নবী (সা) কে সাহূলিয়া’র তৈরী তিনটি সাদা কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল।

তাছাড়া এই হল স্বভাবত তার জীবদ্দশায় সাধারণ পরিধেয় পোশাক। সুতরাং তার মৃত্যুর পরেও একই রকম হবে।

অবশ্য যদি দুই কাপড়ে সীমিত রাখা হয় তবুও তা জাইয আছে। আর এ দুই কাপড় হল ইযার ও চাদর। হল ন্যূনতম কাফন। কেননা আবূ বকর (রা) বলেছেন, আমার এ কাপড় দু’টি ধুয়ে দিও এবং তাতেই আমাকে কাফন দিও।

তাছাড়া এটা হল জীবিতদের ন্যূনতম পোশাক। ইযারের পরিমাণ হল মাথা থেকে পা পর্যন্ত। চাদরও অনুরূপ। আর কামীছ হল গলা থেকে পা পর্যন্ত।

যখন কাফন পেচানোর ইচ্ছা করবে তখন মাইয়েতের বাম দিক থেকে শুরু করবে।এবং সেদিক থেকে তার উপর লেপটিয়ে দিবে। অতপর ডান দিক। যেমন জীবিত অবস্থায় করা হয়। কাফন বিছানোর সুরত এই যে, প্রথমে চাদর বিছাবে, তারপর তার উপর ইযার বিছাবে, তারপর মাইয়েতের কুর্তা পরানো হবে। তারপর তাকে ইযারের উপর রাখা হবে। অতপর প্রথমে বাম থেকে এরপর ডান থেকে ইযার পেচানো হবে। অতপর একই ভাবে চাদর পেচানো হবে। 

যদি কাফন সরে যাওয়ার আশংকা হয় তবে একটি বস্ত্রখন্ড দ্বারা তা বেধে দিবে, যাতে অনাবৃত হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

স্ত্রীলোককে পাচটি কাপড়ে কাফন দিবে। যথা, কোর্তা, ইযার, ওড়না, চাদর ও পট্টি যা দ্বারা তার সিনা বেধে রাখা হবে। কেননা উম্মু আতিয়্যাহ্ (রা) বর্ণিত হাদীছে রয়েছে যে, নবী (সা) তার কন্যাকে গোসলদানকারিণী স্ত্রী লোকদেরকে পাচটি কাপড় দিয়েছিলেন। এবং এ কারণে যে, জীবদ্দশায় সাধারণত এই পাচ কাপড়ে সে বের হয়ে থাকে। সুতরাং মৃত্যুর পরেও অনুরূপ হবে। 

আর এটা হল সুন্নত কাফনের বয়ান। যদি তিনটি কাপড়ের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখে যথা ইযার চাদর ও ওড়না, তবে জাইয হবে। এটা হল (মেয়েদের জন্য) ন্যূনতম কাফন।

এর চেয়ে কম করা মাকরূহ হবে। আর পুরুষদের ক্ষেত্রে এক কাপড়ের উপর সীমিত করা মাকরূহ হবে- জরুরী অবস্থা ছাড়া। কেননা মুস’আব ইব্‌ন উমায়র (রা) যখন শহীদ হলেন, তখন তাকে এক বস্ত্রে কাফন দেওয়া হয়েছিল। এ হল জরুরী অবস্থার কাফন।

স্ত্রীলোককে প্রথমে কুর্তা পরানো হবে। তারপর তার চুলগুলো দুই ভাগ করে তার বুকে কোর্তার উপর রাখতে হবে। তারপর তার উপরে ওড়ানো পরানো হবে। তারপর ইযার দেয়া হবে –চাদরের নীচে।

ইমাম কুদূরী (র) বলেন, কাফনের কাপড়ের মাঝে মাইয়েতকে স্থাপনের পূর্বে বেজোড় সংখ্যায় ধুনী দেওয়া হবে। কেননা নবী করীম (সা) তার কন্যার কাফনকে বেজোড় সংখ্যায় ধুপ দিতে আদেশ করেছিলেন। আর ধুনী দেওয়া হল সুরভিত করা। কাফন থেকে ফারেগ হয়ে মাইয়েতের উপর জানাযার সালাত পড়বে। কেননা এ হল ফরয।

আরবী অংশ:

فَصْلٌ فِي تَكْفِينِهِ : ( السُّنَّةُ أَنْ يُكَفَّنَ الرَّجُلُ فِي ثَلَاثَةِ أَثْوَابٍ إزَارٍ وَقَمِيصٍ وَلِفَافَةٍ ) لِمَا رُوِيَ " { أَنَّهُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ كُفِّنَ فِي ثَلَاثَةِ أَثْوَابٍ بِيضٍ سَحُولِيَّةٍ } " وَلِأَنَّهُ أَكْثَرُ مَا يَلْبَسُهُ عَادَةً فِي حَيَاتِهِ فَكَذَا بَعْدَ مَمَاتِهِ ( فَإِنْ اقْتَصَرُوا عَلَى ثَوْبَيْنِ جَازَ ، وَالثَّوْبَانِ إزَارٌ وَلِفَافَةٌ ) وَهَذَا كَفَنُ الْكِفَايَةِ لِقَوْلِ أَبِي بَكْرٍ : اغْسِلُوا ثَوْبَيَّ هَذَيْنِ وَكَفِّنُونِي فِيهِمَا ، وَلِأَنَّهُ أَدْنَى لِبَاسِ الْأَحْيَاءِ ، وَالْإِزَارُ مِنْ الْقَرْنِ إلَى الْقَدَمِ ، وَاللِّفَافَةُ كَذَلِكَ ، وَالْقَمِيصُ مِنْ أَصْلِ الْعُنُقِ إلَى الْقَدَمِ
(فَإِذَا أَرَادُوا لَفَّ الْكَفَنِ ابْتَدَءُوا بِجَانِبِهِ الْأَيْسَرِ فَلَفُّوهُ عَلَيْهِ ثُمَّ بِالْأَيْمَنِ) كَمَا فِي حَالِ الْحَيَاةِ، وَبَسْطُهُ أَنْ تُبْسَطَ اللِّفَافَةُ أَوَّلًا ثُمَّ يُبْسَطَ عَلَيْهَا الْإِزَارُ ثُمَّ يُقَمَّصَ الْمَيِّتُ وَيُوضَعَ عَلَى الْإِزَارِ ثُمَّ يُعْطَفَ الْإِزَارُ مِنْ قِبَلِ الْيَسَارِ ثُمَّ مِنْ قِبَلِ الْيَمِينِ، ثُمَّ اللِّفَافَةُ كَذَلِكَ (وَإِنْ خَافُوا أَنْ يَنْتَشِرَ الْكَفَنُ عَنْهُ عَقَدُوهُ بِخِرْقَةٍ) صِيَانَةً عَنْ الْكَشْفِ.
(وَتُكَفَّنُ الْمَرْأَةُ فِي خَمْسَةِ أَثْوَابٍ دِرْعٍ وَإِزَارٍ وَخِمَارٍ وَلِفَافَةٍ وَخِرْقَةٍ تُرْبَطُ فَوْقَ ثَدْيَيْهَا) لِحَدِيثِ أُمِّ عَطِيَّةَ «أَنَّ النَّبِيَّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَعْطَى اللَّوَاتِي غَسَّلْنَ
ابْنَتَهُ خَمْسَةَ أَثْوَابٍ» وَلِأَنَّهَا تَخْرُجُ فِيهَا حَالَةَ الْحَيَاةِ فَكَذَا بَعْدَ الْمَمَاتِ.
(ثُمَّ هَذَا بَيَانُ كَفَنِ السُّنَّةِ، وَإِنْ اقْتَصَرُوا عَلَى ثَلَاثَةِ أَثْوَابٍ جَازَ) وَهِيَ ثَوْبَانِ وَخِمَارٌ (وَهُوَ كَفَنُ الْكِفَايَةِ، وَيُكْرَهُ أَقَلُّ مِنْ ذَلِكَ. وَفِي الرَّجُلِ يُكْرَهُ الِاقْتِصَارُ عَلَى ثَوْبٍ وَاحِدٍ إلَّا فِي حَالَةِ الضَّرُورَةِ) لِأَنَّ مُصْعَبَ بْنَ عُمَيْرٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - حِينَ اُسْتُشْهِدَ كُفِّنَ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ وَهَذَا كَفَنُ الضَّرُورَةِ (وَتَلْبَسُ الْمَرْأَةُ الدِّرْعَ أَوَّلًا ثُمَّ يُجْعَلُ شَعْرُهَا ضَفِيرَتَيْنِ عَلَى صَدْرِهَا فَوْقَ الدِّرْعِ، ثُمَّ الْخِمَارُ فَوْقَ ذَلِكَ تَحْتَ الْإِزَارِ، ثُمَّ الْإِزَارُ ثُمَّ اللِّفَافَةُ. قَالَ: وَتُجْمَرُ الْأَكْفَانُ قَبْلَ أَنْ يُدْرَجَ فِيهَا وِتْرًا) «لِأَنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - أَمَرَ بِإِجْمَارِ أَكْفَانِ ابْنَتِهِ وِتْرًا» ، وَالْإِجْمَارُ هُوَ التَّطْيِيبُ، فَإِذَا فَرَغُوا مِنْهُ صَلَّوْا عَلَيْهِ لِأَنَّهَا فَرِيضَةٌ.
(وَأَوْلَى النَّاسِ بِالصَّلَاةِ عَلَى الْمَيِّتِ السُّلْطَانُ إنْ حَضَرَ) لِأَنَّ فِي التَّقَدُّمِ عَلَيْهِ ازْدِرَاءٌ بِهِ (فَإِنْ لَمْ يَحْضُرْ فَالْقَاضِي) لِأَنَّهُ صَاحِبُ وِلَايَةٍ (فَإِنْ لَمْ يَحْضُرْ فَيُسْتَحَبُّ تَقْدِيمُ إمَامِ الْحَيِّ) لِأَنَّهُ رَضِيَهُ فِي حَالِ حَيَاتِهِ. قَالَ (ثُمَّ الْوَلِيُّ وَالْأَوْلِيَاءُ عَلَى التَّرْتِيبِ الْمَذْكُورِ فِي النِّكَاحِ) ،.
(فَإِنْ صَلَّى غَيْرُ الْوَلِيِّ أَوْ السُّلْطَانِ أَعَادَ الْوَلِيُّ) يَعْنِي إنْ شَاءَ لِمَا ذَكَرْنَا أَنَّ الْحَقَّ لِلْأَوْلِيَاءِ (وَإِنْ صَلَّى الْوَلِيُّ لَمْ يَجُزْ
لِأَحَدٍ أَنْ يُصَلِّيَ بَعْدَهُ) لِأَنَّ الْفَرْضَ يَتَأَدَّى بِالْأَوْلَى وَالتَّنَفُّلَ بِهَا غَيْرُ مَشْرُوعٍ، وَلِهَذَا رَأَيْنَا النَّاسَ تَرَكُوا عَنْ آخِرِهِمْ الصَّلَاةَ عَلَى قَبْرِ النَّبِيِّ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - وَهُوَ الْيَوْمَ كَمَا وُضِعَ.
(وَإِنْ دُفِنَ الْمَيِّتُ وَلَمْ يُصَلَّ عَلَيْهِ
صُلِّيَ عَلَى قَبْرِهِ) لِأَنَّ النَّبِيَّ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - صَلَّى عَلَى قَبْرِ امْرَأَةٍ مِنْ الْأَنْصَارِ (وَيُصَلَّى عَلَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَتَفَسَّخَ) وَالْمُعْتَبَرُ فِي مَعْرِفَةِ ذَلِكَ أَكْبَرُ الرَّأْيِ هُوَ الصَّحِيحُ لِاخْتِلَافِ الْحَالِ وَالزَّمَانِ وَالْمَكَانِ.
(وَالصَّلَاةُ أَنْ يُكَبِّرَ تَكْبِيرَةً يَحْمَدُ اللَّهَ عَقِيبَهَا،

No comments:

Post a Comment