প্রশ্ন: মুসাফির কাকে বলে এবং মুসাফিরের সালাতের হুকুম কী?
উৎস: মা লা বুদ্দা মিনহু, কাজী সানাউল্লাহ পানিপথী (রহ), পৃষ্ঠা ৯০-৯৩
উত্তর: যে ব্যক্তি তিন মঞ্জিল তথা ৪৮ মাইল সফরের উদ্দেশ্যে নিজের ঘর থেকে বের হয়ে শহরের সীমানা অতিক্রম করে তাকেই মুসাফির বলে। সে মুসাফির ব্যক্তি চার রাক'আত বিশিষ্ট ফরয নামাযে দুই রাক'আত পড়বে।
আর এক মঞ্জিল হলো ১৬ ক্রোশ তথা ১৬ মাইল। প্রতি ক্রোশের পরিমান হলো চার হাজার কদম। এই হিসাব অনুযায়ী তিন মঞ্জিলের দুরত্ব হলো ৪৮ মাইল।
যদি এমন ব্যক্তি দুই রাক'আতের স্থলে চার রাক'আত আদায় করে এবং দ্বিতীয় রাক'আতে বৈঠক করে তবে নামায আদায় হয়ে যাবে। তবে দুই রাক'আত ফরয ও দুই রাক'আত নফল হবে। আর ফরযকে নফলের সাথে মেলানোর কারণে গুনাহগার হবে। কিন্তু যদি ভুলে এরূপ হয় তাহলে ফরযের সালাম ফেরাতে দেরী হওয়ার কারণে সিজদায়ে সাহু করতে হবে।
আর যদি দুই রাক'আতের পর ইচ্ছা করে না বসে তাহলে সেই নামাযের ফরযিয়্যাত বাতিল হয়ে চার রাক'আতই নফল হয়ে যাবে এবং সিজদায়ে সাহু করতে হবে।
প্রশ্ন: وطن কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: وطن তিন প্রকার। যথা: ১) وطن أصلي ২) وطن اقامة ৩) وطن سكني
وطن أصلي - (মূল নিবাস) যে স্থানে মানুষ জন্মলাভ করে, কিংবা পরিবার পরিজনসহ স্থায়ীভাবে বসবাস করে।
وطن اقامة - যে স্থানে মুসাফির অন্ততঃ ১৫ দিন থাকার নিয়ত করে।
وطن سكني - যে স্থানে মুসাফির ১৫ দিনের কম সময় থাকার নিয়ত করে। وطن سكني কে وطن سفر ও বলা হয়।
প্রশ্ন: মুসাফির যতক্ষন পর্যন্ত وطن أصلي তে প্রবেশ না করে ততক্ষণ পর্যন্ত তার উপর মুসাফিরের হুকুম বাকী থাকবে কি?
উত্তর: মুসাফির যতক্ষন পর্যন্ত وطن أصلي তে প্রবেশ না করে কিংবা কোনো শহর বা গ্রামে ১৫ দিন বা ততোধিক সময় থাকার নিয়ত না করে ততক্ষণ পর্যন্ত তার উপর সফরের হুকুম বাকী থাকবে।
মাঠে অর্থাৎ, জনমানবহীন প্রান্তরে ইকামতের নিয়ত গ্রহণযোগ্য নয়। আর যারা সর্বদাই ময়দানে অবস্থান করে এবং অন্যত্র কোথাও গেলেও অল্প দিনের বেশি থাকে না, তারা সর্বদাই মুকীমের মতো নামায পড়বে। তবে যখন এক সংগে ৪৮ মাইল সফরের ইচ্ছা করে তখন সফরের নামায আদায় করবে।
বিঃদ্রঃ মুসাফির যদি ওয়াক্তিয়া নামাযে মুকীমের পিছনে ইকতিদা করে তাহলে সে চার রাক'আত বিশিষ্ট নামাযে চার রাক'আতই আদায় করবে। ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার পর অর্থাৎ, কাযা নামাযে মুকীমের পেছনে মুসাফিরের ইকতিদা সহীহ নয়। তবে মুকীমের জন্য ওয়াক্তিয়া ও কাযা উভয় নামাযেই মুসাফিরের ইকতিদা সহীহ আছে। তবে মুসাফির ইমাম দুই রাক'আত আদায় করে সালাম ফিরাবে এবং মুকীম মুক্তাদী উঠে আরো দুই রাক'আত মিলিয়ে চার রাক'আত পূর্ণ করবে।
প্রশ্ন: কারো কারো যদি দুটি وطن أصلي থাকে তাহলে সে উভয় বাড়ীতে মুকীম থাকবে? না কি মুসাফিরও হবে?
উত্তর: কারো কারো যদি দুটি وطن أصلي থাকে তাহলে দ্বিতীয় وطن أصلي দ্বারা প্রথম وطن أصلي বাতিল হয়ে যায়। যেমন: কারো জন্মস্থান কুমিল্লা, পরে টঙ্গী বাড়ি করে পরিবার নিয়ে থাকে, দেশের সাথে সম্পর্ক খতম হয়ে যায়। আর যদি টঙ্গী থেকে দেশের বাড়ী ৪৮ মাইল দূরে হয় তাহলে সেই ব্যক্তি দেশের বাড়ী যাওয়ার পর মুসাফির বলে গণ্য হবে।
وطن سفر এবং وطن اقامة দ্বারা وطن أصلي বাতিল হয় না। প্রথম وطن اقامة টি দ্বিতীয় وطن اقامة এবং وطن أصلي ও وطن سفر এই তিনটি দ্বারা বাতিল হয়ে যায়।
প্রশ্ন: মুকীম অবস্থায় কাযা নামায মুসাফির অবস্থায় আদায় করলে কত রাক'আত আদায় করবে?
উত্তর: মুকীম অবস্থায় কাযা নামায মুসাফির অবস্থায় আদায় করলে চার রাক'আতই আদায় করবে, আর মুসাফির অবস্থায় কাযা নামায মুকীম অবস্থায় আদায় করলে দুই রাক'আতই আদায় করবে। মোট কথা হলো- যে অবস্থায় নামায কাযা হয়েছে ঐ অবস্থাই ধর্তব্য হবে।
প্রশ্ন: কোনো গুনাহ করার উদ্দেশ্যে যদি ৪৮ মাইল দূরে যায় তাহলে তাদের জন্য কসরের নামায পড়া জায়েয হবে কি?
উত্তর: কোনো গুনাহ করার উদ্দেশ্যে যদি ৪৮ মাইল দূরে যায় তাহলে ইমাম শাফেঈ, মালিক ও আহমদ (রহ)-এর মতে এজাতীয় মুসাফিরের জন্য কসর করা জায়েয হবে না। তবে ইমাম আবু হানীফা (রহ)-এর মতে এ জাতীয় মুসাফিরের জন্য রোযা না জায়েয এবং নামায কসর করা ওয়াজিব।
প্রশ্ন: ইকামত ও সফরের নিয়তের ক্ষেত্রে আমীর ও মা'মূর হতে কার নিয়ত গ্রহণযোগ্য?
উত্তর: ইকামত ও সফরের নিয়তের ক্ষেত্রে মাতবূ' বা অধিনায়ক তথা আমীর, মুনিব এবং স্বামীর নিয়ত গ্রহণযোগ্য হবে না। যেমন, সৈন্য, গোলাম, স্ত্রী প্রমুখ।
উৎস: মা লা বুদ্দা মিনহু, কাজী সানাউল্লাহ পানিপথী (রহ), পৃষ্ঠা ৯০-৯৩
No comments:
Post a Comment