(নূরুল ঈযাহ, শাইখ আবুল বারাকাত হাছান ইবন আম্মার বিন আবুল ইখলাস মিসরী কর্তৃক রচিত হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব)
মুসাফিরের নামায প্রসঙ্গ (باب صلاة المسافر)
সল্পতম সফর (১২৫), যা দ্বারা আহকাম বদলে (১২৬) যায়, তা হলো বৎসরের ক্ষুদ্রতম দিনসমূহের মধ্যে মধ্যম ধরনের গতির সাথে বিশ্রামসহ তিনদিনের পথ অতিক্রম করা। মধ্যম গতি হলো সমতল ভুমিতে উটের গমন ও পায়ে হাঁটা এবং পাহাড়ে ঐ বস্তুর গতি যা তার উপযোগী এবং সমুদ্রে বাতাসের অবস্থা স্বাভাবিক হওয়া। সুতরাং যে লোক (এরূপ) সফরের নিয়ত করবে তার জন্য চার রাক’আত বিশিষ্ট ফরয নামায হ্রাসপ্রাপ্ত হবে, যদিও তার সফরের কারণে সে গুনাহগার হয়ে থাকে- যখন সে তার নিজ এলাকার গৃহসমূহ পার হয়ে যাবে এবং ঐ এলাকার সাথে মিলিত (প্রয়োজনীয়) ফিনা বা চত্বরও অতিক্রম করবে। ফিনা যদি এক শস্য ক্ষেত অথবা এক গালওয়াহ (তিন’শ থেকে চার’শ কদমের ভেতরকে গালওয়া বলে) ব্যবধানে হয়, তবে তা অতিক্রম করা শর্ত নয়। শহরের প্রয়োজনে প্রস্তুতকৃত স্থানকে ফিনা বলে। যেমন অশ্ব চালনা ও মৃতকে দাফন করার স্থান। সফরের নিয়ত সঠিক হওয়ার জন্য তিনটি জিনিস শর্ত, (১) হুকুমের ব্যাপারে স্বাধীন ব্যক্তি কসর করবে না, যে তার নিজ এলাকার আবাদী অতিক্রম করে নাই, অথবা অতিক্রম করেছে কিন্তু সে ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক অথবা সে এমন কারো অধীন ছিল যে, তার মনিব সফরের নিয়ত করে নাই- যেম স্ত্রীলোক তার স্বামীর সাথে, কৃতদাস তার মালিকের সাথে এবং সৈনিক তার অধিনায়কের সাথে, অথবা সে তিনদিনের কম নিয়ত করেছিল (১২৭)। বিশুদ্ধতম মতে ইকামত ও সফরের বেলায় মূল ব্যক্তির নিয়তই (১২৮) গ্রহণযোগ্য- অধীনস্থের নয়, যদি অনসরণীয় (মূল) ব্যক্তির নিয়ত সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া যায়। (সফরের অবস্থায়) আমাদের (হানাফীদের) মতে কসর করা হলো আযীমত (১২৯)। সুতরাং (মুসাফির) যদি চার রাক’আত বিশিষ্ট নামায পূর্ণ করে এবং প্রথম বৈঠকে বসে তবে তার নামায কারাহাতসহ হয়ে যাবে, নচেৎ (প্রথম বৈঠকে না বসলে) সঠিক হবে না। কিন্তু সে যখন তৃতীয় রাক’আতের জন্য দাঁড়ানোর ইচ্ছা করল তখন যদি ইকামতের নিয়ত করে থাকে, (তবে চার রাক’আত পড়া সঠিক হবে)। মুসাফির ব্যক্তি কসর করতে থাকবে যতক্ষন না সে নিজ শহরে প্রবেশ করে অথবা কোনো শহরে কিংবা কোনো জনপদে অর্ধ মাস অবস্থানের নিয়ত করে। যদি এর কম নিয়ত করে থাকে অথবা কোনো নিয়তই না করে এবং এভাবে বছরের পর বছর সেখানে থেকে যায় তবে কসর করতে থাকবে। এমন দুটি শহরে ইকামত করার নিয়ত সঠিক হবে না (১৩০) যে দুটির কোনো একটিকে রাত্রি যাপনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়নি। বেদুঈন ব্যতিত অন্য কারো মরুভুমিতে ইকামতের নিয়্যত করা এবং দারুল হারবে ইসলামী বাহিনীর ও দারুল ইসলামে বিদ্রোহী অবরোধের সময় ইসলামী বাহিনীর ইকামতের নিয়ত করা গ্রহণযোগ্য নয় (১৩১)। যদি কোনো মুসাফির ওয়াক্তদিয়া নামাযে মুকীম ব্যক্তির ইকতিদা করে তবে তার ইকতিদা সঠিক হবে (১৩২) এবং সে চার রাক’আত পূর্ণ করবে এবং ওয়াক্তের পরে সঠিক হবে না। এর বিপরীতে (অর্থাৎ ইমাম মুসাফির হলে) উভয়ের মধ্যে ইকতিদা করা সঠিক। (মুসাফির) ইমামের জন্য (সালাম ফেরানোর পর) এ কথা বলা মুস্তাহাব যে, তোমরা তোমাদের নামায পূর্ণ করো। কেননা আমি মুসাফির। এটাও সঙ্গত যে, নামায আরম্ভ হবার পূর্বে সে এ কথা বলে দেবে। বিশুদ্ধতম মতে মুকীম তার মুসাফির ইমাম ফারিগ হওয়ার পর যা আদায় করবে তাতে কিরাআত করবে না। সফর ও হযরের কাযা নামায (যথাক্রমে) দুই রাক’আত ও চার রাক’আত করে পড়বে। দুই (রাক’আত কি চার রাক’আত ফরয হলো) সে ব্যাপারে নামাযের শেষ সময়টি গ্রহণযোগ্য হবে। (অর্থাৎ শেষ সময়ে মুসাফির হলে দুই রাক’আত, নচেৎ চার রাক’আত কাযা করতে হবে)। ওয়াতানে আসলী কেবল ওয়াতানে আসলী দ্বারা বাতিল হয় এবং ওয়াতানে ইকামাত ওয়াতানে ইকামাত এবং সফর ও ওয়াতানে আসলী দ্বারা বাতিল হয়ে যায়। ওয়াতানে আসলী ঐ জায়গা যেখানে জন্মগ্রহণ করেছে, অথবা বিবাহ করেছে অথবা বিবাহ করে নাই, কিন্ত তাতে এমনভাবে বসবাস করার সংকল্প করেছে যে, সেখান হতে স্থানান্তরিত হবে না। ওয়াতানে ইকামত ঐ স্থানকে বলে যাতে অর্ধমাস বা তারও অধিক সময় অবস্থান করার নিয়ত করা হয়েছে। মুহাক্কিকগণ ওয়াতানে ‘সুকনা’-কে গ্রহণযোগ্য মনে করেননি। ওয়াতানে সুকনা ঐ স্থানকে বলা হয়, যেখানে অর্ধমাসের কম সময় অবস্থান করার নিয়ত করা হয়েছে।
পাদটীকা:
মুসাফিরের নামায প্রসঙ্গ (باب صلاة المسافر)
সল্পতম সফর (১২৫), যা দ্বারা আহকাম বদলে (১২৬) যায়, তা হলো বৎসরের ক্ষুদ্রতম দিনসমূহের মধ্যে মধ্যম ধরনের গতির সাথে বিশ্রামসহ তিনদিনের পথ অতিক্রম করা। মধ্যম গতি হলো সমতল ভুমিতে উটের গমন ও পায়ে হাঁটা এবং পাহাড়ে ঐ বস্তুর গতি যা তার উপযোগী এবং সমুদ্রে বাতাসের অবস্থা স্বাভাবিক হওয়া। সুতরাং যে লোক (এরূপ) সফরের নিয়ত করবে তার জন্য চার রাক’আত বিশিষ্ট ফরয নামায হ্রাসপ্রাপ্ত হবে, যদিও তার সফরের কারণে সে গুনাহগার হয়ে থাকে- যখন সে তার নিজ এলাকার গৃহসমূহ পার হয়ে যাবে এবং ঐ এলাকার সাথে মিলিত (প্রয়োজনীয়) ফিনা বা চত্বরও অতিক্রম করবে। ফিনা যদি এক শস্য ক্ষেত অথবা এক গালওয়াহ (তিন’শ থেকে চার’শ কদমের ভেতরকে গালওয়া বলে) ব্যবধানে হয়, তবে তা অতিক্রম করা শর্ত নয়। শহরের প্রয়োজনে প্রস্তুতকৃত স্থানকে ফিনা বলে। যেমন অশ্ব চালনা ও মৃতকে দাফন করার স্থান। সফরের নিয়ত সঠিক হওয়ার জন্য তিনটি জিনিস শর্ত, (১) হুকুমের ব্যাপারে স্বাধীন ব্যক্তি কসর করবে না, যে তার নিজ এলাকার আবাদী অতিক্রম করে নাই, অথবা অতিক্রম করেছে কিন্তু সে ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক অথবা সে এমন কারো অধীন ছিল যে, তার মনিব সফরের নিয়ত করে নাই- যেম স্ত্রীলোক তার স্বামীর সাথে, কৃতদাস তার মালিকের সাথে এবং সৈনিক তার অধিনায়কের সাথে, অথবা সে তিনদিনের কম নিয়ত করেছিল (১২৭)। বিশুদ্ধতম মতে ইকামত ও সফরের বেলায় মূল ব্যক্তির নিয়তই (১২৮) গ্রহণযোগ্য- অধীনস্থের নয়, যদি অনসরণীয় (মূল) ব্যক্তির নিয়ত সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া যায়। (সফরের অবস্থায়) আমাদের (হানাফীদের) মতে কসর করা হলো আযীমত (১২৯)। সুতরাং (মুসাফির) যদি চার রাক’আত বিশিষ্ট নামায পূর্ণ করে এবং প্রথম বৈঠকে বসে তবে তার নামায কারাহাতসহ হয়ে যাবে, নচেৎ (প্রথম বৈঠকে না বসলে) সঠিক হবে না। কিন্তু সে যখন তৃতীয় রাক’আতের জন্য দাঁড়ানোর ইচ্ছা করল তখন যদি ইকামতের নিয়ত করে থাকে, (তবে চার রাক’আত পড়া সঠিক হবে)। মুসাফির ব্যক্তি কসর করতে থাকবে যতক্ষন না সে নিজ শহরে প্রবেশ করে অথবা কোনো শহরে কিংবা কোনো জনপদে অর্ধ মাস অবস্থানের নিয়ত করে। যদি এর কম নিয়ত করে থাকে অথবা কোনো নিয়তই না করে এবং এভাবে বছরের পর বছর সেখানে থেকে যায় তবে কসর করতে থাকবে। এমন দুটি শহরে ইকামত করার নিয়ত সঠিক হবে না (১৩০) যে দুটির কোনো একটিকে রাত্রি যাপনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়নি। বেদুঈন ব্যতিত অন্য কারো মরুভুমিতে ইকামতের নিয়্যত করা এবং দারুল হারবে ইসলামী বাহিনীর ও দারুল ইসলামে বিদ্রোহী অবরোধের সময় ইসলামী বাহিনীর ইকামতের নিয়ত করা গ্রহণযোগ্য নয় (১৩১)। যদি কোনো মুসাফির ওয়াক্তদিয়া নামাযে মুকীম ব্যক্তির ইকতিদা করে তবে তার ইকতিদা সঠিক হবে (১৩২) এবং সে চার রাক’আত পূর্ণ করবে এবং ওয়াক্তের পরে সঠিক হবে না। এর বিপরীতে (অর্থাৎ ইমাম মুসাফির হলে) উভয়ের মধ্যে ইকতিদা করা সঠিক। (মুসাফির) ইমামের জন্য (সালাম ফেরানোর পর) এ কথা বলা মুস্তাহাব যে, তোমরা তোমাদের নামায পূর্ণ করো। কেননা আমি মুসাফির। এটাও সঙ্গত যে, নামায আরম্ভ হবার পূর্বে সে এ কথা বলে দেবে। বিশুদ্ধতম মতে মুকীম তার মুসাফির ইমাম ফারিগ হওয়ার পর যা আদায় করবে তাতে কিরাআত করবে না। সফর ও হযরের কাযা নামায (যথাক্রমে) দুই রাক’আত ও চার রাক’আত করে পড়বে। দুই (রাক’আত কি চার রাক’আত ফরয হলো) সে ব্যাপারে নামাযের শেষ সময়টি গ্রহণযোগ্য হবে। (অর্থাৎ শেষ সময়ে মুসাফির হলে দুই রাক’আত, নচেৎ চার রাক’আত কাযা করতে হবে)। ওয়াতানে আসলী কেবল ওয়াতানে আসলী দ্বারা বাতিল হয় এবং ওয়াতানে ইকামাত ওয়াতানে ইকামাত এবং সফর ও ওয়াতানে আসলী দ্বারা বাতিল হয়ে যায়। ওয়াতানে আসলী ঐ জায়গা যেখানে জন্মগ্রহণ করেছে, অথবা বিবাহ করেছে অথবা বিবাহ করে নাই, কিন্ত তাতে এমনভাবে বসবাস করার সংকল্প করেছে যে, সেখান হতে স্থানান্তরিত হবে না। ওয়াতানে ইকামত ঐ স্থানকে বলে যাতে অর্ধমাস বা তারও অধিক সময় অবস্থান করার নিয়ত করা হয়েছে। মুহাক্কিকগণ ওয়াতানে ‘সুকনা’-কে গ্রহণযোগ্য মনে করেননি। ওয়াতানে সুকনা ঐ স্থানকে বলা হয়, যেখানে অর্ধমাসের কম সময় অবস্থান করার নিয়ত করা হয়েছে।
পাদটীকা:
১২৫. সফর শব্দের আভিধানিক অর্থ দুরত্ব অতিক্রম করা। শরীআতের পরিভাষায় একটি নির্দিষ্ট পরিমান দুরত্ব অতিক্রম করাকে সফর বলে।
১২৬. যেমন চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায চার রাকাতের পরিবর্তে দু রাকাত পড়া, উক্ত সময়ে রমযানের রোযা না রাখা জায়িয হওয়া এবং মোজার উপর মাসাহ’র মেয়াদ তিনদিন পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া।
১২৭. এরূপ স্ত্রীলোক এবং দাস ও সিপাহী সফরের নিয়ত করলেও তারা কসর করবে না, যদি তাদের স্বামী, মনিব অথবা হুকুমকর্তা সফরের নিয়ত না করে থাকে। যদি তারা সফরের নিয়ত করে তবে তারা মুসাফির হবে নচেৎ হবে না।
১২৮. সুতরাং মূল ব্যক্তি যদি কিয়ামের নিয়ত করে এবং অধীনস্থ ব্যক্তি তা জানতে পারে সে কসরই করতে থাকবে। মোদ্দাকথা, মূল ব্যক্তির ইচ্ছার খোঁজ খবর রাখা অধীনস্থ ব্যক্তির কর্তব্য। এতদসত্ত্বেও সে যদি তার কর্তার ইচ্ছার সন্ধান না পায় এবং অজ্ঞতার দরুন তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কসর করতে থাকে তা হলে তার নামায সঠিক হবে।
১২৯. অর্থাৎ, এটাই শরীআতের মূল বিধান। বিশেষ প্রয়োজনে সুবিধা বা ছাড় প্রদানের জন্য চার রাক’আত বিশিষ্ট নামাযকে দু রাক’আত করা হয়েছে এমন নয়। তাই মুসাফিরের জন্য দুই রাক’আত পরবর্তী বৈঠকটি আখেরী বৈঠক হিসেবে ফরয। এটি বাদ গেলে নামায বিশুদ্ধ হবে না।
১৩০. এরূপ স্থানে পনের দিন বা তার অধিককাল পর্যন্ত অবস্থান করার নিয়ত দ্বারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মুকীম বলে গণ্য হবে না। ফলে এরূপ নিয়ত করা সত্ত্বেও উক্ত ব্যক্তিকে কসর করতে হবে। অনুরূপ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে নিয়োজিত ব্যক্তি যারা সর্বদা দুর দুরান্তে ভ্রমণ করে এবং হেডকোয়ার্টারেও পনর দিন অবস্থান করার সুযোগ পায় না তারা সব সময় কসর করবে।
১৩১. সুতরাং এ অবস্থায় তারা কসর করবে।
১৩২. যদি শেষ বৈঠকেও শরীক হয় তবু মুসাফির ব্যক্তির উপর চার রাক’আত পূর্ণ করা আবশ্যক হবে।
আরবী অংশ:
باب صلاة المسافر السفر الشرعي أقل سفر تتغير به
الأحكام مسيرة ثلاثة أيام من أقصر أيام السنة بسير وسط مع الاستراحات والوسط سير
الإبل ومشي الأقدام في البر وفي الجبل بما يناسبه وفي البحر اعتدال الريح قصر
الصلاة فيقصر الفرض الرباعي من نوى السفر ولو كان عاصيا بسفره إذا جاوز بيوت مقامه
وجاوز أيضا ما اتصل به من فنائه وإن انفصل الفناء بمزرعة أو قدر غلوة لا يشترط
مجاوزته الفناء والفناء المكان المعد لمصالح البلد كركض الدواب ودفن الموتى شروط
السفر ويشترط لصحة نية السفر ثلاثة أشياء الاستقلال بالحكم والبلوغ وعدم نقصان مدة
السفر عن ثلاثة أيام
فلا يقصر من لم يجاوز عمران مقامه أو جاوز وكان صبيا
أو تابعا لم ينو متبوعة السفر كالمرأة مع زوجها والعبد مع مولاه والجندي مع أميره
أو ناويا دون الثلاثة وتعتبر نية الإقامة والسفر من الأصل دون التبع إن علم نية
المتبوع في الأصح حكم القصر والقصر عزيمة عندنا فإذا أتم الرباعية وقعد القعود
الأول صحت صلاته مع الكراهة وإلا فلا تصح إلا إذا نوى الإقامة لما قام للثالثة مدة
القصر ونية الإقامة ولا يزال يقصر حتى يدخل مصره أو ينوي إقامته نصف شهر ببلد أو
قرية وقصر إن نوى أقل منه أو لم ينو وبقي سنين ولا تصح نية الإقامة ببلدتين لم
يعين المبيت بإحداهما ولا في مفازة لغير أهل الأخبية ولا لعسكرنا بدار الحرب ولا
بدارنا في محاصرة أهل البغي اقتداء المسافر بمقيم وعكسه وإن اقتدى مسافر بمقيم في
الوقت صح وأتمها أربعا وبعده لا يصح وبعكسه صح فيهما وندب للإمام أن يقول أتموا
صلاتكم فإني مسافر وينبغي أن يقول ذلك قبل شروعه في الصلاة ولا يقرأ المقيم فيما
يتمه بعد فراغ إمامه المسافر في الأصح قضاء الفوائت وفائته السفر والحضر تقضى
ركعتين وأربعا والمعتبر فيه آخر الوقت الوطن واقسامه
وبطلانه ويبطل الوطن الأصلي بمثله فقط ويبطل وطن الإقامة بمثله و بالسفر وبالأصلي
والوطن الأصلي هو الذي ولد فيه أو تزوج أو لم يتزوج وقصد التعيش لا الارتحال عنه
ووطن الإقامة موضع نوى الإقامة فيه نصف شهر فما فوقه ولم يعتبر المحققون وطن
السكنى وهو ما ينوي الإقامة فيه دون نصف شهر
No comments:
Post a Comment