Wednesday, October 26, 2016

আল-হিদায়া - ২য় অধ্যায় - ইমামত

(আল-হিদায়া, শাইখুল ইসলাম বুরহান উদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবন আবু বকর আল-ফারগানী আল-মারগীনানী (রহ) কর্তৃক রচিত হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব)

(আল-হিদায়া - ২য় অধ্যায়, ৫ম অনুচ্ছেদ, ইফাবা পৃষ্ঠা ৯৫ - ইমামত)

ইমামত

জামা’আত সুন্নাতে মুআক্কাদা। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- জামা’আত হিদায়াতের পরিচায়ক সুন্নত, মুনাফিক ছাড়া কেউ তা থেকে পিছিয়ে থাকে না।

ইমামতির জন্য সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তি হলেন যিনি (সুন্নত) সালাতের মাসাইল সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞানী। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত, যিনি কিরাত সর্বোত্তম। কেননা সালাতে কিরাত অপরিহার্য। আর ইলমের প্রয়োজন হয় কোন ঘটনা দেখা দিলে।

এর উত্তরে আমরা বলি, একটি রুকন আদায়ে আমরা কিরাতের মুখাপেক্ষী আর সকল রুকন আদায়ে আমরা ইলমের মুখাপেক্ষী।

ইলমের (ক্ষেত্রে উপস্থিত) সকলে সমান হলে যিনি কিরাতে সর্বোত্তম। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- আল্লাহর কিতাব পাঠে সর্বোত্তম ব্যক্তি কাওমের ইমাম হবে। যদি এতে সকলে বরাবর হয় তাহলে সুন্নত সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি (ইমাম হবে)।

উল্লেখ্য যে, সে যুগে কিতাবুল্লাহ্ পাঠে উত্তম ব্যক্তিই সর্বাধিক জ্ঞানীও হতেন। কেননা, তাঁরা আহকাম ও মাসায়েলসহ কুরআন শিক্ষা করতেন। তাই হাদীছে কিতাবুল্লাহ্ পাঠে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের যুগে অবস্থা সেরূপ নয়, তাই আমরা (দীনী ইলমে) সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।

এ ক্ষেত্রে সকলে সমান হলে (তিনিই ইমাম হবেন) যিনি অধিকতর পরহেযগার (১)। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি একজন পরহেযগার আলিমের পেছনে সালাত আদায় করলো, সে যেন একজন নবীর পেছনে সালাত আদায় করলো।

এ ক্ষেত্রে সকলে সমান হলে যিনি অধিকতর বয়োজ্যেষ্ঠ। কেননা নবী (সা.) আবূ মুলায়কার পুত্রদ্বয়কে বলেছিলেন- তোমাদের দু’জনের মধ্যে যে বয়োজ্যেষ্ঠ সে-ই ইমামতি করে। তাছাড়া বয়োজ্যেষ্ঠকে আগে বাড়ালে জামা’আতের সমাগম বর্ধিত হবে।

দাসকে (ইমামতির জন্য) আগে বাড়ানো মাকরূহ। কেননা শিক্ষালাভের জন্য (সাধারণতঃ) সে অবসর পায় না। এবং বেদুঈন (ও গ্রাম্য) কে। কেননা, মূর্খতাই তাদের মাঝে প্রবল এবং ফাসিককে। কেননা, সে দীনী বিষয়ে যত্নবান নয়। এবং অন্ধকে কেননা, সে পূর্ণরূপে নাপাকি থেকে বেচে থাকতে পারে না।

আর জারজ সন্তানকে। কেননা, তার পিতা (ও অভিভাবক)নেই, যে তার শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা করবে। সুতরাং অজ্ঞতাই তার উপর প্রভাবিত হয়।

তাছাড়া এদের আগে বাড়ানোর কারণে জনগণের মধ্যে ঘৃণা সৃষ্টি হয় (২)। সুতরাং তা মাকরূহ। তবে যদি তারা আগে বেড়ে যায় তাহলে সালাত দুরুস্ত হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- তোমরা সালাত আদায় কর যে কোন নেককার ও বদকারের পিছনে। 

ইমাম মুক্তাদীদের নিয়ে সালাত আদায় করতে দীর্ঘ করবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন-

যে ব্যক্তি কোন জামা’আতের ইমামতি করে, সে যেন তাদের দুর্বলতম ব্যক্তির অবস্থা অনুযায়ী সালাত আদায় করে। কেননা, তাদের মধ্যে রোগী, বৃদ্ধ ও প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তি থাকতে পারে।

স্ত্রী লোকদের এককভাবে জামা’আত করা মাকরূহ। কেননা, তা একটি নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে মুক্ত নয়। আর সেটা হলো কাতারের মাঝে ইমামের দাঁড়ানো। সুতরাং মাকরূহ হবে, যেমন উলঙ্গদের জামা’আতের হুকুম।

তবে যদি তারা তা করে তাহলে ইমাম তাদের মাঝে দাড়াবে। কেননা, ‘আইশা (রা.) অনুরূপ করেছেন।আর তার এই জামাআত অনুষ্ঠান ইসলামের প্রাথমিক অবস্থার সাথে সম্পর্কিত।

তাছাড়া এজন্য যে, আগে বেড়ে দাড়ানোতে অতিরিক্ত প্রকাশ ঘটে।

যে ব্যক্তি এক মুকতাদী নিয়ে সালাত আদায় করবে, সে তাকে নিজের ডানপাশে দাঁড় করাবে। কেননা, ইবন ‘আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদীছে আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) তাকেঁ মুক্তাদী করে সালাত আদায় করেছেন এবং তাকে নিজের ডান পাশে দাড় করিয়েছেন।

আর সে ইমামের পিছনে দাড়াবে না

ইমাম মুহাম্মদ (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, মু্ক্তাদী তার পায়ের আংগুল ইমামের গোড়ালি বরাবর রাখবে। তবে প্রথম মতই যাহিরে রিওয়ায়াতের।

অবশ্য যদি ইমামের পিছনে বা বামে দাড়িয়ে সালাত আদায় করে তাহলে জাইয হবে। 

তবে সুন্নাতের বিরোধিতার কারণে সে গুনাহগার হবে।

আর যদি দুই ব্যক্তির ইমামতি করেন, তাহলে তিনি তাদের আগে দাড়াবেন

আর ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত যে, উভয়ের মধ্যখানে দাড়াবে। আর আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ (রা.) এরূপ করেছেন বলে বর্ণিত আছে।

আমাদের দলীল এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) আনাস (রা.) ও তার ইয়াতীম ভাইকে নিয়ে সালাত আদায়ের সময় উভয়ের আগে দাড়িয়েছিলেন।

সুতরাং এ হাদীছের দ্বারা উত্তম প্রমাণিত হয়, আর সাহাবীর আমল দ্বারা এরূপ দাড়ানো মুবাহ প্রমাণিত হয়।

পুরুষদের জন্য কোন নারী বা নাবালেগের পিছনে ইকতিদা করা জাইয নয়। স্ত্রী লোকের পিছনে জাইয না হওয়ার কারণ এই যে, নবী (সা.) বলেছেন- আল্লাহ্ যেমন তাদের পিছনে রেখেছেন, তেমনি তোমরাও তাদের পিছনে রাখ।

সুতরাং তাদের (ইমামতির জন্য) আগে বাড়ানো জাইয নয়। আর নাবালেগের পিছনে জাইয না হওয়ার কারণ এই যে, সে নফল আদায়কারী। সুতরাং তার পিছনে ফরয আদায়কারীর ইকতিদা জাইয হবে না। তবে তারাবীহ ও ‘নিয়মিত’ সুন্নাত (৩) এর ক্ষেত্রে বালখ এর মাশায়েখগণ জাইয রেখেছেন আর  (৪) আমাদের মাশায়েখগণ তা অনুমোদন করেননি।

আবার কারো কারো তাহকীক অনুযায়ী সাধারণ নফলের ক্ষেত্রে ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (সা.) এর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

তবে গ্রহণযোগ্য মত এই যে, কোন সালাতেই তাদের (ইমামতি) জাইয নয়। কেননা, নাবালেগের নফল বালেগের নফলের চেয়ে নিম্নমানের। কেননা, ইজমায়ী মতানুসারে সালাত ভংগ করার কারণে নাবালেগের উপর কাযা ধর্তব্য। আর দুর্বলের উপর প্রবলের ভিত্তি হতে পারে না। ‘ধারণা-ভিত্তিক’ সালাত (৫) এর ব্যতিক্রম। কেননা, (ভঙ্গ হলে কাযা করতে হবে কিনা) এতে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং উদ্ভূত ধারণা (মুকতাদীর বেলায়) অস্তিত্বহীন বলে বিবেচিত। অবশ্য নাবালেগের পিছনে নাবালেগের ইকতিদার হুকুম ভিন্ন (অর্থাত্ জাইয) কেননা, উভয়ের সালাত সমমানের।

প্রথমে পুরুষে কাতার করবে। তারপর নাবালেগ ও তারপর স্ত্রী লোকেরা। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- তোমাদের প্রাপ্ত-বয়স্ক এবং জ্ঞানবানরা যেন আমার কাছাকাছি থাকে। আর যেহেতু নারী-পুরুষ এক সমানে দাড়ানো সালাত ভংগকারী; সুতরাং তাদের পশ্চাদবর্তিণী রাখা হবে।

যদি স্ত্রীলোক পুরুষের পার্শে দাড়ায় আর উভয়ে একই সালাতে শরীক হয়, তাহলে পুরুষের সালাত ফাসিদ হয়ে যাবে, যদি ইমাম স্ত্রী লোকের ইমামতির নিয়্যত করে থাকেন। (৬)

আর সাধারণ কিয়াসের চাহিদা হল সালাত ফাসিদ না হওয়া। এবং এ-ই হল ইমাম শাফিঈ (র.) এর মত। স্ত্রীলোকটির সালাতের উপর কিয়াস অনুযায়ী; যেহেতু তার সালাত ফাসিদ হয় না।

আর সূক্ষ কিয়াসের কারণ হলো আমাদের বর্ণিত হাদীছ, মশহূর শ্রেণীভূক্ত।

আর সেই হাদীছে পুরুষকেই সম্বোধন করা হয়েছে, স্ত্রীলোককে নয়। সুতরাং পুরুষই হচ্ছে স্থানগত ফরয বর্জনকারী। সুতরাং তার সালাতই ফাসিদ হবে, স্ত্রী লোকটির সালাত নয়। যেমন মুক্তাদী (এর সালাত ফাসিদ হয়) ইমামের আগে দাড়ালে।

আর যদি ইমাম স্ত্রীলোকের ইমামতির নিয়্যত না করে থাকেন, তাহলে পুরুষটির সালাতের ক্ষতি হবে না; স্ত্রীলোকটির সালাত দুরস্ত হবে না।

কেননা আমাদের মতে ইমামের নিয়্যত ছাড়া সে সালাতে (৭) শামিল হওয়া সাব্যস্ত হবে না। ইমাম যুফার (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন।

তুমি কি লক্ষ্য করছ না যে, স্থানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ইমামের কর্তব্য। সুতরাং তার দায়িত্ব গ্রহণের উপর বিষয়টি নির্ভর করবে। যেমন ইকতিদার ক্ষেত্রে (মুকতাদির জন্য ইমামের নিয়্যত করা জরুরী)।

তবে ইমামের নিয়্যত তখনই শর্ত হবে, যখন সে কোন পুরুষের পার্শ্বে ইকতিদা করে। পক্ষান্তরে যদি তার পাশে কোন পুরুষ না থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে দু’টি মত রয়েছে। উক্ত দু’টি মতের একটির ক্ষেত্রে পার্থক্যের কারণ এই যে, প্রথম সুরতে তো সালাত ফাসিদ হওয়া অনিবার্য। আর দ্বিতীয় সুরতে সম্ভাবনা যুক্ত।

সালাত নষ্টকারী ‘এক সমানে দাড়ানো’ এর জন্য শর্ত হলো (উভয়ের) সালাত অভিন্ন হওয়া  (৮) এবং (রুকু-সাজদা বিশিষ্ট) সাধারণ সালাত হওয়া (৯)। আর স্ত্রীলোকটি কামোত্তেজনাযোগ্য হওয়া এবং উভয়ের মাঝে কোন আড়াল না থাকা। কেননা, কিয়াস ও যুক্তির বিপরীতে শরীআতের বাণী দ্বারা সালাত ফাসাদকারিণী প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং বাণী সংশ্লিষ্ট সকল উপস্থিত থাকতে হবে।

স্ত্রী লোকদের জামা’আতে হাযির হওয়া মাকরূহ। অর্থাত্ তাদের মধ্যে যারা যুবতী (তাদের জন্য এ হুকুম) কেননা তাতে ফতনার আশংকা রয়েছে।

বৃদ্ধাদের জন্য ফরয, মাগরিব ও’ ঈশার জামা’আতের উদ্দেশ্য বের হওয়াতে অসুবিধা নেই

এ হল ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মত।

ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, সকল সালাতেই তারা বের হতে পারে। কেননা, আকর্ষণ না থাকায় ফিতনার আশংকা নেই। তাই মাকরূহ হবে না, যেমন ঈদের জামাআতে।

ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল হলো; প্রবৃত্তির (দুষ্কর্মে) উদ্বুদ্ধ করে থাকা। সুতরাং ফিতনা ঘটতে পারে। তবে যুহর, আসর ও জুমুআর সময় ফাসিকদের উপদ্রব থাকে। আর ফজর ও ‘ঈশার সময় (সাধারণতঃ) তারা ঘুমিয়ে থাকে এবং মাগরিবে পানাহারে মশগুল থাকে। আর (ঈদের) মাঠ প্রশস্ত হওয়ার কারণে পুরুষদের থেকে পাশ কেটে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব। তাই মাকরূহ হয় না। (১০)

ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, পবিত্র ব্যক্তি ‘মুস্তাহাযা’ এর শ্রেণীভুক্ত ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। সেরূপ পবিত্র স্ত্রীলোকও মুস্তাহাযা এর পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা সুস্থ ব্যক্তির (তাহারাতের) অবস্থা মা’যূর ব্যক্তির চেয়ে উন্নততর। আর কোন কিছু তার চেয়ে উন্নত কিছুর দায়িত্ব বহন করতে পারে না। আর ইমাম হচ্ছেন দায়িত্ব বহনকারী। অর্থাত্ মুক্তাদির সালাত তার সালাতের আওতাভূক্ত।

কুরআন পাঠে সক্ষম ব্যক্তি উম্মী লোকের পিছনে এবং বস্ত্রধারী ব্যক্তি উলংগ ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা, তাদের দু’জনের অবস্থা উন্নততর।

আর জাইয রয়েছে তায়াম্মুমকারীর জন্য উযূকারীদের ইমামতী করা। এ হল ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মত। আর ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, জাইয হবে না। কেননা, তায়াম্মুম জরুরী অবস্থায় তাহারাত। আর পানি হল তাহারাতের মূল উপাদান।

ইমাম আবূ হানীফা ও আবূ ইউসূফ (র.) এর দলীল এই যে, এটা (সাময়িক তাহারাত নয় বরং) সাধারণ তাহারাত (১১)। সুতরাং এ কারণেই তা প্রয়োজনের সাথে সীমিত থাকে না।

(মোজায়) মাসহকারী পা ধৌতকারীর ইমামতি করতে পারে। কেননা, মোজা পায়ের পাতায় ‘হাদাছ’ এর অনুপ্রবেশে বাধা দেয়। আর মোজায় যে হাদাছ যুক্ত হয়, সেটাকে মাসহ দূর করে দেয়। মুস্তাহাযার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। কেননা বাস্তবে হাদাছ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় শরীআত তা বিদূরিত হয়ে গেছে বলে গণ্য করে।

দাড়িয়ে সালাত আদায়কারী বসে সালাত আদায়কারীর পিছনে (ইকতিদা করে) সালাত আদায় করতে পারে

ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, তা জাইয হবে না। কিয়াসের দাবী এ-ই। কেননা, দাড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অবস্থা উন্নততর।

আমরা হাদীছের কারণে কিয়াস বর্জন করেছি। কেননা, বর্ণিত আছে যে, নবী (সা.) তার শেষ সালাত আদায় করেছেন আর লোকজন তার পিছনে দাড়িয়ে ছিলেন।

ইশারায় সালাত আদায়কারী অনুরূপ ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করতে পারে। কেননা, উভয়ের অবস্থা সমান। তবে যদি মুকতাদী বসে এবং ইমাম শুয়ে ইশার করে তবে তার পিছনে জাইয হবে না। কেননা, বসা শরীআতে স্বীকৃত (১২)। সুতরাং এর দ্বারা তা উন্নত হওয়া প্রমাণিত হয়। 

রুকু-সাজদাকারী ব্যক্তি ইশারাকারী ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা, মুকতাদীর অবস্থা উন্নততর। এ সম্পর্কে ইমাম যুফার (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। 

ফরয আদায়কারী নফল আদায়কারী ভিন্ন ফরয আদায়কারী ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা, ইকতিদা অর্থ ভিত্তি করা, আর এখানে ইমামের ক্ষেত্রে ‘ফরয গুণটি নেই। সুতরাং যে গুণ নেই, তার উপর ভিত্তি স্থাপিত হবে না।

ইমাম কুদূরী বলেন এক ফরয আদায়কারী ভিন্ন ফরয আদায়কারী ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা, ইকতিদা হলো (একই তাহরীমায়) শামিল হওয়া এবং সামঞ্জস্য রক্ষা করা। সুতরাং (সালাতে) অভিন্নতা অপরিহার্য।

ইমাম শাফিঈ (র.) এর মতে উপরোক্ত সকল ক্ষেত্রে ইকতিদা সহীহ। কেননা, তার মতে ইকতিদা হল সমন্বিত রূপে আদায় করা। আর আমাদের মতে দায়িত্বের অন্তর্ভুক্তির অর্থ বিবেচ্য।

নফল আদায়কারী ফরয আদায়কারীর পিছনে সালাত আদায় করতে পারে। কেননা, নফল আদায়কারীর জন্য শুধু মূল সালাত থাকাই হল প্রয়োজন। আর ইমামের ক্ষেত্রে মূল সালাত বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং এর উপর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

যে ব্যক্তি কোন ইমামের পিছনে ইকতিদা করলো তারপর জানতে পারলো যে, তার ইমাম হাদাছগ্রস্ত; তখন তাকে সালাত দোহরাতে হবে। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন-

যে ব্যক্তি কোন জামাআতের ইমামতি করলো, তারপর প্রকাশ পেল যে, সে হাদাসগ্রস্ত অথবা জুনুবী, তখন সে নিজেও সালাত দোহরাবে এবং মুকতাদিরাও দোহরাবে।

এ বিষয়ে ইমাম শাফিঈ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। পূর্ব বর্ণিত যুক্তির ভিত্তিতে। আর আমরা অন্তর্ভূক্তির মর্ম বিবেচনা করি। আর তা জাইয হওয়া ও ফাসিদ হওয়া উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজ্য হবে। 

কোন উম্মী ব্যক্তি (১৩) যখন কুরআন পাঠে সক্ষম একদল লোক এবং উম্মী একদল লোকের ইমামতি করে, তখন ইমাম আবূ হানীফা (র.)এর মতে সকলের ফাসিদ হয়ে যাবে। (১৪)

ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, ইমামের সালাত এবং যারা কুরআন পাঠে সক্ষম নয়, তাদের সালাত পূর্ণাংগ হয়েছে। কেননা, ইমাম নিজে মা’যূর এবং তিনি একদল মা’যূর লোকের ইমামতি করেছেন। সুতরাং এটি ঐ অবস্থার সদৃশ, যখন কোন উলংগ ব্যক্তি একদল উলংগ ও একদল বস্ত্রধারীর ইমামতি করেন।

ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল এই যে, ইমাম কিরাতের উপর সক্ষমতা সত্ত্বেও কিরাতের ফরয তরক করেছে। সুতরাং তার সালাত ফাসিদ হবে। সক্ষমতার কারণ এই যে, সে যদি কারীর পিছনে ইকতিদা করতো তাহলে কারীর কিরাত তার কিরাত হতো। আর ঐ মাসআলাটি এবং এর অনুরূপ মাসআলার হুকুম ভিন্ন। কেননা, ইমামের ক্ষেত্রে যা বিদ্যমান, তা মুকতাদীর ক্ষেত্রে বিদ্যমান রূপে গণ্য হবে না।

যদি উম্মী ও কারী একা একা সালাত আদায় করে, তাহলে তা জাইয হবে। 

এই বিশুদ্ধমত। কেননা,তাদের উভয় থেকে জামা’আতের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ পায়নি। 

ইমাম যদি প্রথম দুই রাকাআতে কিরাত পাঠ করে, অতঃপর শেষ দুই রাকাআতে কোন উম্মীকে (নায়িব হিসাবে) আগে বাড়িয়ে দেয়, তাহলে সকলের সালাত ফাসিদ হয়ে যাবে

ইমাম যুফার (র.) বলেন, সালাত ফাসিদ হবে না। কেননা, কিরাতের ফরয আদায় হয়ে গেছে। (১৫)

আমাদের দলীল এই যে, প্রতিটি রাকাআতই সালাত। সুতরাং তা কিরাত থেকে খালি হতে পারে না। বাস্তবে হোক কিংবা গণ্য করা হিসাবে হোক (১৬)। আর উম্মীর ক্ষেত্রে যোগ্যতা না থাকার কারণে কিরাতকে বিদ্যমান গণ্য করার অবকাশ নেই। উক্ত দলীলের ভিত্তিতে অনুরূপ মতপার্থক্য রয়েছে। তাশাহুদের সময় তাকে আগে বাড়ালেও। সঠিক বিষয় আল্লাহই অধিক জানেন।

পাদটীকা:

১. ইমামতির ক্রম অগ্রাধিকার বর্ণনার ক্ষেত্রে হাদীস শরীফে অবশ্য পরহেযগার কথাটি নেই। এদস্থলে আছে হিজরত করার ক্ষেত্রে অধিকতর প্রবীণ। বর্তমানে হিজরতের বিষয় নেই সেহেতু আমাদের আলিমগণ এদস্থলে পরহেযগারির বিষয়টি গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ গুনাহ থেকে হিজরত করাকে তারা দেশে থেকে হিজরতের স্থলবর্তী করেছেন।
২. অর্থাৎ এদের প্রতি অশ্রদ্ধাবশতঃ জামা'আতে মানুষ কম আসবে।
৩. অর্থাৎ ফরযের পরবর্তী সুন্নতগুলোতে, তদ্রুপ এক বর্ণনামতে সালাতুল ঈদের ক্ষেত্রে এবং সাহেবাঈনের মতে বিতরের ক্ষেত্রে এবং সুর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ ও বৃষ্টির নামাযের ক্ষেত্রে।
৪. অর্থাৎ নিয়মিত সুন্নতের ক্ষেত্রে যেমন মতপার্থক্য রয়েছে তদ্রুপ সাধারন নফলের ক্ষেত্রেও মতপার্থক্য রয়েছে।
৫. বলখের মাশায়েখগণ প্রাপ্ত বয়স্কদের ইমামতিকে জাইয বলেছিলেন। মুলতঃ ধারনা-নির্ভর নামাযের উপর কিয়াস করে। অর্থাৎ, যে ব্যক্তির ফরয নামায প্রকৃতপক্ষে পূর্ণ হয়ে গেছে কিন্তু সে পূর্ণ হয়নি মনে করলো। এমতবস্থায় হুকুম এই যে, দাড়িয়ে যাবে এবং এক বা দুই রাকাআত পড়ে নিবে। আর এটা হবে নফল নামায। এমতবস্থায় যদি কোনো ফরয আদায়কারী ব্যক্তি পেছনে ইক্তিদা করে তবে সর্বসম্মতভাবেই এ ইক্তিদা সহীহ হবে। অথচ এখানে দুর্বলের উপর সবলের ইক্তিদা হচ্ছে। সুতরাং, অপ্রাপ্তবয়স্কের দুর্বল সুন্নত বা নফলের উপর প্রাপ্ত বয়স্ক সবল নামাযের ইক্তিদা হতে পারবে। এর জবাব এই যে, বাচ্চার ইমামতিকে ধারনাগ্রস্থ ব্যক্তির ইমামতির উপর কিয়াস করা ঠিক নয়। কেননা এর মধ্যেও ভিন্নমত রয়েছে। সুতরাং, এখানে মুক্তাদির ব্যাপারে উক্ত ধারণাকে অস্তিত্বহীন ধরা হবে। কেননা তা তাৎক্ষনিক উদ্ভুত বিষয়, পূর্ব হতে বিদ্যমান নয়। পক্ষান্তরে অপ্রাপ্ত বয়সের বিষয়টি পূর্ব হতে বিদ্যমান।
৬. হাদীসটি এই <<اخروهن من حيث اخرهن الله>> আল্লাহ যেখানে তাদেরকে পিছনে রেখেছেন সেখানে তোমরাও তাদের পিছনে রাখো। এখানে নির্দেশটি যেহেতু পুরুষদের প্রতি সেহেতু দায়-দায়িত্বও তাদের উপরই বর্তাবে। প্রশ্ন হতে পারে যে, এটাতো খাবারুল ওয়াহিদ শ্রেণীভুক্ত হাদীস, যার দ্বারা ফরয প্রমাণিত হয় না। এর উত্তরে লেখক বলেছেন যে, এটি মশহুূর শ্রেণীভুক্ত। সুতরাং তা দ্বারা ফরয প্রমাণিত হতে পারে।
৭. লেখক এখানে 'ইমামের নিয়্যত ছাড়া উভয়ের নামাযে অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত হয় না' কথাটির ব্যখ্যা দিচ্ছেন। অর্থাৎ, 'নস' বা হাদীসের বানী দ্বারা প্রমাণিত যে, সালাতের ছফ বা কাতারের তরতীব রক্ষা করা ইমামের দায়িত্ব। আর এটি স্বতঃসিদ্ধ যে কারো উপর দায়িত্ব অর্পিত হওয়া তার দায়িত্ব গ্রহণের উপর নির্ভরশীল। বিষয়টি 'ইকতিদা' এর অনুরূপ। অর্থাৎ মুক্তাদির নামায যেহেতু ইমামের দিক থেকে ফাসিদ হওয়ার সম্ভাবনা আছে সেহেতু মুকতাদির পক্ষ থেকে দায়বদ্ধতা গ্রহণ করা ছাড়া ইকতিদা সহীহ হবে না। আর নিয়্যত দ্বারা দায়বদ্ধতা গ্রহণ সাব্যস্ত হবে।
৮. উভয় সালাত অভিন্ন হওয়ার অর্থ হলো যে সালাত তারা আদায় করছে তার একজন ইমাম রয়েছেন। চাই তিনি প্রত্যক্ষভাবে বিদ্যমান থাকুন; যেমন 'লাহিক' ব্যক্তির ক্ষেত্রে। তাছাড়া অভিন্নতার জন্য উভয়ের ফরয নামায এক হওয়া শর্ত। উভয়ের নামায নফল হলেও অভিন্নতা সাব্যস্ত হবে। তদ্রুপ ফরয সালাত আদায়কারীর সাথে নফল আদায়কারিণীর ইকতিদারও একই হুকুম।
৯. অর্থাৎ সালাতুল জানাযার ক্ষেত্রে কোনো স্ত্রীলোকের পার্শ্ব অবস্থান দ্বারা নামায ফাসিদ হবে না। কেননা এটি প্রকৃতপক্ষে সালাত নয় বরং মাইয়্যেতের জন্য দুআ।
১০. মূল কথা এই যে, ইসলামের শুরুতে স্ত্রী লোকদের জন্য জামা'আতে হাযির হওয়ার অনুমতি ছিল। কিন্তু পরে যখন তাদের বের হওয়াটা ফিতনার কারণ হয়ে দেখা দিলো তখন তাদেরকে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে।
১১. অর্থাৎ ওয়াক্তের সাথে সম্পৃক্ত নয়। যেমন মুস্তাহাযার তাহারাত ওয়াক্তের সাথে সীমাবদ্ধ।
১২. তাই তো বসতে সক্ষম অবস্থায় চিত হয়ে ইশারার মাধ্যমে নফল নামায আদায় করা জাইয নয়।
১৩. উম্মী অর্থ ام (মা)-এর সাথে সম্পর্ক যার। অর্থাৎ মাতৃগর্ভ থেকে ভুমিষ্ঠ অবস্থার মতো নিরক্ষর। এখানে উদ্দেশ্য হলো ঐ ব্যক্তি যে নামাযের জন্য প্রয়োজনীয় কিরাআতে সক্ষম নয়।
১৪. পেছনে কিরাআত পাঠে সক্ষম ব্যক্তি রয়েছে একথা ইমামের জানা থাকুক বা না থাকুক। কেননা কিরাআত হলো ফরয। সুতরাং জানা বা না জানার কারণে হুকুমের কোনো তারতম্য হবে না। যেমন ভুলে কিরাআত তরক করার কারণে হুকুমের তারতম্য হয় না। বোবা ব্যক্তি যদি একদল বোবা ও একদল কারীর ইমামতি করে সে ক্ষেত্রেও একই হুকুম এবং একই মতভিন্নতা।
১৫. কেননা প্রথম ইমাম কিরাআতের ফরয আদায় করেছেন আর শেষ দুই রাকাআতে তো কিরাআত ফরয নয়। সুতরাং উম্মী ও কারীকে স্থলবর্তী করা একই ব্যাপার।
১৬. অর্থাৎ একই মতভিন্নতা দেখা দিবে যদি কিরআত পাঠে সক্ষম ব্যক্তি সাজদা থেকে মাথা তোলার পর 'হাদাছ'গ্রস্থ হয় এবং কোনো উম্মীকে স্থলবর্তী করে। অর্থাৎ সকলের সালাত ফাসিদ হয়ে যাবে আমাদের মতে। আর ইমাম যুফার (রহ)-এর মতে ফাসিদ হবে না। পক্ষান্তরে যদি তাশাহ্হুদ পরিমান বসার পর এ ঘটনা ঘটে তাহলে এখানেও ইমাম আবু হানীফা (রহ) ও সাহেবাইনের মাঝে সেই বিখ্যাত মতভিন্নতাটি দেখা দিবে। অর্থাৎ আবু হানীফা (রহ)-এর মতে সালাত হয়ে যাবে কিন্তু সাহেবাইনের মতে হবে না।

আরবী অংশ:

«الْجَمَاعَةُ سُنَّةٌ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى لَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إلَّا مُنَافِقٌ» (وَأَوْلَى النَّاسِ بِالْإِمَامَةِ أَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ) وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - أَقْرَؤُهُمْ لِأَنَّ الْقِرَاءَةَ لَا بُدَّ مِنْهَا، وَالْحَاجَةُ إلَى الْعِلْمِ إذَا نَابَتْ نَائِبَةٌ، وَنَحْنُ نَقُولُ الْقِرَاءَةُ مُفْتَقَرٌ إلَيْهَا لِرُكْنٍ وَاحِدٍ وَالْعِلْمُ لِسَائِرِ الْأَرْكَانِ (فَإِنْ تَسَاوَوْا فَأَقْرَؤُهُمْ) لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى. فَإِنْ كَانُوا سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ» وَأَقْرَؤُهُمْ كَانَ أَعْلَمَهُمْ لِأَنَّهُمْ كَانُوا يَتَلَقَّوْنَهُ بِأَحْكَامِهِ فَقُدِّمَ فِي الْحَدِيثِ، وَلَا كَذَلِكَ فِي زَمَانِنَا فَقَدَّمْنَا الْأَعْلَمَ (فَإِنْ تَسَاوَوْا فَأَوْرَعُهُمْ) لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «مَنْ صَلَّى خَلْفَ عَالَمٍ تَقِيٍّ فَكَأَنَّمَا صَلَّى خَلْفَ نَبِيٍّ» فَإِنْ تَسَاوَوْا فَأَسَنُّهُمْ " لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - لِابْنَيْ أَبِي مُلَيْكَةَ «وَلْيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا سِنًّا» وَلِأَنَّ فِي تَقْدِيمِهِ تَكْثِيرَ الْجَمَاعَةِ. (وَيُكْرَهُ تَقْدِيمُ الْعَبْدِ) لِأَنَّهُ لَا يَتَفَرَّغُ لِلتَّعَلُّمِ (وَالْأَعْرَابِيِّ) لِأَنَّ الْغَالِبَ فِيهِمْ الْجَهْلُ (وَالْفَاسِقِ) لِأَنَّهُ لَا يُتَّهَمُ لِأَمْرِ دِينِهِ (وَالْأَعْمَى) لِأَنَّهُ لَا يَتَوَقَّى النَّجَاسَةَ (وَوَلَدِ الزِّنَا) لِأَنَّهُ لَيْسَ لَهُ أَبٌ يُثَقِّفُهُ فَيَغْلِبَ عَلَيْهِ الْجَهْلُ، وَلِأَنَّ فِي تَقْدِيمِ هَؤُلَاءِ تَنْفِيرَ الْجَمَاعَةِ فَيُكْرَهَ (وَإِنْ تَقَدَّمُوا جَازَ) لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «صَلَّوْا خَلْفَ كُلِّ بَرٍّ وَفَاجِرٍ» . (وَلَا يُطَوِّلُ الْإِمَامُ بِهِمْ الصَّلَاةَ) لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «مَنْ أَمَّ قَوْمًا فَلِيُصَلِّ بِهِمْ صَلَاةَ أَضْعَفِهِمْ، فَإِنَّ فِيهِمْ الْمَرِيضَ وَالْكَبِيرَ وَذَا الْحَاجَةِ» (وَيُكْرَهُ لِلنِّسَاءِ وَحْدَهُنَّ الْجَمَاعَةُ) لِأَنَّهَا لَا تَخْلُو عَنْ ارْتِكَابِ مُحَرَّمٍ، وَهُوَ قِيَامُ الْإِمَامِ وَسَطَ الصَّفِّ فَيُكْرَهَ كَالْعُرَاةِ (فَإِنْ فَعَلْنَ قَامَتْ الْإِمَامُ وَسَطَهُنَّ) لِأَنَّ عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - فَعَلَتْ كَذَلِكَ، وَحُمِلَ فِعْلُهَا الْجَمَاعَةَ عَلَى ابْتِدَاءِ الْإِسْلَامِ لِأَنَّ فِي التَّقَدُّمِ زِيَادَةَ الْكَشْفِ. (وَمَنْ صَلَّى مَعَ وَاحِدٍ أَقَامَهُ عَنْ يَمِينِهِ) لِحَدِيثِ «ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا -، فَإِنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - صَلَّى بِهِ وَأَقَامَهُ عَنْ يَمِينِهِ» وَلَا يَتَأَخَّرُ عَنْ الْإِمَامِ. وَعَنْ مُحَمَّدٍ - رَحِمَهُ اللَّهُ - أَنَّهُ يَضَعُ أَصَابِعَهُ عِنْدَ عَقِبِ الْإِمَامِ، وَالْأَوَّلُ هُوَ الظَّاهِرُ، فَإِنْ صَلَّى خَلْفَهُ أَوْ فِي يَسَارِهِ جَازَ وَهُوَ مُسِيءٌ لِأَنَّهُ خَالَفَ السُّنَّةَ (وَإِنْ أَمَّ اثْنَيْنِ تَقَدَّمَ عَلَيْهِمَا) وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - يَتَوَسَّطُهُمَا، وَنَقَلَ ذَلِكَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - وَلَنَا «أَنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - تَقَدَّمَ عَلَى أَنَسٍ وَالْيَتِيمِ حِينَ صَلَّى بِهِمَا» فَهَذَا لِلْأَفْضَلِيَّةِ وَالْأَثَرُ دَلِيلُ الْإِبَاحَةِ. (وَلَا يَجُوزُ لِلرِّجَالِ أَنْ يَقْتَدُوا بِامْرَأَةٍ وَصَبِيٍّ) أَمَّا الْمَرْأَةُ فَلِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «أَخِّرُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَخَّرَهُنَّ اللَّهُ فَلَا يَجُوزُ تَقْدِيمُهَا» وَأَمَّا الصَّبِيُّ فَلِأَنَّهُ مُتَنَفِّلٌ فَلَا يَجُوزُ اقْتِدَاءُ الْمُفْتَرِضِ بِهِ. وَفِي التَّرَاوِيحِ وَالسُّنَنِ الْمُطْلَقَةِ جَوَّزَهُ مَشَايِخُ بَلْخِي، وَلَمْ يُجَوِّزْهُ مَشَايِخُنَا - رَحِمَهُمُ اللَّهُ -، وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّقَ الْخِلَافَ فِي النَّفْلِ الْمُطْلَقِ بَيْنَ أَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ وَالْمُخْتَارُ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ فِي الصَّلَوَاتِ كُلِّهَا لِأَنَّ نَفْلَ الصَّبِيِّ دُونَ نَفْلِ الْبَالِغِ حَيْثُ لَا يَلْزَمُهُ الْقَضَاءُ بِالْإِفْسَادِ بِالْإِجْمَاعِ، وَلَا يَبْنِي الْقَوِيُّ عَلَى الضَّعِيفِ، بِخِلَافِ الْمَظْنُونِ لِأَنَّهُ مُجْتَهِدٌ فِيهِ فَاعْتُبِرَ الْعَارِض عَدَمًا. وَبِخِلَافِ اقْتِدَاءِ الصَّبِيِّ بِالصَّبِيِّ لِأَنَّ الصَّلَاةَ مُتَّحِدَةٌ. (وَيَصُفُّ الرِّجَالَ ثُمَّ الصِّبْيَانَ ثُمَّ النِّسَاءَ) لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «لِيَلِنِي مِنْكُمْ أُولُو الْأَحْلَامِ وَالنُّهَى» وَلِأَنَّ الْمُحَاذَاةَ مُفْسِدَةٌ فَيُؤَخَّرْنَ (وَإِنْ حَاذَتْهُ امْرَأَةٌ وَهُمَا مُشْتَرَكَانِ فِي صَلَاةٍ وَاحِدَةٍ فَسَدَتْ صَلَاتُهُ إنْ نَوَى الْإِمَامُ إمَامَتَهَا) وَالْقِيَاسُ أَنْ لَا تَفْسُدَ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ - اعْتِبَارًا بِصَلَاتِهَا حَيْثُ لَا تَفْسُدُ. وَجْهُ الِاسْتِحْسَانِ مَا رَوَيْنَاهُ وَأَنَّهُ مِنْ الْمَشَاهِيرِ وَهُوَ الْمُخَاطَبُ بِهِ دُونَهَا فَيَكُونُ هُوَ التَّارِكُ لِفَرْضِ الْمَقَامِ فَتَفْسُدَ صَلَاتُهُ دُونَ صَلَاتِهَا، كَالْمَأْمُومِ إذَا تَقَدَّمَ عَلَى الْإِمَامِ (وَإِنْ لَمْ يَنْوِ إمَامَتَهَا لَمْ تَضُرَّهُ وَلَا تَجُوزُ صَلَاتُهَا) لِأَنَّ الِاشْتِرَاكَ لَا يَثْبُتُ دُونَهَا عِنْدَنَا خِلَافًا لِزُفَرَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -، أَلَا تَرَى أَنَّهُ يَلْزَمُهُ التَّرْتِيبُ فِي الْمَقَامِ فَيَتَوَقَّفُ عَلَى الْتِزَامِهِ كَالِاقْتِدَاءِ، إنَّمَا يُشْتَرَطُ نِيَّةُ الْإِمَامَةِ إذَا ائْتَمَّتْ مُحَاذِيَةً. وَإِنْ لَمْ يَكُنْ بِجَنْبِهَا رَجُلٌ فَفِيهِ رِوَايَتَانِ، وَالْفَرْقُ عَلَى إحْدَاهُمَا أَنَّ الْفَسَادَ فِي الْأَوَّلِ لَازِمٌ، وَفِي الثَّانِي مُحْتَمَلٌ (وَمِنْ شَرَائِطِ الْمُحَاذَاةِ أَنْ تَكُونَ الصَّلَاةُ مُشْتَرَكَةً، وَأَنْ تَكُونَ مُطْلَقَةً، وَأَنْ تَكُونَ الْمَرْأَةُ مِنْ أَهْلِ الشَّهْوَةِ. وَأَنْ لَا يَكُونَ بَيْنَهُمَا حَائِلٌ) لِأَنَّهَا عُرِفَتْ مُفْسِدَةً بِالنَّصِّ، بِخِلَافِ الْقِيَاسِ فَيُرَاعَى جَمِيعُ مَا وَرَدَ بِهِ النَّصُّ. (وَيُكْرَهُ لَهُنَّ حُضُورُ الْجَمَاعَاتِ) يَعْنِي الشَّوَابَّ مِنْهُنَّ لِمَا فِيهِ مِنْ خَوْفِ الْفِتْنَةِ (وَلَا بَأْسَ لِلْعَجُوزِ أَنْ تَخْرُجَ فِي الْفَجْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ) وَهَذَا عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - (وَقَالَا يَخْرُجْنَ فِي الصَّلَوَاتِ كُلِّهَا) لِأَنَّهُ لَا فِتْنَةَ لِقِلَّةِ الرَّغْبَةِ إلَيْهَا فَلَا يُكْرَهُ كَمَا فِي الْعِيدِ. وَلَهُ أَنَّ فَرْطَ الشَّبَقِ حَامِلٌ فَتَقَعُ الْفِتْنَةُ، غَيْرَ أَنَّ الْفُسَّاقَ انْتِشَارُهُمْ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْجُمُعَةِ، أَمَّا فِي الْفَجْرِ وَالْعِشَاءِ فَهُمْ نَائِمُونَ، وَفِي الْمَغْرِبِ بِالطَّعَامِ مَشْغُولُونَ، وَالْجَبَّانَةُ مُتَّسِعَةٌ فَيُمْكِنُهَا الِاعْتِزَالُ عَنْ الرِّجَالِ فَلَا يُكْرَهُ. قَالَ (وَلَا يُصَلِّي الطَّاهِرُ خَلْفَ مَنْ هُوَ فِي مَعْنَى الْمُسْتَحَاضَةِ، وَلَا الطَّاهِرَةُ خَلْفَ الْمُسْتَحَاضَةِ) لِأَنَّ الصَّحِيحَ أَقْوَى حَالًا مِنْ الْمَعْذُورِ، وَالشَّيْءُ لَا يَتَضَمَّنُ مَا هُوَ فَوْقَهُ، وَالْإِمَامُ ضَامِنٌ بِمَعْنَى أَنَّهُ تَضْمَنُ صَلَاتُهُ صَلَاةَ الْمُقْتَدِي (وَلَا) يُصَلِّي (الْقَارِئُ خَلْفَ الْأُمِّيِّ وَلَا الْمُكْتَسِي خَلْفَ الْعَارِي) لِقُوَّةِ حَالِهِمَا. (وَيَجُوزُ أَنْ يَؤُمَّ الْمُتَيَمِّمُ الْمُتَوَضِّئِينَ) وَهَذَا عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ. وَقَالَ مُحَمَّدٌ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: لَا يَجُوزُ لِأَنَّهُ طَهَارَةٌ ضَرُورِيَّةٌ وَالطَّهَارَةَ بِالْمَاءِ أَصْلِيَّةٌ. وَلَهُمَا أَنَّهُ طَهَارَةٌ مُطْلَقَةٌ وَلِهَذَا لَا يَتَقَدَّرُ بِقَدْرِ الْحَاجَةِ (وَيَؤُمُّ الْمَاسِحُ الْغَاسِلِينَ) لِأَنَّ الْخُفَّ مَانِعٌ سِرَايَةَ الْحَدَثِ إلَى الْقَدَمِ، وَمَا حَلَّ بِالْخُفِّ يُزِيلُهُ الْمَسْحُ، بِخِلَافِ الْمُسْتَحَاضَةِ لِأَنَّ الْحَدَثَ لَمْ يُعْتَبَرْ شَرْعًا مَعَ قِيَامِهِ حَقِيقَةً (وَيُصَلِّي الْقَائِمُ خَلْفَ الْقَاعِدِ) وَقَالَ مُحَمَّدٌ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: لَا يَجُوزُ، وَهُوَ الْقِيَاسُ لِقُوَّةِ حَالِ الْقَائِمِ وَنَحْنُ تَرَكْنَاهُ بِالنَّصِّ، وَهُوَ مَا رُوِيَ «أَنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - صَلَّى آخِرَ صَلَاتِهِ قَاعِدًا وَالْقَوْمُ خَلْفَهُ قِيَامٌ» (وَيُصَلِّي الْمُومِئُ خَلْفَ مِثْلِهِ) لِاسْتِوَائِهِمَا فِي الْحَالِ إلَّا أَنْ يُومِئَ الْمُؤْتَمُّ قَاعِدًا وَالْإِمَامُ مُضْطَجِعًا، لِأَنَّ الْقُعُودَ مُعْتَبَرٌ فَتَثْبُتَ بِهِ الْقُوَّةُ (وَلَا يُصَلِّي الَّذِي يَرْكَعُ وَيَسْجُدُ خَلْفَ الْمُومِئِ) لِأَنَّ حَالَ الْمُقْتَدِي أَقْوَى، وَفِيهِ خِلَافُ زُفَرَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -. (وَلَا يُصَلِّي الْمُفْتَرِضُ خَلْفَ الْمُتَنَفِّلِ) لِأَنَّ الِاقْتِدَاءَ بِنَاءٌ، وَوَصْفُ الْفَرْضِيَّةِ مَعْدُومٌ فِي حَقِّ الْإِمَامِ فَلَا يَتَحَقَّقُ الْبِنَاءُ عَلَى الْمَعْدُومِ. قَالَ (وَلَا مَنْ يُصَلِّي فَرْضًا خَلْفَ مَنْ يُصَلِّي فَرْضًا آخَرَ) لِأَنَّ الِاقْتِدَاءَ شَرِكَةٌ وَمُوَافَقَةٌ فَلَا بُدَّ مِنْ الِاتِّحَادِ. وَعِنْدَ الشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ - يَصِحُّ فِي جَمِيعِ ذَلِكَ لِأَنَّ الِاقْتِدَاءَ عِنْدَمَا أَدَّاهُ عَلَى سَبِيلِ الْمُوَافَقَةِ، وَعِنْدَنَا مَعْنَى التَّضَمُّنِ مُرَاعًى (وَيُصَلِّي الْمُتَنَفِّلُ خَلْفَ الْمُفْتَرِضِ) لِأَنَّ الْحَاجَةَ فِي حَقِّهِ إلَى أَصْلِ الصَّلَاةِ وَهُوَ مَوْجُودٌ فِي حَقِّ الْإِمَامِ فَيَتَحَقَّقَ الْبِنَاءُ. (وَمَنْ اقْتَدَى بِإِمَامٍ ثُمَّ عَلِمَ أَنَّ إمَامَهُ مُحْدِثٌ أَعَادَ) لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «مَنْ أَمَّ قَوْمًا ثُمَّ ظَهَرَ أَنَّهُ كَانَ مُحْدِثًا أَوْ جُنُبًا أَعَادَ صَلَاتَهُ وَأَعَادُوا» وَفِيهِ خِلَافُ الشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ - بِنَاءً عَلَى مَا تَقَدَّمَ، وَنَحْنُ نَعْتَبِرُ مَعْنَى التَّضَمُّنِ وَذَلِكَ فِي الْجَوَازِ وَالْفَسَادِ. (وَإِذَا صَلَّى أُمِّيٌّ بِقَوْمٍ يَقْرَءُونَ وَبِقَوْمٍ أُمِّيِّينَ فَصَلَاتُهُمْ فَاسِدَةٌ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -) وَقَالَا: صَلَاةُ الْإِمَامِ وَمَنْ لَا يَقْرَأُ تَامَّةٌ لِأَنَّهُ مَعْذُورٌ أَمَّ قَوْمًا مَعْذُورِينَ وَغَيْرَ مَعْذُورِينَ فَصَارَ كَمَا إذَا أَمَّ الْعَارِي عُرَاةً وَلَابِسِينَ. وَلَهُ أَنَّ الْإِمَامَ تَرَكَ فَرْضَ الْقِرَاءَةِ مَعَ الْقُدْرَةِ عَلَيْهَا فَتَفْسُدَ صَلَاتُهُ، وَهَذَا لِأَنَّهُ لَوْ اقْتَدَى بِالْقَارِئِ تَكُونُ قِرَاءَتُهُ قِرَاءَةً لَهُ بِخِلَافِ تِلْكَ الْمَسْأَلَةِ وَأَمْثَالِهَا لِأَنَّ الْمَوْجُودَ فِي حَقِّ الْإِمَامِ لَا يَكُونُ مَوْجُودًا فِي حَقِّ الْمُقْتَدِي (وَلَوْ كَانَ يُصَلِّي الْأُمِّيُّ وَحْدَهُ وَالْقَارِئُ وَحْدَهُ جَازَ) هُوَ الصَّحِيحُ لِأَنَّهُ لَمْ تَظْهَرْ مِنْهُمَا رَغْبَةٌ فِي الْجَمَاعَةِ (فَإِنْ قَرَأَ الْإِمَامُ فِي الْأُولَيَيْنِ ثُمَّ قَدَّمَ فِي الْأُخْرَيَيْنِ أُمِّيًّا فَسَدَتْ صَلَاتُهُمْ) وَقَالَ زُفَرُ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: لَا تَفْسُدُ لِتَأَدِّي فَرْضِ الْقِرَاءَةِ. وَلَنَا أَنَّ كُلَّ رَكْعَةٍ صَلَاةٌ فَلَا تَخْلُو عَنْ الْقِرَاءَةِ إمَّا تَحْقِيقًا أَوْ تَقْدِيرًا وَلَا تَقْدِيرَ فِي حَقِّ الْأُمِّيِّ لِانْعِدَامِ الْأَهْلِيَّةِ، وَكَذَا عَلَى هَذَا لَوْ قَدَّمَهُ فِي التَّشَهُّدِ.


No comments:

Post a Comment