Sunday, June 23, 2013

আল-হিদায়া: ৪র্থ অধ্যায় - সিয়াম - পর্ব ১

অধ্যায়-সিয়াম

فَصْلٌ فِي رُؤْيَةِ الْهِلَالِ

ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, রোযা দু’প্রকার। ওয়াজিব ও নফল। আবার ওয়াজিব দু’প্রকার। এক প্রকার হলো নির্ধারিত সময়ের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন রমযানের রোযা এবং নির্ধারিত দিনের মান্নাতের রোযা। এই প্রকার রোযা রাত্রে নিয়্যত করা দ্বারা জাইয হয়। আর যদি নিয়্যত না করে অথচ ভোর হয়ে যায়, তাহলে ভোর ও যাওয়াল এর মধ্যবর্তী সময়ে নিয়্যত করলেও যথেষ্ট হবে।

কিন্তু ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, তা যথেষ্ট হবে না। জেনে রাখা কর্তব্য যে, রমযানের রোযা হলো ফরয। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন- তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে। তাছাড়া রোযার ফরয হওয়া সম্পর্কে ‘ইজমা’ সংগঠিত হয়েছে। এ জন্যই রমাযানের রোযা অস্বীকারকারীকে কাফির সাব্যস্ত করা হয়।

নযরের রোযা ওয়াজিব। কেননা আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন- তারা যেন তাদের মান্নতসমূহ পুরা করে। প্রথমটির সবব হলো (রমযান) মাসের উপস্থিতি। এ কারণেই উক্ত রোযাকে মাসের দিকে সম্বোধন করা হয় এবং মাসের পুনরাগমনে রোযারও পুনরাগমন ঘটে। আর রমাযানের প্রতিটি দিবস হচ্ছে সেই দিবসের রোযা ওয়াজিব হওয়ার সবব।

দ্বিতীয় প্রকার রোযা ওয়াজিব হওয়ার কারণ হচ্ছে মান্নত করা। আর নিয়ত হচ্ছে তার জন্য শর্ত। ইনশাল্লাহ্ এ বিষয়ে সামনে বিশদ আলোচনা করবো।

বিরোধপূর্ণ বিষয়ে ইমাম শাফিঈ (র.) এর বক্তব্যের প্রমাণ হলো নবী (সা.) এর বাণী- যে ব্যক্তি রাত্রে রোযার নিয়্যত করেনি, তার রোযা নেই।

তাছাড়া নিয়্যত না থাকার কারণে রোযার প্রথম অংশটুকু যখন ফাসিদ হয়ে গেলো তখন দ্বিতীয় অংশটুকুও অনিবার্যভাবে ফাসিদ হয়ে যাবে। কেননা (ফরয) রোযা বিভক্তিযোগ্য নয়। নফলের বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ নফল রোযা তার মতে বিভক্তিযোগ্য।

আমাদের দলীল এই যে, জনৈক বেদুঈন চাদ দেখার সাক্ষ্য প্রদানের পর রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- শোন, যে ব্যক্তি পানাহার করে ফেলেছে, সে যেন অবশিষ্ট দিন পানাহার না করে। আর যে পানাহার করেনি, সে যেন রোযা রাখে।

আর ইমাম শাফিঈ (র.) বর্ণিত হাদীছটি পূর্ণতা ও ফযীলত অর্জিত না হওয়ার উপর প্রযোজ্য। কিংবা এর অর্থ এই যে, সে এই নিয়্যত করেনি যে, তার রোযা রাত্র থেকে শুরু হবে।

তাছাড়া যুক্তিগত কারণ এই যে, এটা হলো রোযার জন্য নির্ধারিত দিন। সুতরাং প্রথমাংশের পানাহার থেকে বিরত থাকাটা বিলম্বিত নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল হবে। যা উক্ত রোযার অধিকাংশের সংগে যুক্ত, যেমন নফলের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

এই কারণ এই যে, রোযা হচ্ছে একটি দীর্ঘায়িত রুকন। আর নিয়্যতের প্রয়োজন হলো সেটাকে আল্লাহ্‌র জন্য নির্ধারণ করার উদ্দেশ্যে। সুতরাং আধিক্যের দ্বারা রোযার অস্তিত্বের দিকটি অগ্রাধিকার লাভ করবে।

নামায ও হজ্জের বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা নামায ও হজ্জ হচ্ছে কয়েকটি রুকন সমন্বিত। সুতরাং ইবাদত দুটি আদায়ের সংঘটনের সময়ের সংগে নিয়্যত যুক্ত হওয়া জরুরী।

কাযা রোযার বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা, তা ঐ দিনের রোযার উপর নির্ভরশীল। আর ঐ রোযাটি হলো নফল।

যাওয়ালের পরে নিয়্যত করার বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা, সেক্ষেত্রে রোযার নিয়্যতটি দিনের অধিকাংশের সংগে যুক্ত হয়নি। ফলে রোযা ফউত হওয়ার দিকটি অগ্রাধিকার লাভ করবে।

মুখতাসারুল কুদূরীতে (নিয়্যত গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে) ভোর ও যাওয়ালের মধ্যবর্তী সময়ের কথা বলা হয়েছে। আর জামেউস্‌ সাগীর কিতাবেও অর্ধ দিবসের পূর্বের কথা বলা হয়েছে। এ-ই বিশুদ্ধ মত। কেননা দিবসের অধিকাংশ সময় নিয়্যত বিদ্যমান থাকা জরুরী। আর (শরীআত মতে) দিবসের অর্ধেক হলো ফজরের উদয় থেকে বৃহত্ পূর্বাহ্ন পর্যন্ত, যাওয়ালের সময় পর্যন্ত নয়। সুতরাং এর পূর্বেই নিয়্যত বিদ্যমান হওয়া জরুরী, যাতে নিয়্যত দিবসের অধিকাংশ বিদ্যমান থাকে।

(দিবসের নিয়্যত গ্রহণযোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে) মুসাফির-মুকীমের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কেননা আমাদের বর্ণিত দলীলে কোন ‘পার্থক্য নির্দেশ’ নেই। অবশ্য ইমাম যুফার ভিন্ন মত পোষণ করেন।

এই প্রকার রোযা সাধারণ নিয়্যত দ্বারা, নফলের নিয়্যত দ্বারা এবং অন্য ওয়াজিব রোযার নিয়্যত দ্বারা আদায় হয়।

ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, নফলের নিয়্যত করলে তা নিরর্থক হবে। (ফরযও হবে না, নফলও হবে না)।

সাধারণ নিয়্যত সম্পর্কে তার দু’টি মত রয়েছে। কেননা নফলের নিয়্যত দ্বারা সে ফরয রোযার উপেক্ষাকারী হলো। সুতরাং তার জন্য ফরয আদায় হবে না।

আমাদের দলীল এই যে, সেই দিনটিতে ফরয নির্ধারিত রয়েছে। সুতরাং মূল নিয়্যত দ্বারাই তা হাছিল হয়ে যাবে। যেমন ঘরে একা বিদ্যমান ব্যক্তিকে তার জাতিবাচক নামে ডাকলেও উদ্দেশ্য হাছিল হয়ে যায়।

আর যদি নফল কিংবা অন্য ওয়াজিব রোযার নিয়্যত করে থাকে, তাহলেও সে মূল রোযা এবং অন্য একটি অতিরিক্ত দিকের নিয়্যত করলো। সুতরাং যখন অতিরিক্ত দিকটি বাতিল হয়ে গেলো তখন মূল বিষয় (রোযা) অবশিষ্ট থাকলো। আর তা-ই রোযা আদায়ের জন্য যথেষ্ট।

ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে মুসাফির ও মুকীম এবং সুস্থ ও অসুস্থ ব্যক্তির মাঝে এ ব্যাপারে কোন পার্থক্য নেই। কেননা (রোযা না রাখার) অবকাশ দানের কারণ এই যে, ‘মাযূর’ ব্যক্তির যেন কষ্ট না হয়। কিন্তু যখন সে স্বেচ্ছায় কষ্ট গ্রহণ করে নিলো, তখন সে ‘অ-মাযূর’ ব্যক্তির সংগে যুক্ত হয়ে গেলো।

ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে অসুস্থ ও মুসাফির ব্যক্তি যখন অন্য ওয়াজিব রোযার নিয়্যতে রোযা রাখে, তখন সেই রোযাই সাব্যস্ত হবে।

কারণ ‘সময়’ কে সে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়োজিত করেছে। কেননা অন্য ওয়াজিবের কাযা এই মূহুর্তে তার উপর আরোপিত। পক্ষান্তরে রমাযানের রোযার ব্যাপারে পরবর্তীতে সময় লাভ করা পর্যন্ত সে ইখতিয়ার প্রাপ্ত।

নফলের নিয়্যত করার ব্যাপারে তার পক্ষ থেকে দুটি মত বর্ণিত হয়েছে।

একটি বর্ণনা (অর্থাত্ ফরয হিসাবে গণ্য হওয়ার) মতে পার্থক্যের কারণ এই যে, এখানে সময়টিকে সে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিযুক্ত করেনি।

দ্বিতীয় প্রকার হলো এমন রোযা, যা (অনির্ধারিত ভাবে) তার যিম্মায় ওয়াজিব। যেমন, রমাযান মাসের রোযা এবং কাফ্‌ফারার রোযা। সুতরাং রাত্রেকৃত নিয়্যত ছাড়া তা দুরস্ত হবে না। কেননা, তা নির্ধারিত নয়। অথচ প্রথম থেকে নির্ধারণ করা জরুরী।

সকল রোযা যাওয়ালের পূর্বে নিয়্যত করা দ্বারা জাইয।

ইমাম মালিক (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি আমাদের উল্লেখিত হাদীছটি ব্যাপকতা প্রমাণ রূপে গ্রহণ করেন।

আমাদের প্রমাণ এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) অ-রোযাদার অবস্থায় ভোর বেলা হওয়ার পরে বলেছেন- (এখন থেকে আমি রোযা রেখে নিলাম)।

তাছাড়া যুক্তিগত কারণ এই যে, রমাযানের বাইরে নফল রোযা শরীআত অনুমোদিত ইবাদাত। সুতরাং দিবসের প্রথমাংশের পানাহার সংযমটি রোযা রূপে গৃহীত হওয়া নিয়্যতের উপর নির্ভর করবে। যেমন আমরা আগে উল্লেখ করে এসেছি। মতে রোযা বিভাজন গ্রহণ করে। কারণ নফলের ভিত্তি হচ্ছে মনের প্রফুল্লতার উপর। আর এমন হতে পারে যে, যাওয়ালের পর সে প্রফুল্লতা অনুভব করলো। তবে তার জন্য শর্ত এই যে, দিবসের শুরু থেকেই পানাহার থেকে বিরত থাকা।

আমাদের মতে দিবসের শুরু থেকেই সে রোযাদার গণ্য হবে। কেননা, এটা হলো আত্ম-দমনের বিশেষ ইবাদত। আর তা নির্ধারিত সময়ে রোযা বিরুদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা দ্বারা সংঘটিত হয়। সুতরাং দিবসের অধিকাংশ সময়ের সংগে নিয়্যত যুক্ত হওয়া বিবেচ্য হবে।

ইমাম কুদূরী বলেন, মানুষের কর্তব্য হলো শা’বান মাসের ঊনত্রিশ তারিখে চাদ অনুসন্ধান করা। যদি তারা চাদ দেখতে পায়, তাহলে রোযা রাখবে। আর যদি (মেঘের কারণে) চাদ তাদের অগোচরে থাকে তাহলে শা’বান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে। অতঃপর রোযা রাখবে। কেননা, রাসূলুল্লাহ্‌(সা.) বলেছেন- তোমরা চাদ দেখে রোযা রাখো এবং চাদ দেখে ইফতার করো। আর যদি চাদ তোমাদের অগোচরে থাকে তাহলে শা’বান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করো।

তাছাড়া এই কারণে যে, প্রকৃত অবস্থা হল মাস অব্যাহত থাকা। সুতরাং প্রমাণ ছাড়া উক্ত মাস থেকে বের হওয়া যাবে না। আর এখানে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

(ত্রিশ তারিখের ) সন্দেহ পূর্ণ দিনটিতে নফল ছাড়া অন্য কোন রোযা রাখবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) বলেছেন- যে দিনটি সম্পর্কে সন্দেহ হয় যে, তা রমাযান কিনা, সে দিনে নফল ছাড়া অন্য কোন রোযা রাখা যাবে না।

এই মাসাআলাটি কয়েক প্রকার।

০১) প্রথমতঃ রমাযানের নিয়্যত করে রোযা রাখা মাকরূহ। প্রমাণ হলো আমাদের উপর বর্নিত হাদীছ।

আরো এ কারণে যে, এতে আহলে কিতাবের সংগে সাদৃশ্য হয়। কেননা তারার তাদের রোযার পরিমাণে বর্ধিত করেছিল।

তবে রোযা রাখার পর যদি দেখা যায় যে, দিনটি রমাযানেরই দিন, তাহলে তা রমাযানের রোযা হিসাবে যথেষ্ট হবে। কেননা সে মাস পেয়েছে এবং তাতে রোযা রেখেছে। আর যদি প্রকাশ পায় যে, দিনটি শা’বান মাসের ছিল, তাহলে তা নফল হয়ে যাবে। আর যদি রোযা ভংগ করে তাহলে তার কাযা করবে না। কেননা তা ধারণা পর্যায়ের অন্তর্ভূক্ত।

০২) দ্বিতীয় প্রকার এই যে, (রমাযান ছাড়া) অন্য কোন ওয়াজিব রোযার নিয়্যত করলো। সেটাও মাকরূহ। প্রমাণ ইতোপূর্বে উপরে বর্ণিত হাদীছ। তবে মাকরূহ হওয়ার ক্ষেত্রে এটি প্রথমটার তুলনায় গৌণ।

এরপর যদি দেখা যায় যে, দিনটি রমাযানের দিন ছিল, তাহলে রমাযানের রোযা হিসাবে যথেষ্ট হয়ে যাবে। কেননা, রোযার মূল নিয়্যত বিদ্যমান রয়েছে। পক্ষান্তরে যদি প্রকাশ পায় যে, তা শা’বানের দিন ছিল, তাহলে কারো কারো মতে তা নফল হবে। কেননা, এ রোযা নিষিদ্ধ ছিল। সুতরাং তা ছাড়া ওয়াজিব রোযা আদায় হবে না।

কোন কোন মতে যে রোযার নিয়্যত করেছে, তা আদায় হয়ে যাবে। এটা শুদ্ধতম মত। কেননা যে রোযাকে নিষেধ করা হয়েছে,তা হল রমাযানের উপর রমাযানের রোযাকে নিষেধ করা হয়েছে, তা হল রমাযানের উপর রমাযানের রোযাকে অগ্রবর্তী করা। অন্য রোযা দ্বারা তা বাস্তবায়িত হয় না। ঈদের দিনের বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা এখানে নিষিদ্ধ বিষয়টি অর্থাত্ আল্লাহ্‌র দাওয়াত গ্রহণকে বর্জন করা যে কোন রোযা দ্বারা অনিবার্য হয়ে পড়ে। আর সেখানে মাকরূহ হওয়া সাব্যস্ত হয়েছে নিষেধ রূপের কারণে।

০৩) তৃতীয় প্রকার এই যে, নফলের নিয়্যত করে। এটি মাকরূহ নয়। প্রমাণ ইতোপূর্বে আমাদের বর্ণিত হাদীছ। আর এই হাদীছ ইমাম শাফিঈ (র.) এর বিপক্ষে প্রমাণ। তার মতে (পূর্ব অভ্যাস ছাড়া) নতুনভাবে ঐদিন রোযা রাখা মাকরূহ।

রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর নিম্নোক্ত বাণী- (তোমরা একটি বা দুটি রোযা দ্বারা রমাযানের অগ্রগামী হয়ো না)। এর উদ্দেশ্য হলো রমাযানের রোযা রেখে অগ্রবর্তী হওয়া থেকে নিষেধ করা। কেননা এতে সময়ের পূর্বেই রমাযানের রোযা রাখা হয়ে যায়। পক্ষান্তরে যদি ঐ দিবসটি এমন কোন দিবস হয়, যা সে পূর্ব হতেই রোযা রেখে আসছে তাহলে সকলের ঐকমত্যেই রোযা রাখা উত্তম।

তদ্রুপ যদি এমন হয় যে, (শা’বান ) মাসের (কিংবা প্রত্যেক মাসের) শেষ তিন দিন কিংবা ততোধিক দিন সে রোযা রেখে এসেছে, তা হলে রোযা রাখাই উত্তম। পক্ষান্তরে যদি শুধু ঐ একদিন রোযা রাখার অভ্যাস হয়ে থাকে, তাহলে কোন কোন মতে বাহ্যতঃ নিষেধ থেকে বেচে থাকার জন্য রোযা না রাখাই উত্তম। আর কোন কোন মতে ‘আলী ও ‘আইশা (রা.) –এর অনুসরণে রোযা রাখাই উত্তম। কেননা তারা ঐ দিন রোযা রাখতেন।

আর স্বীকৃত মত এই যে, মুফতী (ও অন্যান্য বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিগণ) সতর্কতার খাতিরে নিজে তা রোযা রাখবেন কিন্তু সাধারণ লোকদের যাওয়াল পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর পানাহার করার ফাতওয়া দান করবেন। (নিজে গোপনে রোযা রাখবেন) অভিযোগ থেকে মুক্ত থাকার জন্য।

০৪) চুতর্থ প্রকার এই যে, মূল নিয়্যতের মধ্যে দোদুল্যমান হওয়া। অর্থাত্ এভাবে নিয়্যত করা যে, আগামীকাল রমাযান হলে রোযা রাখবে, আর শা’বান হলে রোযা রাখবে না। এইভাবে সে রোযাদার হবে না। কেননা তার নিয়্যতকে স্থির করেনি। সুতরাং এমনই হলো, যেন সে নিয়্যত করলো যে, আগামীকাল যদি সে খাবার পায় তাহলে রোযা রাখবে না, আর খাবার না পেলে রোযা রাখবে।

০৫) পঞ্চম প্রকার এই যে, নিয়্যতের প্রকৃতির ক্ষেত্রে দ্বিধা পোষণ করে। অর্থাত্ এই নিয়্যত করে যে, আগামীকাল রমাযানের দিন হলে রমাযানের রোযা রাখবে। আর শা’বানের দিন হলে অন্য ওয়াজিব রোযা রাখবে। এটা মাকরূহ। কেননা সে দু’টি মাকরূহ বিষয়ের মাঝে দোদুল্যমান রয়েছে। অতঃপর যদি প্রকাশ পায় যে, দিবসটি রমাযানের দিবস, তাহলে ঐ রোযাই যথেষ্ট হবে। কেননা মূল নিয়্যতের ক্ষেত্রে তো দ্বিধা নেই। পক্ষান্তরে যদি প্রকাশ পায় যে, তারা শা’বানের দিবস, তা হলে এ রোযা অন্য কোন ওয়াজিব রোযা রূপে যথেষ্ট হবে না। কেননা দ্বিধান্বিত থাকার কারণে দিক নির্ধারন হয়নি। আর মূল নিয়্যত তার জন্য যথেষ্ট নয়। তবে তা এমন নফল রোযায় রূপান্তরিত হবে, যা (ভঙ্গ করলে) কাযা যিম্মায় আসে না। কেননা তা সে শুরুই করেছে যিম্মা থেকে অব্যাহতির নিয়্যতে।

আর যদি সে এই নিয়্যত করে যে, আগামীকাল রমাযান হলে তার রোযা রমাযানের হবে; আর শা’বানের হলে নফল রোযা হবে, তাহলে তাও মাকরূহ। কেননা এক দিক থেকে সে (রমাযানের) ফরয রোযার নিয়্যত করছে। অতঃপর যদি প্রকাশ পায় যে দিবসটি রমাযানের দিবস, তাহলে তা রমাযানের রোযা হিসাবে যথেষ্ট হবে। কারণ ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

আর যদি প্রকাশ পায় যে, তা শা’বানের দিবস, তাহলে নফল হিসাবে তা জাইয হবে। কেননা নফল মূল নিয়্যতের দ্বারা আদায় হয়ে যায়।

যদি তা ফাসিদ করে ফেলে তাহলে কাযা না হওয়াই উচিত। কেননা, তার নিয়্যতের মধ্যেই এক হিসাবে যিম্মা থেকে অব্যাহতির লক্ষ্য বিদ্যমান।

যে ব্যক্তি একা রমাযানের চাদ দেখলো, সে রোযা রাখবে। যদিও ইমাম তার সাক্ষ্য গ্রহণ না করেন। কেননা রাসূলুল্লাহ্‌(সা.) বলেছেন- তোমরা চাদ দেখে রোযা রাখো এবং চাদ দেখে রোযা ইফতার কর।

আর সে তো স্পষ্টভাবে চাদ দেখেছে। যদি সে রোযা ভংগ করে ফেলে, তাহলে তার উপর কাযা ওয়াজিব হবে, কাফ্‌ফরা ওয়াজিব হবে না।

ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, স্ত্রী সহবাস দ্বারা রোযা ভংগ করে, তাহলে তার উপর কাফ্‌ফরাও ওয়াজিব হবে। কেননা সে রমাযান সম্পর্কে, নিশ্চিত ছিল। আর হুকুম হিসাবেও (সে রমাযানের রোযা ভংগ করেছে) কেননা, তার উপর রোযা ওয়াজিব ছিল।

আমাদের মতে কাযী শরীআত সম্মত দলীলের ভিত্তিতে তার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। দলীলটি হলো ভুল দেখার সম্ভাবনা। ফলে তা সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। আর এরূপ কাফ্‌ফরা সন্দেহের দ্বারা রহিত হয়ে যায়।

ইমাম তার সাক্ষ্য প্রত্যাখান করার পূর্বেই যদি সে রোযা ভংগ করে ফেলে, তাহলে সে বিষয়ে মাশায়েখগণের মতভেদ রয়েছে।

(সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যাত) এই লোক যদি ত্রিশদিন রোযা পূর্ণ করে, তাহলেও সে ইমামের সংগে ছাড়া রোযা বর্জন করতে পারবে না। কেননা সতর্কতা হিসাবেই তার উপর রোযা ওয়াজিব হয়েছিলো। আর পরবর্তীতে সতর্কতা হলো ‘রোযা’ বর্জন বিলম্বিত করার মধ্যে।

তবে যদি রোযা ভঙ্গ করে ফেলে তাহলে তার ধারণা অনুযায়ী সাব্যস্ত প্রকৃত অবস্থার প্রেক্ষিতে তার উপর কাফ্‌ফরা ওয়াজিব হবে না।

যদি আকাশ অপরিষ্কার থাকে তাহলে চাদ দেখার ব্যাপারে ইমাম একজন ‘আদিল’ (ন্যায়পরায়ন ব্যক্তি) ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন, সে পুরুষ হোক কিংবা স্ত্রীলোক, স্বাধীন হোক কিংবা দাস। কেননা, এটা দীনি বিষয়। সুতরাং তা হাদীছ বর্ণনার সদৃশ হলো। এ জন্য তা ‘সাক্ষ্য‘ শব্দের উপর নির্ভরশীল নয়। ন্যায়-পরায়ণতার শর্ত আরোপ করার কারণ এই যে, দীনী বিষয়ে কাফিরের কথা গ্রহণযোগ্য নয়।

ইমাম তাহাবীর বক্তব্য ‘ন্যায়পরায়ণ হোক কিংবা ন্যায়পরায়ণ না হোক; তা এ অবস্থার উপর প্রযোজ্য, যখন তার ন্যায়পরায়ণতা অজানা থাকে।

আর আকাশ ‘অপরিষ্কার’- এর অর্থ মেঘ, ধুলিঝড় ইত্যাদি থাকা। ইমাম কুদূরীর নিঃশর্ত বিবরণে ঐ ব্যক্তি অন্তর্ভূক্ত, যে যিনার অপবাদ দেওয়ার কারণে শাস্তিপ্রাপ্তির পর তওবা করে নিয়েছে। এ হল জাহিরে রিওয়ায়াত। কেননা এটা হচ্ছে খবর প্রদান। ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকে বর্ণিত এক মতে তার কথা গ্রহণ করা হবে না। কেননা একদিক থেকে এটি সাক্ষ্যের পর্যায়ের।

ইমাম শাফিঈ (র.) থেকে বর্ণিত দু’টি মতের একটিতে দু’জনের শর্ত আরোপ করেছেন। তার বিপক্ষে আমাদের দলীল তাই, যা উপরে আমরা উল্লেখ করেছি।

তাছাড়া বিশুদ্ধ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) রমাযানের চাদ দেখার ব্যাপারে একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।

এরপর ইমাম একজনের সাক্ষ্য গ্রহণের ভিত্তিতে যদি লোকেরা রোযা ত্রিশদিন পূর্ণ করে, তাহলে ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকে হাসান (ইব্‌ন যিয়াদ) কর্তৃক বর্ণিত মতে সতর্কতা হিসাবে রোযা ত্যাগ করবে না। কেননা, রোযা ত্যাগ করার বৈধতা একজনের সাক্ষ্য দ্বারা সাব্যস্ত হয় না।

ইমাম মুহাম্মদ (র.) থেকে বর্ণিত যে, লোকেরা সিয়াম ত্যাগ করে ফেলবে। কেননা রোযা ত্যাগ করার বৈধতা এই ভিত্তিতে সাব্যস্ত হবে যে, রমাযান এক ব্যক্তির সাক্ষ্য দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছিলো। যদিও স্বতন্ত্রভাবে প্রথম অবস্থায় এক ব্যক্তির সাক্ষ্য দ্বারা সিয়াম ত্যাগ করার বৈধতা প্রমাণিত হয় না। যেমন ধাত্রীর সাক্ষ্য ছাড়া প্রমাণিত ‘নসব’-এর উপর ভিত্তি করে মীরাসের অধিকার সাব্যস্ত হয়ে থাকে।

আকাশ যদি অপরিষ্কার না থাকে তাহলে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না, যতক্ষণ না এমন একটা বড় দল তা দেখতে পায়, যাদের সংবাদে নিশ্চিত হওয়া যায়। কেননা, এমন অবস্থায় একা চাদ দেখার মধ্যে ভুলের সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং একটা বড় দলের দেখা পর্যন্ত সে বিষয়ে অপেক্ষা করা কর্তব্য হবে। আকাশ পরিষ্কার থাকার বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা কখনো কখনো চাদের স্থান থেকে মেঘ কেটে যায়, ফলে কারো পক্ষে চাদ দেখে ফেলা সম্ভব হতে পারে। ‘বড় দলের’ সংজ্ঞা হিসাবে কেউ কেউ মহল্লাবাসী বুঝিয়েছেন।

ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে পঞ্চাশ জনের কথা বর্ণিত হয়েছে ‘কাসামাহ’ এর উপর কিয়াস করে।

শহরবাসী এবং শহরের বাহির থেকে আগত লোকদের মাঝে কোন পার্থক্য নেই।

ইমাম তাহাবী (র.) বলেন, শহরের বাহির থেকে আগত হলে এক জনের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে। কেননা (তথায় ধুয়া-ধূলা ইত্যাদির ) প্রতিবন্ধকতা কম। কিতাবুল ইসতিহসান’ এ এ দিকেই ইংগিত করা হয়েছে।

যদি কেউ শহরের কোন উচু স্থান থেকে চাদ দেখে তবে তার হুকুম অনুরূপ। যে ব্যক্তি একা ঈদের চাদ দেখেছে সে সিয়াম ভঙ্গ করবে না। এর কারণ সতর্কতা অবলম্বন। আর সিয়ামের ক্ষেত্রে ওয়াজিব করার মধ্যেই হলো সতর্কতা।

যদি আকাশ অপরিষ্কার থাকে তাহলে ঈদের চাদ প্রমাণিত হবে না কমপক্ষে দু’জন পুরুষ কিংবা একজন পুরুষ ও দু’জন স্ত্রী লোকের সাক্ষ্য ব্যতীত। কেননা, এই চাদ দেখার সাথে বান্দার উপর সম্পর্কিত। আর তা হলো রোযা না রাখা। সুতরাং তার অন্যান্য হকসমূহের সদৃশ হয়ে গেলো। যাহিরে রিওয়ায়াত অনুযায়ী ঈদুল আযহা এ ক্ষেত্রে ঈদুল ফিতরের অনুরূপ। এ-ই বিশুদ্ধতম মত।

অবশ্য ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকে ভিন্নমত বর্ণিত আছে, এ জন্য যে, তা রমাযানের চাদ দেখার মতো।

(যাহিরে রিওয়ায়াতের দলীল এই যে) এর সাথে বান্দাদের উপকার সম্পর্কিত রয়েছে। আর তা হলো কুরবানীর গোশত আহারের সুযোগ গ্রহণ।

আর যদি আকাশ অপরিষ্কার না থাকে তাহলে এমন এক জামা’আতের সাক্ষ্য ব্যতীত চাদ প্রমাণিত হবে না, যাদের সংবাদ দ্বারা নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয়।

যেমন ইতোপূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি।

রোযার সময় হলো ফজর ছানী (সুবহে সাদিক) এর উদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। কেননা আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন-

শুভ্র রেখা ফজরের কৃষ্ণরেখা হতে পৃথক হওয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার করো। এরপর তোমরা রাত্র পর্যন্ত রোযা পূর্ণ করো(০২:১৮৭)।

আর উভয় রেখা দ্বারা দিবসের শুভ্রতা এবং রাত্রির কৃষ্ণতা উদ্দেশ্য।

সিয়াম হলো নিয়্যতসহ দিবসে পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা-শরীআতের পরিভাষায়। কেননা, আভিধানিক অর্থে শুধু বিরত থাকার নামই সিয়াম। কারণ, এ অর্থে তার ব্যবহার রয়েছে। তবে শরীআত তার সংগে নিয়্যত যুক্ত করেছে, যাতে ইবাদত অভ্যাস হতে পৃথক হয়ে যায়।

দিবসের সংগে বিশিষ্ট হওয়ার কারণ হলো আমাদের বর্ণিত আয়াত।

তাছাড়া যুক্তিগত কারণ এই যে, দিনরাতের একটানা রোযা রাখা যখন দুঃসাধ্য তখন দিবসের অংশকে নির্ধারণ করাই উত্তম। যাতে আমলটি অভ্যাসের বিপরীত হয়। আর ইবাদতের ভিত্তিই হলো অভ্যাসের বিপরীত করার উপর।

নারীদের ক্ষেত্রে রোযা আদায়ের বৈধতা সাব্যস্ত হওয়ার জন্য হায়িয ও নিফাস থেকে পবিত্র হওয়া শর্ত।

আরবী অংশ:

قَالَ رَحِمَهُ اللَّهُ ( الصَّوْمُ ضَرْبَانِ : وَاجِبٌ وَنَفْلٌ ، وَالْوَاجِبُ ضَرْبَانِ : مِنْهُ مَا يَتَعَلَّقُ بِزَمَانٍ بِعَيْنِهِ كَصَوْمِ رَمَضَانَ وَالنَّذْرِ الْمُعَيَّنِ فَيَجُوزُ صَوْمُهُ بِنِيَّةٍ مِنْ اللَّيْلِ وَإِنْ لَمْ يَنْوِ حَتَّى أَصْبَحَ أَجْزَأَهُ النِّيَّةُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الزَّوَالِ ) وَقَالَ الشَّافِعِيُّ : لَا يُجْزِيهِ .
اعْلَمْ أَنَّ صَوْمَ رَمَضَانَ فَرِيضَةٌ لِقَوْلِهِ تَعَالَى { كُتِبَ عَلَيْكُمْ الصِّيَامُ } وَعَلَى فَرْضِيَّتِهِ انْعَقَدَ الْإِجْمَاعُ وَلِهَذَا يَكْفُرُ جَاحِدُهُ ، وَالْمَنْذُورُ وَاجِبٌ لِقَوْلِهِ تَعَالَى { وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ } وَسَبَبُ الْأَوَّلِ الشَّهْرُ وَلِهَذَا يُضَافُ إلَيْهِ وَيَتَكَرَّرُ بِتَكَرُّرِهِ وَكُلُّ يَوْمٍ سَبَبٌ لِوُجُوبِ صَوْمِهِ ، وَسَبَبُ الثَّانِي النَّذْرُ
وَالنِّيَّةُ مِنْ شَرْطِهِ وَسَنُبَيِّنُهُ وَتَفْسِيرُهُ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى. وَجْهُ قَوْلِهِ فِي الْخِلَافِيَّةِ قَوْلُهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «لَا صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يَنْوِ الصِّيَامَ مِنْ اللَّيْلِ» وَلِأَنَّهُ لَمَّا فَسَدَ الْجُزْءُ الْأَوَّلُ لِفَقْدِ النِّيَّةِ فَسَدَ الثَّانِي ضَرُورَةً أَنَّهُ لَا يَتَجَزَّأُ بِخِلَافِ النَّفْلِ لِأَنَّهُ مُتَجَزِّئٌ عِنْدَهُ. وَلَنَا قَوْلُهُ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «بَعْدَمَا شَهِدَ الْأَعْرَابِيُّ بِرُؤْيَةِ الْهِلَالِ أَلَا مَنْ أَكَلَ فَلَا يَأْكُلَنَّ بَقِيَّةَ يَوْمِهِ، وَمَنْ لَمْ يَأْكُلْ فَلْيَصُمْ» وَمَا رَوَاهُ مَحْمُولٌ عَلَى نَفْيِ الْفَضِيلَةِ وَالْكَمَالِ، أَوْ مَعْنَاهُ لَمْ يَنْوِ أَنَّهُ صَوْمٌ مِنْ اللَّيْلِ، وَلِأَنَّهُ يَوْمُ صَوْمٍ فَيَتَوَقَّفُ الْإِمْسَاكُ فِي أَوَّلِهِ عَلَى النِّيَّةِ الْمُتَأَخِّرَةِ الْمُقْتَرِنَةِ بِأَكْثَرِهِ كَالنَّفْلِ، وَهَذَا لِأَنَّ الصَّوْمَ رُكْنٌ وَاحِدٌ مُمْتَدٌّ وَالنِّيَّةُ لِتَعْيِينِهِ لِلَّهِ تَعَالَى فَتَتَرَجَّحُ بِالْكَثْرَةِ جَنْبَةُ الْوُجُودِ بِخِلَافِ الصَّلَاةِ وَالْحَجِّ لِأَنَّ لَهُمَا أَرْكَانًا فَيُشْتَرَطُ قِرَانُهَا بِالْعَقْدِ عَلَى أَدَائِهِمَا، وَبِخِلَافِ الْقَضَاءِ لِأَنَّهُ يَتَوَقَّفُ عَلَى صَوْمِ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَهُوَ النَّفَلُ وَبِخِلَافِ مَا بَعْدَ الزَّوَالِ لِأَنَّهُ لَمْ يُوجَدْ اقْتِرَانُهَا بِالْأَكْثَرِ فَتَرَجَّحَتْ جَنْبَةُ الْفَوَاتِ، ثُمَّ قَالَ فِي الْمُخْتَصَرِ: مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الزَّوَالِ، وَفِي الْجَامِعِ الصَّغِيرِ قَبْلَ نِصْفِ النَّهَارِ وَهُوَ الْأَصَحُّ، لِأَنَّهُ لَا بُدَّ مِنْ وُجُودِ النِّيَّةِ فِي أَكْثَرِ النَّهَارِ وَنِصْفِهِ مِنْ وَقْتِ طُلُوعِ الْفَجْرِ إلَى وَقْتِ الضَّحْوَةِ الْكُبْرَى لَا إلَى وَقْتِ الزَّوَالِ، فَتُشْتَرَطُ النِّيَّةُ قَبْلَهَا لِتَتَحَقَّقَ فِي الْأَكْثَرِ، وَلَا فَرْقَ بَيْنَ الْمُسَافِرِ وَالْمُقِيمِ عِنْدَنَا، خِلَافًا لِزُفَرَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -، لِأَنَّهُ لَا تَفْصِيلَ فِيمَا ذَكَرْنَا مِنْ الدَّلِيلِ وَهَذَا الضَّرْبُ مِنْ الصَّوْمِ يَتَأَدَّى بِمُطْلَقِ النِّيَّةِ وَبِنِيَّةِ النَّفْلِ وَبِنِيَّةِ وَاجِبٍ آخَرَ.
وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: فِي نِيَّةِ النَّفْلِ عَابِثٌ، وَفِي مُطْلَقِهَا لَهُ قَوْلَانِ: لِأَنَّهُ بِنِيَّةِ النَّفْلِ مُعْرِضٌ عَنْ الْفَرْضِ فَلَا يَكُونُ لَهُ الْفَرْضُ. وَلَنَا أَنَّ الْفَرْضَ مُتَعَيَّنٌ فِيهِ، فَيُصَابُ بِأَصْلِ النِّيَّةِ كَالْمُتَوَحِّدِ فِي الدَّارِ يُصَابُ بِاسْمِ جِنْسِهِ، وَإِذَا نَوَى النَّفَلَ أَوْ وَاجِبًا آخَرَ فَقَدْ نَوَى أَصْلَ الصَّوْمِ وَزِيَادَةَ جِهَةٍ، وَقَدْ لَغَتْ الْجِهَةُ فَبَقِيَ الْأَصْلُ وَهُوَ كَافٍ.
وَلَا فَرْقَ بَيْنَ الْمُسَافِرِ وَالْمُقِيمِ وَالصَّحِيحِ وَالسَّقِيمِ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ، لِأَنَّ الرُّخْصَةَ كَيْ لَا تَلْزَمَ الْمَعْذُورَ مَشَقَّةٌ فَإِذَا تَحَمَّلَهَا اُلْتُحِقَ بِغَيْرِ الْمَعْذُورِ وَعِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: إذَا صَامَ الْمَرِيضُ وَالْمُسَافِرُ بِنِيَّةِ وَاجِبٍ آخَرَ يَقَعُ عَنْهُ لِأَنَّهُ شَغَلَ الْوَقْتَ بِالْأَهَمِّ لِتَحَتُّمِهِ لِلْحَالِ وَتَخَيُّرِهِ فِي صَوْمِ رَمَضَانَ إلَى إدْرَاكِ الْعِدَّةِ. وَعَنْهُ فِي نِيَّةِ التَّطَوُّعِ رِوَايَتَانِ، وَالْفَرْقُ عَلَى إحْدَاهُمَا أَنَّهُ مَا صَرَفَ الْوَقْتَ إلَى الْأَهَمِّ.
قَالَ (وَالضَّرْبُ الثَّانِي مَا يَثْبُتُ فِي الذِّمَّةِ كَقَضَاءِ رَمَضَانَ وَالنَّذْرِ الْمُطْلَقِ وَصَوْمِ الْكَفَّارَةِ فَلَا يَجُوزُ إلَّا بِنِيَّةٍ مِنْ اللَّيْلِ) لِأَنَّهُ غَيْرُ مُتَعَيِّنٍ فَلَا بُدَّ مِنْ التَّعْيِينِ مِنْ الِابْتِدَاءِ (وَالنَّفَلُ كُلُّهُ يَجُوزُ بِنِيَّةٍ قَبْلَ الزَّوَالِ) خِلَافًا لِمَالِكٍ، فَإِنَّهُ يَتَمَسَّكُ بِإِطْلَاقِ مَا رَوَيْنَا. وَلَنَا «قَوْلُهُ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - بَعْدَ مَا كَانَ يُصْبِحُ غَيْرَ صَائِمٍ إنِّي إذًا لَصَائِمٌ» وَلِأَنَّ الْمَشْرُوعَ خَارِجَ رَمَضَانَ هُوَ نَفْلٌ فَيَتَوَقَّفُ الْإِمْسَاكُ فِي أَوَّلِ الْيَوْمِ عَلَى صَيْرُورَتِهِ صَوْمًا بِالنِّيَّةِ عَلَى مَا ذَكَرْنَا، وَلَوْ نَوَى بَعْدَ الزَّوَالِ لَا يَجُوزُ. وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: يَجُوزُ وَيَصِيرُ صَائِمًا مِنْ حِينِ نَوَى إذْ هُوَ مُتَجَزِّئٌ عِنْدَهُ لِكَوْنِهِ مَبْنِيًّا عَلَى النَّشَاطِ، وَلَعَلَّهُ يَنْشَطُ بَعْدَ الزَّوَالِ إلَّا أَنَّ مِنْ شَرْطِهِ الْإِمْسَاكَ فِي أَوَّلِ النَّهَارِ، وَعِنْدَنَا يَصِيرُ صَائِمًا مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ لِأَنَّهُ عِبَادَةُ قَهْرِ النَّفْسِ، وَهِيَ إنَّمَا تَتَحَقَّقُ بِإِمْسَاكٍ مُقَدَّرٍ فَيُعْتَبَرُ قِرَانُ النِّيَّةِ بِأَكْثَرِهِ.
قَالَ (وَيَنْبَغِي لِلنَّاسِ أَنْ يَلْتَمِسُوا الْهِلَالَ فِي الْيَوْمِ التَّاسِعِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ شَعْبَانَ، فَإِنْ رَأَوْهُ صَامُوا، وَإِنْ غُمَّ عَلَيْهِمْ أَكْمَلُوا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلَاثِينَ يَوْمًا ثُمَّ صَامُوا) لِقَوْلِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ الْهِلَالُ فَأَكْمِلُوا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلَاثِينَ يَوْمًا» وَلِأَنَّ الْأَصْلَ بَقَاءُ الشَّهْرِ فَلَا يُنْقَلُ عَنْهُ إلَّا بِدَلِيلٍ وَلَمْ يُوجَدْ.
(وَلَا يَصُومُونَ يَوْمَ الشَّكِّ إلَّا تَطَوُّعًا) لِقَوْلِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «لَا يُصَامُ الْيَوْمُ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ أَنَّهُ مِنْ رَمَضَانَ إلَّا تَطَوُّعًا» وَهَذِهِ الْمَسْأَلَةُ عَلَى وُجُوهٍ: أَحَدُهَا: أَنْ يَنْوِيَ صَوْمَ رَمَضَانَ وَهُوَ مَكْرُوهٌ لِمَا رَوَيْنَا، وَلِأَنَّهُ تَشَبُّهٌ بِأَهْلِ الْكِتَابِ لِأَنَّهُمْ زَادُوا فِي مُدَّةِ صَوْمِهِمْ ثُمَّ إنْ ظَهَرَ أَنَّ الْيَوْمَ مِنْ رَمَضَانَ يَجْزِيهِ لِأَنَّهُ شَهِدَ الشَّهْرَ وَصَامَهُ وَإِنْ ظَهَرَ أَنَّهُ مِنْ شَعْبَانَ كَانَ تَطَوُّعًا، وَإِنْ أَفْطَرَ لَمْ يَقْضِهِ لِأَنَّهُ فِي مَعْنَى الْمَظْنُونِ. وَالثَّانِي: أَنْ يَنْوِيَ عَنْ وَاجِبٍ آخَرَ وَهُوَ مَكْرُوهٌ أَيْضًا لِمَا رَوَيْنَا إلَّا أَنَّ هَذَا دُونَ الْأَوَّلِ فِي الْكَرَاهَةِ ثُمَّ إنْ ظَهَرَ أَنَّهُ مِنْ رَمَضَانَ يَجْزِيهِ لِوُجُودِ أَصْلِ النِّيَّةِ، وَإِنْ ظَهَرَ أَنَّهُ مِنْ شَعْبَانَ فَقَدْ قِيلَ: يَكُونُ تَطَوُّعًا لِأَنَّهُ مَنْهِيٌّ عَنْهُ فَلَا يَتَأَدَّى بِهِ الْوَاجِبُ، وَقِيلَ: يَجْزِيهِ عَنْ الَّذِي نَوَاهُ وَهُوَ الْأَصَحُّ لِأَنَّ الْمَنْهِيَّ عَنْهُ وَهُوَ التَّقَدُّمُ عَلَى رَمَضَانَ بِصَوْمِ رَمَضَانَ لَا يَقُومُ بِكُلِّ صَوْمٍ، بِخِلَافِ يَوْمِ الْعِيدِ لِأَنَّ الْمَنْهِيَّ عَنْهُ وَهُوَ تَرْكُ الْإِجَابَةِ بِلَازِمِ كُلِّ صَوْمٍ، وَالْكَرَاهِيَةُ هَهُنَا لِصُورَةِ النَّهْيِ. وَالثَّالِثُ: أَنْ يَنْوِيَ التَّطَوُّعَ وَهُوَ غَيْرُ مَكْرُوهٍ لِمَا رَوَيْنَا وَهُوَ حُجَّةٌ عَلَى الشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ - فِي قَوْلِهِ يُكْرَهُ عَلَى سَبِيلِ الِابْتِدَاءِ، وَالْمُرَادُ بِقَوْلِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «لَا تَتَقَدَّمُوا رَمَضَانَ بِصَوْمِ يَوْمٍ وَلَا بِصَوْمِ يَوْمَيْنِ» الْحَدِيثَ، التَّقَدُّمُ بِصَوْمِ رَمَضَانَ لِأَنَّهُ يُؤَدِّيهِ قَبْلَ أَوَانِهِ، ثُمَّ إنْ وَافَقَ صَوْمًا كَانَ يَصُومُهُ فَالصَّوْمُ أَفْضَلُ بِالْإِجْمَاعِ: وَكَذَا إذَا صَامَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ آخِرِ الشَّهْرِ فَصَاعِدًا، وَإِنْ أَفْرَدَهُ فَقَدْ قِيلَ: الْفِطْرُ أَفْضَلُ احْتِرَازًا عَنْ ظَاهِرِ النَّهْيِ وَقَدْ قِيلَ: الصَّوْمُ أَفْضَلُ اقْتِدَاءً بِعَلِيٍّ وَعَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - فَإِنَّهُمَا كَانَا يَصُومَانِهِ، وَالْمُخْتَارُ أَنْ يَصُومَ الْمُفْتِي بِنَفْسِهِ أَخْذًا بِالِاحْتِيَاطِ، وَيُفْتِي الْعَامَّةَ بِالتَّلَوُّمِ إلَى وَقْتِ الزَّوَالِ ثُمَّ بِالْإِفْطَارِ نَفْيًا لِلتُّهْمَةِ.
وَالرَّابِعُ: أَنْ يُضْجَعَ فِي أَصْلِ النِّيَّةِ بِأَنْ يَنْوِي أَنْ يَصُومَ غَدًا إنْ كَانَ مِنْ رَمَضَانَ وَلَا يَصُومُهُ إنْ كَانَ مِنْ شَعْبَانَ، وَفِي هَذَا الْوَجْهِ لَا يَصِيرُ صَائِمًا لِأَنَّهُ لَمْ يَقْطَعْ عَزِيمَتَهُ فَصَارَ كَمَا إذَا نَوَى أَنَّهُ إنْ وَجَدَ غَدًا غَدَاءً يُفْطِرُ، وَإِنْ لَمْ يَجِدْ يَصُومُ. وَالْخَامِسُ: أَنْ يُضْجَعَ فِي وَصْفِ النِّيَّةِ بِأَنْ يَنْوِيَ إنْ كَانَ غَدًا مِنْ رَمَضَانَ يَصُومُ عَنْهُ، وَإِنْ كَانَ مِنْ شَعْبَانَ فَعَنْ وَاجِبٍ آخَرَ، وَهَذَا مَكْرُوهٌ لِتَرَدُّدِهِ بَيْنَ أَمْرَيْنِ مَكْرُوهَيْنِ. ثُمَّ إنْ ظَهَرَ أَنَّهُ مِنْ رَمَضَانَ أَجْزَأَهُ لِعَدَمِ التَّرَدُّدِ فِي أَصْلِ النِّيَّةِ، وَإِنْ ظَهَرَ أَنَّهُ مِنْ شَعْبَانَ لَا يَجْزِيهِ عَنْ وَاجِبٍ آخَرَ لِأَنَّ الْجِهَةَ لَمْ تَثْبُتْ لِلتَّرَدُّدِ فِيهَا، وَأَصْلُ النِّيَّةِ لَا يَكْفِيهِ لَكِنَّهُ يَكُونُ تَطَوُّعًا غَيْرَ مَضْمُونٍ بِالْقَضَاءِ لِشُرُوعِهِ فِيهِ مُسْقِطًا، وَإِنْ نَوَى عَنْ رَمَضَانَ إنْ كَانَ غَدًا مِنْهُ وَعَنْ التَّطَوُّعِ إنْ كَانَ مِنْ شَعْبَانَ يُكْرَهُ لِأَنَّهُ نَاوٍ لِلْفَرْضِ مِنْ وَجْهٍ، ثُمَّ إنْ ظَهَرَ أَنَّهُ مِنْ رَمَضَانَ أَجْزَأَهُ عَنْهُ لِمَا مَرَّ، وَإِنْ ظَهَرَ أَنَّهُ مِنْ شَعْبَانَ جَازَ عَنْ نَفْلِهِ لِأَنَّهُ يَتَأَدَّى بِأَصْلِ النِّيَّةِ، وَلَوْ أَفْسَدَهُ يَجِبُ أَنْ لَا يَقْضِيَهُ لِدُخُولِ الْإِسْقَاطِ فِي عَزِيمَتِهِ مِنْ وَجْهٍ.
قَالَ (وَمَنْ رَأَى هِلَالَ رَمَضَانَ وَحْدَهُ صَامَ وَإِنْ لَمْ يَقْبَلْ الْإِمَامُ شَهَادَتَهُ) لِقَوْلِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ» وَقَدْ رَأَى ظَاهِرًا وَإِنْ أَفْطَرَ فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ دُونَ الْكَفَّارَةِ، وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ إنْ أَفْطَرَ بِالْوِقَاعِ لِأَنَّهُ أَفْطَرَ فِي رَمَضَانَ حَقِيقَةً لِتَيَقُّنِهِ بِهِ وَحُكْمًا لِوُجُوبِ الصَّوْمِ عَلَيْهِ وَلَنَا أَنَّ الْقَاضِيَ رَدَّ شَهَادَتَهُ بِدَلِيلٍ شَرْعِيٍّ وَهُوَ تُهْمَةُ الْغَلَطِ، فَأَوْرَثَ شُبْهَةً وَهَذِهِ الْكَفَّارَةُ تَنْدَرِئُ بِالشُّبُهَاتِ، وَلَوْ أَفْطَرَ قَبْلَ أَنْ يَرُدَّ الْإِمَامُ شَهَادَتَهُ اخْتَلَفَ الْمَشَايِخُ فِيهِ، وَلَوْ أَكْمَلَ هَذَا الرَّجُلُ ثَلَاثِينَ، يَوْمًا لَمْ يُفْطِرْ إلَّا مَعَ الْإِمَامِ لِأَنَّ الْوُجُوبَ عَلَيْهِ لِلِاحْتِيَاطِ، وَالِاحْتِيَاطُ بَعْدَ ذَلِكَ فِي تَأْخِيرِ الْإِفْطَارِ وَلَوْ أَفْطَرَ لَا كَفَّارَةَ عَلَيْهِ اعْتِبَارًا لِلْحَقِيقَةِ الَّتِي عِنْدَهُ.
قَالَ (وَإِذَا كَانَ بِالسَّمَاءِ عِلَّةٌ قَبِلَ الْإِمَامُ شَهَادَةَ الْوَاحِدِ الْعَدْلِ فِي رُؤْيَةِ الْهِلَالِ رَجُلًا كَانَ أَوْ امْرَأَةً حُرًّا كَانَ أَوْ عَبْدًا) لِأَنَّهُ أَمْرٌ دِينِيٌّ، فَأَشْبَهَ رِوَايَةَ الْإِخْبَارِ وَلِهَذَا لَا يَخْتَصُّ بِلَفْظِ الشَّهَادَةِ، وَتُشْتَرَطُ الْعَدَالَةُ لِأَنَّ قَوْلَ الْفَاسِقِ فِي الدِّيَانَاتِ غَيْرُ مَقْبُولٍ، وَتَأْوِيلُ قَوْلِ الطَّحَاوِيِّ عَدْلًا كَانَ أَوْ غَيْرَ عَدْلٍ أَنْ يَكُونَ مَسْتُورًا وَالْعِلَّةُ غَيْمٌ أَوْ غُبَارٌ أَوْ نَحْوُهُ، وَفِي إطْلَاقِ جَوَابِ الْكِتَابِ يَدْخُلُ الْمَحْدُودُ فِي الْقَذْفِ بَعْدَ مَا تَابَ وَهُوَ ظَاهِرُ الرِّوَايَةِ لِأَنَّهُ خَبَرٌ دِينِيٌّ، وَعَنْ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: أَنَّهَا لَا تُقْبَلُ لِأَنَّهَا شَهَادَةٌ مِنْ وَجْهٍ، وَكَانَ الشَّافِعِيُّ فِي أَحَدِ قَوْلَيْهِ يَشْتَرِطُ الْمَثْنَى وَالْحُجَّةُ عَلَيْهِ مَا ذَكَرْنَا، وَقَدْ صَحَّ «أَنَّ النَّبِيَّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَبِلَ شَهَادَةَ الْوَاحِدِ فِي رُؤْيَةِ هِلَالِ رَمَضَانَ» ثُمَّ إذَا قَبِلَ الْإِمَامُ شَهَادَةَ الْوَاحِدِ وَصَامُوا ثَلَاثِينَ يَوْمًا لَا يُفْطِرُونَ فِيمَا رَوَى الْحَسَنُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - لِلِاحْتِيَاطِ، وَلِأَنَّ الْفِطْرَ لَا يَثْبُتُ بِشَهَادَةِ الْوَاحِدِ، وَعَنْ مُحَمَّدٍ أَنَّهُمْ يُفْطِرُونَ وَيَثْبُتُ الْفِطْرُ بِنَاءً عَلَى ثُبُوتِ الرَّمَضَانِيَّةِ بِشَهَادَةِ الْوَاحِدِ، وَإِنْ كَانَ لَا يَثْبُتُ بِهَا ابْتِدَاءً كَاسْتِحْقَاقِ الْإِرْثِ بِنَاءً عَلَى النَّسَبِ الثَّابِتِ بِشَهَادَةِ الْقَابِلَةِ.
قَالَ (وَإِذَا لَمْ تَكُنْ بِالسَّمَاءِ عِلَّةٌ لَمْ تُقْبَلْ الشَّهَادَةُ حَتَّى يَرَاهُ جَمْعٌ كَثِيرٌ يَقَعُ الْعِلْمُ بِخَبَرِهِمْ) لِأَنَّ التَّفَرُّدَ بِالرُّؤْيَةِ فِي مِثْلِ هَذِهِ الْحَالَةِ يُوهِمُ الْغَلَطَ فَيَجِبُ التَّوَقُّفُ فِيهِ حَتَّى يَكُونَ جَمْعًا كَثِيرًا، بِخِلَافِ مَا إذَا كَانَ بِالسَّمَاءِ عِلَّةٌ لِأَنَّهُ قَدْ يَنْشَقُّ الْغَيْمُ عَنْ مَوْضِعِ الْقَمَرِ فَيَتَّفِقُ لِلْبَعْضِ النَّظَرُ، ثُمَّ قِيلَ فِي حَدِّ الْكَثِيرِ أَهْلُ الْمَحَلَّةِ، وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - خَمْسُونَ رَجُلًا اعْتِبَارًا بِالْقَسَامَةِ وَلَا فَرْقَ بَيْنَ أَهْلِ الْمِصْرِ وَمَنْ وَرَدَ مِنْ خَارِجِ الْمِصْرِ، وَذَكَرَ الطَّحَاوِيُّ أَنَّهُ تُقْبَلُ شَهَادَةُ الْوَاحِدِ إذَا جَاءَ مِنْ خَارِجِ الْمِصْرِ لِقِلَّةِ الْمَوَانِعِ، وَإِلَيْهِ الْإِشَارَةُ فِي كِتَابِ الِاسْتِحْسَانِ، وَكَذَا إذَا كَانَ عَلَى مَكَان مُرْتَفِعٍ فِي الْمِصْرِ
قَالَ (وَمَنْ رَأَى هِلَالَ الْفِطْرِ وَحْدَهُ لَمْ يُفْطِرْ) احْتِيَاطًا، وَفِي الصَّوْمِ الِاحْتِيَاطُ فِي الْإِيجَابِ.
قَالَ (وَإِذَا كَانَ بِالسَّمَاءِ عِلَّةٌ لَمْ يَقْبَلْ فِي هِلَالِ الْفِطْرِ إلَّا شَهَادَةُ رَجُلَيْنِ أَوْ رَجُلٍ وَامْرَأَتَيْنِ) لِأَنَّهُ تَعَلَّقَ بِهِ نَفْعُ الْعَبْدِ وَهُوَ الْفِطْرُ فَأَشْبَهَ سَائِرَ حُقُوقِهِ، وَالْأَضْحَى كَالْفِطْرِ فِي هَذَا فِي ظَاهِرِ الرِّوَايَةِ وَهُوَ الْأَصَحُّ، خِلَافًا لِمَا رُوِيَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: أَنَّهُ كَهِلَالِ رَمَضَانَ لِأَنَّهُ تَعَلَّقَ بِهِ نَفْعُ الْعِبَادِ وَهُوَ التَّوَسُّعُ بِلُحُومِ الْأَضَاحِيِّ (وَإِنْ لَمْ يَكُنْ بِالسَّمَاءِ عِلَّةٌ لَمْ يَقْبَلْ إلَّا شَهَادَةَ جَمَاعَةٍ يَقَعُ الْعِلْمُ بِخَبَرِهِمْ) كَمَا ذَكَرْنَا.
قَالَ (وَوَقْتُ الصَّوْمِ مِنْ حِينِ طُلُوعِ الْفَجْرِ الثَّانِي إلَى غُرُوبِ الشَّمْسِ) لِقَوْلِهِ تَعَالَى {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ} [البقرة: 187] إلَى أَنْ قَالَ {ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ} [البقرة: 187] وَالْخَيْطَانِ بَيَاضُ النَّهَارِ وَسَوَادُ اللَّيْلِ (وَالصَّوْمُ هُوَ الْإِمْسَاكُ عَنْ الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ وَالْجِمَاعِ نَهَارًا مَعَ النِّيَّةِ) لِأَنَّهُ فِي حَقِيقَةِ اللُّغَةِ: هُوَ الْإِمْسَاكُ عَنْ الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ وَالْجِمَاعِ لِوُرُودِ الِاسْتِعْمَالِ فِيهِ إلَّا أَنَّهُ زِيدَ عَلَيْهِ النِّيَّةُ فِي الشَّرْعِ لِتَتَمَيَّزَ بِهَا الْعِبَادَةُ مِنْ الْعَادَةِ، وَاخْتَصَّ بِالنَّهَارِ لِمَا تَلَوْنَا، وَلِأَنَّهُ لَمَّا تَعَذَّرَ الْوِصَالُ كَانَ تَعْيِينُ النَّهَارِ أَوْلَى لِيَكُونَ عَلَى خِلَافِ الْعَادَةِ، وَعَلَيْهِ مَبْنَى الْعِبَادَةِ، وَالطَّهَارَةُ عَنْ الْحَيْضِ وَالنِّفَاسِ شَرْطٌ لِتَحَقُّقِ الْأَدَاءِ فِي حَقِّ النِّسَاءِ.

No comments:

Post a Comment