কুয়াতে কোন নাজাসাত পড়লে (যদি ১০ হাতের কম হয়) তার পানি বের করে নিতে হবে। আর তাতে বিদ্যমান পানি নিষ্কাশনই তার জন্য তাহারাত বলে গণ্য। এর দলীল হল সলফে সালেহীনের ইজমা। আর কুয়া সংক্রান্ত মাসআলার ভিত্তি হচ্ছে সলফে সালেহীনদের ফাতওয়া, কিয়াস নয়।
কূপে উট বা বকরীর দু’একটি লাদি পড়লে পানি নষ্ট হবে না। এ হুকুম সূক্ষ কিয়াসের ভিত্তিতে। আর সাধারণ কিয়াসের চাহিদা হল পানি নষ্ট হয়ে যাওয়া। কেননা, নাজাসাত পড়েছে অল্প পানিতে।
সূক্ষ কিয়াসের কারণ এই যে, খোলা মাঠের কুয়ার উপরে বাধাদানকারী কোন কিছু থাকে না, আর গবাদিপশু তার আশেপাশে মল ত্যাগ করে, ফলে বাতাসে তা কুয়ায় ফেলে। তাই প্রয়োজনের তাকীদে অল্প পরিমাণ ক্ষমার যোগ্য বলে বিবেচিত। আর অধিক পরিমাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তাকীদ নেই।
ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে ‘দর্শক’ যা অধিক মনে করে, তা-ই অধিক। এ মতই নির্ভরযোগ্য। শূল্ক ও তাজা বিষ্ঠা এবং গোটা ও টুকরা বিষ্ঠা আর উটের লাদা ও ঘোড়ার বা গরু গোবরের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। কেননা, প্রয়োজন সবগুলোতেই ব্যাপ্ত।
দোহন পাত্রে বকরী দু’এক গোটা বিষ্ঠা ত্যাগ করলে সে সম্পর্কে ফকীহ্গণ বলেছেন, বিষ্ঠা ফেলে দিয়ে দুধ পান করা যাবে। কেননা, এখানে প্রয়োজন রয়েছে। কারো কারো মতে সাধারণ পাত্রে অল্পও মা’ফযোগ্য নয়। কেননা, এক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই। আর ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, দু’এক গোটা বিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটাও কুয়ার অনুরূপ।
যদি কুয়ায় কবুতর বা চড়ুইর বিষ্ঠা পড়ে তাহলে পানি নষ্ট হবে না।
ইমাম শাফিঈ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। তার দলীল এই যে, (বিষ্ঠা) পচা ও দূষিত পদার্থে রূপান্তরিত হয়েছে। সুতরাং তা মুরগীর বিষ্ঠার অনুরূপ।
আমাদের দলীল এই যে মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশ সম্বলিত আয়াত সত্তেও মসজিদে কবুতরের অবাধ বিচরণের অনুকূলে মুসলমানদের সাধারণ ঐকমত্য রয়েছে। আর উহার রূপান্তর দুর্গন্ধযুক্ত পচা পদার্থের দিকে নয়। সুতরাং তা কালো কাদা সদৃশ।
যদি কূপে বকরী পেশাব করে দেয় তাহলে ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে সবটুকু পানি ফেলে দিতে হবে। আর ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, যতক্ষণ তা পানির উপর প্রভাব বিস্তার না করে এবং পানির পবিত্র করার গুণ নষ্ট না করে, ততক্ষণ পানি ফেলতে হবে না।
আলোচ্য মতপার্থক্যের ভিত্তি এই যে, হালাল পশুর পেশাব ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে পাক আর ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফের মতে নাপাক।
ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর দলীল এই যে, হালাল পশু ও হারাম পশুর মাঝে কোন পার্থক্য নির্দেশ না করে নবী (সা.) বলেছেন- তোমরা পেশাব থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, কবরের অধিকাংশ আযাব এ কারণেই হয়ে থাকে।
তাছাড়া উক্ত পেশাব পচন ও দুর্গন্ধে পরিবর্তিত হয়েছে। সুতরাং এমন পশুর পেশাবের মত গণ্য হবে, যার গোশত খাওয়া নিষেধ।
ইমাম মুহাম্মদ (র.) বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ওয়াহীর মাধ্যমে (উটের পেশাবে) তাদের রোগ আরোগ্য জানতে পেরেছিলেন।
তবে ইমাম আবূ হানীফা (র.)-এর মতে চিকিত্সা হিসাবেও তা পান করা হালাল নয়। কেননা তাতে আরোগ্য লাভ নিশ্চিত নয়। সুতরাং হারাম হওয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না।
ইমাম আবূ ইউসূফ (র.)-এর মতে (উরায়না গোত্রের) ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চিকিত্সার ক্ষেত্রে তা পান করা হালাল।
ইমাম মুহাম্মদ(র.) এর মতে উক্ত পেশাব পাক হওয়ার কারণে চিকিত্সা হিসাবে এবং সাধারণভাবে তা পান করা হালাল।
যদি কুয়ায় ইঁদুর, চড়ুই, কোয়েল, দোয়েল, টিকটিকি ইত্যাদি মারা যায়, তাহলে বালতির বড়ত্ব ও ছোটত্ব হিসাবে বিশ থেকে ত্রিশ বালতি পর্যন্ত পানি তুলে ফেলতে হবে।
অর্থাত্ ইঁদুর বের করে নেয়ার পর। এর প্রমাণ হল, আনা্স (রা.) বর্ণিত হাদীছে ইঁদুর সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, তা কুয়াতে মারা গেলে এবং তত্ক্ষণা্ত্ তা বের করে নিলে কুয়া থেকে বিশ বালতি পরিমাণ পানি তুলে ফেলতে হবে।
চড়ুই ও অনুরূপ জন্তু যেহেতু দৈহিক পরিমাণে ইঁদুরের সমান তাই এসবের ব্যাপারে একই হুকুম প্রযোজ্য। বিশ বালতি পরিমাণ পানি তুলে ফেলা ওয়াজিব আর ত্রিশ বালতি পরিমাণ মুস্তাহাব।
যদি কবুতর কিংবা তার মত প্রাণী যেমন, মুরগী, বিড়াল ইত্যাদি কুয়ায় পড়ে মারা যায়, তাহলে চল্লিশ থেকে বিশ বালতি পরিমাণ পানি তুলে ফেলতে হবে।
গ্রন্থে চল্লিশ থেকে পণ্চাশ এর কথা আছে। আর তাই অধিক নির্ভরযোগ্য। কেননা আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীছে তিনি মুরগী সম্পর্কে বলেছেন, তা কুয়ায় পড়ে মারা গেলে সেখান থেকে চল্লিশ বালতি পানি তুলে ফেলতে হবে। এ পরিমাণ হলো ওয়াজিবের বিবরণ। আর পণ্চাশ হলো মুস্তাহাব।
প্রত্যেক কুয়ার ক্ষেত্রে সেই বালতিই বিবেচ্য হবে, যা তা থেকে পানি তোলার জন্য ব্যবহৃত হয়। কারো কারো মতে এমন আকারের বালতি হতে হবে, যাতে এক সা’আ পরিমাণ পানি ধরে। আর যদি বৃহ্ত্ বালতি দ্বারা একবার বিশ বালতি পানি ধরে, এমন পানি তুলে ফেলা হয়; তাহলে মূল উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার কারণে তা জাইয হবে।
যদি তাতে বকরী, মানুষ বা কুকুর পড়ে মারা যায়, তাহলে তাতে বিদ্যমান সবটুকু পানি তুলে ফেলতে হবে। কেননা ইবন ‘আব্বাস ও ইবন যুবায়র (রা.) যমযম কূপে জনৈক নিগ্রোর মৃত্যুর কারণে সবটুকু পানি তুলে ফাতওয়া দিয়েছিলেন।
যদি মৃত প্রাণী কুয়ার মধ্যে ফুলে পচে গলে যায়, তাহলে প্রাণী বড় হোক বা ছোট হোক, কুয়ার সবটুকু পানি তুলে ফেলতে হবে।
কেননা পানির সর্বাংশে মৃত দেহের নিঃসৃত রস ছড়িয়ে পড়েছে।
কূপ যদি এমন প্রস্রবণ প্রকৃতির হয় যে, তার পানি তুলে ফেলা অসম্ভব হয়, তাহলে তাতে বিদ্যমান পানির সমপরিমাণ তুলে ফেলতে হবে।
এর পরিমাপ জানার উপায় এই যে, কূয়ার পানির সমতল পরিমাণ অনুরূপ একটি গর্ত খোড়া হবে এবং পানি তুলে তা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তাতে ফেলতে হবে। কিংবা তাতে একটি বাঁশ নামিয়ে পানির উচ্চতা পরিমাণ স্থানে তাতে দাগ কাটা হবে। তারপর ধরুন, দশ বালতি তুলে আবার বাশ নামিয়ে দেখা হবে, কি পরিমাণ হ্রাস পেলো। এরপর প্রত্যেক এই পরিমাণের জন্য দশ বালতি করে পানি উত্তোলন করা হবে।
এ দু’টি উপায় আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত। আর ইমাম মুহাম্মদ (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, দু’শ খেকে তিনশ’ বালতি তুলে ফেললেই হবে। সম্ভবতঃ তিনি নিজ শহরের (বাগদাদে দেখা কুয়াগুলোর) উপরই তার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেছেন। গ্রন্থে এ ধরনের ক্ষেত্রে আবু হানীফা (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, পানি অনবরত তুলতেই থাকবে, যতক্ষণ না পানি তাদের পরাজিত করে ফেলে। তবে পরাজিত করার নির্দিষ্ট সীমা তিনি নির্ধারণ করেননি। (এ ধরনের ক্ষেত্রে) এটাই তাঁর অনুসৃত নীতি। কারো কারো মতে পানির (গভীরতা) সম্পর্কে অভিজ্ঞ দু’জন লোকের মতামত গ্রহণ করা হবে। এ মত ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
যদি লোকেরা ইদুর বা এ ধরনের অন্য কোন প্রাণী কুয়াতে দেখতে পায় এবং কখন পড়েছে তা জানা না যায়, আর তা ফুলে গিয়ে না থাকে আর যদি তারা সে কুয়ার পানি দ্বারা উযূ করে থাকে, তাহলে একদিন এক রাত্রের সালাত দোহরাবে আর ঐ কুয়ার পানি লেগেছে এমন প্রতিটি জিনিস ধুয়ে ফেলতে হবে। আর যদি ফুলে বা পচে গলে গিয়ে থাকে তাহলে তিন দিন তিন রাত্রের সালাত দোহরাবে। ইহা আবূ হানীফা (র.)-এর মত। ইমাম আবূ ইউসূফ ও মুহাম্মদ (র.) বলেন, পতিত হওয়ার সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ছাড়া তাদের কিছুই দোহরান জরুরী নয়। কেননা নিশ্চিত অবস্থা সন্দেহ দ্বারা দূরীভূত হয় না। এটা হল ঐ ব্যক্তির অবস্থার মত যে তার কাপড়ে নাজাসাত দেখতে পেলো, কিন্তু কখন লেগেছে তা সে জানে না।
ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল এই যে, এখানে মৃত্যুর একটি প্রকাশ্য কারণ রয়েছে। তা হল পানিতে পতিত হওয়া। সুতরাং এর সাথে মৃত্যূকে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে যেহেতু ফুলে উঠা সময়ের দীর্ঘতার প্রমাণ, সেহেতু সময় সীমা তিন দিন নির্ধারণ করা হবে। আর ফুলে ফেটি না যাওয়া যেহেতু সময়ের নৈকট্যের প্রমাণ; সেহেতু তার সময়সীমা আমরা একদিন একরাত্র নির্ধারণ করেছি। কেননা, এর নীচে হচ্ছে মূহুর্তসমূহ,যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। অবশ্য (কাপড়ে) নাজাসাত (লেগে থাকার) বিষয়টি সম্পর্কে মুআল্লার বক্তব্য হল, এর মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। অর্থাত্ পুরাতন লাগা নাজাসাতের জন্য তিন দিনের সময় সীমা নির্ধারণ করা হবে। আর তাজা নাজাসাতের বেলায় একদিন এক রাত্রের। আর যদি মতভেদ না থাকার দাবী স্বীকার করেও নেওয়া হয়, তা হলে যেহেতু কাপড় তার দৃষ্টির সম্মুখে থাকে আর কুয়া থাকে দৃষ্টির আড়ালে। সুতরাং দু’টোর মাসআলা আলাদা।
পাদটীকা:
আরবী অংশ:
কূপে উট বা বকরীর দু’একটি লাদি পড়লে পানি নষ্ট হবে না। এ হুকুম সূক্ষ কিয়াসের ভিত্তিতে। আর সাধারণ কিয়াসের চাহিদা হল পানি নষ্ট হয়ে যাওয়া। কেননা, নাজাসাত পড়েছে অল্প পানিতে।
সূক্ষ কিয়াসের কারণ এই যে, খোলা মাঠের কুয়ার উপরে বাধাদানকারী কোন কিছু থাকে না, আর গবাদিপশু তার আশেপাশে মল ত্যাগ করে, ফলে বাতাসে তা কুয়ায় ফেলে। তাই প্রয়োজনের তাকীদে অল্প পরিমাণ ক্ষমার যোগ্য বলে বিবেচিত। আর অধিক পরিমাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তাকীদ নেই।
ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে ‘দর্শক’ যা অধিক মনে করে, তা-ই অধিক। এ মতই নির্ভরযোগ্য। শূল্ক ও তাজা বিষ্ঠা এবং গোটা ও টুকরা বিষ্ঠা আর উটের লাদা ও ঘোড়ার বা গরু গোবরের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। কেননা, প্রয়োজন সবগুলোতেই ব্যাপ্ত।
দোহন পাত্রে বকরী দু’এক গোটা বিষ্ঠা ত্যাগ করলে সে সম্পর্কে ফকীহ্গণ বলেছেন, বিষ্ঠা ফেলে দিয়ে দুধ পান করা যাবে। কেননা, এখানে প্রয়োজন রয়েছে। কারো কারো মতে সাধারণ পাত্রে অল্পও মা’ফযোগ্য নয়। কেননা, এক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই। আর ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, দু’এক গোটা বিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটাও কুয়ার অনুরূপ।
যদি কুয়ায় কবুতর বা চড়ুইর বিষ্ঠা পড়ে তাহলে পানি নষ্ট হবে না।
ইমাম শাফিঈ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। তার দলীল এই যে, (বিষ্ঠা) পচা ও দূষিত পদার্থে রূপান্তরিত হয়েছে। সুতরাং তা মুরগীর বিষ্ঠার অনুরূপ।
আমাদের দলীল এই যে মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশ সম্বলিত আয়াত সত্তেও মসজিদে কবুতরের অবাধ বিচরণের অনুকূলে মুসলমানদের সাধারণ ঐকমত্য রয়েছে। আর উহার রূপান্তর দুর্গন্ধযুক্ত পচা পদার্থের দিকে নয়। সুতরাং তা কালো কাদা সদৃশ।
যদি কূপে বকরী পেশাব করে দেয় তাহলে ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে সবটুকু পানি ফেলে দিতে হবে। আর ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, যতক্ষণ তা পানির উপর প্রভাব বিস্তার না করে এবং পানির পবিত্র করার গুণ নষ্ট না করে, ততক্ষণ পানি ফেলতে হবে না।
আলোচ্য মতপার্থক্যের ভিত্তি এই যে, হালাল পশুর পেশাব ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে পাক আর ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফের মতে নাপাক।
ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর দলীল এই যে, হালাল পশু ও হারাম পশুর মাঝে কোন পার্থক্য নির্দেশ না করে নবী (সা.) বলেছেন- তোমরা পেশাব থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, কবরের অধিকাংশ আযাব এ কারণেই হয়ে থাকে।
তাছাড়া উক্ত পেশাব পচন ও দুর্গন্ধে পরিবর্তিত হয়েছে। সুতরাং এমন পশুর পেশাবের মত গণ্য হবে, যার গোশত খাওয়া নিষেধ।
ইমাম মুহাম্মদ (র.) বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ওয়াহীর মাধ্যমে (উটের পেশাবে) তাদের রোগ আরোগ্য জানতে পেরেছিলেন।
তবে ইমাম আবূ হানীফা (র.)-এর মতে চিকিত্সা হিসাবেও তা পান করা হালাল নয়। কেননা তাতে আরোগ্য লাভ নিশ্চিত নয়। সুতরাং হারাম হওয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না।
ইমাম আবূ ইউসূফ (র.)-এর মতে (উরায়না গোত্রের) ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চিকিত্সার ক্ষেত্রে তা পান করা হালাল।
ইমাম মুহাম্মদ(র.) এর মতে উক্ত পেশাব পাক হওয়ার কারণে চিকিত্সা হিসাবে এবং সাধারণভাবে তা পান করা হালাল।
যদি কুয়ায় ইঁদুর, চড়ুই, কোয়েল, দোয়েল, টিকটিকি ইত্যাদি মারা যায়, তাহলে বালতির বড়ত্ব ও ছোটত্ব হিসাবে বিশ থেকে ত্রিশ বালতি পর্যন্ত পানি তুলে ফেলতে হবে।
অর্থাত্ ইঁদুর বের করে নেয়ার পর। এর প্রমাণ হল, আনা্স (রা.) বর্ণিত হাদীছে ইঁদুর সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, তা কুয়াতে মারা গেলে এবং তত্ক্ষণা্ত্ তা বের করে নিলে কুয়া থেকে বিশ বালতি পরিমাণ পানি তুলে ফেলতে হবে।
চড়ুই ও অনুরূপ জন্তু যেহেতু দৈহিক পরিমাণে ইঁদুরের সমান তাই এসবের ব্যাপারে একই হুকুম প্রযোজ্য। বিশ বালতি পরিমাণ পানি তুলে ফেলা ওয়াজিব আর ত্রিশ বালতি পরিমাণ মুস্তাহাব।
যদি কবুতর কিংবা তার মত প্রাণী যেমন, মুরগী, বিড়াল ইত্যাদি কুয়ায় পড়ে মারা যায়, তাহলে চল্লিশ থেকে বিশ বালতি পরিমাণ পানি তুলে ফেলতে হবে।
গ্রন্থে চল্লিশ থেকে পণ্চাশ এর কথা আছে। আর তাই অধিক নির্ভরযোগ্য। কেননা আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীছে তিনি মুরগী সম্পর্কে বলেছেন, তা কুয়ায় পড়ে মারা গেলে সেখান থেকে চল্লিশ বালতি পানি তুলে ফেলতে হবে। এ পরিমাণ হলো ওয়াজিবের বিবরণ। আর পণ্চাশ হলো মুস্তাহাব।
প্রত্যেক কুয়ার ক্ষেত্রে সেই বালতিই বিবেচ্য হবে, যা তা থেকে পানি তোলার জন্য ব্যবহৃত হয়। কারো কারো মতে এমন আকারের বালতি হতে হবে, যাতে এক সা’আ পরিমাণ পানি ধরে। আর যদি বৃহ্ত্ বালতি দ্বারা একবার বিশ বালতি পানি ধরে, এমন পানি তুলে ফেলা হয়; তাহলে মূল উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার কারণে তা জাইয হবে।
যদি তাতে বকরী, মানুষ বা কুকুর পড়ে মারা যায়, তাহলে তাতে বিদ্যমান সবটুকু পানি তুলে ফেলতে হবে। কেননা ইবন ‘আব্বাস ও ইবন যুবায়র (রা.) যমযম কূপে জনৈক নিগ্রোর মৃত্যুর কারণে সবটুকু পানি তুলে ফাতওয়া দিয়েছিলেন।
যদি মৃত প্রাণী কুয়ার মধ্যে ফুলে পচে গলে যায়, তাহলে প্রাণী বড় হোক বা ছোট হোক, কুয়ার সবটুকু পানি তুলে ফেলতে হবে।
কেননা পানির সর্বাংশে মৃত দেহের নিঃসৃত রস ছড়িয়ে পড়েছে।
কূপ যদি এমন প্রস্রবণ প্রকৃতির হয় যে, তার পানি তুলে ফেলা অসম্ভব হয়, তাহলে তাতে বিদ্যমান পানির সমপরিমাণ তুলে ফেলতে হবে।
এর পরিমাপ জানার উপায় এই যে, কূয়ার পানির সমতল পরিমাণ অনুরূপ একটি গর্ত খোড়া হবে এবং পানি তুলে তা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তাতে ফেলতে হবে। কিংবা তাতে একটি বাঁশ নামিয়ে পানির উচ্চতা পরিমাণ স্থানে তাতে দাগ কাটা হবে। তারপর ধরুন, দশ বালতি তুলে আবার বাশ নামিয়ে দেখা হবে, কি পরিমাণ হ্রাস পেলো। এরপর প্রত্যেক এই পরিমাণের জন্য দশ বালতি করে পানি উত্তোলন করা হবে।
এ দু’টি উপায় আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত। আর ইমাম মুহাম্মদ (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, দু’শ খেকে তিনশ’ বালতি তুলে ফেললেই হবে। সম্ভবতঃ তিনি নিজ শহরের (বাগদাদে দেখা কুয়াগুলোর) উপরই তার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেছেন। গ্রন্থে এ ধরনের ক্ষেত্রে আবু হানীফা (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, পানি অনবরত তুলতেই থাকবে, যতক্ষণ না পানি তাদের পরাজিত করে ফেলে। তবে পরাজিত করার নির্দিষ্ট সীমা তিনি নির্ধারণ করেননি। (এ ধরনের ক্ষেত্রে) এটাই তাঁর অনুসৃত নীতি। কারো কারো মতে পানির (গভীরতা) সম্পর্কে অভিজ্ঞ দু’জন লোকের মতামত গ্রহণ করা হবে। এ মত ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
যদি লোকেরা ইদুর বা এ ধরনের অন্য কোন প্রাণী কুয়াতে দেখতে পায় এবং কখন পড়েছে তা জানা না যায়, আর তা ফুলে গিয়ে না থাকে আর যদি তারা সে কুয়ার পানি দ্বারা উযূ করে থাকে, তাহলে একদিন এক রাত্রের সালাত দোহরাবে আর ঐ কুয়ার পানি লেগেছে এমন প্রতিটি জিনিস ধুয়ে ফেলতে হবে। আর যদি ফুলে বা পচে গলে গিয়ে থাকে তাহলে তিন দিন তিন রাত্রের সালাত দোহরাবে। ইহা আবূ হানীফা (র.)-এর মত। ইমাম আবূ ইউসূফ ও মুহাম্মদ (র.) বলেন, পতিত হওয়ার সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ছাড়া তাদের কিছুই দোহরান জরুরী নয়। কেননা নিশ্চিত অবস্থা সন্দেহ দ্বারা দূরীভূত হয় না। এটা হল ঐ ব্যক্তির অবস্থার মত যে তার কাপড়ে নাজাসাত দেখতে পেলো, কিন্তু কখন লেগেছে তা সে জানে না।
ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল এই যে, এখানে মৃত্যুর একটি প্রকাশ্য কারণ রয়েছে। তা হল পানিতে পতিত হওয়া। সুতরাং এর সাথে মৃত্যূকে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে যেহেতু ফুলে উঠা সময়ের দীর্ঘতার প্রমাণ, সেহেতু সময় সীমা তিন দিন নির্ধারণ করা হবে। আর ফুলে ফেটি না যাওয়া যেহেতু সময়ের নৈকট্যের প্রমাণ; সেহেতু তার সময়সীমা আমরা একদিন একরাত্র নির্ধারণ করেছি। কেননা, এর নীচে হচ্ছে মূহুর্তসমূহ,যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। অবশ্য (কাপড়ে) নাজাসাত (লেগে থাকার) বিষয়টি সম্পর্কে মুআল্লার বক্তব্য হল, এর মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। অর্থাত্ পুরাতন লাগা নাজাসাতের জন্য তিন দিনের সময় সীমা নির্ধারণ করা হবে। আর তাজা নাজাসাতের বেলায় একদিন এক রাত্রের। আর যদি মতভেদ না থাকার দাবী স্বীকার করেও নেওয়া হয়, তা হলে যেহেতু কাপড় তার দৃষ্টির সম্মুখে থাকে আর কুয়া থাকে দৃষ্টির আড়ালে। সুতরাং দু’টোর মাসআলা আলাদা।
পাদটীকা:
আরবী অংশ:
No comments:
Post a Comment