অনুচ্ছেদ : নামাজের মাকরূহ সময়
فصل في الأوقات التي تكره فيها الصلاة
অনুবাদ: সূর্যদোয়ের সময়, মধ্যাহ্নে সূর্য মধ্যকাশে অবস্থানের সময় এবং সূর্যাস্তের সময় নামাজ আদায় করা জায়েজ নেই। দলিল উকবা ইবনে আমির (রা.) বলেছেন, রাসূল তিনটি সময়ে আমাদেরকে নামাজ পড়তে এবং মৃতদের দাফন করতে নিষেধ করেছেন, সূর্যোদয়কালে সূর্য উপরে উঠে যাওয়া পর্যন্ত, মধ্যাহ্ন কালে সূর্য হেলে পড়া পর্যন্ত, আর যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন থেকে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। লেখকের বক্তব্য وان نقبر -এর দ্বারা উদ্দেশ্য জানাযার নামাজ। কেননা (ইজমা দ্বারা প্রমাণ যে, উক্ত সময়ে) দাফন করা মাকরূহ নয়। আলোচ্য হাদীসটির অর্থ ব্যাপক হওয়ার কারণে ইমাম শাফেঈ (র.)-এর বিপক্ষে দলিল, ফরজসমূহ মক্কাতে খাস বা নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে এবং ইমাম আবু ইউসুফ (র.)-এর বিপক্ষেও দলিল, জুমার দিন' মধ্যাহ্নকালে নফল জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
ব্যাখ্যা: পূর্বে নামাজের সময়ের দুই প্রকারের মধ্য হতে মোস্তাহাব সময়ের বর্ণনা ছিল। এ পরিচ্ছেদে দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ মাকরূহ সময়ের বর্ণনা পেশ করা হয়েছে। এখানে کراهت বা মাকরূহ হওয়া ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত। মাকরূহ এর সাথে জায়েজ এবং সম্পূর্ণ নাজায়েজ উভয়কে বুঝায়। মোটকথা হচ্ছে আমাদের নিকটে সূর্যোদয়, মধ্যাহ্ন কালও সূর্যাস্ত কালে ফরজ পড়াও জায়েজ নেই নফল পড়াও জায়েজ নেই। পক্ষান্তরে ইমাম শাফেঈ (র.) বলেছেন যে, উক্ত সময়গুলোতে সকল শহর এবং সকল স্থানে ফরজ নামাজ পড়া জায়েজ আছে এবং পবিত্র মাক্কায় উক্ত সময়গুলোতে নফল নামাজ পড়া জায়েজ আছে। (ইনায়া)।
ফতহুল কাদীর প্রণেতা লিখেছেন যে, উক্ত সময়গুলোতে ইমাম শাফেঈ (র.)-এর মতে পবিত্র মক্কায় যে কোনো নামাজ আদায় করা জায়েজ আছে। ফরজ হোক বা নফল হোক। ইমাম আবূ ইউসুফ (র.) বলেছেন, জুমার দিনে মধ্যাহ্ন কালে নফল নামাজ পড়া জায়েজ আছে। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.)-এর দলিল হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) এবং হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদীস-
إِنَّ رَسُولَ اللهِ اللهُ نَهَى عَنِ الصَّلَاةِ نِصْفَ النَّهَارِ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ إِلَّا يَوْمَ الْجُمُعَةِ .
অর্থ- রাসূল মধ্যাহ্ন কালে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য হেলে না পড়ে। তবে হাঁ জুমার দিন এর ব্যতিক্রম। ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে ইমাম শাফেঈ (র.)-এর দলিল-
مَنْ نَامَ عَنْ صَلَاةٍ أَوْ نَسِبَهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ ذَلِكَ وَقْتُهَا
যে ব্যক্তি নামাজের সময় ঘুমিয়ে পড়ে অথবা ভুলে যায়, সে যেন স্মরণ হলেই নামাজ পড়ে নেয়, কারণ এটাই তার সময়।
অর্থ- যে ব্যক্তি নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা নামাজ পড়তে ভুলে যায়, তাহলে ঐ নামাজ পড়ে নেবে যখন তা স্মরণ হয়। কেননা উহাই তার সময়। এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, ঐ সময়গুলোতেও ফরজ পড়া জায়েজ আছে। উক্ত সময়ে পবিত্র মক্কায় নফল নামাজ বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে হযরত আবূ যর (রা.)-এর নিম্নোক্ত হাদীসটি দলিল। হযরত আবু যর (রা.) বলেন, উক্ত সময়ে পবিত্র মক্কা ব্যতীত নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। অন্যত্র রাসূল ইরশাদ করেছেন,
يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ لَا تَمْنَعُوا أَحْدًا طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ وَصَلَّى فِي أَيَّةِ سَاعَةٍ شَاءَ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ .
অর্থ: হে বনি আবদে মানাফ! তোমরা কোনো ব্যক্তিকে এ গৃহে তওয়াফ করতে এবং নামাজ পড়তে বাধা দিও না রাত্র দিনে যখনই নামাজ পড়তে চায়। এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, পবিত্র মাক্কায় সর্বদা নামাজ পড়া জায়েজ আছে। আমাদের দলিল ওবা ইবনে আমির (রা.)-এর হাদীস -
قَالَ ثَلْمَةُ أَوْقَاتٍ نَهَانَا رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ تُصَلِّي وَأَنْ تَقْبَرَ فِيهَا مَوْتَانَا عِندَ طُلُوعِ الشَّمْسِ حَتَّى تَرْتَفِعُ وَعِندَ زَوَالِهَا حَتَّى تَزُولَ وَحِينَ تَضِيفَ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ .
হযরত ওকবা ইবনে আমির (রা.)-এর হাদীসে নামাজের দ্বারা উদ্দেশ্য ব্যাপক, ফরজ হোক বা নফল হোক এবং وان نقبر দ্বারা জানাযার নামাজ উদ্দেশ্য। কেননা ঐ সময়ে মৃত্যু ব্যক্তিকে দাফন করা মাকরূহ নয়। এখন মর্ম এই দাঁড়াল যে, রাসূল ঐ সময় সাধারণ নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন; চাই ফরজ হোক বা নফল হোক এবং জানাযার নামাজ পড়তেও নিষেধ করেছেন। অতএব এ হাদীস ইমাম শাফেঈ (র.) এবং ইমাম আবূ ইউসুফ (র.)-এর বিপক্ষে (আমাদের) দলিল। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের জবাব (استثناء منقطع الاك إلا يوم الجمعة) অসম গোত্রীয় ব্যত্যয়।
দ্বিতীয় জবাব হচ্ছে إِلَّا يَوْمَ الْجُمُعَةِ এর অর্থ হবে لا يَوْمَ الْجُمُعَةِ সুতরাং হাদীসের মর্ম হবে রাসূল (সা) মধ্যাহ্নকালে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করছেন এবং জুমার দিনেরও নামাজ পড়বে না। ইমাম শাফেঈ (র.)-এর বর্ণিত হাদীস مَنْ نَامَ عَنْ صَلَاةِ الخ -এর জবাব-এ হাদীস দ্বারাই ঐ তিন সময়ে নামাজ আদায়ের বৈধতা সাবেত হয় এবং ওকবা ইবনে আমির (রা.)-এর হাদীস দ্বারা নামাজ পড়া হারাম সাবিত হয়। উসূলে ফিকহের গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, বৈধ এবং অবৈধ (হারাম) একত্রিত হলে অবৈধ প্রাধান্য পায়। এ কারণে এখানে ওকবা ইবনে আমির (রা.)-এর হাদীসের প্রাধান্য হবে। হযরত আবূ যর (রা.)-এরহাদীসের উত্তর হলো الا بمكة-এর অর্থ হবে ولا بمكة যেমন আল্লাহর বাণী الا خطاء এর অর্থ ولاخطاء অতএব এ হাদীস ইমাম শাফেঈ (র.)-এর দলিল হবে না। وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالصَّرَابِ
قال: "ولا صلاة جنازة" لما روينا "ولا سجدة تلاوة" لأنها في معنى الصلاة إلا عصر يومه عند الغروب لأن السبب هو الجزء القائم من الوقت لأنه لو تعلق بالكل لوجب الأداء بعده ولو تعلق بالجزء الماضي فالمؤدى في آخر الوقت قاض وإذا كان كذلك فقد أداها كما وجبت بخلاف غيرها من الصلوات لأنها وجبت كاملة فلا تتأدى بالنقص. قال ﵁: والمراد بالنفي المذكور في صلاة الجنازة وسجدة التلاوة الكراهة حتى لو صلاها فيه أو تلا فيه آية السجدة فسجدها جاز لأنها أديت ناقصة كما وجبت إذ الوجوب بحضور الجنازة والتلاوة.
অনুবাদ: ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, যে জানাযার নামাজ জায়েজ হবে না, আমাদের বর্ণিত হাদীসের ভিত্তিতে -এবং সাজদায়ে তেলাওয়াতও জায়েজ হবে না। কেননা তা নামাজের অংশ বিশেষ। তবে সূর্যাস্তের সময় ঐ দিনের আসর আদায় করা যাবে। নামজ ওয়াজিব হওয়ার سبب বা হেতু হচ্ছে সময়ের সেই অংশ যা বিদ্যমান আছে অর্থাৎ নামাজ আরম্ভের পূর্ব মুহূর্ত। কেননা سبب বা হেতুর সম্পর্ক যদি পূর্ণ সময়ের সাথে হয়, তাহলে সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরে নামাজ আদায় করা ওয়াজিব হয়। আর সময়ের বিগত অংশের সাথে যদি সম্পর্কিত হয়, তাহলে শেষ সময়ে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি নামাজ কাজাকারী হিসাবে গণ্য হয়। বিষয়টি যখন এমনই হলো, তবে তো তার ওপর যেমন ওয়াজিব হয়েছে, সে তেমনই আদায় করেছে। আর অন্যান্য নামাজ-এর ব্যতিক্রম। কেননা সেগুলো পূর্ণাঙ্গ সময়ে ওয়াজিব হয়েছে। সুতরাং অপূর্ণাঙ্গ সময়ে তা আদায় করতে পারে না। হিদায়া গ্রন্থকার বলেন, জানাযার নামাজ এবং তেলাওয়াতে সিজদা সম্পর্কে উল্লিখিত নাজায়েজের অর্থ হলো মাকরূহ হওয়া। সুতরাং যদি কেউ ঐ সময়ে জানাযার নামাজ আদায় করে কিংবা সিজদার আয়াত তেলাওয়াত করতঃ উক্ত তেলাওয়াতের সাজদা আদায় করে, তাহলে জায়েজ হবে। কেননা যেমন নাকিস (ناقص) সময়ে তা ওয়াজিব হয়েছে তেমনি নাকিস সময়ে তা আদায় করা হয়েছে। কেননা জানাযা উপস্থিত হওয়া এবং তেলাওয়াত করার মাধ্যমে তা ওয়াজিব হয়।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
গ্রন্থকার বলেছেন, উক্ত তিন সময়ে জানাযার নামাজ এবং সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করবে না। দলিল পূর্বোক্ত হাদীস অর্থাৎ أَنْ تَقْبَرَ مَوْتَانَا এবং সিজদায়ে তেলাওয়াত নাজায়েজ হওয়ার দলিল হলো যে, সিজদায়ে তেলাওয়াত নামাজের অংশ বিশেষ, তা এ ভাবে যে, নামাজের মধ্যে যেমন পবিত্রতা, সতর ঢাকা, কেবলামুখী হওয়া ইত্যাদি শর্ত অনুরূপভাবে ঐগুলো সিজদায়ে তেলাওয়াতের মধ্যেও শর্ত।
সিজদায়ে তেলাওয়াত নামাজের অংশ বিশেষ বিধায় তা উক্ত তিন সময়ে নামাজের ন্যায় নিষিদ্ধ হবে। এ মর্মে নবী করীম - বলেছেন, - ثَلَاثَةُ أَوْقَاتٍ نَهَانَا رَسُولُ اللهِ أَنْ نُصَلَّى فيها এখানে একটি প্রশ্ন হতে পারে-সিজদায়ে তেলাওয়াত নামাজের অংশ বিশেষ। তবে অট্টহাসির দ্বারা যেমন অজু এবং নামাজ বাতিল হয় অনুরূপভাবে অট্টহাসি দ্বারা - সিজদায়ে তেলাওয়াতও বাতিল হওয়া চাই। অথচ সিজদায়ে তেলাওয়াত অট্টহাসি দ্বারা বাতিল হয় না। উত্তর- যে নামাজে অট্টহাসিকে অজু ভঙ্গের কারণ ধরা হয়েছে, তার দ্বারা তাহরীমা, রুকু এবং সিজদা বিশিষ্ট নামাজকে বুঝানো হয়েছে। পক্ষান্তরে সিজদায়ে তেলাওয়াত এমন নয়, বিধায় অট্টহাসি দ্বারা তা ভাঙ্গে না। উক্ত তিন সময়ে নামাজ পড়তে এ জন্য নিষেধ করা হয়েছে যেন সূর্য উপাসনাকারীদের সঙ্গে সাদৃশ্য না হয়ে যায়।
শাইখ আবুল হাসান কদূরী (র.) বলেছেন, তিন সময়ে সবধরনের নামাজ পড়া নিষেধ। তবে ঐ দিনের আসরের নামাজ উক্ত হুকুম থেকে ব্যতিক্রম, অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি আসরের নামাজ পড়েনি। সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় হয়ে গেছে, এমতাবস্থায় ঐ দিনের আসরের নামাজ পড়ে নেবে। তবে অন্য কোনো নামাজ বা অন্য দিনের আসরের নামাজ ঐ সময় পড়া জায়েজ নেই। দলিলের পূর্বে কতিপয় জিনিস আত্মস্থ করতে হবে।
(১) সময় নামাজ ওয়াজিব হওয়ার কারণ। (২) সবব (سبب) বা কারণ মুসাব্বাব (مسبب) হতে পূর্বে হয়। (৩) সবব যেমন হবে মুসাবাবও তেমন হবে। অর্থাৎ সবব যদি কামিল (کامل) হয়, তাহলে মুসাব্বাবও কামিল ওয়াজিব হবে। পক্ষান্তরে সবব যদি নাকিস (ناقص) বা অসম্পূর্ণ হয় তাহলে মুসাব্বাবও নাকিস ওয়াজিব হবে। (৪) নামাজ যদি কামিলভাবে ওয়াজিব হয়, তাহলেতো কামিলভাবে আদায় করা জরুরি। পক্ষান্তরে যদি নামাজ নাকিসভাবে ওয়াজিব হয় তাহলে নাকিসভাবে আদায় করার দ্বারা তা আদায় হয়ে যাবে। দলিলের সারকথা হলো যে, যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের সময় আসরের নামাজ আদায় করে তার সবব (سبب) -এর মধ্যে তিনটি সম্ভাবনা আছে-এক পূর্ণ সময়কে সবব (سبب) ধরা হবে। দুই ওয়াক্তের অতিবাহিত অংশ সবব। তিন-নামাজ আদায় করার অংশটি সবব (سبب) হবে। প্রথম সম্ভাবনা দু'টি বাতিল, কেননা যদি পূর্ণ সময়কে সবব (سبب) ধরা হয় তাহলে সময় শেষ হওয়ার পর নামাজ আদায় করা ওয়াজিব হওয়া চাই। কেননা মুসাব্বাব (مسبب) টি সবব (سبب)-এর পরে হয়। অথচ নামাজ সময়ের মধ্যে ওয়াজিব হয়। সময়ের পরে হয় না। অতএব বুঝা গেল যে, পূর্ণ সময় নামাজ ওযাজিবের সবব (سبب) নয়। দ্বিতীয় সম্ভাবনা এ জন্য বাতিল যে, যদি ওয়াক্তের অতিবাহিত অংশকে সবব ধরা হয়, তাহলে যে ব্যক্তি ওয়াক্তের শেষ মুহূর্তে নামাজ পড়বে সে ব্যক্তিকে কাজা নামাজ আদায়কারী হিসাবে জ্ঞান করা উচিত। অথচ তাকে কাজা নামাজ আদায়কারী হিসাবে জ্ঞান করা হয় না। অতএব বুঝা গেল যে, ওয়াক্তের যে অংশে নামাজ আদায় করেছে তাই নামাজ ওয়াজিব হওয়ার সবব। উক্ত মাসআলায় যে অংশে নামাজ আদায় করেছে তা নাকিস সময়। পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সময় যদি নাকিস হয় তাহলে নামাজ নাকিস হিসাবে ওয়াজিব হবে, যেমন ওয়াজিব হয়েছে এমনই আদায় করেছে। এ ভিত্তিতে আমরা বলেছি যে, ঐ দিনের আসরের নামাজ সূর্যাস্তের সময় পড়া জায়েজ আছে। পক্ষান্তরে ঐ দিনের আসর ব্যতীত অন্যান্য নামাজ সূর্যাস্তের সময় আদায় করার দ্বারা আদায় হবে না। কেননা ঐ নামাজগুলো পূর্ণভাবে ওয়াজিব হয়েছে, বিধায় নাকিস সময়ে আদায় হবে না।
হিদায়া গ্রন্থকার বলেন, জানাযার নামাজ এবং সিজদায়ে তেলাওয়াত যে নিষেধ করা হয়েছে, তার দ্বারা মকরূহ হওয়া বুঝানো হয়েছে, অর্থাৎ এ দু'টি আমল উক্ত সময়ে মাকরূহ (مکروه)। এমনকি যদি মাকরূহ সময়ে জানাযা আসে এবং মাকরূহ সময়ে জানাযার নামাজ আদায় করে অথবা মাকরূহ সময়ে সিজদার আয়াত তেলাওয়াত করে এবং মাকরূহ সময়ে তা আদায় করে, তাহলে জায়েজ হবে। তার দলিল হলো- জানাযার নামাজ ওয়াজিব হওয়ার সবব (سبب) হলো জানাযার উপস্থিতি এবং সিজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হওয়ার সবব (سبب) হলো সিজদার আয়াত তেলাওয়াত করা। যেহেতু এ দু'টি সবব (سبب) নাকিস সময় অর্থাৎ মাকরূহ সময়ে পাওয়া গিয়েছে, এ কারণে জানাযার নামাজ এবং সিজদায়ে তেলাওয়াত নাকিসভাবে ওয়াজিব হয়েছে, অতএব এ দু'টি সেভাবে ওয়াজিব হয়েছে ঐ ভাবে আদায় হয়েছে, বিধায় দু'টির আদায় জায়েজ হয়েছে, পক্ষান্তরে ফরজসমূহ উক্ত তিন সময়ে জায়েজ হবে না।
"ويكره أن يتنفل بعد الفجر حتى تطلع الشمس وبعد العصر حتى تغرب" لما روي أنه ﵊ نهى عن ذلك "ولا بأس بأن يصلي في هذين الوقتين الفوائت ويسجد للتلاوة ويصلي على الجنازة" لأن الكراهة كانت لحق الفرض ليصير الوقت كالمشغول به لا لمعنى في الوقت فلم تظهر في حق الفرائض وفيما وجب لعينه كسجدة التلاوة وظهرت في حق المنذور لأنه تعلق وجوبه بسبب من جهته وفي حق ركعتي الطواف وفي الذي شرع فيه ثم أفسده لأن الوجوب لغيره وهو ختم الطواف وصيانة المؤدي عن البطلان "ويكره أن يتنفل بعد طلوع الفجر بأكثر من ركعتي الفجر" لأنه ﵊ لم يزد عليهما مع حرصه على الصلاة "ولا يتنفل بعد الغروب قبل الفرض" لما فيه من تأخير المغرب "ولا إذا خرج الإمام للخطبة يوم الجمعة إلى أن يفرغ من خطبته" لما فيه من الاشتغال عن استماع الخطبة.
অনুবাদ: ফজরের পরে সূর্যোদয় পর্যন্ত নফল পড়া এবং আসরের পরে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত নফল পড়া মাকরূহ। কেননা বর্ণিত আছে যে, মহানবী তা নিষেধ করেছেন। তবে এ দু সময়ে কাজা নামাজ এবং তেলাওয়াতে সিজদা আদায় করতে পারে এবং জানাযার নামাজ আদায় করতে পারে। কেননা এ মাকরূহ হওয়াটা ছিল ফরজের মর্যাদার ভিত্তিতে। যেন সম্পূর্ণ সময়টা সালাতে মাশগুল তুল্য হয়ে যায়। এ (মাকরূহ হওয়াটা) সময়ের নিজস্ব কোনো প্রকৃতির কারণে নয়। সুতরাং ফরজসমূহের ক্ষেত্রে এবং যে সব ইবাদত স্বকীয়ভাবে ওয়াজিব হয়, যেমন তেলাওয়াতের সিজদা, সেগুলোর ক্ষেত্রে সময়ের মাকরূহ হওয়ার হুকুম প্রকাশ পাবে না। সিজদায়ে তেলাওয়াতে ওয়াজিব হওয়াটা বান্দার কর্মের উপর নির্ভরশীল নয়। নামাজ (মানতকৃত নামাজ)-এর ক্ষেত্রে তা প্রকাশ পাবে। কেননা উক্ত ইবাদতে আবশ্যকতা তার নিজের পক্ষ থেকে সৃষ্ট কারণের সাথে সম্পৃক্ত এবং তওয়াফের রাকআতদ্বয়ের ক্ষেত্রেও মাকরূহ হওয়া প্রকাশ পাবে এবং ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রেও মাকরূহ হওয়া প্রকাশ পাবে যে নফল নামাজ আরম্ভ করে ভেঙ্গে দেয়। কেননা উক্ত নামাজ ওয়াজিব হওয়া তার নিজস্ব কারণে নয়, অন্য কারণে। আর তাহলো তওয়াফ খতম করা এবং শুরু করা নামাজকে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা। ফজর উদয়ের পর ফজরের দু রাকআতের অধিক, নফল আদায় করা মাকরূহ। কেননা নামাজের প্রতি অনুরাগ সত্ত্বেও উক্ত দু রাকআতের অতিরিক্ত নামাজ নবী করীম আদায় করেন নি। সূর্যাস্তের পর, ফরজের পূর্বে কোনো নফল আদায় করবে না। কেননা তাতে মাগ্রিবকে বিলম্ব করা হয়। তদ্রূপ জুমার দিন ইমাম যখন খুৎবার জন্য (হুজরা থেকে) বের হবেন তখন থেকে খুৎবা শেষ হওয়া পর্যন্ত নফল আদায় করবে না। কেননা তাতে খুৎবা শ্রবণ করা থেকে অনন্য-মনস্ক হওয়া লাযিম আসে।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
মাসআলা হলো, ফজরের পর থেকে নিয়ে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসর থেকে নিয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নফল নামাজ আদায় করা মাকরূহ। দলিল হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীস-
شهد عندي رجال المرضيون وأرضاهم عندي عمر أن رَسُول اللهِ ﷺ نَهى عَنِ الصَّلُوةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى شَهَد عِنْدِي رِجَالٌ مَرْضِبُونَ وَأَرْضَاهُمْ عِندِي عُمر أَنَّ رَسُولَ اللهِ تشْرِقُ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَعْرُبَ - (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমার সন্তোষভাজন হক প্রসঙ্গ ব্যক্তিগণ সাক্ষ্য দিয়েছেন, তন্মধ্যে হযরত ওমর সর্বাধিক সন্তোষভাজন ব্যক্তি। (তিনি বলেন, আমাকে) রাসূল ফজরের পরে সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত নামাজ পড়তে এবং আসরের পর সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ) হযরত আয়েশা (রা.) সূত্রে বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীসটি উক্ত হাদীসের বিপরীত,
رَكْعَتَانِ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَدَعُهُما سِرًا وَلَا عَلَانِيَةً رَكْعَتَانِ قَبْلَ صَلَاةِ الصُّبْحِ وَرَكْعَتَانِ بَعْدَ الْعَصْرِ -
অর্থ: দু' রাকআত নামাজ রাসূল গোপন ও প্রকাশ্য কোনো অবস্থায়ই ছাড়েননি। ফজরের নামাজের পূর্বে দু' রাকআত এবং আসরের নামাজের পরে দু' রাকআত। অন্য একটি রেওয়ায়েতে বর্ণিত আছে, مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺه بأنني في يومٍ بَعْدَ الْعَصْرِ إِلَّا صَلَّى رَكْعَتَيْنِ রাসূল আমার নিকট আসরের পর আসলেই দু' রাকআত নামাজ পড়তেন। উক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা বুঝা গেল যে, রাসূল আসরের পর দু রাকআত নামাজ প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পড়েছেন। তার জবাব হলো, আসরের পর দু রাকআত নামাজ পড়া রাসূল-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। অতএব উহা রাসূল-এর উম্মতের জন্য জায়েজ হবে না। তার দলিল হলো যে, একদা জোহরের পর আবদুল কায়সের কতিপয় লোক রাসূল-এর খেদমতে হাজির হলেন, রাসূল তাঁদের সঙ্গে দীনি আলাপ আলোচনায় মগ্ন হয়ে যাওয়ায় জোহরের পরের দু' রাকাআত সুন্নত পড়তে পারেননি, বিধায় উক্ত ক্ষতিপূরণ করার নিমিত্তে আসরের পর দু' রাকআত নামাজ পড়লেন। রাসূল-এর -এর অভ্যাস অত ছিল যে, যখন কোনো আমল আরম্ভ করতেন, তা সর্বদা আমল করে যেতেন। এ জন্য রাসূল আসরের পরে সর্বদা দু' রাকআত নামাজ পড়তেন এবং অন্যদেরকে তা পড়তে নিষেধ করতেন। আল্লামা ইবনে হুমাম বুখারী এবং মুসলিম শরীফের বরাত দিয়ে পূর্ণ ঘটনা এভাবে লেখেছেন-
عَنْ كُرَيْبِ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا أَنَّ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ وَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَزْهَرَ وَمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ أَرْسَلُوهُ إِلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبي ﷺ فَقَالُوا إِقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلَامَ مِنَّا جَمِيعًا وَسَلْهَا عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ العَصر وَقُلْ بَلَغَنَا أَنَّكِ لَتُصَلِّيْهِمَا وَإِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ نَهَى عَنْهُمَا قَالَ كُرَيْبُ فَدَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا فَأَخْبَرَتْهَا فَقَالَتْ سَلْ أُمَّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا فَرَجَعْتُ إِلَيْهِمْ فَأَخْبَرْتُهُمْ فَرَدُّونِي إِلى أُمِّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْهُمَا ثُمَّ رَايَتُهُ يُصَلِّيْهِمَا فَقِيلَ لَهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ إِنَّهُ أَتَانِي نَاسٌ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ بِالرُّسُلِ مِنْ قَوْمِهِمْ فَشَغَلُونِي عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ وَهُمَا هَاتَانِ --
অর্থ- কুরাইব (রা.) (ইবনে আব্বাস (রা.)-এর আজাদকৃত গোলাম)-এর সূত্রে বার্ণিত রয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) আবদুর রহমান ইবনে আযহার এবং মিস্ওয়ার ইবনে মাখরামা (র.) আমাকে (কুরাইব (রা.) উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা.) -এর খেদমতে পাঠালেন এবং বললেন আমাদের সকলের পক্ষ থেকে হযরত আয়েশা (রা.)-এর খেদমতে সালাম পেশ করো এবং আসরের পরে দু' রাকআত নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো। আমাদের নিকট সংবাদ আসছে যে, আপনি ঐ দু রাকআত নামাজ পড়েন, অথচ রাসূল উহা হতে নিষেধ করেছেন। হযরত কুরাইব (রা.) বলেন, - এরপর আমি হযরত আয়েশা (রা.)-এর খেদমতে গিয়ে ঐ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন যে, হযরত উম্মে সালমা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করো। তাকে বলবে তখন আমি তাঁদের নিকট গিয়ে সংবাদ দিলাম। অতঃপর তারা আমাকে উম্মে সালমা (রা.)-এর নিকটে পাঠালেন। উম্মে সালমা (রা.) বললেন, আমি রাসূল-এর নিকট শুনেছি যে, তিনি আসরের পর নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন, অতঃপর আমি দেখেছি যে, তিনি ঐ দু রাকআত নামাজ পড়েছেন। তখন এতদ্ সম্পর্কে তাকে (রাসূলকে) জিজ্ঞাসা করা হলো। রাসূল উত্তর দিলেন যে, আমার নিকট আবদুল কায়েসের কতিপয় লোক স্বীয় গোত্রের প্রতিনিধি হয়ে আসলেন। জোহরের পর দু রাকআত সুন্নত নামাজ ব্যস্ততার কারণে পড়া সম্ভব হয়নি। এটা সেই দু' রাকআত নামাজ। (বুখারী শারীফ; মাগাযী অধ্যায়)
হেদায়া গ্রন্থকার বলেন যে, ঐ দু সময়ে অর্থাৎ ফজরের পরে এবং আসরের পরে কাজা নামাজ, সিজদায়ে তেলাওয়াত এবং জানাযার নামাজ পড়তে কোনো অসুবিধা নেই, দলিল হলো যে, ফজর এবং আসরের পর নামাজ মাকরূহ হওয়াটা ফজর এবং আসরের নামাজের কারণে ছিল। যাতে ব্যক্তি পূর্ণ ওয়াক্ত ঐ ওয়াক্তের ফরজের মধ্যে রত থাকে।
মাকরূহ হওয়াটা ফরজের মর্যাদার ভিত্তিতে ছিল, বিধায় প্রকৃত ফরজের ক্ষেত্রে মাকরূহ হবে না। কেননা প্রকৃত ফরজ নামাজের মধ্যে সময়কে মাশগুল রাখা উত্তম ফরজের মর্যাদার সাথে মাশগুল রাখার তুলনায়। অতএব ফরজ এবং এর সম পর্যায়ের জিনিসের ক্ষেত্রে মাকরূহ হওয়াটা প্রকাশ পাবে না, যেমন সিজদায়ে তেলাওয়াত। কেননা তা প্রত্যক্ষভাবে বা সরাসরি ওয়াজিব। কেননা সিজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হওয়াটা বান্দার কর্মের ওপর নির্ভরশীল নয়। তার দলিল হচ্ছে- সিজদায়ে তেলাওয়াত যেভাবে সিজদার আয়াত পাঠ করার দ্বারা ওয়াজিব হয়, অনুরূপভাবে সিজদার আয়াত শ্রবণ করার দ্বারাও ওয়াজিব হয়। যদিও শ্রবণের ইচ্ছা না করে। অতএব সিজদায়ে তিলাওয়াত সরাসরি ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে ফরজের সমতুল্য হলো।
এরূপ অবস্থা জানাযার নামাজেরও। কেননা জানাযার নামাজের ওয়াজিব হওয়াটা বান্দার কর্মের ওপর নির্ভরশীল নয়। অবশ্য ফজর এবং আসরের পর মানতের নামাজ মাকরূহ হবে। কেননা মানতের নামাজ সরাসরি (প্রত্যক্ষ) ভাবে ওয়াজিব হয় না; বরং মানতকারী ব্যক্তির মানত করার কারণে ওয়াজিব হয়। অনুরূপভাবে তওয়াফের দু' রাকআতের মধ্যেও কারাহাত (کراهت) আসবে। যেমন ফজর এবং আসরের পরে এর নিয়ত করাও মাকরূহ। কেননা ঐ দু রাকআত নামাজ তওয়াফের কারণে ওয়াজিব হয়। তওয়াফ করা তার নিজস্ব কর্ম। অতএব তওয়াফের দু রাকআত নামাজ প্রত্যক্ষভাবে ওয়াজিব নয়। অনুরূপভাবে ঐ নামাজের ক্ষেত্রেও মাকরূহ হবে, যা শুরু করার পর ফাসিদ (فاسد) বা নষ্ট করে দেয় যেমন নফল নামাজ আরম্ভ করার পর নষ্ট করে দিল, অতঃপর যদি ফজর এবং আসরের পর তা কাযা করতে চায় তাহলে মাকরূহ হবে। কেননা ইহা সরাসরি ওয়াজিব নয়। বরং শুরু করে নষ্ট করা নামাজকে রক্ষা করার জন্য ওয়াজিব হয়েছে।
وَيُكْرَهُ أَنْ يَتَنَفَّلَ العَ : দ্বিতীয় মাসআলা হচ্ছে যে, সূর্যাস্তের পর ফরজ আদায় করার পূর্বে নফল পড়া মাকরূহ। কেননা এর দ্বারা মাগরিব বিলম্ব হয়। অথচ মাগরিবের নামাজ তাড়া তাড়ি পড়া মোস্তাহাব। ইমাম খুৎবার জন্য যখন বের হন তখন থেকে নিয়ে খুৎবা শেষ হওয়া পর্যন্ত নফল পড়া মাকরূহ। দলিল হচ্ছে- এর দ্বারা খুৎবা শ্রবণের থেকে বিমুখ থাকা লাযিম আসে। অথচ খুৎবা শ্রবণ করা ওয়াজিব।
No comments:
Post a Comment