Saturday, May 19, 2018

আল-হিদায়া - যে কারণে রোযার কাযা ও কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হয়

প্রথম অনুচ্ছেদ: যে কারণে কাযা ও কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হয় 

بَابُ مَا يُوجِبُ الْقَضَاءَ وَالْكَفَّارَةَ

রোযাদার যখন ভুলে পানাহার বা সহবাস করে ফেলে তখন তার রোযা ভংগ হয় না। আর কিয়াসের দাবী হলো ভংগ হয়ে যাওয়া। এটি ইমাম মালিক (র.) এর মত। কেননা রোযার বিপরীত কর্ম পাওয়া গেছে। সুতরাং এটা নামাযের মধ্যে ভুলে কথা বলার মতো হয়ে গেলো। 

ইস্‌তিসসানের (সূক্ষ কিয়াসের) কারণ হলো ভুলে পানাহারকারী ব্যক্তিকে সম্বোধন করে রাসূলুল্লাহ্(সা.) এর বানী-তুমি তোমার সিয়াম পূর্ণ করো। কেননা আল্লাহ্‌ই তোমাকে আহার করিয়েছেন এবং পান করিয়েছেন। 

পানাহারের ক্ষেত্রে যখন এটি প্রমাণিত হলো তখন সহবাসের ক্ষেত্রেও তা প্রমাণিত হবে। আর রুকন হিসাবে সবগুলোই সমান। সালাতের বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা সালাতের অবস্থাই স্মরণকারী। সুতরাং এ ক্ষেত্রে ভুল প্রভাব বিস্তার করতে পারে। 

ফরযা ও নফল সাওমের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। কেননা উক্ত হাদীছে কোন পার্থক্য করা হয়নি। আর যদি বিচ্যুতি কিংবা জবরদস্তির কারণে তা করে থাকে তাহলে তার উপর কাযা ওয়াজিব। 

ইমাম শাফিঈ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। কেননা তিনি এ দু’জনকে ভুলকারী ব্যক্তির উপর কিয়াস করেন। আমাদের দলীল এই যে, এ দু’টি অবস্থার অস্তিত্ব অধিক নয়। পক্ষান্তরে ভুলের ওযর অধিক পরিমাণে হয়ে থাকে। 

তাছাড়া বিস্মৃতি ঐ সত্তার পক্ষ থেকে ঘটে থাকে, যিনি রোযার হকদার। পক্ষান্তরে বল প্রয়োগ অন্যের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। সুতরাং এ দু’টি অবস্থার অস্তিত্ব অধিক নয়। পক্ষান্তরে ভুলের ওযর অধিক পরিমাণে হয়ে থাকে। 

তাছাড়া বিস্মৃতি ঐ সত্তার পক্ষ থেকে ঘটে থাকে, যিনি রোযার হকদার। পক্ষান্তরে বল প্রয়োগ অন্যের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। সুতরাং এ দু’টির হুকুমে পার্থক্য হবে। 

যেমন, সালাত কাযা করার ক্ষেত্রে শৃংখলিত ও অসুস্থ ব্যক্তির মধ্যে (পার্থক্য) রয়েছে। 

যদি ঘুমের মাঝে কারো স্বপ্নদোষ ঘটে তাহলে তার সাওম ভংগ হবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ্‌(সা.) বলেছেন- তিনটি বিষয় সওম ভংগ করে না। যথা, বমি, শিংগা লাগানো স্বপ্নদোষ। 

আর এই জন্য যে, এখানে প্রকৃত সহবাস পাওয়া যায়নি বাহ্যতঃ ও মর্মগতাভাবে। আর সহবাসের মর্মার্থ হলো সংগম যোগে উত্তেজনা সহকারে বীর্যপাত। 

তদ্রুপ (সিয়াম ভংগ হবে না) যদি কোন স্ত্রী লোকের দিকে তাকানোর কারণে বীর্যস্খলিত হয়ে যায়। 

আর যদি তৈল লাগায় তাহলে সাওম ভংগ হবে না। কেননা, এতে সাওম বিরোধী কিছু পাওয়া যায়নি।

তদ্রুপ সিংগা লাগালেও সাওম ভংগ হবে না। উক্ত কারণে এবং ইতোপূর্বে আমাদের বর্ণিত হাদীছ অনুযায়ী। 

যদি সুরমা ব্যবহার করে তাহলে সাওম ভংগ হবে না। কেননা চক্ষু ও মস্তিষ্কের মাঝে কোন ছিদ্রপথে নেই। আর যে অশ্রুঘামের মতো চুইয়ে বের হয় এবং লোমকূপ দিয়ে যা প্রবেশ করে, তা সিয়ামের বিরোধী নয়। যেমন যদি কেউ ঠান্ডা পানি দ্বারা গোসল করে তবে সিয়াম ভঙ্গ হয় না। 

যদি স্ত্রীকে চুম্বন করে তবে সিয়াম ভংগ হবে না। অর্থাত্ যদি বীর্যস্খলন না হয়। কেননা বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ সিয়াম বিরোধী কোন কিছুই ঘটে নি। রুজু করা এবং মুছাহারাতের সম্পর্ক সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা এখানে হুকুমটি সবব বা কার্যকারণের উপর আবর্তিত। যথাস্থানে ইনশাল্লাহ্‌ তা আলোচিত হবে। 

তদ্রুপ কোন বেগানা স্ত্রী লোককে চুম্বন করলে তার উর্ধ্বতন (মা, নানী ইত্যাদি) অধঃস্তন সকল নারী (কন্যা, নাতনী ইত্যাদি) উক্ত লোকের জন্য হারাম হয়ে যায় এটাকে বলে। যদি চুম্বন কিংবা স্পর্শের কারণে বীর্যস্খলিত হয়ে যায়, তাহলে তার সিয়ামের কাযা ওয়াজিব হবে, কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হবে না। কেননা, এতে সহবাসের মর্ম বিদ্যমান। আর সতর্কতার খাতিরে বাহ্যিক কিংবা আভ্যন্তরীণ যে কোন রূপে রোযা বিরোধী বিষয়ের অস্তিত্ত্ব রোযার কাযা ওয়াজিব করার জন্য যথেষ্ট। পক্ষান্তরে কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হওয়ার জন্য অপরাধ পূর্ণভাবে সংঘটিত হওয়া প্রয়োজন। কেননা তা হদসমূহের মত সন্দেহ দ্বারা রহিত হয়ে যায়। 

যদি নিজের ব্যাপারে আশ্বস্ত থাকে আর চুম্বন করাতে কোন দোষ নেই, যদি নিজের উপর নির্ভরতা থাকে। অর্থাত্ সহবাস কিংবা বীর্যস্খলনে গড়াবে না। যদি এই ভরসা না থাকে তাহলে মাকরূহ হবে। কেননা মূল চুম্বন রোযা ভংগকারী নয়। বরং পরিণতির দিক থেকে হয়ত তা কখনো বা ভংগকারী হয়ে যেতে পারে। সুতরাং যদি নিজের উপর ভরসা থাকে তাহলে মূল চুম্বনের দিকটি বিবেচনা করে তা তার জন্য মুবাহ্‌ হবে। পক্ষান্তরে যদি নিজের উপর ভরসা না থাকে তা হলে চুম্বনের পরিণতির দিকটি বিবেচনা করে তার জন্য তা মাকরূহ হবে। 

নগ্নদেহে পরস্পর জড়াজড়ি যাহিরী রিওয়ায়াত অনুযায়ী চুম্বনেরই অনুরূপ। তবে ইমাম মুহাম্মদ (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, নগ্নদেহে পরস্পর জড়াজড়ি মাকরূহ। কেননা এরূপ আচরণ খুব কমই অবৈধ কর্ম থেকে মুক্ত হয়ে থাকে। 

সিয়াম স্মরণ থাকা অবস্থায় যদি তার গলার ভিতর মাছি প্রবেশ করে তাহলে রোযা ভংগ হবে না। 

কিয়াস অনুযায়ী তার রোযা ফাসিদ হয়ে যাবে। কেননা রোযা ভংগকারী বস্তু তার উদরে পৌছে গেছে যদিও তা খাদ্যজাতীয় নয়, যেমন মাটি ও কংকর। 

সূক্ষ্ম কিয়াসের কারণ এই যে, এ থেকে বেচে থাকা সম্ভব নয়। সুতরাং তা ধুলো ও ধুয়ার সদৃশ হলো। বৃষ্টি ও বরফ সম্পর্কে মাশায়েখগণ মতভেদ করেছেন। তবে বিশুদ্ধতম মত এই যে, তাতে সিয়াম ভংগ হবে। কেননা তাবুতে বা ঘরে আশ্রয় নিয়ে তা থেকে বেচে থাকা সম্ভব। 

যদি দাতের ফাকে আটকে থাকা গোশত ‘ভক্ষণ’ করে তবে কম হলে রোযা ভংগ হবে না। কিন্তু বেশী পরিমাণ হলে ভংগ হবে। 

ইমাম যুফার (র.) বলেন, উভয় অবস্থাতেই রোযা ভংগ হবে। কেননা মুখ বাইরের অংশ রূপে বিবেচিত। এ কারণেই কুলি করার কারণে তার রোযা নষ্ট হয় না। 

আমাদের দলীল এই যে, অল্প পরিমাণ দাতের অনুগত যেমন তার থুথু। 

পরিমাণের অবস্থা ভিন্ন। কেননা, শেষ পর্যন্ত তা দাতের ফাকে বিদ্যমান থাকে না। কম ও বেশীর মাঝে পার্থক্য নির্ধারণকারী হলো একটি বুটের পরিমাণ। এর চাইতে কম অল্প হিসাবে গণ্য। 

যদি তা বের করে হাতে নেয় অতঃপর তা ভক্ষণ করে তাহলে রোযা ফাসিদ হওয়াই যুক্তিসঙ্গত। যেমন- ইমাম মুহাম্মদ (র.) থেকে বর্ণিত যে, কোন সিয়াম পালনকারী যদি দাতের ফাকে (আটকে থাকা) তিল গিলে ফেলে তবে সিয়াম নষ্ট হবে না। আর যদি সরাসরি তা মুখে নিয়ে খায় তাহলে তার সিয়াম ভংগ হবে। আর যদি তা শুধু চিবায় তাহলে ইউসূফ (র.) এর মতে তার উপর কাযা ওয়াজিব হবে। কেননা তা বিকৃত খাদ্য। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর দলীল এই যে, মানুষের রুচি তা ঘৃণা করে। 

যদি অনিচ্ছাকৃত বমি এসে পড়ে তাহলে তাতে রোযা ভংগ হবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি বমি করে, তার উপর কাযা ওয়াজিব হবে না। কিন্তু যে ইচ্ছাকৃত বমি করে, তার উপর কাযা ওয়াজিব হবে। অনিচ্ছাকৃত বমির ক্ষেত্রে মুখ ভরা বমি ও কম বমির হুকুম সমান। 

যদি বমি ভিতরে ফেরত যায় আর তা মুখ ভরা থাকে, তাহলে ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে তাতে রোযা ফাসিদ হয়ে যাবে। কেননা তা বাইরের, এমনকি এত উযূ ভংগ হয়ে যায়। আর তা-ই ভিতরে প্রবেশ করেছে। 

ইমাম মুহাম্মদ (র) এর মতে রোযা ফাসিদ হবে না। কেননা রোযা ভংগের বাহ্যরূপ অর্থাত্ গলাধঃকরণ পাওয়া যায়নি। তদ্রুপ রোযা ভংগ করার প্রকৃত মর্মও পাওয়া যায়নি। কেননা তা সাধারণতঃ খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় না। 

যদি উক্ত বমি সে নিজে পালটিয়ে নেয় তাহলে সকলের মতেই রোযা ফাসিদ হয়ে যাবে, কেননা বাহির হওয়ার পর প্রবেশ করানো পাওয়া গেছে। সুতরাং রোযা ভংগের বাহ্যরূপ বিদ্যমান হয়। 

বমি যদি মুখভরা থেকে কম হয় আর নিজেই ফেরত যায় তাহলে তার রোযা ভংগ হবে না। কেননা এটা বাইরের নয় এবং এর প্রবেশের ব্যাপারে তার কোন প্রয়াস নেই। 

যদি সে নিজে ইচ্ছা করে গিলে ফেলে তাহলে ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে একই হুকুম হবে। কেননা, বের হওয়া সাব্যস্ত হয়নি। আর ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে তার রোযা ফাসিদ হয়ে যাবে। কেননা প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রে তার প্রয়াস রয়েছে। 

যদি রোযা স্মরণ থাকা অবস্থায় মুখ ভরে বমি করে তাহলে তার উপর কাযা ওয়াজিব হবে। প্রমাণ হলো আমাদের বর্ণিত হাদীছ। আর এই হাদীছের কারণে কিয়াস বর্ণিত হয়। কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হবে না; কেননা (রোযা ভংগ হওয়ার) বাহ্য রূপ পাওয়া যায়নি। যদি উক্ত বমি ভরা মুখের কম হয় তাহলে ইমাম মুহা্ম্মদ (র.) এর মতে একই হুকুম হবে। কেননা হাদীছটি নিঃশর্ত। 

ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে রোযা ফাসিদ হবে না। কেননা, শরী্আতের হুকুম মতে বাহির হওয়া সাব্যস্ত হয় নি। 

অতঃপর যদি তা ফেরত যায়, তাহলে তার মতে রোযা ফাসিদ হবে না। কেননা ফেরত যাওয়ার পূর্বে বের হওয়া সাব্যস্ত হয়নি। যদি সে ই্চ্ছা করে ফেরত নেয় তবে তার পক্ষ হতে বর্ণিত একটি মতে পূর্ববর্ণিত কারণেই ফাসিদ হবে না। কিন্তু তার পক্ষ হতে বর্ণিত অন্য একটি মতে ফাসিদ হবে। কেননা, এটাকে তিনি মুখভরা বমির সাথে যুক্ত করেছেন। কারণ, তার ইচ্ছাকৃত কর্মের (ই্চ্ছাকৃত বমন ও গলাধঃকরণ) আধিক্যের কারণে। 

যে ব্যক্তি কংকর কিংবা লোহা গিলে ফেলে তার রোযা ভংগ হয়ে যাবে। কেননা, রোযা ভঙ্গের ‘বাহ্যরূপ’ পাওয়া গেছে। 

তবে তার উপর কাফ্‌ফারা ওয়াজিব নয়। কারণ (আহারের) প্রকৃত মর্ম পাওয়া যায়নি। 

যে ব্যক্তি (রোযার) স্মরণ অবস্থায় দু’পথের কোন এক পথে সংগম করবে তার উপর কাযা ওয়াজিব হবে। 

কাযা ওয়াজিব রোযার বিনষ্ট উদ্দেশ্য পুনঃঅর্জনের জন্য। আর কাফ্‌ফারাও ওয়াজিব হবে, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কারণে। উভয় সংগমের ক্ষেত্রেই বীর্যস্খলনের শর্ত নেই, এটাকে গোসলের উপর কিয়াস করা হয়েছে। এর কারণ এই যে, বীর্যস্খলন ছাড়াই আনন্দ পাওয়া যায়। তা দ্বারা তো-তৃপ্তি লাভ হয়। 

ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকে আরেক বর্ণনায় রয়েছে যে,ঘৃণিত স্থানে (গুহ্যদ্বারে) সংগম দ্বারা কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হবে না। তার মতে কাফ্‌ফারা হদের সাথে বিবেচ্য। 

আর বিশুদ্ধ মত এই যে, কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হবে। কেননা শাহওয়াত পূর্ণ হওয়ার কারণে অপরাধ পূর্ণতা লাভ করেছে। মৃতদেহের সাথে কিংবা জন্তুর সাথে সংগম করলে বীর্যস্খলন ঘটুক কিংবা না ঘটুক, তার উপর কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হবে না। 

ইমাম শাফিঈ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। (আমাদের দলীল) কেননা স্বাভাবিক আকর্ষণীয় স্থানে’ বাসনা চরিতার্থ করা দ্বারা অপরাধপূর্ণতা লাভ করে। কিন্তু এখানে তা পাওয়া যায়নি। 

অতঃপর আমাদের মতে সংগম দ্বারা পুরূষের উপর যেমন কাফ্‌ফারা ওয়াজিব, তেমনি স্ত্রীলোকের উপরও ওয়াজিব। 

ইমাম শাফিঈ (র.) এর একটি মতে স্ত্রী লোকের উপর কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হবে না। কেননা কাফ্‌ফারার সম্পর্ক হলো সংগমের সাথে। আর এটা হলো পুরুষের কাজ, স্ত্রী লোকটি হলো সংগম ক্ষেত্র। 

ইমাম শাফিঈ (র.) এর অন্য একটি মতে স্ত্রী লোকেরও উপরও ওয়জিব হবে। তবে (এ দায়) তার পক্ষ হতে পুরুস বহন করবে; পানির ব্যয় ভারের উপর কিয়াস করে। 

আমাদের প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর বাণী- যে রমাযানে রোযা ভংগ করবে তার উপর তাই ওয়াজিব হবে, যা যিহারকারীর উপর ওয়াজিব হয়। 

(বা যে) শব্দটি পুরুষ ও স্ত্রী উভয়কে অন্তর্ভূক্ত করে। তাছাড়া এ জন্য যে, কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হওয়ার কারণ হচ্ছে রোযা নষ্ট করা। শুধু সহবাসই নয়। আর উক্ত অপরাধে সেও পুরুষের সাথে শরীক। আর দায় বহণের প্রশ্নই উঠে না। কেননা এ কাফ্‌ফারা হয় ইবাদত, না হয়ে শাস্তি। আর উভয়টির মধ্যে অন্যের বহন চলে না। 

যদি এমন কিছু আহার করে বা পান করে, যা খাদ্যরূপে কিংবা ঔষধরূপে ব্যবহৃত হয় তাহলে তার উপর কাযা ও কাফ্‌ফারা দুটোই ওয়াজিব হবে। 

ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, তার উপর কাফ্‌ফারা ওয়াজিব নয়। কেননা, সহবাসের ক্ষেত্রে শরীআত কিয়াসের বিরুদ্ধে কাফ্‌ফারা প্রবর্তন করেছে। কারণ পাপ তো তওবা দ্বারাই মোচন হয়ে যায়। এ কারণে (রোযাভংগের) অন্য ব্যাপারকে সহবাসের উপর কিয়াস করা যাবে না। 

আমাদের দলীল এই যে, কাফ্‌ফারার সম্পর্ক হলো রমাযান মাসে পূর্ণরূপে রোযা ভংগ করার সাথে। আর আলোচ্য অবস্থায় তা সাব্যস্ত হয়। আর কাফ্‌ফারা হিসাবে গোলাম আযাদ ওয়াজিব করার দ্বারা বোঝা যায় যে, এই অপরাধ তওবা দ্বারা মোচন হয় না। 

ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, কাফ্‌ফারা যিহারের কাফ্‌ফারার অনুরূপ। প্রমাণ হলো আমাদের বর্ণিত হাদীছ। এবং জনৈক বেদুঈন সাহাবীর ঘটনা সম্পর্কে হাদীছ। তিনি বলেছিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) নিজে হালাক হয়েছি এবং (স্ত্রীকেও) হালাক করেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি করেছো? সাহাবী আরয করলেন, রমাযানের দিবসে ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাস করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) বললেন, একটি গোলাম আযাদ করো। তিনি আরয করলেন, নিজের এই গ্রীবা ছাড়া আমি কারো মালিক নই। তখন তিনি বললেন, তাহলে লাগাতার দুইমাস রোযা রাখো। তিনি আরয করলেন, আমি যে বিপদে এসেছি তাতো এ রোযার কারণেই এসেছে। তখন তিনি বললেন, তাহলে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও। তিনি আরয করলেন, এ সামর্থ্যও আমার নেই। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এক ফারাক খেজুর আনার হুকুম দিলেন। অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি পনের সা’আ খেজুরে পূর্ণ একটি থলে আনার হুকুম দিলেন এবং বললেন, এগুলো মিসকীনদের মাঝে বন্টন করে দাও। তিনি আরয করলেন, আল্লাহ্‌র কসম, মদীনার দুই প্রান্তরের মধ্যবর্তী স্থানে আমার এবং আমার পরিজনের চেয়ে অভাবী কেউ নেই। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বললেন, তুমি এবং তোমার পরিবার পরিজন তা খাও। তবে তোমার জন্যই এটা যথেষ্ট, কিন্তু তোমার পরে আর কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না। 

এ হাদীছ ইমাম শাফিঈ (র.) এর মতামতের বিপক্ষে দলীল যে, তার জন্য এর মধ্যে যে কোন একটি করার অধিকার রয়েছে। কেননা হাদীছের দাবী হেলা (তিনটির মাঝে) তারতীব রক্ষা করা। 

তদ্রুপ ইমাম মালিক (র.) এর বিপক্ষেও দলীল যে, রোযা লাগাতার করতে হবে না। কেননা হাদীছে লাগাতার করার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। 

যে ব্যক্তি স্ত্রীর লজ্জাস্থান ছাড়া অন্যভাবে সংগম করে এবং বীর্যপাত ঘটে, তার উপর কাযা ওয়াজিব হবে। কেননা এতে সংগমের মর্ম বিদ্যমান। 

আর তার উপর কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হবে না। কেননা সংগমের বাহ্যরূপ পাওয়া যায় নি। 

রমাযান ছাড়া অন্য রোযা নষ্ট করার ক্ষেত্রে কাফ্‌ফারা নেই। কেননা রমাযান মাসে রোযা ভংগ করা গুরুতর অপরাধ। সুতরাং অন্য রোযাকে তার সাথে যুক্ত করা যাবে না। 

যে ব্যক্তি ঢুশ ব্যবহার করে কিংবা নাক দ্বারা ঔষধ প্রবেশ করায় কিংবা কানে ঔষধের ফোটা দেয়, তার রোযা ভংগ হয়ে যাবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) বলেছেন- কিছু প্রবেশ করার কারণে রোযা ভংগ হয়। এই কারণে যে, রোযা ভংগের মর্ম পাওয়া গেছে, আর তা হল শরীরের উপকারী বস্তু ভিতরে প্রবেশ করা, তবে তার উপর কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হবে না। কেননা রোযা ভঙ্গের বাহ্যরূপ পাওয়া যায়নি। 

যদি কানে পানির ফোটা ঢেলে দেয় কিংবা নিজে নিজেই প্রবেশ করে তাহলে তার রোযা নষ্ট হবে না। কেননা, রোযা ভংগের মর্ম ও বাহ্যরূপ কোনটাই পাওয়া যায়নি। কিন্তু তেল প্রবেম করানোর বিষয়টি এর বিপরীত। 

যদি পেটের ভিতর পর্যন্ত কিংবা মাথার ভিতর পর্যন্ত উপনীত ক্ষতস্থানে ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিত্সা করে আর ঔষধ পেটে কিংবা মস্তিষ্কে পৌছে যায়, তাহলে রোযা ভংগ হয়ে যাবে। 

এটা ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মত। আর যে ঔষধ পৌছে, তা হলো তরল জাতীয়। 

সাহেবাইন বলেন, রোযা ভংগ হবে না। কেননা ঔষধ পৌছার ব্যাপারে নিশ্চয়তা নেই। কারণ, ছিদ্রপথ কখনো প্রসারিত হয় আবার সংকুচিত হয়। যেমন শুষ্ক ঔষধের ক্ষেত্রে (রোযা ভংগ হয় না)। 

ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল এই যে, ঔষুধের তরলতা ক্ষতের তরলতার সাথে যুক্ত হয়ে নিম্নমুখী প্রবণতা বৃদ্ধি লাভ করে। ফলে তা ভিতরে পৌছে যাবে। শুষ্ক ঔষধের অবস্থায় বিষয়টি বিপরীত। কেননা, ঔষুধ ক্ষতের তরলতা শুষে নেয়। ফলে ক্ষতের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। 

যদি পুরুষাংগের ছিদ্রপথে ফোটা ফোটা করে (ঔষুধ) ঢালে তাহলে তাতে রোযা ভংগ হবে না। 

এটি ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মাযহাব। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে রোযা ভংগ হয়ে যাবে। আর এ বিষয়ে ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতামত স্ববিরোধী। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) সম্ভবতঃ মনে করেছেন যে, পেট ও পুরুষাংগের মাঝে সংযোগ পথ রয়েছে। এ জন্যই পুরুষাংগ দিয়ে পেশাব নির্গত হয়। 

পক্ষান্তরে ইমাম আবূ হানীফা (র.) মনে করেছেন যে, অন্ডকোষ হলো উভয়ের মাঝে আড় স্বরূপ। আর পেশাব তা থেকে চুইয়ে পড়ে। এটি অবশ্য ফিকাহ সংক্রান্ত বিষয় নয়। 

যে ব্যক্তি মুখে কিছু চোখে দেখে তার রোযা ভংগ হবে না। কেননা রোযা ভংগের বাহ্যরূপ ও মর্ম কোনটাই বিদ্যমান নেই। 

তবে তা মাকরূহ হবে। কেননা এতে রোযা ভংগ হওয়ার উপক্রম হয়। 

স্ত্রীলোকের যদি বিকল্প উপায় না পায় তাহলে এতে কোন দোষ নেই। সন্তান রক্ষার নিমিত্ত। তুমি কি লক্ষ্য করনি যে, সন্তানের জীবনাশংকা দেখা দিলে তার রোযা ভংগ করার অনুমতি রয়েছে। গদ চিবালে রোযাদারের রোযা ভংগ হয় না। কেননা তা তার উদরে পৌছে না। কোন কোন মতে যদি তা জমাট না হয় তাহলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। কেননা তখন কিছু অংশ উদরে পৌছবে। কোন কোন মতে যদি তা কালো জাতীয় হয় তাহলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। এমন কি জমাট হলেও রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। কেননা তা ভেংগে ভেংগে যায়। 

তবে রোযাদারের জন্য তা ব্যবহার মাকরূহ। কেননা, এতে রোযা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। তাছাড়া (মুখ নাড়ার কারণে) তার প্রতি রোযা না রাখার অভিযোগ আরোপিত হবে। তবে রোযাদার না হলে স্ত্রী লোকের জন্য তা মাকরূহ নয়। কেননা তাদের ক্ষেত্রে তা মিসওয়াকের স্থলবর্তী। 

কেউ কেউ বলেন, দন্তরোগের কারণে না হলে পুরুষদের জন্য তা মাকরূহ। আবার কেউ বলেন, তা পসন্দনীয় নয়। কেননা, এতে স্ত্রী লোকদের সংগে সাদৃশ রয়েছে। 

সুরমা ব্যবহার করা এবং মোচে তেল দেওয়াতে কোন দোষ নেই। কেননা এটা হলো এক ধরণের উপকার লাভ। আর তা রোযার নিষিদ্ধ বিষয়ের অন্তর্ভূক্ত নয়। তাছাড়া নবী করীম (সা.) আশুরা দিবসে সুরমা ব্যবহার করা ও রোযা রাখার জন্য উত্সাহিত করেছেন। 

যদি সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে না হয়ে চিকিত্সাগত উদ্দেশ্যে হয় তাহলে পুরুষদের জন্য সুরমা ব্যবহারে কোন দোষ নেই। তদ্রুপ সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে না হলে মোচে তেল দেওয়া উত্তম। কেননা এটা খেযাবের কাজ করে। তবে দাড়ি সুন্নাত পরিমাণ তথা একমুঠ পরিমাণ থাকলে তা লম্বা করার উদ্দেশ্যে এটা করবে না। 

রোযাদারের পক্ষে সকালে ও বিকাল বেলায় কাচা মিসওয়াক ব্যবহার করাতে কোন দোষ নেই। কেননা রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) বলেছেন- রোযাদারের সর্বোত্তম আমল হলো মিসওয়াক করা। এতে সময়ের কোন পার্থক্য করা হয়নি। 

ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, বিকেল বেলা মিসওয়াক করা মাকরূহ। কেননা তাতে একটি প্রশংসিত চিহ্ন দূর করা হয়। আর তা হলো রোযাদারের মুখের গন্ধ। সুতরাং তা শহীদের রক্তের সদৃশ। 

আমাদের বক্তব্য এই যে, এটা হলো ইবাদতের চিহ্ন। আর এ ব্যাপারে গোপনীয়তাই হলো অধিক উপযুক্ত। শহীদের রক্তের অবস্থা ভিন্ন। কেননা, এটি হলো যুলমের চিহ্ন। 

আমাদের বর্ণিত হাদীছের আলোকে কাচা আদ্র এবং পানি দ্বারা ভিজান মিসওয়াকের মাঝে কোন পার্থক্য নেই।

আরবী অংশ:

قَالَ (وَإِذَا أَكَلَ الصَّائِمُ أَوْ شَرِبَ أَوْ جَامَعَ نَهَارًا نَاسِيًا لَمْ يُفْطِرْ) وَالْقِيَاسُ أَنْ يُفْطِرَ، وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ لِوُجُودِ مَا يُضَادُّ الصَّوْمَ فَصَارَ كَالْكَلَامِ نَاسِيًا فِي الصَّلَاةِ، وَجْهُ الِاسْتِحْسَانِ «قَوْلُهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - لِلَّذِي أَكَلَ وَشَرِبَ نَاسِيًا تِمَّ عَلَى صَوْمِك فَإِنَّمَا أَطْعَمَك اللَّهُ وَسَقَاك»
وَإِذَا ثَبَتَ هَذَا فِي الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ ثَبَتَ فِي الْوِقَاعِ لِلِاسْتِوَاءِ فِي الرُّكْنِيَّةِ بِخِلَافِ الصَّلَاةِ لِأَنَّ هَيْئَةَ الصَّلَاةِ مُذَكِّرَةٌ فَلَا يَغْلِبُ النِّسْيَانُ وَلَا مُذَكِّرَ فِي الصَّوْمِ فَيَغْلِبُ، وَلَا فَرْقَ بَيْنَ الْفَرْضِ وَالنَّفَلِ لِأَنَّ النَّصَّ لَمْ يُفَضِّلْ وَلَوْ كَانَ مُخْطِئًا أَوْ مُكْرَهًا فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ خِلَافًا لِلشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ -، فَإِنَّهُ يَعْتَبِرُهُ بِالنَّاسِي، وَلَنَا أَنَّهُ لَا يَغْلِبُ وُجُودُهُ وَعُذْرُ النِّسْيَانِ غَالِبٌ وَلِأَنَّ النِّسْيَانَ مِنْ قِبَلِ مَنْ لَهُ الْحَقُّ وَالْإِكْرَاهَ مِنْ قِبَلِ غَيْرِهِ فَيَفْتَرِقَانِ كَالْمُقَيَّدِ وَالْمَرِيضِ فِي قَضَاءِ الصَّلَاةِ.
قَالَ (فَإِنْ نَامَ فَاحْتَلَمَ لَمْ يُفْطِرْ) لِقَوْلِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «ثَلَاثٌ لَا يُفْطِرْنَ الصِّيَامَ الْقَيْءُ وَالْحِجَامَةُ وَالِاحْتِلَامُ» ، وَلِأَنَّهُ لَمْ تُوجَدْ صُورَةُ الْجِمَاعِ وَلَا مَعْنَاهُ وَهُوَ الْإِنْزَالُ عَنْ شَهْوَةٍ بِالْمُبَاشَرَةِ (وَكَذَا إذَا نَظَرَ إلَى امْرَأَةٍ فَأَمْنَى) لِمَا بَيَّنَّا فَصَارَ كَالْمُتَفَكِّرِ إذَا أَمْنَى وَكَالْمُسْتَمْنِي بِالْكَفِّ عَلَى مَا قَالُوا (وَلَوْ ادَّهَنَ لَمْ يُفْطِرْ) لِعَدَمِ الْمُنَافِي (وَكَذَا إذَا احْتَجَمَ) لِهَذَا وَلِمَا رَوَيْنَا (وَلَوْ اكْتَحَلَ لَمْ يُفْطِرْ) لِأَنَّهُ لَيْسَ بَيْنَ الْعَيْنِ وَالدِّمَاغِ مَنْفَذٌ وَالدَّمْعُ يَتَرَشَّحُ كَالْعَرَقِ وَالدَّاخِلُ مِنْ الْمَسَامِّ لَا يُنَافِي كَمَا لَوْ اغْتَسَلَ بِالْمَاءِ الْبَارِدِ (وَلَوْ قَبَّلَ لَا يَفْسُدُ صَوْمٌ) يُرِيدُ بِهِ إذَا لَمْ يُنْزِلْ لِعَدَمِ الْمُنَافِي صُورَةً وَمَعْنًى بِخِلَافِ الرَّجْعَةِ وَالْمُصَاهَرَةِ لِأَنَّ الْحُكْمَ هُنَاكَ أُدِيرَ عَلَى السَّبَبِ عَلَى مَا يَأْتِي فِي مَوْضِعِهِ إنْ شَاءَ اللَّهُ. (وَإِنْ أَنْزَلَ بِقُبْلَةٍ أَوْ لَمْسٍ فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ دُونَ الْكَفَّارَةِ) لِوُجُودِ مَعْنَى الْجِمَاعِ وَوُجُودِ الْمُنَافِي صُورَةً أَوْ مَعْنًى يَكْفِي لِإِيجَابِ الْقَضَاءِ احْتِيَاطًا، أَمَّا الْكَفَّارَةُ فَتَفْتَقِرُ إلَى كَمَالِ الْجِنَايَةِ لِأَنَّهَا تَنْدَرِئُ بِالشُّبُهَاتِ كَالْحُدُودِ (وَلَا بَأْسَ بِالْقُبْلَةِ إذَا أَمِنَ عَلَى نَفْسِهِ) أَيْ الْجِمَاعَ أَوْ الْإِنْزَالَ (وَيُكْرَهُ إذَا لَمْ يَأْمَنْ) لِأَنَّ عَيْنَهُ لَيْسَ بِمُفْطِرٍ وَرُبَّمَا يَصِيرُ فِطْرًا بِعَاقِبَتِهِ فَإِنْ أَمِنَ يُعْتَبَرُ عَيْنُهُ وَأُبِيحَ لَهُ، وَإِنْ لَمْ يَأْمَنْ تُعْتَبَرُ عَاقِبَتُهُ وَكُرِهَ لَهُ، وَالشَّافِعِيُّ أَطْلَقَ فِيهِ فِي الْحَالَيْنِ وَالْحُجَّةُ عَلَيْهِ مَا ذَكَرْنَا وَالْمُبَاشَرَةُ الْفَاحِشَةُ مِثْلُ التَّقْبِيلِ فِي ظَاهِرِ الرِّوَايَةِ وَعَنْ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ كَرِهَ الْمُبَاشَرَةَ الْفَاحِشَةَ لِأَنَّهَا قَلَّمَا تَخْلُو عَنْ الْفِتْنَةِ.
(وَلَوْ دَخَلَ حَلْقَهُ ذُبَابٌ وَهُوَ ذَاكِرٌ لِصَوْمِهِ لَمْ يُفْطِرْ) وَفِي الْقِيَاسِ يَفْسُدُ صَوْمُهُ لِوُصُولِ الْمُفْطِرِ إلَى جَوْفِهِ، وَإِنْ كَانَ لَا يَتَغَذَّى بِهِ كَالتُّرَابِ وَالْحَصَاةِ. وَجْهُ الِاسْتِحْسَانِ أَنَّهُ لَا يُسْتَطَاعُ الِاحْتِرَازُ عَنْهُ فَأَشْبَهَ الْغُبَارَ وَالدُّخَانَ، وَاخْتَلَفُوا فِي الْمَطَرِ وَالثَّلْجِ، وَالْأَصَحُّ أَنَّهُ يَفْسُدُ لِإِمْكَانِ الِامْتِنَاعِ عَنْهُ إذَا آوَاهُ خَيْمَةٌ أَوْ سَقْفٌ (وَلَوْ أَكَلَ لَحْمًا بَيْنَ أَسْنَانِهِ فَإِنْ كَانَ قَلِيلًا لَمْ يُفْطِرْ وَإِنْ كَانَ كَثِيرًا يُفْطِرُ) وَقَالَ زُفَرُ: يُفْطِرُ فِي الْوَجْهَيْنِ لِأَنَّ الْفَمَ لَهُ حُكْمُ الظَّاهِرِ حَتَّى لَا يَفْسُدَ صَوْمُهُ بِالْمَضْمَضَةِ. وَلَنَا أَنَّ الْقَلِيلَ تَابِعٌ لِأَسْنَانِهِ بِمَنْزِلَةِ رِيقِهِ بِخِلَافِ الْكَثِيرِ لِأَنَّهُ لَا يَبْقَى فِيمَا بَيْنَ الْأَسْنَانِ، وَالْفَاصِلُ مِقْدَارُ الْحِمَّصَةِ وَمَا دُونَهَا قَلِيلٌ (وَإِنْ أَخْرَجَهُ وَأَخَذَهُ بِيَدِهِ ثُمَّ أَكَلَهُ يَنْبَغِي أَنْ يَفْسُدَ صَوْمُهُ) لِمَا رُوِيَ عَنْ مُحَمَّدٍ: أَنَّ الصَّائِمَ إذَا ابْتَلَعَ سِمْسِمَةً بَيْنَ أَسْنَانِهِ لَا يَفْسُدُ صَوْمُهُ وَلَوْ أَكَلَهَا ابْتِدَاءً يَفْسُدُ صَوْمُهُ وَلَوْ مَضَغَهَا لَا يَفْسُدُ لِأَنَّهَا تَتَلَاشَى وَفِي مِقْدَارِ الْحِمَّصَةِ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ دُونَ الْكَفَّارَةِ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ وَعِنْدَ زُفَرَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ أَيْضًا لِأَنَّهُ طَعَامٌ مُتَغَيِّرٌ، وَلِأَبِي يُوسُفَ: أَنَّهُ يَعَافُهُ الطَّبْعُ.
(فَإِنْ ذَرَعَهُ الْقَيْءُ لَمْ يُفْطِرْ) لِقَوْلِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «مَنْ قَاءَ فَلَا قَضَاءَ عَلَيْهِ وَمَنْ اسْتَقَاءَ عَامِدًا فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ» وَيَسْتَوِي فِيهِ مِلْءُ الْفَمِ فَمَا دُونَهُ فَلَوْ عَادَ وَكَانَ مِلْءَ الْفَمِ فَسَدَ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - لِأَنَّهُ خَارِجٌ حَتَّى انْتَقَضَ بِهِ الطَّهَارَةُ وَقَدْ دَخَلَ وَعِنْدَ مُحَمَّدٍ لَا يَفْسُدُ لِأَنَّهُ لَمْ تُوجَدْ صُورَةُ الْفِطْرِ وَهُوَ الِابْتِلَاعُ وَكَذَا مَعْنَاهُ لِأَنَّهُ لَا يَتَغَذَّى بِهِ عَادَةً، إنْ أَعَادَهُ فَسَدَ بِالْإِجْمَاعِ لِوُجُودِ الْإِدْخَالِ بَعْدَ الْخُرُوجِ فَتَتَحَقَّقُ صُورَةُ الْفِطْرِ. وَإِنْ كَانَ أَقَلَّ مِنْ مِلْءِ الْفَمِ فَعَادَ لَمْ يَفْسُدْ صَوْمُهُ لِأَنَّهُ غَيْرُ خَارِجٍ وَلَا صُنْعَ لَهُ فِي الْإِدْخَالِ، وَإِنْ أَعَادَهُ فَكَذَلِكَ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ لِعَدَمِ الْخُرُوجِ، وَعِنْدَ مُحَمَّدٍ - رَحِمَهُ اللَّهُ - يَفْسُدُ صَوْمُهُ لِوُجُودِ الصُّنْعِ مِنْهُ فِي الْإِدْخَالِ (فَإِنْ اسْتَقَاءَ عَمْدًا مِلْءَ فِيهِ فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ) لِمَا رَوَيْنَا وَالْقِيَاسُ مَتْرُوكٌ بِهِ وَلَا كَفَّارَةَ عَلَيْهِ لِعَدَمِ الصُّورَةِ وَإِنْ كَانَ أَقَلَّ مِنْ مِلْءِ الْفَمِ فَكَذَلِكَ عِنْدَ مُحَمَّدٍ - رَحِمَهُ اللَّهُ - لِإِطْلَاقِ الْحَدِيثِ، وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - لَا يَفْسُدُ لِعَدَمِ الْخُرُوجِ حُكْمًا ثُمَّ إنْ عَادَ لَمْ يَفْسُدْ عِنْدَهُ لِعَدَمِ سَبْقِ الْخُرُوجِ، وَإِنْ أَعَادَهُ فَعَنْهُ: أَنَّهُ لَا يَفْسُدُ لِمَا ذَكَرْنَا، وَعَنْهُ: أَنَّهُ يَفْسُدُ فَأَلْحَقَهُ بِمِلْءِ الْفَمِ لِكَثْرَةِ الصُّنْعِ.
قَالَ: (وَمَنْ ابْتَلَعَ الْحَصَاةَ أَوْ الْحَدِيدَ أَفْطَرَ) لِوُجُودِ صُورَةِ الْفِطْرِ (وَلَا كَفَّارَةَ عَلَيْهِ) لِعَدَمِ الْمَعْنَى
(وَمَنْ جَامَعَ فِي أَحَدِ السَّبِيلَيْنِ عَامِدًا فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ) اسْتِدْرَاكًا لِلْمَصْلَحَةِ الْفَائِتَةِ (وَالْكَفَّارَةُ) لِتَكَامُلِ الْجِنَايَةِ وَلَا يُشْتَرَطُ الْإِنْزَالُ فِي الْمَحَلَّيْنِ اعْتِبَارًا بِالِاغْتِسَالِ، وَهَذَا لِأَنَّ قَضَاءَ الشَّهْوَةِ يَتَحَقَّقُ دُونَهُ وَإِنَّمَا ذَلِكَ شِبَعٌ، وَعَنْ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: أَنَّهُ لَا تَجِبُ الْكَفَّارَةُ بِالْجِمَاعِ فِي الْمَوْضِعِ الْمَكْرُوهِ اعْتِبَارًا بِالْحَدِّ عِنْدَهُ. وَالْأَصَحُّ أَنَّهَا تَجِبُ لِأَنَّ الْجِنَايَةَ مُتَكَامِلَةٌ لِقَضَاءِ الشَّهْوَةِ (وَلَوْ جَامَعَ مَيْتَةً أَوْ بَهِيمَةً فَلَا كَفَّارَةَ أَنْزَلَ أَوْ لَمْ يُنْزِلْ) خِلَافًا لِلشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ -؛ لِأَنَّ الْجِنَايَةَ تَكَامُلُهَا بِقَضَاءِ الشَّهْوَةِ فِي مَحَلٍّ مُشْتَهًى وَلَمْ يُوجَدْ، ثُمَّ عِنْدَنَا كَمَا تَجِبُ الْكَفَّارَةُ بِالْوِقَاعِ عَلَى الرَّجُلِ تَجِبُ عَلَى الْمَرْأَةِ.
وَقَالَ الشَّافِعِيُّ - رَحِمَهُ اللَّهُ - فِي قَوْلٍ: لَا تَجِبُ عَلَيْهَا لِأَنَّهَا مُتَعَلِّقَةٌ بِالْجِمَاعِ وَهُوَ فِعْلُهُ وَإِنَّمَا هِيَ مَحَلُّ الْفِعْلِ، وَفِي قَوْلٍ: تَجِبُ، وَيَتَحَمَّلُ الرَّجُلُ عَنْهَا اعْتِبَارًا بِمَاءِ الِاغْتِسَالِ. وَلَنَا قَوْلُهُ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «مَنْ أَفْطَرَ فِي رَمَضَانَ فَعَلَيْهِ مَا عَلَى الْمُظَاهِرِ» وَكَلِمَةُ مَنْ تَنْتَظِمُ الذُّكُورَ وَالْإِنَاثَ، وَلِأَنَّ السَّبَبَ جِنَايَةُ الْإِفْسَادِ لَا نَفْسُ الْوِقَاعِ وَقَدْ شَارَكْته فِيهَا وَلَا يَتَحَمَّلُ لِأَنَّهَا عِبَادَةٌ أَوْ عُقُوبَةٌ، وَلَا يَجْرِي فِيهَا التَّحَمُّلُ.
(وَلَوْ أَكَلَ أَوْ شَرِبَ مَا يَتَغَذَّى بِهِ أَوْ يَتَدَاوَى بِهِ فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ وَالْكَفَّارَةُ) وَقَالَ الشَّافِعِيُّ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: لَا كَفَّارَةَ عَلَيْهِ لِأَنَّهَا شُرِعَتْ فِي الْوِقَاعِ بِخِلَافِ الْقِيَاسِ لِارْتِفَاعِ الذَّنْبِ بِالتَّوْبَةِ فَلَا يُقَاسُ عَلَيْهِ غَيْرُهُ. وَلَنَا أَنَّ الْكَفَّارَةَ تَعَلَّقَتْ بِجِنَايَةِ الْإِفْطَارِ فِي رَمَضَانَ عَلَى وَجْهِ الْكَمَالِ وَقَدْ تَحَقَّقَتْ، وَبِإِيجَابِ الْإِعْتَاقِ تَكْفِيرًا عُرِفَ أَنَّ التَّوْبَةَ غَيْرُ مُكَفِّرَةٍ لِهَذِهِ الْجِنَايَةِ.
ثُمَّ قَالَ (وَالْكَفَّارَةُ مِثْلُ كَفَّارَةِ الظِّهَارِ) لِمَا رَوَيْنَا، وَلِحَدِيثِ «الْأَعْرَابِيِّ فَإِنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْت وَأَهْلَكْت. فَقَالَ: مَاذَا صَنَعْت. قَالَ: وَاقَعْت امْرَأَتِي فِي نَهَارِ رَمَضَانَ مُتَعَمِّدًا، فَقَالَ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: أَعْتِقْ رَقَبَةً. فَقَالَ: لَا أَمْلِكُ إلَّا رَقَبَتِي هَذِهِ، فَقَالَ: صُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ. فَقَالَ: وَهَلْ جَاءَنِي مَا جَاءَنِي إلَّا مِنْ الصَّوْمِ فَقَالَ: أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا. فَقَالَ: لَا أَجِدُ، فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَنْ يُؤْتَى بِفَرْقٍ مِنْ تَمْرٍ. وَيُرْوَى بِعِرْقٍ فِيهِ خَمْسَةَ عَشَرَ صَاعًا، وَقَالَ: فَرِّقْهَا عَلَى الْمَسَاكِينِ فَقَالَ: وَاَللَّهِ مَا بَيْنَ لَابَتَيْ الْمَدِينَةِ أَحَدٌ أَحْوَجُ مِنِّي وَمِنْ عِيَالِي، فَقَالَ: كُلْ أَنْتَ وَعِيَالُك، يَجْزِيَك وَلَا يَجْزِي أَحَدًا بَعْدَك»
، وَهُوَ حُجَّةٌ عَلَى الشَّافِعِيِّ فِي قَوْلِهِ يُخَيَّرُ لِأَنَّ مُقْتَضَاهُ التَّرْتِيبُ وَعَلَى مَالِكٍ فِي نَفْيِ التَّتَابُعِ لِلنَّصِّ عَلَيْهِ.
(وَمَنْ جَامَعَ فِيمَا دُونَ الْفَرْجِ فَأَنْزَلَ فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ) لِوُجُودِ الْجِمَاعِ مَعْنًى (وَلَا كَفَّارَةَ عَلَيْهِ) لِانْعِدَامِهِ صُورَةً
(وَلَيْسَ فِي إفْسَادِ صَوْمِ غَيْرِ رَمَضَانَ كَفَّارَةٌ) لِأَنَّ الْإِفْطَارَ فِي رَمَضَانَ أَبْلَغُ فِي الْجِنَايَةِ فَلَا يَلْحَقُ بِهِ غَيْرُهُ.
(وَمَنْ احْتَقَنَ أَوْ اسْتَعَطَ أَوْ أَقْطَرَ فِي أُذُنِهِ أَفْطَرَ) لِقَوْلِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «الْفِطْرُ مِمَّا دَخَلَ»
وَلِوُجُودِ مَعْنَى الْفِطْرِ، وَهُوَ وُصُولُ مَا فِيهِ صَلَاحُ الْبَدَنِ إلَى الْجَوْفِ (وَلَا كَفَّارَةَ عَلَيْهِ) لِانْعِدَامِهِ صُورَةً. (وَلَوْ أَقْطَرَ فِي أُذُنِهِ الْمَاءَ أَوْ دَخَّلَهُ لَا يَفْسُدُ صَوْمُهُ) لِانْعِدَامِ الْمَعْنَى وَالصُّورَةِ. بِخِلَافِ مَا إذَا دَخَلَهُ الدُّهْنُ (وَلَوْ دَاوَى جَائِفَةً أَوْ آمَّةً بِدَوَاءٍ فَوَصَلَ إلَى جَوْفِهِ أَوْ دِمَاغِهِ أَفْطَرَ) عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -، وَاَلَّذِي يَصِلُ هُوَ الرَّطْبُ، وَقَالَا: لَا يُفْطِرُ لِعَدَمِ التَّيَقُّنِ بِالْوُصُولِ لِانْضِمَامِ الْمَنْفَذِ مَرَّةً وَاتِّسَاعِهِ أُخْرَى، كَمَا فِي الْيَابِسِ مِنْ الدَّوَاءِ. وَلَهُ أَنَّ رُطُوبَةَ الدَّوَاءِ تَلَاقِي رُطُوبَةَ الْجِرَاحَةِ فَيَزْدَادُ مَيْلًا إلَى الْأَسْفَلِ فَيَصِلُ إلَى الْجَوْفِ، بِخِلَافِ الْيَابِسِ لِأَنَّهُ يُنَشِّفُ رُطُوبَةَ الْجِرَاحَةِ فَيَنْسَدُّ فَمُهَا (وَلَوْ أَقْطَرَ فِي إحْلِيلِهِ لَمْ يُفْطِرْ) عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -، وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ: يُفْطِرُ، وَقَوْلُ مُحَمَّدٍ: مُضْطَرِبٌ فِيهِ فَكَأَنَّهُ وَقَعَ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ أَنَّ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجَوْفِ مَنْفَذًا، وَلِهَذَا يَخْرُجُ مِنْهُ الْبَوْلُ، وَوَقَعَ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - أَنَّ الْمَثَانَةَ بَيْنَهُمَا حَائِلٌ وَالْبَوْلُ يَتَرَشَّحُ مِنْهُ، وَهَذَا لَيْسَ مِنْ بَابِ الْفِقْهِ
(وَمَنْ ذَاقَ شَيْئًا بِفَمِهِ لَمْ يُفْطِرْ) لِعَدَمِ الْفِطْرِ صُورَةً وَمَعْنًى (وَيُكْرَهُ لَهُ ذَلِكَ) لِمَا فِيهِ مِنْ تَعْرِيضِ الصَّوْمِ عَلَى الْفَسَادِ.
(وَيُكْرَهُ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَمْضُغَ لِصَبِيِّهَا الطَّعَامَ إذَا كَانَ لَهَا مِنْهُ بُدٌّ) لِمَا بَيَّنَّا (وَلَا بَأْسَ إذَا لَمْ تَجِدْ مِنْهُ بُدًّا) صِيَانَةً لِلْوَلَدِ. أَلَا تَرَى أَنَّ لَهَا أَنْ تُفْطِرَ إذَا خَافَتْ عَلَى وَلَدِهَا (وَمَضْغُ الْعَلْكِ لَا يُفَطِّرُ الصَّائِمَ) لِأَنَّهُ لَا يَصِلُ إلَى جَوْفِهِ. وَقِيلَ: إذَا لَمْ يَكُنْ مُلْتَئِمًا يَفْسُدُ لِأَنَّهُ يَصِلُ إلَيْهِ بَعْضُ أَجْزَائِهِ. وَقِيلَ: إذَا كَانَ أَسْوَدَ يَفْسُدُ وَإِنْ كَانَ مُلْتَئِمًا لِأَنَّهُ يَتَفَتَّتُ (إلَّا أَنَّهُ يُكْرَهُ لِلصَّائِمِ) لِمَا فِيهِ مِنْ تَعْرِيضِ الصَّوْمِ لِلْفَسَادِ، وَلِأَنَّهُ يُتَّهَمُ بِالْإِفْطَارِ وَلَا يُكْرَهُ لِلْمَرْأَةِ إذَا لَمْ تَكُنْ صَائِمَةً لِقِيَامِهِ مَقَامَ السِّوَاكِ فِي حَقِّهِنَّ، وَيُكْرَهُ لِلرِّجَالِ عَلَى مَا قِيلَ إذَا لَمْ يَكُنْ مِنْ غَلَّةٍ، وَقِيلَ: لَا يُسْتَحَبُّ لِمَا فِيهِ مِنْ التَّشَبُّهِ: بِالنِّسَاءِ.
(وَلَا بَأْسَ بِالْكُحْلِ وَدَهْنِ الشَّارِبِ) لِأَنَّهُ نَوْعُ ارْتِفَاقٍ وَهُوَ لَيْسَ مِنْ مَحْظُورَاتِ الصَّوْمِ، وَقَدْ نَدَبَ النَّبِيُّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - إلَى الِاكْتِحَالِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَإِلَى الصَّوْمِ فِيهِ، وَلَا بَأْسَ بِالِاكْتِحَالِ لِلرِّجَالِ إذَا قَصَدَ بِهِ التَّدَاوِي دُونَ الزِّينَةِ، وَيُسْتَحْسَنُ دَهْنُ الشَّارِبِ إذَا لَمْ يَكُنْ مِنْ قَصْدِهِ الزِّينَةُ لِأَنَّهُ يَعْمَلُ عَمَلَ الْخِضَابِ، وَلَا يُفْعَلُ لِتَطْوِيلِ اللِّحْيَةِ إذَا كَانَتْ بِقَدْرِ الْمَسْنُونِ وَهُوَ الْقُبْضَةُ.
(وَلَا بَأْسَ بِالسِّوَاكِ الرَّطْبِ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ لِلصَّائِمِ) لِقَوْلِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «خَيْرُ خِلَالِ الصَّائِمِ السِّوَاكُ» مِنْ خَيْرِ فَصْلٍ. وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: يُكْرَهُ بِالْعَشِيِّ لِمَا فِيهِ مِنْ إزَالَةِ الْأَثَرِ الْمَحْمُودِ، وَهُوَ الْخُلُوفُ فَشَابَهُ دَمَ الشَّهِيدِ.
قُلْنَا: هُوَ أَثَرُ الْعِبَادَةِ اللَّائِقُ بِهِ الْإِخْفَاءُ. بِخِلَافِ دَمِ الشَّهِيدِ لِأَنَّهُ أَثَرُ الظُّلْمِ، وَلَا فَرْقَ بَيْنَ الرَّطْبِ الْأَخْضَرِ وَبَيْنَ الْمَبْلُولِ بِالْمَاءِ لِمَا رَوَيْنَا.

No comments:

Post a Comment