আল-হিদায়া: ১ম অধ্যায় [চলমান]
১ম অনুচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ: উচ্ছিষ্ট ইত্যাদি
প্রত্যেক প্রাণীর ঘাম তার উচ্ছিষ্টের সাথে বিবেচ্য। কেননা (লালা ও ঘাম) দু’টোরই জন্ম তার গোশত থেকে। সুতরাং একটিতে অপরটির বিধান প্রযোজ্য।
মানুষের উচ্ছিষ্ট এবং যে প্রাণীর গোশত খাওয়া যায়, তার উচ্ছিষ্ট পাক। কেননা তার সাথে লালা মিশ্রিত হয়েছে। আর তা সৃষ্ট হয়েছে পাক গোশত থেকে। জুনুবী, ঋতুমতী এবং কাফিরও এ হুকুমের অন্তর্ভূক্ত।
কুকুরের উচ্ছিষ্ট নাপাক। সে কোন পাত্রে মুখ দিলে তা ধুতে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন-কুকুরের মুখ দেওয়ার কারণে পাত্র তিনবার ধুতে হবে।
কুকুরের জিহ্বা (সাধারণত) পানি স্পর্শ করে, পাত্র নয়। সুতরাং পাত্র যখন নাপাক হয়ে যায়, তখন পানি নাপাক হওয়াত অনিবার্য।
এ হাদীছে নাপাক হওয়া এবং ধোয়ার সংখ্যা প্রমাণিত হয়। সুতরাং এ হাদীছ ইমাম শাফিঈ (র.) এর সাতবার ধোয়ার শর্ত আরোপের বিপক্ষে দলীল।
তা ছাড়া, যে বস্তুতে কুকুরের পেশাব লাগে, তা তিনবার ধুইলে পাক হয়ে যায়। কাজেই যে বস্তুতে তার উচ্ছিষ্ট লাগে-যা পেশাবের চেয়ে সাধারণ, তা পাক হওয়া তো আরো স্বাভাবিক। আর সাতবার ধোয়া সম্পর্কে বর্ণিত নির্দেশ ইসলামের প্রথম যুগের অবস্থায় প্রয়োজ্য।
শূকরের উচ্ছিষ্ট নাপাক। কেননা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, শূকর সত্তাগতভাবেই নাপাক।
হিংস্র পশুর উচ্ছিষ্ট নাপাক। শূকর ও কুকুর ছাড়া অন্যান্য হিংস্র পশুর উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ (র.) এর বিপরীত মত রয়েছে।
আমাদের দলীল হল, কেননা হিংস্র পশুর গোশত নাপাক এবং তা থেকেই লালা সৃষ্ট। আর লালার হুকুম গোশতের উপরই নির্ভরশীল।
বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পাক কিন্তু (তা ব্যবহার করা) মাকরূহ।
ইমাম আবূ ইউসফ (র.) থেকে বর্ণিত যে, তা মাকরূহও নয়। কেননা, নবী (সা.) বিড়ালের জন্য পাত্র কাত করে ধরতেন। বিড়াল তা থেকে পানি পান করতো, পরে তা দ্বারা তিনি উযূ করতেন। (দারা কুতনী)
ইমাম আবূ হানীফা ও মুহাম্মদ (র.) এর দলীল হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- বিড়াল হিংস্র প্রাণী। এ হাদীছের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিধান বর্ণনা করা।১২ তবে নাকেস হওয়ার হুকুম রহিত করা হয়েছে (গৃহের অভ্যন্তরে) সর্বদা ঘুরাফেরার কারণে। সুতরাং মাকরূহ হওয়ার হুকুম বাকী থেকে যায়। আর পাত্র কাত করে ধরার বর্ণনা হারাম হওয়ার পূর্ববর্তী সময়ের উপর ধর্তব্য।
উল্লেখ্য যে, কারো১৩ মতে তার উচ্ছিষ্ট মাকরূহ হওয়ার কারণ, গোশত নাপাক হওয়া। আর কারো মতে নাজাসাত পরিহার না করার কারণে। আর শেষোক্ত মতে তানযীহের এবং প্রথম মতে হারামের কাছাকাছি হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।
বিড়াল যদি ইদুর খেয়ে সাথে সাথে পানি পান করে, তাহলে পানি নাপাক হয়ে যাবে। তবে কিছু সময় বিলম্ব করার পর হলে নাপাক হবে না। কেননা সে লালা দ্বারা মূখ পরিষ্কার করে ফেলে। এ ব্যতিক্রম শুধু ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতানুযায়ী। আর অনিবার্য প্রয়োজনবশতঃ পাক হওয়ার জন্য পানি ঢালার শর্তটি রহিত হয়ে যাবে।
ছেড়ে দেয়া মুরগীর উচ্ছিষ্ট মাকরূহ। কেননা ছাড়া মুরগী নাজাসাত ঘটে। তবে যদি এমন ভাবে বাঁধা থাকে যে, তার পায়ের নীচ পর্যন্ত তার চণ্চু পৌছে না, তাহলে নাজাসাতের সংস্পর্শ থেকে মুক্ত থাকার কারণে মাকরূহ হবে না।
হিংস্র পাখীর উচ্ছিষ্টও তদ্রূপ নাপাক। কেননা এরা মরা খায়, সুতরাং ছাড়া মুরগীর মতই হবে।
ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) হতে বর্ণিত আছে যে, হিংস্র পাখী যদি আবদ্ধ থাকে এবং মালিক জানে যে, পাখীর ঠোটে ময়লা নেই, তাহলে (নাজাসাতের) সংস্পর্শ থেকে সংরক্ষিত থাকার কারণে (তার উচ্ছিষ্ট) মাকরূহ হবে না। মাশায়েখগণ এ মতই উত্তম বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
সাপ, ইদুর ইত্যাদি গৃহে অবস্থানকারী প্রাণীর উচ্ছিষ্ট মাকরূহ। কেননা (এগুলোর) গোশত হারাম হওয়ার অবশ্যম্ভাবী চাহিদা হল উচ্ছিষ্ট নাপাক হওয়া। তবে সর্বদা গৃহে বিচরণের কারণে নাজাসাতের হুকুম রহিত হয়ে যায় এবং মাকরূহ হওয়ার হুকুম অবশিষ্ট থাকে। আর বিচরণের কারণটি বিড়ালের ব্যাপারে (হাদীছে) উল্লেখ করা হয়েছে।১৪
গাধা ও খচ্চরের উচ্ছিষ্ট সন্দেহযুক্ত।১৫ কারো মতে সন্দেহটি পবিত্রতা সম্পর্কে। কেননা উচ্ছিষ্ট পানি পবিত্র হলে অবশ্যই পবিত্রকারীও হবে, যতক্ষণ না লালা পানির চেয়ে অধিক হয়।
অন্য মতে সন্দেহটি পানির পবিত্রকরণ গুণ সম্পর্কে। কেননা সে যদি পানি পায়, তবে তার মাথা ধোয়া তার জন্য ওয়াজিব নয়।১৬ তদ্রূপ তার দুধ পাক। তার ঘাম নামাযের বৈধতাকে বাধাগ্রস্ত করে না, যদিও পরিমাণে তা বেশী হয়। সুতরাং তার উচ্ছিষ্ট অনুরূপ হবে। এ মতই সর্বাধিক বিশুদ্ধ। গাধার উচ্ছিষ্ট পাক হওয়ার সম্পর্কে ইমাম মুহাম্মদের স্পষ্ট মত বর্ণিত রয়েছে। সন্দেহের কারণ হচ্ছে গাধার গোশত হালাল বা হারাম হওয়া দলীলগুলো পরস্পর বিরোধী। কিংবা তার উচ্ছিষ্ট পাক বা নাপাক হওয়া সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরামের মতভেদ রয়েছে।
আবূ হানীফা (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি হারাম ও নাপাক হওয়াতে অগ্রাধিকার দিয়ে গাধার উচ্ছিষ্টকে নাজিস বলেছেন। খচ্চর যেহেতু গাধার প্রজননভূক্ত, সুতরাং সেও গাধার পর্যায়ের হবে। যদি গাধা ও খচ্চরের উচ্ছিষ্ট পানি ছাড়া অন্য পানি না পাওয়া যায়, তাহলে তা দ্বারা উযূ করবে এবং তায়াম্মুম করবে। এবং যে কোনটা আগে করা জাইয।
ইমাম যুফার (র.) বলেন, উযূকে অগ্রবর্তী না করলে জাইয হবে না। কেননা তা এমন পানি (শরীআতের হুকুম মতে) যার ব্যবহার করা ওয়াজিব। সুতরাং তা সাধারণ পানির সদৃশ।
আমাদের দলীল এই যে, যেহেতু পবিত্রকারী হল দু’টির যে কোন একটি, ফলে উভয়ের একত্র হওয়াই বাঞ্চনীয়; এর চাহিদা ক্রমবিন্যাস নয়।
ইমাম আবূ ইউসূফ ও মুহাম্মদ (র.) এর মতে ঘোড়ার উচ্ছিষ্ট পাক। কেননা তার গোশত হালাল। বিশুদ্ধ বর্ণনায় ইমাম আবূ হানীফার মতও অনুরূপ। কেননা গোশত মাকরূহ হওয়ার কারণ হলো তার মর্যাদা প্রকাশ করা।১৭
যদি খোরমা ভিজানো পানি ছাড়া কোন পানি পাওয়া না যায়, তাহলে ইমাম আবূ হানীফা (র.) বলেছেন, তা দ্বারা উযূ করবে, তায়াম্মুম করবে না। কেননা জিন১৮ সম্প্রদায়ের সাথে সাক্ষাতের রাত্রি সম্পর্কীয় হাদীছ রয়েছে যে, নবী (সা.) পানি না পেয়ে খোরমা ভিজানো পানি দ্বারা উযূ করেছেন।
ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) বলেন, তায়াম্মুম করবে, তা দিয়ে উযূ করবে না। আবূ হানীফা (র.) থেকেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। ইমাম শাফিঈ (র.) ও এমত পো্ষণ করেন; তায়াম্মুমের আয়াতের১৯ উপর আমলের পরিপ্রেক্ষিতে। কেননা আয়াত অধিক শক্তিশালী। অথবা হাদীছ আয়াতের দ্বারা রহিত। কেননা তায়াম্মুমের আয়াত মাদানী আর জিনের রাত্রির ঘটনা হল মাক্কী।
ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, উযূ ও তায়াম্মুম দু’টোই করবে। কেননা হাদীছের বর্ণনায় স্ববিরোধিতা রয়েছে। আর (ঘটনাটির) তারিখ (সঠিক) জানা নয়। সুতরাং সতর্কতা অবলম্বনে উভয়টির উপর আমল করা ওয়াজিব।
আমাদের পক্ষ থেকে জবাব এই যে, লায়লাতুল জিনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছিলো। সুতরাং রহিত হওয়ার দাবী সঠিক নয়। আর হাদীছটি মশহুর পর্যায়ের, যার উপর সাহাবায়ে কিরাম আমল করেছেন। এধরনের মশহুর হাদীছ দ্বারা কিতাবুল্লাহ (এর হুকুমে) বাড়ানো যায়।
আর তা দ্বারা গোসল করার ব্যাপারে কেউ কেউ বলেছেন, ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে তা জাইয আছে, উযূর উপর কিয়াস করে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, গোসল জাইয নয়। কেননা গোসল উযূর চেয়ে উপরের স্তরের।
ঐ নাবীয সম্পর্কে বিরোধ রয়েছে, যা মিষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে এমন তরল যে, সাধারণ পানির মত অংগে প্রবাহিত হয়। আর যা গাঢ় হয়ে গেছে, তা হারাম হবে; তা দ্বারা উযূ জাইয হবে না। আর যদি আগুনে জ্বাল দেয়ার কারণে তাতে পরিবর্তন আসে, তাহলে মিষ্ট থাকা পর্যন্ত অনুরূপ মতভেদ রয়েছে। আর যদি গাঢ় হয়ে যায় তাহলেও আবূ হানীফা (র.) এর মতে তা দ্বারা উযূ জাইয। কেননা, তাঁর মতে তা পান করা হালাল। আর ইমাম মুহাম্মদ(র.) এর মতে তা পান করা হারাম বিধায় তা দ্বারা উযূ করা যাবে না।
‘নাবীযুত্তামর’ ছাড়া অন্য সকল নাবীয দ্বারা কিয়াসের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে উযূ জাইয হবে না।২০
মানুষের উচ্ছিষ্ট এবং যে প্রাণীর গোশত খাওয়া যায়, তার উচ্ছিষ্ট পাক। কেননা তার সাথে লালা মিশ্রিত হয়েছে। আর তা সৃষ্ট হয়েছে পাক গোশত থেকে। জুনুবী, ঋতুমতী এবং কাফিরও এ হুকুমের অন্তর্ভূক্ত।
কুকুরের উচ্ছিষ্ট নাপাক। সে কোন পাত্রে মুখ দিলে তা ধুতে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন-কুকুরের মুখ দেওয়ার কারণে পাত্র তিনবার ধুতে হবে।
কুকুরের জিহ্বা (সাধারণত) পানি স্পর্শ করে, পাত্র নয়। সুতরাং পাত্র যখন নাপাক হয়ে যায়, তখন পানি নাপাক হওয়াত অনিবার্য।
এ হাদীছে নাপাক হওয়া এবং ধোয়ার সংখ্যা প্রমাণিত হয়। সুতরাং এ হাদীছ ইমাম শাফিঈ (র.) এর সাতবার ধোয়ার শর্ত আরোপের বিপক্ষে দলীল।
তা ছাড়া, যে বস্তুতে কুকুরের পেশাব লাগে, তা তিনবার ধুইলে পাক হয়ে যায়। কাজেই যে বস্তুতে তার উচ্ছিষ্ট লাগে-যা পেশাবের চেয়ে সাধারণ, তা পাক হওয়া তো আরো স্বাভাবিক। আর সাতবার ধোয়া সম্পর্কে বর্ণিত নির্দেশ ইসলামের প্রথম যুগের অবস্থায় প্রয়োজ্য।
শূকরের উচ্ছিষ্ট নাপাক। কেননা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, শূকর সত্তাগতভাবেই নাপাক।
হিংস্র পশুর উচ্ছিষ্ট নাপাক। শূকর ও কুকুর ছাড়া অন্যান্য হিংস্র পশুর উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ (র.) এর বিপরীত মত রয়েছে।
আমাদের দলীল হল, কেননা হিংস্র পশুর গোশত নাপাক এবং তা থেকেই লালা সৃষ্ট। আর লালার হুকুম গোশতের উপরই নির্ভরশীল।
বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পাক কিন্তু (তা ব্যবহার করা) মাকরূহ।
ইমাম আবূ ইউসফ (র.) থেকে বর্ণিত যে, তা মাকরূহও নয়। কেননা, নবী (সা.) বিড়ালের জন্য পাত্র কাত করে ধরতেন। বিড়াল তা থেকে পানি পান করতো, পরে তা দ্বারা তিনি উযূ করতেন। (দারা কুতনী)
ইমাম আবূ হানীফা ও মুহাম্মদ (র.) এর দলীল হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- বিড়াল হিংস্র প্রাণী। এ হাদীছের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিধান বর্ণনা করা।১২ তবে নাকেস হওয়ার হুকুম রহিত করা হয়েছে (গৃহের অভ্যন্তরে) সর্বদা ঘুরাফেরার কারণে। সুতরাং মাকরূহ হওয়ার হুকুম বাকী থেকে যায়। আর পাত্র কাত করে ধরার বর্ণনা হারাম হওয়ার পূর্ববর্তী সময়ের উপর ধর্তব্য।
উল্লেখ্য যে, কারো১৩ মতে তার উচ্ছিষ্ট মাকরূহ হওয়ার কারণ, গোশত নাপাক হওয়া। আর কারো মতে নাজাসাত পরিহার না করার কারণে। আর শেষোক্ত মতে তানযীহের এবং প্রথম মতে হারামের কাছাকাছি হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।
বিড়াল যদি ইদুর খেয়ে সাথে সাথে পানি পান করে, তাহলে পানি নাপাক হয়ে যাবে। তবে কিছু সময় বিলম্ব করার পর হলে নাপাক হবে না। কেননা সে লালা দ্বারা মূখ পরিষ্কার করে ফেলে। এ ব্যতিক্রম শুধু ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতানুযায়ী। আর অনিবার্য প্রয়োজনবশতঃ পাক হওয়ার জন্য পানি ঢালার শর্তটি রহিত হয়ে যাবে।
ছেড়ে দেয়া মুরগীর উচ্ছিষ্ট মাকরূহ। কেননা ছাড়া মুরগী নাজাসাত ঘটে। তবে যদি এমন ভাবে বাঁধা থাকে যে, তার পায়ের নীচ পর্যন্ত তার চণ্চু পৌছে না, তাহলে নাজাসাতের সংস্পর্শ থেকে মুক্ত থাকার কারণে মাকরূহ হবে না।
হিংস্র পাখীর উচ্ছিষ্টও তদ্রূপ নাপাক। কেননা এরা মরা খায়, সুতরাং ছাড়া মুরগীর মতই হবে।
ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) হতে বর্ণিত আছে যে, হিংস্র পাখী যদি আবদ্ধ থাকে এবং মালিক জানে যে, পাখীর ঠোটে ময়লা নেই, তাহলে (নাজাসাতের) সংস্পর্শ থেকে সংরক্ষিত থাকার কারণে (তার উচ্ছিষ্ট) মাকরূহ হবে না। মাশায়েখগণ এ মতই উত্তম বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
সাপ, ইদুর ইত্যাদি গৃহে অবস্থানকারী প্রাণীর উচ্ছিষ্ট মাকরূহ। কেননা (এগুলোর) গোশত হারাম হওয়ার অবশ্যম্ভাবী চাহিদা হল উচ্ছিষ্ট নাপাক হওয়া। তবে সর্বদা গৃহে বিচরণের কারণে নাজাসাতের হুকুম রহিত হয়ে যায় এবং মাকরূহ হওয়ার হুকুম অবশিষ্ট থাকে। আর বিচরণের কারণটি বিড়ালের ব্যাপারে (হাদীছে) উল্লেখ করা হয়েছে।১৪
গাধা ও খচ্চরের উচ্ছিষ্ট সন্দেহযুক্ত।১৫ কারো মতে সন্দেহটি পবিত্রতা সম্পর্কে। কেননা উচ্ছিষ্ট পানি পবিত্র হলে অবশ্যই পবিত্রকারীও হবে, যতক্ষণ না লালা পানির চেয়ে অধিক হয়।
অন্য মতে সন্দেহটি পানির পবিত্রকরণ গুণ সম্পর্কে। কেননা সে যদি পানি পায়, তবে তার মাথা ধোয়া তার জন্য ওয়াজিব নয়।১৬ তদ্রূপ তার দুধ পাক। তার ঘাম নামাযের বৈধতাকে বাধাগ্রস্ত করে না, যদিও পরিমাণে তা বেশী হয়। সুতরাং তার উচ্ছিষ্ট অনুরূপ হবে। এ মতই সর্বাধিক বিশুদ্ধ। গাধার উচ্ছিষ্ট পাক হওয়ার সম্পর্কে ইমাম মুহাম্মদের স্পষ্ট মত বর্ণিত রয়েছে। সন্দেহের কারণ হচ্ছে গাধার গোশত হালাল বা হারাম হওয়া দলীলগুলো পরস্পর বিরোধী। কিংবা তার উচ্ছিষ্ট পাক বা নাপাক হওয়া সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরামের মতভেদ রয়েছে।
আবূ হানীফা (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি হারাম ও নাপাক হওয়াতে অগ্রাধিকার দিয়ে গাধার উচ্ছিষ্টকে নাজিস বলেছেন। খচ্চর যেহেতু গাধার প্রজননভূক্ত, সুতরাং সেও গাধার পর্যায়ের হবে। যদি গাধা ও খচ্চরের উচ্ছিষ্ট পানি ছাড়া অন্য পানি না পাওয়া যায়, তাহলে তা দ্বারা উযূ করবে এবং তায়াম্মুম করবে। এবং যে কোনটা আগে করা জাইয।
ইমাম যুফার (র.) বলেন, উযূকে অগ্রবর্তী না করলে জাইয হবে না। কেননা তা এমন পানি (শরীআতের হুকুম মতে) যার ব্যবহার করা ওয়াজিব। সুতরাং তা সাধারণ পানির সদৃশ।
আমাদের দলীল এই যে, যেহেতু পবিত্রকারী হল দু’টির যে কোন একটি, ফলে উভয়ের একত্র হওয়াই বাঞ্চনীয়; এর চাহিদা ক্রমবিন্যাস নয়।
ইমাম আবূ ইউসূফ ও মুহাম্মদ (র.) এর মতে ঘোড়ার উচ্ছিষ্ট পাক। কেননা তার গোশত হালাল। বিশুদ্ধ বর্ণনায় ইমাম আবূ হানীফার মতও অনুরূপ। কেননা গোশত মাকরূহ হওয়ার কারণ হলো তার মর্যাদা প্রকাশ করা।১৭
যদি খোরমা ভিজানো পানি ছাড়া কোন পানি পাওয়া না যায়, তাহলে ইমাম আবূ হানীফা (র.) বলেছেন, তা দ্বারা উযূ করবে, তায়াম্মুম করবে না। কেননা জিন১৮ সম্প্রদায়ের সাথে সাক্ষাতের রাত্রি সম্পর্কীয় হাদীছ রয়েছে যে, নবী (সা.) পানি না পেয়ে খোরমা ভিজানো পানি দ্বারা উযূ করেছেন।
ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) বলেন, তায়াম্মুম করবে, তা দিয়ে উযূ করবে না। আবূ হানীফা (র.) থেকেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। ইমাম শাফিঈ (র.) ও এমত পো্ষণ করেন; তায়াম্মুমের আয়াতের১৯ উপর আমলের পরিপ্রেক্ষিতে। কেননা আয়াত অধিক শক্তিশালী। অথবা হাদীছ আয়াতের দ্বারা রহিত। কেননা তায়াম্মুমের আয়াত মাদানী আর জিনের রাত্রির ঘটনা হল মাক্কী।
ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, উযূ ও তায়াম্মুম দু’টোই করবে। কেননা হাদীছের বর্ণনায় স্ববিরোধিতা রয়েছে। আর (ঘটনাটির) তারিখ (সঠিক) জানা নয়। সুতরাং সতর্কতা অবলম্বনে উভয়টির উপর আমল করা ওয়াজিব।
আমাদের পক্ষ থেকে জবাব এই যে, লায়লাতুল জিনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছিলো। সুতরাং রহিত হওয়ার দাবী সঠিক নয়। আর হাদীছটি মশহুর পর্যায়ের, যার উপর সাহাবায়ে কিরাম আমল করেছেন। এধরনের মশহুর হাদীছ দ্বারা কিতাবুল্লাহ (এর হুকুমে) বাড়ানো যায়।
আর তা দ্বারা গোসল করার ব্যাপারে কেউ কেউ বলেছেন, ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে তা জাইয আছে, উযূর উপর কিয়াস করে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, গোসল জাইয নয়। কেননা গোসল উযূর চেয়ে উপরের স্তরের।
ঐ নাবীয সম্পর্কে বিরোধ রয়েছে, যা মিষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে এমন তরল যে, সাধারণ পানির মত অংগে প্রবাহিত হয়। আর যা গাঢ় হয়ে গেছে, তা হারাম হবে; তা দ্বারা উযূ জাইয হবে না। আর যদি আগুনে জ্বাল দেয়ার কারণে তাতে পরিবর্তন আসে, তাহলে মিষ্ট থাকা পর্যন্ত অনুরূপ মতভেদ রয়েছে। আর যদি গাঢ় হয়ে যায় তাহলেও আবূ হানীফা (র.) এর মতে তা দ্বারা উযূ জাইয। কেননা, তাঁর মতে তা পান করা হালাল। আর ইমাম মুহাম্মদ(র.) এর মতে তা পান করা হারাম বিধায় তা দ্বারা উযূ করা যাবে না।
‘নাবীযুত্তামর’ ছাড়া অন্য সকল নাবীয দ্বারা কিয়াসের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে উযূ জাইয হবে না।২০
পাদটীকা:
১২. অর্থাৎ নিছক বিড়ালের আকৃতি ও প্রকৃতির বর্ণনা দেওয়া উদ্দেশ্য নয়, বরং বিড়ালের উচ্ছিষ্টের হুকুম বর্ণনা করা উদ্দেশ্য। কেননা নবী (সা)-কে সৃষ্টিগত প্রকৃতি বর্ণনা করার জন্য প্রেরণ করা হয়নি, বরং শরীআতী হুকুম বর্ণনা করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
১৩. এ হেত নিম্নোক্ত হাদীছে বর্ণিত হয়েছে: এদের উচ্ছিষ্ট নাপাক নয়, কেননা এরা তোমাদের চারপাশে ঘুরঘুরকারী প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত।
১৪. নবী (সা) বিড়ালের উচ্ছিষ্ট থেকে নাজাসাতের হুকুম রহিত হওয়ার হেতু স্বরূপ গৃহে বিচরণ করার কথা বলেছেন। আর এটা ইঁদুর, সাপ ইত্যাদি গৃহচারী প্রাণীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
১৫. মাশায়েখগণ বলেছেন, সন্দেহযুক্ত হওয়ার কারণ হলো পরষ্পর বিরোধী দলীল বিদ্যমান রয়েছে।
১৬. যদি উক্ত উচ্ছিষ্ট পানির পবিত্রতা অনিশ্চিত হতো তাহলে ধুয়ে ফেলা আবশ্যক হতো।
১৭. অর্থাৎ, ইমাম আবু হানীফাহ (রহ) ঘোড়ার গোশত মাকরূহ বলেছেন জিহাদের বাহন হিসেবে তার প্রতি মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য; গোশত নাজাসাতের কারণে নয়। সুতরাং উচ্ছিষ্টের ক্ষেত্রে এটা কোনো প্রভাব ফেলবে না।
১৮. এর রাত্রে রাসূল (সা) জিনদের একটি জামাআতকে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রহ)-কে নিয়ে গমন করেছিলেন, সে সম্পর্কে বর্ণনা লায়লাতুল জিন নামে খ্যাত। (দেখুন তাহাবী শরীফ)
১৯. অর্থাৎ, তায়াম্মুমের আয়াতের নির্দেশ হলো সাধারণ পানি না পেলে তায়াম্মুম করা। আর খোরমা ভিজানো পানি সাধারণ পানির অন্তর্ভুক্ত নয়।
২০. অর্থাৎ, কিয়াসের দাবী হিসেবে কোনো নাবীয দ্বারাই উযূ জায়িয হবার কথা। কিন্তু নাবীত্তামর সম্পর্কে হাদীছ বিদ্যমান থাকায় কিয়াসের বিপরীতে বৈধতার হুকুম দেয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে কিশমিশ, গম, ইত্যাদি দ্বারা তৈরি নাবীযে ক্ষেত্রে কিয়াস অনুযায়ী অবৈধতার হুকুম দেয়া হয়েছে।
আরবী অংশ:
[فَصْلٌ
فِي الْأَسْآرِ وَغَيْرِهَا]
(وَعَرَقُ
كُلِّ شَيْءٍ مُعْتَبَرٌ بِسُؤْرِهِ) لِأَنَّهُمَا يَتَوَلَّدَانِ مِنْ لَحْمِهِ
فَأَخَذَ أَحَدُهُمَا حُكْمَ صَاحِبِهِ. قَالَ (وَسُؤْرُ الْآدَمِيِّ وَمَا
يُؤْكَلُ لَحْمُهُ طَاهِرٌ) لِأَنَّ الْمُخْتَلِطَ بِهِ اللُّعَابُ وَقَدْ
تَوَلَّدَ مِنْ لَحْمٍ طَاهِرٍ فَيَكُونُ طَاهِرًا، وَيَدْخُلُ فِي هَذَا
الْجَوَابِ الْجُنُبُ وَالْحَائِضُ وَالْكَافِرُ.
(وَسُؤْرُ
الْكَلْبِ نَجِسٌ) وَيُغْسَلُ الْإِنَاءُ مِنْ وُلُوغِهِ ثَلَاثًا لِقَوْلِهِ -
عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «يُغْسَلُ الْإِنَاءُ مِنْ وُلُوغِ الْكَلْبِ
ثَلَاثًا» وَلِسَانُهُ يُلَاقِي الْمَاءَ دُونَ الْإِنَاءِ، فَلَمَّا تَنَجَّسَ
الْإِنَاءُ فَالْمَاءُ أَوْلَى، وَهَذَا يُفِيدُ النَّجَاسَةَ وَالْعَدَدَ فِي
الْغَسْلِ، وَهُوَ حُجَّةٌ عَلَى الشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ - فِي
اشْتِرَاطِ السَّبْعِ، وَلِأَنَّ مَا يُصِيبُهُ بَوْلُهُ يَطْهُرُ بِالثَّلَاثِ،
فَمَا يُصِيبُهُ سُؤْرُهُ وَهُوَ دُونَهُ أَوْلَى.
وَالْأَمْرُ
الْوَارِدُ بِالسَّبْعِ مَحْمُولٌ عَلَى ابْتِدَاءِ الْإِسْلَامِ.
(وَسُؤْرُ
الْخِنْزِيرِ نَجِسٌ) لِأَنَّهُ نَجِسُ الْعَيْنِ عَلَى مَا مَرَّ (وَسُؤْرُ
سِبَاعِ الْبَهَائِمِ نَجِسٌ) خِلَافًا لَلشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ -
فِيمَا سِوَى الْكَلْبِ وَالْخِنْزِيرِ لِأَنَّ لَحْمَهَا نَجِسٌ وَمِنْهُ
يَتَوَلَّدُ اللُّعَابُ وَهُوَ الْمُعْتَبَرُ فِي الْبَابِ.
(وَسُؤْرُ
الْهِرَّةِ طَاهِرٌ مَكْرُوهٌ) وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ أَنَّهُ غَيْرُ مَكْرُوهٍ
لِأَنَّ «النَّبِيَّ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - كَانَ يُصْغِي لَهَا
الْإِنَاءَ فَتَشْرَبُ مِنْهُ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ بِهِ» . وَلَهُمَا قَوْلُهُ -
عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «الْهِرَّةُ سَبُعٌ» وَالْمُرَادُ بَيَانُ
الْحُكْمِ دُونَ الْخِلْقَةِ وَالصُّورَةِ، إلَّا أَنَّهُ سَقَطَتْ النَّجَاسَةُ
لِعِلَّةِ الطَّوْفِ فَبَقِيَتْ الْكَرَاهَةُ. وَمَا رَوَاهُ مَحْمُولٌ عَلَى مَا
قَبْلَ التَّحْرِيمِ، ثُمَّ قِيلَ كَرَاهَتُهُ لِحُرْمَةِ اللَّحْمِ، وَقُبِلَ
لِعَدَمِ تَحَامِيهَا النَّجَاسَةِ وَهَذَا يُشِيرُ إلَى التَّنَزُّهِ
وَالْأَوَّلُ إلَى الْقُرْبِ مِنْ التَّحْرِيمِ. وَلَوْ أَكَلْت فَأْرَةً ثُمَّ
شَرِبَتْ عَلَى فَوْرِهِ الْمَاءَ تَنَجَّسَ إلَّا إذَا مَكَثَتْ سَاعَةً
لَغُسْلِهَا فَمَهَا بِلُعَابِهَا وَالِاسْتِثْنَاءُ عَلَى مَذْهَبِ أَبِي
حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ تَعَالَى وَيَسْقُطُ اعْتِبَارُ
الصَّبِّ لِلضَّرُورَةِ.
(وَسُؤْرُ
الدَّجَاجَةِ الْمُخَلَّاةِ) مَكْرُوهٌ لِأَنَّهَا تُخَالِطُ النَّجَاسَةَ وَلَوْ
كَانَتْ مَحْبُوسَةً بِحَيْثُ لَا يَصِلُ مِنْقَارُهَا إلَى مَا تَحْتَ
قَدَمَيْهَا لَا يُكْرَهُ لِوُقُوعِ الْأَمْنِ عَنْ الْمُخَالَطَةِ (وَ) كَذَا
سُؤْرُ (سِبَاعِ الطَّيْرِ) لِأَنَّهَا تَأْكُلُ الْمَيْتَاتِ فَأَشْبَهَ
الْمُخَلَّاةَ.
وَعَنْ
أَبِي يُوسُفَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - أَنَّهَا إذَا كَانَتْ مَحْبُوسَةً وَيَعْلَمُ
صَاحِبُهَا أَنَّهُ لَا قَذَرَ عَلَى مِنْقَارِهَا لَا يُكْرَهُ، وَاسْتَحْسَنَ
الْمَشَايِخُ هَذِهِ الرِّوَايَةَ (وَ) سُؤْرُ (مَا يَسْكُنُ الْبُيُوتَ
كَالْحَيَّةِ وَالْفَأْرَةِ) (مَكْرُوهٌ) لِأَنَّ حُرْمَةَ اللَّحْمِ أَوْجَبَتْ
نَجَاسَةَ السُّؤْرِ إلَّا أَنَّهُ سَقَطَتْ النَّجَاسَةُ لِعِلَّةِ الطَّوْفِ
فَبَقِيَتْ الْكَرَاهَةُ وَالتَّنْبِيهُ عَلَى الْعِلَّةِ فِي الْهِرَّةِ.
قَالَ
(وَسُؤْرُ الْحِمَارِ وَالْبَغْلِ مَشْكُوكٌ فِيهِ) قِيلَ الشَّكُّ فِي
طَهَارَتِهِ لِأَنَّهُ لَوْ كَانَ طَاهِرًا لَكَانَ طَهُورًا مَا لَمْ يَغْلِبْ
اللُّعَابُ عَلَى الْمَاءِ، وَقِيلَ الشَّكُّ فِي طَهُورِيَّتِهِ لِأَنَّهُ لَوْ
وُجِدَ الْمَاءُ الْمُطْلَقُ لَا يَجِبُ عَلَيْهِ غَسْلُ رَأْسِهِ، وَكَذَا
لَبَنُهُ طَاهِرٌ وَعَرَقُهُ لَا يَمْنَعُ جَوَازَ الصَّلَاةِ وَإِنْ فَحُشْ،
فَكَذَا سُؤْرُهُ وَهُوَ الْأَصَحُّ، وَيُرْوَى نَصَّ مُحَمَّدٌ - رَحِمَهُ
اللَّهُ - عَلَى طَهَارَتِهِ، وَسَبَبُ الشَّكِّ تَعَارُضُ الْأَدِلَّةِ فِي إبَاحَتِهِ
وَحُرْمَتِهِ، أَوْ اخْتِلَافِ الصَّحَابَةِ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ - فِي
نَجَاسَتِهِ وَطَهَارَتِهِ.
وَعَنْ
أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - أَنَّهُ نَجِسٌ تَرْجِيحًا لِلْحُرْمَةِ
وَالنَّجَاسَةِ، وَالْبَغْلُ مِنْ نَسْلِ الْحِمَارِ فَيَكُونُ بِمَنْزِلَتِهِ، (فَإِنْ
لَمْ يَجِدْ غَيْرَهُمَا يَتَوَضَّأُ وَيَتَيَمَّمُ وَيَجُوزُ أَيُّهُمَا قَدَّمَ)
وَقَالَ زُفَرُ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: لَا يَجُوزُ إلَّا أَنْ يُقَدِّمَ
الْوُضُوءَ لِأَنَّهُ مَاءٌ وَاجِبُ الِاسْتِعْمَالِ فَأَشْبَهَ الْمَاءَ
الْمُطْلَقَ. وَلَنَا أَنَّ الْمُطَهِّرَ أَحَدُهُمَا فَيُفِيدُ الْجَمْعُ دُونَ
التَّرْتِيبِ.
(وَسُؤْرُ
الْفَرَسِ طَاهِرٌ عِنْدَهُمَا) لِأَنَّ لَحْمَهُ مَأْكُولٌ (وَكَذَا عِنْدَهُ فِي
الصَّحِيحِ) لِأَنَّ الْكَرَاهَةَ لِإِظْهَارِ شَرَفِهِ.
(فَإِنْ
لَمْ يَجِدْ إلَّا نَبِيذَ التَّمْرِ قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ
تَعَالَى -: يَتَوَضَّأُ بِهِ وَلَا يَتَيَمَّمُ) لِحَدِيثِ لَيْلَةِ الْجِنِّ،
فَإِنَّ النَّبِيَّ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - تَوَضَّأَ بِهِ حِينَ
لَمْ يَجِدْ الْمَاءَ وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: يَتَيَمَّمُ
وَلَا يَتَوَضَّأُ بِهِ وَهُوَ رِوَايَةٌ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ
-، وَبِهِ قَالَ الشَّافِعِيُّ - رَحِمَهُ اللَّهُ - عَمَلًا بِآيَةِ التَّيَمُّمِ
لِأَنَّهَا أَقْوَى، أَوْ هُوَ مَنْسُوخٌ بِهَا لِأَنَّهَا مَدَنِيَّةٌ،
وَلَيْلَةُ الْجِنِّ كَانَتْ مَكِّيَّةً.
وَقَالَ
مُحَمَّدٌ - رَحِمَهُ اللَّهُ -: يَتَوَضَّأُ بِهِ وَيَتَيَمَّمُ لِأَنَّ فِي
الْحَدِيثِ اضْطِرَابًا وَفِي التَّارِيخِ جَهَالَةً فَوَجَبَ الْجَمْعُ
احْتِيَاطًا. قُلْنَا لَيْلَةَ الْجِنِّ كَانَتْ غَيْرَ وَاحِدَةٍ فَلَا يَصِحُّ
دَعْوَى النَّسْخِ، وَالْحَدِيثُ مَشْهُورٌ عَمِلَتْ بِهِ الصَّحَابَةُ - رَضِيَ
اللَّهُ عَنْهُمْ -، وَبِمِثْلِهِ يُزَادُ عَلَى الْكِتَابِ.
وَأَمَّا
الِاغْتِسَالُ بِهِ فَقَدْ قِيلَ يَجُوزُ عِنْدَهُ اعْتِبَارًا بِالْوُضُوءِ،
وَقِيلَ لَا يَجُوزُ لِأَنَّ فَوْقَهُ، وَالنَّبِيذُ الْمُخْتَلَفُ فِيهِ أَنْ
يَكُونَ حُلْوًا رَقِيقًا يَسِيلُ عَلَى الْأَعْضَاءِ كَالْمَاءِ، وَمَا اشْتَدَّ
مِنْهَا صَارَ حَرَامًا لَا يَجُوزُ التَّوَضُّؤُ بِهِ، وَإِنْ غَيَّرَتْهُ
النَّارُ فَمَا دَامَ حُلْوًا رَقِيقًا فَهُوَ عَلَى الْخِلَافِ، وَإِنْ اشْتَدَّ
فَعِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ - يَجُوزُ التَّوَضُّؤُ بِهِ
لِأَنَّهُ يَحِلُّ شُرْبُهُ عِنْدَهُ، وَعِنْدَ مُحَمَّدٍ - رَحِمَهُ اللَّهُ -
لَا يَتَوَضَّأُ بِهِ لِحُرْمَةِ شُرْبِهِ عِنْدَهُ، وَلَا يَجُوزُ التَّوَضُّؤُ
بِمَا سِوَاهُ مِنْ الْأَنْبِذَةِ جَرْيًا عَلَى قَضِيَّةِ الْقِيَاسِ.
No comments:
Post a Comment